বারো
দার্জিলিং-এর শুটিং পর্ব শেষ হল ঠিকঠাক। এই ক’দিন নবকুমার লক্ষ করেছে, বড়বাবু তার সঙ্গে বেশ ভালো ব্যবহার করছেন। একদিন শুটিং-এর পরে, একটা মাঝারি প্যাকেট তার হাতে দিয়ে বললেন, ‘এটা তুমি নিজে খুলবে না, গ্রামে গিয়ে বাবা-মাকে দেবে, তাঁরা খুলবেন।’
প্যাকেটের ওপর লেখা পড়ে নবকুমার বুঝতে পেরেছিল, ওর ভিতরে চা আছে। বড়বাবু বললেন, ‘খুব ভালো চা। মকাইবাড়ির উৎকৃষ্ট ফসল। আমার মনে হয়, এইরকম চা গ্রামের লোক খায়নি।’
‘অনেক দাম?’
‘লেখাই রয়েছে, উলটে দ্যাখো।’
প্যাকেট উলটে লেখাটা পড়ল নবকুমার—আড়াইশো গ্রাম। টাকার অঙ্কটা দেখে সে হতভম্ব হয়ে গেল। এ তো কল্পনার বাইরে। বাবা দেখলে আর এই চা খেতে পারবে না। এর এক কেজির যা দাম, তা গ্রামের অনেকে রোজগার করতে পারে না। প্যাকেটটাকে সযত্নে রেখে দিল সে।
যেদিন শুটিং শেষ হল, সেদিন প্লেন ধরার সময় ছিল না। বাগডোগরায় পৌঁছোতে সন্ধে হয়ে যাবে। ইউনিটের সবাই বাসে চেপে চলে যাবে নিউ জলপাইগুড়িতে। ট্রেন সন্ধের অনেক পরে। হঠাৎ ঊর্মিলা এগিয়ে এল—’আপনি কি আজই চলে যাচ্ছেন?’
‘হ্যাঁ।’
‘দূর! ট্রেনে না গিয়ে, কাল আমাদের সঙ্গে প্লেনে যান।’
‘আমাকে তো ট্রেনেই আনা হয়েছিল!’
‘তখনকার আপনি আর এখনকার আপনি কি এক? প্রোডাকশনকে বলুন, প্লেনের টিকিট করে দিতে।’ বেশ জোর দিয়ে বলল ঊর্মিলা।
‘না! আমার পক্ষে একথা বলা সম্ভব নয়!’ নবকুমার মাথা নেড়েছিল।
গেস্ট হাউজে এসে জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার পরে, প্রোডাকশন ম্যানেজার ঘরে এল—’আচ্ছা! দাদাভাই, আমরা কি আপনার পর?’
‘তার মানে?’
‘আপনার শরীর খারাপ। সকালে জ্বর এসেছিল, একথা একবারও বলেননি! তাই নিয়ে শুট করলেন। এখনও জ্বর আছে?’
হকচকিয়ে গেল নবকুমার—’না, না।’
‘ডাক্তারের কাছে যাবেন?’
‘না। ঠিক আছি।’ ব্যাপারটা বুঝতে পারছিল না নবকুমার।
‘বড়বাবু বললেন, আজ আপনাকে ট্রেনে যাওয়ার জন্য নীচে নামতে হবে না। রেস্ট নিন। কাল ওঁদের সঙ্গে প্লেনে যাবেন।’
‘বড়বাবু বললেন?’
‘হ্যাঁ। ঊর্মিলাদি বলেছেন, শুটিং-এর সময় যখন উনি আপনার হাতে হাত রেখেছিলেন, তখনই বুঝেছিলেন জ্বর ছিল। তখন ব্যাপারটা বললে শুটিং-এর ক্ষতি হত বলে বলেননি। তা হলে আপনি এখন রেস্ট নিন। আমি গেস্ট হাউজের ম্যানেজারকে সব বলে যাচ্ছি। আপনার কোনও অসুবিধে হবে না। কলকাতায় আবার দেখা হবে।’ প্রোডাকশন ম্যানেজার চলে গেল।
ব্যাপারটাকে বিশ্বাস করতে পারছিল না নবকুমার। হঠাৎ ঊর্মিলাও তার সঙ্গে এত ভালো ব্যবহার করছে কেন? জীবনে কখনও প্লেনে ওঠেনি যে, তাকে সুযোগটা করে দিতে গেল কেন? বিদিশা চলে যাওয়ার পর, সে প্রত্যেকের মধ্যে পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিল।
হঠাৎ মোবাইল শব্দ করে উঠল। যন্ত্রটায় অনভ্যস্ত হওয়ায়, ওটার কথা ভুলেই গিয়েছিল নবকুমার। তুলে দেখল চার্জ দেওয়া দরকার। সে ‘হ্যালো’ বলতেই মহিলাকণ্ঠ কানে এল—’তোমরা রওনা হয়ে গিয়েছ?’
বুঝতে না পেরে সে জিজ্ঞাসা করল—’কে বলছেন?’
‘ওমা! এর মধ্যেই ভুলে গেলে!’
এবার বুঝতে পেরে প্রায় চেঁচিয়ে উঠল নবকুমার—’আরে, আপনি! কেমন আছেন?’
‘আমি তো ভালোই আছি।’
‘না, না, ওঁর কথা জিজ্ঞাসা করছি।’
‘ভালো আছে। কাল বোধহয় ছেড়ে দেবে। বাড়ি চলে যাবে। কিন্তু তুমি আবার আমাকে ”আপনি আপনি” বলা শুরু করলে!’
উত্তর দেওয়ার সুযোগ পেল না নবকুমার। তার আগেই মোবাইলের আলো নিভে গেল। ‘হ্যালো, হ্যালো’ বলে যখন সাড়া পাওয়া গেল না, তখন কয়েকবার ঝাঁকাল যন্ত্রটাকে। তাতেও কাজ হল না। তাড়াতাড়ি ব্যাগ থেকে চার্জার বের করে পয়েন্টে ঢোকাতে গিয়ে হোঁচট খেল। তার চার্জারের জন্য তিনটে পয়েন্ট দরকার। এই ঘরের সবক’টাই দুই পয়েন্টের। হতাশ হয়ে বসে পড়ল সে বিছানায়। বিদিশা নিশ্চয়ই চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারছে না। এখন কী করা যায়? মনে হল, ম্যানেজারের কাছে গেলে সাহায্য পাওয়া যাবে। সে বেল টিপল। বেয়ারা এল কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাকে মোবাইল ফোন আর চার্জার দিয়ে বলল, ‘ম্যানেজারবাবুকে বলো, চার্জ করিয়ে দিতে।’
লোকটা মাথা নেড়ে ওগুলো নিয়ে চলে গেল। অস্বস্তি বেড়ে যাচ্ছিল। মিনিট পনেরো অপেক্ষা করার পর, আবার বেল টিপল সে। তাকে সমস্যার কথা বললে সে জানাল—’ম্যানেজারবাবু বেরিয়েছেন। ফিরতে রাত হবে। তিনি ফিরলে চার্জ করানো যাবে। ওঁর ঘরে ব্যবস্থা আছে।’
‘ঘরে ঢুকে তোমরা কাজটা করতে পারবে না?’
‘ঢোকা যাবে না। দরজায় তালা দিয়ে গিয়েছেন।’
গীতিময় এবং বিজন রায় যাওয়ার আগে কথা বলে গেলেন। গীতিময় হেসে বললেন, ‘ঠিক দিনে জ্বরটা বাধালে হে। এসেছিলে ট্রেনে চেপে, যাবে উড়ে। আশা করব, এইভাবে আরও এগিয়ে যাবে।
গায়ে মাখল না কথার ঠেসটাকে। নবকুমারের কেবলই মনে হচ্ছিল, গীতিময়ের মোবাইল ফোন একবার ব্যবহারের জন্য চেয়ে নিলে আর সমস্যা থাকে না। কিন্তু বিদিশার নাম্বার তো সে মাত্র একবার দেখেছিল, কিছুই মনে নেই। যখন খেয়াল হল, বিদিশা-র নাম্বার তো গীতিময়ের মোবাইলেই থাকার কথা, তখন ওঁদের গাড়ি গেস্ট হাউজের সামনে থেকে অনেকটা দূরে চলে গিয়েছে।
সকাল দশটায় বেয়ারা এসে জানাল, গাড়ি এসে গিয়েছে। স্নান করে তৈরি হয়েছিল নবকুমার। বেয়ারা তার সুটকেস তুলে নিল, সে বাইরে এসে দেখল, একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। কাছে যেতেই ড্রাইভার পিছনের দরজা খুলে দিল। ভিতর থেকে ঊর্মিলা-র গলা ভেসে এল—’গুড মর্নিং। ভালো ঘুম হয়েছে তো?’
‘আপনি?’
‘হ্যাঁ। ভূত দেখছেন মনে হচ্ছে!’
‘না, মানে…’
ডিকিতে সুটকেস উঠে গেলে, নবকুমার বাধ্য হল খোলা দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকতে। ঊর্মিলা বলল, ‘আরাম করে বসুন। ওরকম গুটিয়ে বসার দরকার নেই।’
গাড়ি চলতে শুরু করল। ঊর্মিলা জিজ্ঞাসা করল—’দার্জিলিং কেমন লাগল?’
‘ভালো।’
‘আমার তো এখানে এসে যেতে ইচ্ছে করে না।’
‘বড়বাবুরা…!’
‘ওঁরা অন্য গাড়িতে গেলেন। চারজনে এক গাড়িতে আরামে যাওয়া যেত না। তার ওপর মেয়েকে সামলাতে হত।’
‘মানে?’
‘ওহ! বয়স কম, মাথাটাও ম্যাচিওরড নয়। চোখের সামনে সুদর্শন নায়ককে দেখলে যদি নিজেকে সামলাতে না পারে! বড়বাবু সেই রিস্ক নিলেন না। প্লেনের টিকিটও আলাদা করেছেন। ওঁরা যাবেন একটার ফ্লাইটে, আমরা দুটোর।’ শব্দ করে হাসল ঊর্মিলা।
‘এসব কথা বড়বাবু বলেছেন?’
‘আরে, সব কথা কি বলা যায়? বুঝে নিতে হয়। আমাকে শুধু বললেন, ”ঊর্মিলা, একসঙ্গে চারটে টিকিট হল না। নবকুমারের টিকিট শেষ মুহূর্তে কাটতে হল বলে, তোমারটাও ওর সঙ্গে করলাম। বোধ হয় সে কখনও প্লেনে যাওয়া-আসা করেনি, একা গেলে অসুবিধে হতে পারে। তুমি ওকে নিয়ে যেও।” ‘ ঊর্মিলা হাসল আবার—’ব্রেকফাস্ট হয়েছে?’
‘না, চা খেয়েছি।’
‘সে কী! কেন?’
‘খিদে পায়নি, তাই।’
‘আপনার সারা দিনের-রাতের খাবার কী?’
‘সাধারণ মানুষ যা খায়, তাই।’
‘কিন্তু আপনি তো এখন সাধারণ মানুষ নন!’ ঊর্মিলা বলল, ‘শরীরটাকে ঠিক রাখতে হবে। জিমে যান?’
‘জিম?’
‘জিমনাশিয়াম।’
‘না।’
‘তা হলে আপনি লড়াই করবেন কী করে?’
‘আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।’
‘শুনুন, অভিনয় করতে গেলে আপনাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। এখন যেভাবে করছেন, সেভাবে তো বেশিদিন পারবেন না! এই শাহরুখ খান, সলমন খান—এঁরা বছরের পর বছর শুধু সংলাপ বলছেন না, নাচছেন, ক্যামেরার সামনে মারপিট করছেন—দেখলে মনে হবে, ওঁদের বয়স তিরিশের বেশি নয়। এটা সম্ভব হয়েছে কারণ ওঁরা নিজেদের শরীরকে কাজটা করার জন্য তৈরি করেছেন বলে। কলকাতায় যাওয়ার পর, আমি আপনাকে ভালো জিমের খবর দেব। আপনি ভর্তি হয়ে যান। ইনস্ট্রাক্টর খুব ভালো গাইড করবে। আর আপনার ফুড চার্ট আমি তৈরি করে দেব।’ ঊর্মিলা বলল।
‘ফুড চার্ট?’ গলা শুকিয়ে গিয়েছিল নবকুমারের।
‘হ্যাঁ। একগাদা ভাত, তরকারি, মাছ ছাড়া বেঁচে থাকার কথা বাঙালি ভাবতে পারে না বলে চল্লিশেই ভুঁড়ি বানিয়ে ফ্যালে। আগেকার বাংলা ছবির নায়কদের দেখবেন, অধিকাংশেরই নেয়াপাতি ভুঁড়ি আছে। তখনকার নায়িকারাও ছিলেন অনেক বেঁটে, ভুঁড়ি থাকলে সেটা কাপড়ের তলায় চেপে রাখতেন। এখন যদি ওঁরা অভিনয়ে আসতে চাইতেন, তা হলে চান্স পেতেন কি না সন্দেহ!’ ঊর্মিলা বলল।
‘ফুড চার্টে কী থাকবে? খুব দামি দামি খাবার?’
‘নট অ্যাট অল। চিনি-দুধ ছাড়া গ্রিন চা দিনে দুবার। যতবার পারবেন জল খাবেন। মুসুম্বি। স্যুপ খাবেন। সপ্তাহে একদিন ছোট্ট বাটির মাপে ভাত। মুসুর ডাল মাস্ট। এইভাবে বললে আপনি মনে রাখতে পারবেন না। আমি কখন, কী খাবেন, তা লিখে দেব।’
‘আর একটা কথা বলছি। আপনার সঙ্গে এখানে এসে খারাপ ব্যবহার করেছিলাম। আমার না একটুতেই মাথা গরম হয়ে যায়। ভুল বোঝার পরে খুব লজ্জা পেয়েছি। আপনি কি ওসব মনে রেখে দেবেন?’
‘না। আমার কিছু মনে নেই।’ নবকুমার বলল।
‘থ্যাংক ইউ। আপনি মানুষটা খুব ভালো।’ বাইরে তাকাল ঊর্মিলা। পাহাড়ি পথ দিয়ে গাড়ি নীচে নামছে। তাকিয়ে থেকেই বলল, ‘শুনেছি, আপনি কলকাতায় একাই থাকেন। তাই তো?’
‘না। মুক্তোদি আছে।’
‘মুক্তোদি?’
‘আমাকে রান্না করে দেয়। ঘর সামলায়।’
‘ও! কাজের লোক। কোনও বান্ধবী নেই?’
‘না।’
‘এই ছবি রিলিজ করলে দেখবেন শ’য়ে শ’য়ে বান্ধবী পেয়ে যাবেন।’
‘আমার দরকার নেই।’
‘ওমা! কেন? তারা সব ডানাকাটা সুন্দরী!’
নবকুমার জবাব দিল না। হঠাৎ তার মনে পড়ল, সেই চুম্বনদৃশ্যের কথা। ছবি মুক্তি পেলে, বান্ধবীরা এলে, তার কিছু এসে-যাবে না, কিন্তু বাবা-মা যে ভয়ংকর সমস্যা তৈরি করবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ঊর্মিলাকে ব্যাপারটা বললে ও কি সাহায্য করতে পারবে? গীতিময়দা এবং বড়বাবু তো ওকে খুব পছন্দ করেন। ও যদি ওঁদের বলে দৃশ্যটাকে বাদ দিতে, তা হলে কি ওঁরা রাজি হবেন? সে ঊর্মিলা-র দিকে তাকাতেই দেখল মোবাইল বের করে কানে চেপেছে। তারপর অনর্গল বাংলা এবং ইংরেজিতে কথা বলে যেতে লাগল। মিনিট দশেক কথা বলার পর, ঊর্মিলা বলল, ‘ড্রাইভার ভাই, কার্শিয়াং-এর ট্যুরিস্ট লজের সামনে দাঁড়াবেন।’ আদেশ দিয়ে নবকুমারের দিকে তাকাল সে—’ছবিটা ছেড়ে দিলাম।’
‘কোন ছবি?’
মুম্বইয়ের বাঙালি পরিচালক। বাংলা ছবি করবেন। গল্পটা খারাপ লাগেনি। ব্যাংককে শুটিং হবে দিন পনেরো। এখন বলছে পাটায়া বিচে দুদিন এক্সক্লুসিভ শুট আছে।’ ঊর্মিলা তাকাল—’মানে বুঝলেন?’
মাথা নেড়ে নিঃশব্দে ‘না’ বলল নবকুমার।
‘এই আপনি স্বীকার করেন যে বোঝেন না, এটা আমার খুব ভালো লাগে। আপনার মধ্যে চালাকি ব্যাপারটা নেই। ”এক্সক্লুসিভ” মানে হল, একদম নিভৃতে পরিচালক, ক্যামেরাম্যান এবং দুজন টেকনিশিয়ান ছাড়া কেউ থাকবে না। প্রয়োজনে নায়ক থাকতে পারে। কারণ, আমাকে তখন ক্যামেরার সামনে শরীরের অনেকখানি দেখাতে হবে সমুদ্রের ঢেউয়ে অঙ্গ ডুবিয়ে। এটা গল্প বলার সময় আমায় বলেনি। ননসেন্স। তার মানে কী বুঝতে পেরেছেন? আমাকে সমস্ত লজ্জা বিসর্জন দিতে হবে।’ ঊর্মিলা বলল।
‘সে কী!’ অবাক হয়ে গেল নবকুমার।
‘দেখুন, চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে আমি সব করতে রাজি আছি। অভিনয় যখন করতে এসেছি, তখন ঘটনা ও চরিত্র যা ডিমান্ড করে, তা কেন করব না! কিন্তু জোর করে যে দৃশ্য ঢোকানো হচ্ছে, তাতে অভিনয় করব কেন? বলুন?’
‘নিশ্চয়ই। কিন্তু এসব দৃশ্য দেখাতে দেবে?’
‘আজকাল সব দিচ্ছে। আগে নায়ক-নায়িকাদের চুমু খাওয়া দেখানো যেত না। পাখি, পাখির মুখে মুখ ঘষছে, জলে দুটো মুখের ছায়া মিশে যাচ্ছে দেখিয়ে বোঝানো হত, ওরা চুমু খেল। অনেক আগে, মানে যখন ছবিতে কথা শোনানো যেত না, তখন শুনেছি চুমু খাওয়াতে বারণ ছিল না। ওহো, আপনাকেও তো বিদিশা চুমু খেয়েছে। বড়বাবু বললেন, রিটেক করতে হয়েছিল। অনেকক্ষণ খেয়েছে?’
মুখ ঘুরিয়ে নিল নবকুমার। শব্দ করে হেসে উঠল ঊর্মিলা—’ওমা! আপনি লজ্জা পাচ্ছেন কেন? এটা তো অভিনয়মাত্র!’
‘ম্যাডাম।’ ড্রাইভার গাড়ি থামাল।
মুখ বাড়িয়ে বাইরেটা দেখে ঊর্মিলা বলল, ‘চলুন, ব্রেকফাস্ট করে নিই।’
রেস্তোরাঁতে ঢুকে আপেল জুস আর এগ পোচের অর্ডার দিল ঊর্মিলা। বলল, ‘বাড়িতে খেলে ডিমের কুসুম খাবেন না। সাদাটা যত পারেন খান, অসুবিধে নেই।’
‘আপনি সকালে খাননি?’
‘এক কাপ গ্রিন টি আর থিন অ্যারারুট বিস্কুট। দেখুন না, এখানে এসে জিমে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে, কোমরটা একটু ভারী ভারী মনে হচ্ছে।’—হাসল ঊর্মিলা।
এখন জানলার বাইরে ঝকঝকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। সেদিকে তাকিয়ে ঊর্মিলা বলল, ‘আপনি মন্দাক্রান্তাদির রেফারেন্সে এই কাজটা পেয়েছেন, তাই না?’
‘হ্যাঁ।’
‘মন্দাক্রান্তাদি খুব ভালো মহিলা। উনি কেন যে এখনও বড়বাবুর সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন জানি না!’ হাসল ঊর্মিলা—’আপনি কি জানেন, বড়বাবু আপনাকে সন্দেহ করতেন? দার্জিলিং-এর আউটডোরে এসে মন থেকে সন্দেহ চলে গিয়েছে। আপনি যাতে মন্দাক্রান্তাদির ছায়া থেকে সরে, রোজ রাত্রে বিদিশা-র সঙ্গে মদের নেশায় ডুবে থাকেন, তাই এক গেস্ট হাউজে আপনাদের রেখেছিলেন। এই করে অবশ্য সবসময় জেতা যায় না, আমার মনে হয়, বড়বাবুও জেতেননি। আপনি কী বলেন?’ ঊর্মিলা স্পষ্ট চোখে তাকাল।
