ক্যালকাতায় নবকুমার – ২১

একুশ

সকালের শেষে ভিজিটর্সদের যখন ওপরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হল, তখন বাবাকে দেখতে গেল নবকুমার। পাশের সিঁড়িতে পা রেখেছে ওপরে উঠবে বলে। নবকুমার দ্রুত কাছে চলে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল—’কখন এসেছ?’

‘ঘণ্টাখানেক হল। কেমন আছে তোর মা?’

‘আমি তো এইমাত্র এলাম। কাল ভালোই দেখে গিয়েছি। সিঁড়ি দিয়ে না উঠে লিফটে চলো।’ নবকুমার বলল।

‘অনেক লোক লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। হাঁটলে আগেই পৌঁছে যাব!’

অতএব নবকুমারকে বাবার সঙ্গী হতে হল।

ওপরে উঠে বেডের কাছে গিয়ে নবকুমার দেখল, মা পাশ ফিরে ঘুমাচ্ছে। সে বাবার দিকে তাকাল। বাবা নীচু গলায় বলল, ‘এসময় তো কখনওই ঘুমায় না! ওকে ডাকিস না, কিন্তু ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা কর কিছু হয়েছে কি না।’

আশেপাশে কোনও ডাক্তার চোখে পড়ল না। কয়েক পা যেতেই পদ্মাবতী সামনে চলে এল—’এসে গিয়েছেন। বাহ। কিন্তু ওঁকে এখন ডাকবেন না।’

‘কেন? এখন তো ওর ঘুমানোর সময় নয়!’ নবকুমার বলল।

‘রাত্রে যে ডিউটিতে ছিল, তার কাছে শুনলাম, উঁনি সারা রাত চোখের পাতা এক করেননি। এরকম জায়গায় যাঁরা কখনও থাকেননি, তাঁদের প্রথম প্রথম ওরকম হয়। আজ সকালে ব্লাড, ইউরিন, স্টুল নেওয়ার পর কিছু খাইয়ে হালকা ঘুমের ওষুধ দিতেই উনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। এর জন্য একটুও ভয় পাবেন না, আমি তো আছি।’ পদ্মাবতীর চোখের কোণে হাসি চলকে উঠল।

‘তা হলে…আচ্ছা রিপোর্ট বিকেলের আগে পাওয়া যাবে না?’

‘ডক্টর নন্দী চারটের সময় চেম্বারে আসেন, তখনই ওঁকে দিয়ে দেওয়া হবে।’ পদ্মাবতী বলল, ‘আপনারা এখন ক্যান্টিনে গিয়ে কিছু খেয়ে নিতে পারেন। যদি আধ ঘণ্টার মধ্যে ওঁর ঘুম ভেঙে যায়, তা হলে আমি আপনাদের খবর দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’

ক্যান্টিনে বাবা যাবে কি না বুঝতে পারছিল না নবকুমার। এইসময় তার ফোন বেজে উঠতেই পদ্মাবতী দ্রুত বলে উঠল—’তাড়াতাড়ি বন্ধ করুন। এখানে মোবাইলে কথা বলা নিষেধ।’

নবকুমার দেখে নিয়েছিল নাম্বারটা বড়বাবুর। কিন্তু পদ্মাবতী-র কথা কানে যেতেই সে লাইন কেটে দিয়ে যন্ত্রটাকে স্তব্ধ করে দিল। দিয়ে বলল, ‘আমি জানতাম না। সরি।’ সে দেখল অনেকেই তার দিকে বিরক্ত চোখে তাকাচ্ছে।

পদ্মাবতী বলল, ‘কাল মাসিমার কাছে আপনার গল্প শুনছিলাম।’

এর মধ্যে মাকে মাসিমা বানিয়ে ফেলেছে শুনে অবাক হল নবকুমার। তবু সে সহজ হওয়ার চেষ্টা করল—’কীরকম?’

‘আপনি স্কুলে পড়ার সময় বন্ধুদের সঙ্গে জঙ্গলে পিকনিক করতে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিলেন। সেই নবকুমারের মতো। অবশ্য মাসিমা বলেননি সেই জঙ্গলে আপনি কপালকুণ্ডলার দেখা পেয়েছেন কি না!’ হাসল পদ্মাবতী।

এইসময় বাবাকে এগিয়ে আসতে দেখে যেন বেঁচে গেল নবকুমার। বাবা বলল, ‘নীচে চল।’

নবকুমার সঙ্গে সবেগ মাথা নেড়ে বাবাকে অনুসরণ করল।

নীচে নেমে বাবা বলল, ‘খোঁজ নিয়ে দ্যাখ তো ডাক্তারকে পাওয়া যাবে কি না।’

নবকুমার মাথা নাড়ল—’নার্স বলল উনি বিকেল চারটের সময় আসেন।’

‘আশ্চর্য। তার আগে যদি মায়ের কিছু হয়ে যায়, তা হলে চিকিৎসা হবে না?’

‘তা কেন?’ নিশ্চয়ই কোনও ব্যবস্থা আছে। নার্স বলল ভয়ের কোনও কারণ নেই। রাত্রে ভালো ঘুম হয়নি বলে ওরা মাকে হালকা ঘুমের ওষুধ দেওয়ায় মা ঘুমাচ্ছে।’

‘তা হলে…!’ বাবা সাদা চোখে তাকালেন।

‘আমার বাড়িতে গিয়ে খেয়েদেয়ে বিশ্রাম নিয়ে চারটের মধ্যে আমরা চলে আসতে পারি। এখানে বসে থেকে তো কোনও লাভ নেই।’

‘চল, এ ছাড়া আর তো কোনও উপায় নেই।’

ঠিক সাড়ে চারটের সময় ডক্টর নন্দী রিপোর্টগুলো দেখে নবকুমারের দিকে তাকালেন—’ওঁর গলব্লাডারে পাথর পাওয়া গিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি ব্যথা সহ্য করছেন। এখনই অপারেশন না করলে বিপদ হতে পারে। কিন্তু মুশকিল হল, ওঁর হিমোগ্লোবিন খুব কমে গিয়েছে। এখনই রক্ত দিতে হবে। স্টেবল হলেই ওটি-তে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু এজন্য আপনারা তৈরি আছেন তো?’

নবকুমার বলল, ‘যা প্রয়োজন, তা তো করতেই হবে!’

বাবা বলল, ‘কীরকম খরচ হবে?’

ডক্টর নন্দী জিজ্ঞাসা করলেন—’ওঁর কি মেডিক্লেম আছে?’

‘মানে?’ বাবা জিজ্ঞাসা করল।

‘ওঁর চিকিৎসার জন্য কি ইনসিওরেন্স করিয়েছেন?’

‘না।’ বাবা মাথা নাড়লেন—’গ্রামের দিকে এর চল নেই।’

‘তা হলে অন্তত লাখ দেড়েক টাকার ব্যবস্থা রাখুন।’

‘দেড়লাখ!’ বাবা ঠোঁট কামড়ালেন—’বেশ, তাই হবে।’

‘আমরাই রক্তের ব্যবস্থা করছি। আপনারা টাকা জমা দিন।’

ডক্টর নন্দী টেলিফোনের রিসিভার তুলে নিতেই নবকুমার খামটা তাঁর সামনে রেখে বলল, ‘কাল দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। আপনি কিছু মনে করবেন না। আজকেরটাও এখানে আছে।’

ডক্টর নন্দী-র ঠোঁটে হাসি ফুটল। মুখে কিছু বললেন না।

ওদের দেখতে পেয়ে মা খুব খুশি হল। বলল, ‘ডাক্তার কী বলল? আজই বাড়ি ফিরে যেতে পারব তো?’

পদ্মাবতী কাছাকাছি নেই। বাবা বলল, ‘কোনওদিন তো কলকাতায় এসে একরাতও থাকোনি। এবার কয়েকদিন থাকো।’

নবকুমার জিজ্ঞাসা করল—’এখানে খুব অসুবিধে হচ্ছে?’

‘না, না। কিন্তু এটা হাসপাতাল, এখানে থাকতে কি ভালো লাগে? তুই আমাকে তোর বাড়িতে নিয়ে চল।’ মা আবদারের গলায় বলল। এইসময় পদ্মাবতী চলে এল মায়ের পাশে—’কেন? আমাদের পছন্দ হচ্ছে না?’

‘আমি তো সেকথা বলিনি।’ মা পদ্মাবতী-র হাত ধরল।

পদ্মাবতী বলল, ‘আপনাকে আরও কয়েকদিন আমাদের সঙ্গে থাকতে হবে। না খেয়ে, নিজের ওপর অত্যাচার করে নিজের শরীরের রক্ত কমিয়ে ফেলেছেন, সেটা না বাড়ানো পর্যন্ত কোথাও যাওয়া চলবে না।’

‘কে বলল আমার শরীরে রক্ত নেই?’

‘রিপোর্ট। ব্লাড রিপোর্ট।’

মা বাবার দিকে তাকাল—’ডাক্তারবাবুকে বলো না তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিতে!’

‘হুঁ, বলছি।’ বাবা টুল থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘একটু নীচে চল।’ তারপর খেয়াল হতেই মাকে বলল, ‘ওহো, এই ব্যাগে তোমার জামাকাপড়, তেল, সাবান, দাঁতের ব্রাশ, পেস্ট এনেছি। কোথায় রাখব?’

পদ্মাবতী বলল, ‘আমি তো বলেছিলাম সব এখানে পাওয়া যায়। অবশ্য নিজের জিনিস ব্যবহার করতে বেশি আরাম হয়। দিন আমাকে।’

ব্যাগ হাতবদল করে বাবা বলল, ‘আমাকে ফিরে যেতে হবে। টেনে খুব গোলমাল হচ্ছে। তুমি চিন্তা কোরো না। নবকুমার, একটু আয়।’

লিফটের কাছে গিয়ে বাবা বলল, ‘আমি ভেবে পাচ্ছি না এত তাড়াতাড়ি আমি কী করে অত টাকা জোগাড় করব! ব্যাঙ্কে ষাট-বাষট্টি হাজারের বেশি নেই। জমি বিক্রি করে বাকি টাকা জোগাড় করতেও তো সময় লাগবে। তুই ডাক্তারবাবুকে যদি জিজ্ঞাসা করিস অপারেশনের আগে আমরা কতদিন সময় পাব, তা হলে খুব ভালো হয়।’

মাথা নেড়ে লিফটে উঠে নীচে নেমে এল নবকুমার। ডক্টর নন্দী-র চেম্বারের সামনে অনেকেই অপেক্ষা করছেন। বেয়ারা বলল, ‘ডাক্তারবাবু চেম্বারে নেই।’

‘কোথাও গিয়েছেন?’

‘রিসেপশনে জিজ্ঞাসা করুন।’

সেটা করতে হল না। হলঘরে পৌঁছতেই সে ডক্টর নন্দীকে দেখতে পেল। একজন বৃদ্ধের সঙ্গে কথা বলছেন। সে কাছে যেতেই জিজ্ঞাসা করলেন—’কী ব্যাপার?’

‘মায়ের অপারেশনের আগে কতদিন সময় পাওয়া যাবে?’

‘মা! ও হ্যাঁ, রক্তটা স্বাভাবিক হলেই, ধরুন, দিন চারেক। অবশ্য আর অন্য কমপ্লিকেশন যদি না থাকে…।’

‘টাকাটা অপারেশনের দিন জমা দিলে হবে তো?’

‘ঠিক আছে, আমি বলে দেব। আপনারা যাঁর রেফারেন্সে এসেছেন, তাতে এই সুযোগ পেতেই পারেন!’ ডক্টর নন্দী বললেন।

ওপরে উঠে বাবাকে ব্যাপারটা জানালে তার মুখে স্বস্তি ফুটে উঠল। বলল, ‘চারদিনের মধ্যে একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। আচ্ছা, তোর পক্ষে কি কিছু দেওয়া সম্ভব হবে?’

শরীরের ভেতরটা আচমকা যেন শুকিয়ে গেল নবকুমারের। কোনওরকমে সে বলতে পারল—’আমি চেষ্টা করব।’

সন্ধের মুখে নিউ থিয়েটার্স স্টুডিওতে এসে নবকুমার দেখল চারধার বেশ ফাঁকা। রোজ যে ভিড়টা থাকে, তা আজ নেই। ‘পদ্মপাতায় জল’ ছবির অফিসের সামনে দুজন লোক কথা বলছিল, যাদের মুখ চেনা। অফিসঘরের দরজা বন্ধ। দুজনের একজন আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করল—’কাউকে খুঁজছেন?’

‘অফিস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এত তাড়াতাড়ি তো হয় না।’ নবকুমার বলল।

‘আপনি খবর পাননি?’

‘কী খবর?’

‘পুলিশ তিনজন টেকনিশিয়ানকে বিনা দোষে অ্যারেস্ট করেছে. তার প্রতিবাদে শুটিং বন্ধ হয়েছে, অফিসও।’ লোকটা বলল, ‘আজ কাউকে পাবেন না।’

কৌতূহল থাকলেও নবকুমার ব্যাপারটা বিশদে জানাতে চাইল না। সে একটা ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগল কী করা যায়। গীতিময়দাকে বলে কোনও লাভ হবে না। টাকাপয়সার ব্যাপারে কখনওই উনি থাকেন না। তার ভরসা এখন দুজন—বড়বাবু এবং মন্দাক্রান্তা।

‘পদ্মপাতায় জল’ ছবিতে সে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছে, সাংবাদিকদের কাছে বড়বাবু, গীতিময়দা তার সম্পর্কে অনেক আশাবাদী কথা বলেছেন, কিন্তু এই অভিনয়ের জন্যে তাকে কত টাকা দেওয়া হবে, তা কখনওই বলেননি। যে টাকা তাকে খেপে খেপে দেওয়া হয়েছে, তার যোগফল বেশি নয়। তারপর আর দেওয়া হবে কি না, তাও জানানো হয়নি। বড়বাবুকে যদি সে জিজ্ঞাসা করে মোট কত টাকা পাবে আর বাকিটা দু-তিনদিনের মধ্যে পেতে পারে কি না, তা হলে কি অন্যায় হবে? বড়বাবু কি রেগে যাবেন?

রেগে গেলেও কোনও উপায় নেই। বাবা যদি ষাট হাজার টাকা জোগাড় করতে পারে, তা হলে নব্বই হাজার বাকি থাকবে। এত টাকা সে স্বপ্নেও রোজগার করেনি। আচ্ছা বড়বাবুর কাছে হিসেব না চেয়ে যদি একলক্ষ টাকা ধার চায়, তা হলে কেমন হয়! নব্বই নার্সিংহোমে দেওয়ার পরেও দশ হাজার হাতে থাকবে, যদি বিল বেশি হয়। ধার চাইলে বড়বাবু বিরক্ত হতে পারেন, কিন্তু রেগে যাবেন বলে মনে হয় না।

সাহসী হয়ে মোবাইল বের করে বড়বাবুর নাম্বারে আঙুলের চাপ দিল সে। কয়েকবার বিপবিপ শব্দ করে যান্ত্রিক কণ্ঠ জানিয়ে দিল—বড়বাবু পরিসীমার বাইরে আছেন।

হতাশ হল সে। দ্বিতীয়বার বোতাম টিপেও একই কথা ইংরেজিতে শুনল—’আউট অফ রিচ’। ভদ্রলোক যেখানে এখন আছেন, সেখানে মোবাইলের পরিষেবা নেই।

যদি দুদিনের মধ্যে ফিরে না আসেন তো হয়ে গেল।

দ্বিতীয়জন মন্দাক্রান্তা। মোবাইলে মন্দাক্রান্তা-র নাম্বার, পরে নাম ফুটে উঠতেই নবকুমারের মনে হল, এই ফোনটা করা ঠিক হল না। মন্দাক্রান্তা-র কাছে টাকা সে চাইতে পারে না। ধার হিসেবেও নয়। বড়বাবু শাসিয়েছিলেন বলে সে বাধ্য হয়েছিল ভদ্রমহিলার সঙ্গে যোগাযোগ না রাখতে। সবার সঙ্গে যখন মন্দাক্রান্তা ছিলেন তখন সে তাঁকে এড়িয়ে গিয়েছে। এই যে ডক্টর নন্দী-র সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছেন, এটা ওঁর বড় মনের পরিচয়। কিন্তু একথাও কাউকে না জানাতে পরামর্শ দিয়েছেন। এখন কোন মুখে সে টাকা চাইতে পারে। লাইন কেটে দেওয়ার আগেই মন্দাক্রান্তা-র গলা কানে এল—’কী ব্যাপার? মা কেমন আছেন?’

‘মনে হয় এখন ভালো আছে।’ বাধ্য হল সে কথা বলতে।

‘রিপোর্ট তো পাওয়া গিয়েছে।’

‘হ্যাঁ।’

‘কিন্তু ডক্টর নন্দী তো ভালো বললেন না। হিমোগ্লোবিন খুব কম, একটু নর্মাল হলেই অপারেশন করতে হবে, তাই তো?’

নবকুমার অবাক হল। রিপোর্ট এসেছে বিকেল চারটের সময়। এর মধ্যে এত কথা মন্দাক্রান্তা জেনে গিয়েছেন?

নবকুমার নীচু গলায় বলল, ‘হ্যাঁ।’

‘চিন্তা কোরো না। ডক্টর নন্দী-র ওপর ভরসা রাখো।’

‘ঠিক আছে। রাখছি।’ লাইন কেটে দিল নবকুমার। নিশ্চয়ই ডক্টর নন্দী-র সঙ্গে মন্দাক্রান্তা-র কথা হয়েছে এই বিকেলে। তা হলে দেড়লক্ষ টাকার কথাও জেনে গিয়েছেন। না, কাজ হারানোর ভয়ে যাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি, তাঁর কাছে কখনওই হাত পাততে পারে না সে।

মোবাইল জানান দিল। মন্দাক্রান্তা-র গলা—’ফোনটা কেটে দিলে কেন?’

‘কথা শেষ হয়ে গিয়েছিল বলে।’

‘তোমার কথা শেষ হলেও আমার তো হয়নি।’ মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘শোনো, আগামিকাল সম্ভবত শেফালি মা বেল পাবেন।’

‘সত্যি?’ চিৎকার করে উঠল নবকুমার।

‘উকিল তাই বলেছেন।’

‘আমি কাল আদালতে যাব।’

‘বেশ তো। শেফালি মা বেল পাওয়ার পর নিশ্চয়ই তাঁর নিজের বাড়িতে যেতে চাইবেন। কিন্তু সেখানে যাওয়া ঠিক হবে না। একে অনেকদিন তালাবন্ধ হয়ে পড়ে আছে, তার ওপর পাড়াটারও বদনাম রয়েছে। আমার মনে হয়, ওঁকে তোমার ফ্ল্যাটেই নিয়ে যাও। তুমি ওঁকে বোঝাতে পারবে।’ মন্দাক্রান্তা বললেন।

‘আমার ফ্ল্যাটে?’

‘কেন, অসুবিধে হবে না কি?’

‘আমার অসুবিধে হবে কেন? কিন্তু ফ্ল্যাটটা তো বড়বাবুর। তিনি যদি আপত্তি করেন, তা হলে?’

‘বড়বাবু কি রোজ তোমার ফ্ল্যাটে যান?’

‘না।’

‘তা হলে তাঁকে জানানোর কী দরকার আছে? একসময় শেফালি মা তোমাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন, তোমার তো এখন ওঁর পাশে দাঁড়ানো উচিত। আচ্ছা, রাখছি।’ মন্দাক্রান্তা লাইন কেটে দিলেন।

খবরটা খুব আনন্দের, কিন্তু নবকুমার খুশি হওয়ার আগেই একজন এগিয়ে এল—’নবকুমারদা, আপনি একটু আসবেন?’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *