তেইশ
কাশীপুর ক্লাব শহরের একপ্রান্তে। অত্যন্ত প্রাচীন ক্লাব, যা এককালে ব্রিটিশদের বিনোদনের জায়গা ছিল। সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বিশাল সাজানো বাগানের দিকে তাকাল নবকুমার। আলো-অন্ধকারে মাখামাখি হয়ে রহস্যময় চেহারা নিয়েছে। সেইদিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, সে কী করে শেফালি মায়ের কথা ভুলে গেল? তাঁকে আজ আদালত থেকে জামিন দেওয়া হবে, তা মন্দাক্রান্তা জানিয়েছিলেন। জামিন পাওয়ার পরে তাঁকে নবকুমারের বাড়িতে নিয়ে আসার প্রস্তাব ছিল। মায়ের জন্য নার্সিংহোমে যাওয়া, অপারেশনের খরচ জোগাড় করার দুশ্চিন্তা এত প্রবল হয়েছিল যে, শেফালি মায়ের কথাটা সে ভুলেই গিয়েছিল। কিন্তু শেফালি মা এখন কোথায়? মোবাইল বের করে মন্দাক্রান্তার নাম্বার টিপল নবকুমার।
‘হ্যাঁ, বলো নবকুমার।’ মন্দাক্রান্তার গলা ভেসে এল।
‘শেফালি মা এখন কোথায়?’ অস্বস্তি নিয়ে জানতে চাইল সে।
‘কেন বলো তো?’
‘আমি আজ সারাদিন মাকে নিয়ে এত ব্যস্ত ছিলাম, ওঁর অপারেশন হবে, তার টাকার জোগাড় করা—শেফালি মায়ের কথা মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।
মন্দাক্রান্তা হাসলেন—’শেফালি মায়ের খবর তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করছ, কিন্তু তোমার মাধ্যমেই তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তাঁর খবর তো তোমার রাখার কথা। নাঃ নবকুমার, তুমি ক্রমশ আর কলকাতার নয়, একদম ক্যালকাটার মানুষ হয়ে যাচ্ছ।’
‘তার মানে?’ বুঝতে না পেরে জিজ্ঞাসা করল সে।
‘ব্রিটিশরা এই শহরটাকে কখনওই কলিকাতা বা কলকাতা বলেনি। বলেছে ক্যালকাটা। তাদের দেখাদেখি কিছু নব্যশিক্ষিত বাঙালিও বলতে লাগল ক্যালকাটা। তাদের শিকড় এদেশের মাটিতে নেই, তারা ব্রিটিশদের, পরে আমেরিকানদের পরগাছা হয়ে ঝুলছে। ফলে এদের কোনও পিছুটান নেই। শেফালি মা আর যাই হোন না কেন, তোমার আশ্রয়দাত্রী ছিলেন। মানুষটি সৎ না হলে তাঁকে জেলে কাটাতে হত না। তাঁর কথা কী করে ভুলে গেলে তুমি? ছিঃ!’ শেষ শব্দটিতে যে ভর্ৎসনা ছিল, তা নবকুমারকে বিদ্ধ করল। সে মোবাইল কানে চেপে রাখল, কথা খুঁজে পাচ্ছিল না।
মন্দাক্রান্তার গলা কানে এল—’শেফালি মা জামিন নিতে চাননি।’
‘সে কী! কেন?’ শব্দ দুটো ছিটকে বেরিয়ে এল গলা দিয়ে।
‘আমি তো তাই শুনেছি। বড়বাবুকে জিজ্ঞাসা করো, উকিল নিশ্চয়ই তাঁকে সব জানিয়েছেন।’ মন্দাক্রান্তা বললেন।
‘বড়বাবু এখন আমার সঙ্গে কথা বলবেন না।’
‘এখন ক’টা বাজে? ও। কাল সকাল দশটার পরে কথা বোলো।’
‘উনি আজ আমার ওপর খুব রেগে গিয়েছেন। যেভাবে কথা বলেছেন, সেভাবে ওঁকে কখনও কথা বলতে শুনিনি। কিন্তু আমার কোনও দোষ ছিল না। মায়ের অপারেশনের টাকা জোগাড় করার একটা সুযোগ এসেছিল, কিন্তু উনি আমাকে সেই সুযোগ নিতে দিচ্ছেন না।’
‘তুমি কি বলছ আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।’ মন্দাক্রান্তা জিজ্ঞাসা করলেন—’এখন তুমি কোথায় আছ?’
‘কাশীপুর ক্লাবের সামনে।’
‘ওখানে কেন? ওঃ, বড়বাবুর সঙ্গে দেখা করতে ওখানে গিয়েছিলে। শোনো, ব্যাপারটা যদি জরুরি হয়, তা হলে কথা বলতে আমার বাড়িতে আসতে পারো। অবশ্য এখানে এলে বড়বাবুর কী প্রতিক্রিয়া হবে, বুঝতেই পারছ!’
‘আমি বুঝতে পারি না বড়বাবু কেন এমন করেন! আজও আপনাকে নিয়ে ঠেস দিয়ে কথা বলেছেন। উনি যে কী ভাবেন!’ নবকুমার থেমে গেল।
‘উনি কী ভাবেন, তা নিয়ে তোমার কিছু না ভাবলেও চলবে। অর্থ, প্রতিপত্তি থাকা সত্ত্বেও যেসব মানুষ বয়সকে মেনে নিতে পারে না, তারাই ঈর্ষাকাতর হয়। এক কাজ করো, তোমার সঙ্গে টাকা আছে?’
‘কিছু আছে।’
‘তাতেই হবে। একটা ট্যাক্সি নিয়ে সোজা থিয়েটার রোডে চলে এসো। তোমার মা যে নার্সিংহোমে আছেন, তার গ্রাউন্ড ফ্লোরের ভিজিটর্স এনক্লোজারে আমি চল্লিশ মিনিট পরে পৌঁছোচ্ছি। রাত হয়েছে, ওখানে বসে কথা বলতে অসুবিধে হবে না।’ মন্দাক্রান্তা বললেন।
‘আপনার অসুবিধে হবে না তো?’
‘হলে তোমাকে ওখানে যেতে বলতাম না। নার্সিংহোমে আমার পরিচিত পেশেন্ট থাকতেই পারে। তা ছাড়া ডক্টর নন্দীর সঙ্গেও দেখা করতে যেতে পারি। যাকগে, দেরি কোরো না।’ ফোন কেটে দিলেন মন্দাক্রান্তা।
কাশীপুর ক্লাবের সামনে ওইসময় কোনও ট্যাক্সি পাওয়া না যাওয়ায় অটোয় করে চিড়িয়ামোড়ে আসতে হল। ট্যাক্সিতে বসে নবকুমার ভেবেই পাচ্ছিল না, কোর্ট যদি জামিন দেয়, তা হলে শেফালি মা কেন সেটা নিলেন না! কোর্ট জামিন দিলে কি তা অস্বীকার করা যায়? যে জামিন চাইছে, তাকে তো আবেদন করতে হয় বলে সে শুনেছে। আবেদন করার পর শেফালি মা কেন বলবেন যে, তাঁর জামিন চাই না।
থিয়েটার রোডে এসে নার্সিংহোমের সামনে যখন সে ট্যাক্সি থেকে নামল, তখন রাত সাড়ে ন’টা বেজে গিয়েছে। প্যাসেজ দিয়ে ভিতরে ঢুকে দেখল, এখন বিকেল-সন্ধ্যার মতো চারপাশে লোকজন নেই। সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠে সে ভিজিটর্স এনক্লোজারে ঢুকেই মন্দাক্রান্তাকে দেখতে পেল। তাকে দেখে ইশারায় পাশে ডাকলেন তিনি। নবকুমার পাশে এসে বসতেই মন্দাক্রান্তা জিজ্ঞাসা করলেন—’এবার বলো, তোমার সমস্যা কী?’
নবকুমার চারপাশে তাকাল। এখন সেইসব মানুষ এখানে অপেক্ষা করছেন, যাঁর আত্মীয় অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে নার্সিংহোমে ভর্তি হয়ে আছেন। ফলে ভিজিটর্সের সংখ্যা এখন বেশি নয়।
নবকুমার নীচু গলায় সমস্ত কথা বিশদে বলে গেল। তার চোখে-মুখে উদ্বেগ। সব শোনার পরে মন্দাক্রান্ত জিজ্ঞাসা করলেন—’বড়বাবু তোমার সঙ্গে কবে চুক্তি করেছেন, তা আমি জানি না। তাতে কী লেখা ছিল?’
‘বড়বাবু আমার সঙ্গে কোনও চুক্তি করেননি। কোনও লেখালেখি হয়নি। যা চেয়েছেন, তা মুখে বলেছেন, আমি সেটাই আদেশ মেনে করেছি।’
‘তুমি ঠিক বলছ? ভেবে দ্যাখো, কোনও সাদা কাগজে সই করাননি?’
চোখ বন্ধ করে একটু ভেবে মাথা নেড়ে নবকুমার বলল, ‘না।’
‘তা হলে তুমি এত নার্ভাস হয়ে আছ কেন? ওঁর সঙ্গে যখন তোমার কোনও চুক্তি নেই,তখন ছবি রিলিজ করার পর সাতদিন পর্যন্ত নতুন কাজ নিতে অপেক্ষা করবে কেন?’ মন্দাক্রান্তা আড়চোখে তাকালেন।
‘আসলে, এই সুযোগটা উনি আমাকে দিয়েছেন। না দিলে আমি সিনেমায় অভিনয় করার কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারতাম না। তাই!’
হাত নেড়ে থামতে বললেন মন্দাক্রান্তা—’বড়বাবু তোমাকে সুযোগ দিতে চাননি, দিতে বাধ্য হয়েছেন। তখন আমার সঙ্গে ওঁর সুসম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক বজায় রাখতে আমার অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারেননি। কিন্তু তারপর থেকে একটু একটু করে ওঁর মনে সন্দেহের বিষ ঢুকল। যাকগে, পরিচালক হিসেবে অজিত মুখার্জি হয়তো প্রথম সারির নন, কিন্তু তাঁর তৈরি ছবি ভালো চলেছে। ওঁরা যদি তোমাকে অফার দেন, তা হলে কোনও দ্বিধা কোরো না। কত টাকা দেবেন বলেছেন?’
‘পনেরো দিনের কাজের জন্য দেড়লক্ষ টাকা।’ নবকুমার বলল।
‘ ”পদ্মপাতায় জল”-এর জন্য কত পেয়েছ?’
‘বোধ হয় তিরিশ হাজার টাকা।’
‘বোধ হয় কেন?’
‘একসঙ্গে টাকা পাইনি। ভাগে ভাগে পেয়েছি। যোগ করিনি।’
‘এখন কোনও উঠতি নায়ক একটা ছবির জন্য কত পায়?’
‘আমি জানি না!’
‘শোনো, অজিতবাবুকে তুমি বলবে ”পদ্মপাতায় জল”-এ অভিনয় করার জন্য কারও সঙ্গে তুমি কোনও চুক্তি করোনি। ওঁরা যদি এখনও সইসাবুদ করতে চান, তা হলে এই কথা তুমি লিখে দিতে পারো। আর তোমাকে যদি বিশ্বাস না করেন, তা হলে ছবি রিলিজ হওয়ার সাতদিন পরে চুক্তি করতে পারেন, তবে তখন যদি অন্য কোনও প্রযোজক আরও বেশি টাকার অফার দেন, সেটাই ওঁদের দিতে হবে। আমার কথা বুঝতে পারলে?’ ঘড়ি দেখলেন মন্দাক্রান্তা।
‘হ্যাঁ। কিন্তু ওঁরা যদি পিছিয়ে যান, তা হলে?’
‘তা হলে কী?’
‘মায়ের অপারেশন করার খরচ জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে যাবে।’
‘তোমার মা এখন কেমন আছেন?’ মন্দাক্রান্তা জিজ্ঞাসা করলেন।
‘বিকেলে তো ভালোই দেখে গিয়েছি।’ নবকুমার বলল।
‘আমি যাচ্ছি।’ উঠে দাঁড়ালেন মন্দাক্রান্তা। তারপর কথা না বাড়িয়ে সোজা বেরিয়ে গেলেন ভিজিটর্স এনক্লোজার থেকে।
নিজেকে খুব অসহায় লাগছিল নবকুমারের। এত কথার পরেও তার মনে হচ্ছিল, মায়ের অপারেশনের জন্য যে টাকা লাগবে, তা আর জোগাড় করতে পারবে না।
মুক্তো দরজা খুলে নবকুমারকে দেখেই মুখে হাত চাপা দিয়ে গলা খুলে কেঁদে উঠল। একপাশে সরে দাঁড়িয়ে সে কেঁদেই চলল। নবকুমার অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল—’আরে! কী হয়েছে তোমার?’
‘তুমি শোনোনি? শোনোনি কিছু?’ কাঁদতে কাঁদতেই জিজ্ঞাসা করল মুক্তো।
‘না তো! কী শুনেছ তুমি?’
‘শেফালি মা জেল থেকে বের হতে চাননি।’ মুক্তো বলল।
‘তুমি শুনলে কার কাছে?’
‘বড়বাবুর লোক, নবকেষ্ট এসেছিল। সে-ই তো বলল।’
‘ও। এই খবর দিতে এসেছিল? কখন?’
‘এই তো, একটু আগে।’ মুক্তো বলল, ‘সবাই জেল থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, কেউ তো জেলে পচে মরতে চায় না। উনি কেন বের হতে চাইলেন না? তুমি কি একবারও তাঁকে দেখতে গিয়েছ?’
‘এতদিন উনি মানসিক হাসপাতালে ছিলেন। সেখানে যাওয়া নিষেধ ছিল। নবকেষ্ট আর কিছু বলেছে?’
‘ও হ্যাঁ, পনেরো দিনের মধ্যে তোমাকে এই বাড়ি ছেড়ে দিতে হতে পারে?’
‘মানে?’ অবাক হয়ে গেল নবকুমার।
‘তাই তো বলল ও।’
‘ছেড়ে দিতে হতে পারে! দিতে হবে বলেনি?’
‘না! কী একটা হবে, তারপর বড়বাবু ঠিক করবেন। তাই উনি বলে পাঠিয়েছেন—তৈরি হয়ে থাকতে।’ মুক্তো বলল।
নবকুমার বুঝতে পারল বড়বাবুর চাল এটা। ছবি ফ্লপ করলে তাকে ফ্ল্যাট ছেড়ে দিতে হবে, এটা ঘুরিয়ে জানিয়ে দিলেন।
‘দাদাবাবু।’ মুক্তোর গলায় নরম সুর।
‘বলো।’
‘আমি কাল সোনাগাছির বাড়িতে চলে যেতে চাই।’
‘ওই বাড়িতে পুলিশ তালাচাবি দিয়ে রেখেছে। থাকবে কোথায়?’
‘না। নবকেষ্ট বলল, শেফালি মাকে আদালত জামিন দেওয়ায় পুলিশ তালা খুলে দিতে পারে। থানায় গিয়ে চাবি নিয়ে আসতে হবে। এখান থেকে ক’দিন বাদে তো চলে যেতেই হবে, কালই চলে যাই।’ মুক্তো বলল।
নবকুমার চেয়ার টেনে বসে পড়ল। মুক্তোকে কী বলবে সে! বাংলা ছবির দশটার মধ্যে আটটাই ফ্লপ করে, এমন কথা সে শুটিং-এর সময় শুনেছে। একটা ছবি কোনওমতে টাকা তোলে, আর একটা হিট হয়! সুপারহিট হয় একশোটায় একটা। তাই ‘পদ্মপাতায় জল’ হিট করবেই, একথা গীতিময়দাও বলতে পারবেন না।
‘দাদাবাবু।’ মুক্তো এগিয়ে এল।
সে মুখ তুলে তাকাল।
‘বলছি কী, তুমিও কাল ওখানে চলো।’
‘এমন করে বললে কেন? তুমি ওই বাড়িতে কতদিন ছিলে, ভুলে গিয়েছ?’
‘দেখি। তুমি যদি যেতে চাও, যেতে পারো। আমি জানি না, পুলিশ তোমাকে বাড়ির চাবি দেবে কি না। শেফালি মা চাইলে নিশ্চয়ই পেতেন। তোমাকে দেবে কেন? যাও, গিয়ে দ্যাখো।’ নবকুমার উঠে নিজের ঘরে চলে গেল। একলা ঘরে বসে হঠাৎ শরীর কাঁপিয়ে কান্না বেরিয়ে এল। বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদতে কাঁদতে নবকুমার বুঝতে পারছিল, এই শহরে তার কোনও বন্ধু নেই।
সকাল দশটায় বড়বাবুর স্টুডিওর অফিস থেকে টেলিফোন এল। দেখা করতে বলেছেন, জরুরি। ফোন এল গীতিময়ের কাছ থেকেও—’শোনো, ক’দিন বাদে ছবি রিলিজ করছে। এখন হুটহাট বাড়ির বাইরে যাবে না।’
‘যাব না?’ নবকুমার অবাক।
‘হ্যাঁ। যদি যেতেই হয় বাড়ির দরজা থেকে গাড়িতে উঠে যাবে। আগের মতো রাস্তায় রাস্তায় ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়াবে না।’ গীতিময় বললেন।
‘কেন?’
‘আশ্চর্য। তুমি একজন অভিনেতা নও, ছবির নায়ক। পাবলিক তোমাকে চট করে দেখতে পাবে না, তোমাকে নিয়ে নানান গল্প বানাবে আর তা হলেই তোমার সম্পর্কে আকর্ষণ বেড়ে যাবে। এটা দরকার।’ গীতিময় বললেন, ‘একটা কথা কানে এসেছে। তুমি না কি অজিত মুখার্জি-র ছবিতে কাজ করবে?’
‘উনি প্রস্তাব দিয়েছেন।’
‘তা হলে ঠিকই শুনেছি। যা ভালো মনে হয়, তাই করো।’ জোরে শ্বাস ফেলে লাইন কেটে দিলেন গীতিময়।
স্টুডিওর গেটে ট্যাক্সি থেকে নেমে পা বাড়াতেই গাড়িটাকে ঢুকতে দেখে সরে দাঁড়াল নবকুমার। বড়বাবু বসে আছেন পিছনের আসনে। তাকে দেখেও যেন তিনি দেখলেন না। ঠোঁট কামড়াল নবকুমার। তারপর বড়বাবুর অফিসের দিকে না গিয়ে সোজা অজিত মুখার্জির অফিসের সামনে চলে এল। যে লোকটা দরজায় দাঁড়িয়েছিল, সে বলল, ‘অজিতদা তো এখনও আসেননি। একটার পরে আসবেন।’
নবকুমার ঘুরে দাঁড়াতেই বড়বাবুর প্রোডাকশন ম্যানেজারকে দেখতে পেল—’দাদা, বড়বাবু তোমার জন্য বসে আছেন। ওঁর হাতে সময় কম, তাড়াতাড়ি যেতে বলেছেন।’
