চোদ্দো
বড়বাবু স্টুডিও থেকে বেরিয়ে গেলেন তাঁর বিশাল গাড়ির পিছনের আসনে বসে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্যটা দেখল নবকুমার। তার মাথার ভিতরটা কিছুতেই স্থির হচ্ছিল না। বড়বাবুর এই আচরণের কথা সে কল্পনাও করতে পারেনি। মানুষটা খুব কঠিন প্রকৃতির, নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছু বোঝেন না, সবাইকে শাসন করা তাঁর স্বভাব। কারণ খুব স্পষ্ট—অঢেল টাকার মালিক তিনি। মন্দাক্রান্তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করেছিলেন নবকুমারকে। যদি সে অবাধ্য হত, তা হলে অর্ধেক হয়ে যাওয়া ছবির মেক-আপ করতেন না। একটা ছবি শেষ করে আরেকটা ছবিতে কাজ করাই তো এখানকার নিয়ম। তা ছাড়া এতদিন যে শুটিং হল, নিবারণদাকে তো বড়বাবুর চাটুকারিতা করা দূরের কথা, ঘনিষ্ঠ হতেও সে দ্যাখেনি। নিবারণদার চিকিৎসার জন্য কুড়ি হাজার টাকা তা হলে বড়বাবু কেন দিলেন? হ্যাঁ, টাকাটা ওঁর কাছে কিছুই না। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রয়োজনের সময় অনেক কাজে লাগবে। কিন্তু দেওয়ার সময় প্রোডাকশনের লোকদের না ডেকে, তাকে ডেকে দিয়ে বলেছেন, যাতে অন্য কেউ কথাটা না জানে। কেন এই গোপনীয়তা? কয়েকমাস আগে হলেও প্রশ্নের উত্তরটা সে ভাবতে পারত না। এখন সে আন্দাজ করল। নিবারণদার চিকিৎসার জন্য বড়বাবু টাকা দিয়েছেন জানাজানি হলে অনেকেই বিপদের সময় তাঁর কাছে হাত পাতবে। তখন সেইসব চাহিদা সামলানো মুশকিল হয়ে যাবে। সেটা এড়ানোর জন্যই ব্যাপারটা গোপন রাখতে চান তিনি।
নবকুমারের মনে হল মাস্টারদার কথা! গ্রাম থেকে টেনে চেপে আসার সময় বলেছিল, ‘এই যে তুই গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় যাচ্ছিস, তোর পেটে কুয়োর জল আছে। কুয়োর জলে কোনও স্রোত থাকে না, ঢেউ ওঠে না। কিন্তু কলকাতায় যাওয়ার পরে তোর পেটে কর্পোরেশনের জল পড়বে।’
‘তার মানে?’ সে জিজ্ঞাসা করেছিল।
‘গ্রামে যা পঞ্চায়েত, কলকাতায় তাকে কর্পোরেশন বলে। পানীয় জল একটা জায়গায় জমিয়ে পাইপের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি সাপ্লাই দেয়। ফলে পাইপের ভিতরে বাসি জলের স্রোত বয়ে যায়। সেই জল তোর পেটে যাবে।’
‘গিয়ে কী হবে? পেটের অসুখ?’ নবকুমার আতঙ্কিত হয়েছিল।
‘দূর! পেটের না…’ মাস্টারদা আস্বস্ত করেছিল—’মনের অসুখ হবে।’
‘তার মানে?’
‘তোর মন খুব সজাগ হবে। লোকে যা বলবে, তার দু-নাম্বার মানেটা দিব্যি বুঝতে পারবি। কর্পোরেশনের জল তোর চোখ খুলে দেবে।’
‘এই বললে মনের কথা, এখন চোখ বলছ কেন?’
‘মনের চোখ। এখন মানে বুঝতে পারছিস?’
নীরবে মাথা নেড়ে ‘না’ বলেছিল নবকুমার।
‘ক’দিন বাদেই বুঝতে পারবি।’ মাস্টারদা মাথা নেড়েছিল।
নবকুমারের মনে হল, একটু দেরিতে হলেও মাস্টারদার কথা সত্যি হয়েছে। আজ তার মনের চোখ যেন অনেকটা খুলে গিয়েছে। কিন্তু তাদের সবার সঙ্গে বড়বাবু এতদিন দার্জিলিং-এ ছিলেন। সেখানে কমলও জানত না যে, তার গুরু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বড়বাবুও নিশ্চয়ই জানেননি। এখানে আসার পর জেনেছেন, সেটা বোঝা গেল। হয়তো কমল-ই জানিয়েছে।
এইসময় একজন চেঁচিয়ে তার নাম ধরে ডেকে, হাত তুলে দাঁড়াতে বললেন। লোকটির সঙ্গে আর একজন আছে, যাঁর কাঁধে ঝোলাব্যাগ। এঁদের কয়েকবার স্টুডিওতে দেখেছে। কেউ বলেছিল, ওঁরা রিপোর্টার এবং স্টিল ফোটোগ্রাফার। দুজনেই কাছে এলেন। পাজাম-পাঞ্জাবি পরা লোকটি হেসে বললেন, ‘আমাকে চিনতে পারছেন?’
‘না’ বলতে গিয়ে সামলে নিল নবকুমার। বলল, ‘দেখেছি।’
‘হ্যাঁ, আলাপ হয়নি। আমার নাম রবি চৌধুরি, এ হল টোটো বিশ্বাস। আমরা আপনার প্রোডিউসারকে ফোন করেছিলাম। উনি বলেছিলেন, এইসময় আপনাকে স্টুডিওতে পাওয়া যাবে।’
দুপাশে মুখ ঘুরিয়ে দেখে রবি চৌধুরি বললেন, ‘আপনার একটা ফাটাফাটি ইন্টারভিউ করব। ছবি রিলিজ হওয়ার আগেই আপনি বিখ্যাত হয়ে যাবেন। কিন্তু কোথায় বসা যায়?’
টোটো বিশ্বাস বললেন, ‘ক্যান্টিনে বসবেন?’
‘না, না। বাংলা ছবির আগামিকালের স্টারকে নিয়ে সস্তার ওই ক্যান্টিনে বসে কথা বললে পাবলিক পড়বে! হ্যাঁ, ”তাজবেঙ্গল”-এর পুলসাইডে গিয়ে বসলে ব্যাপারটা জমে যায়। আপনার সঙ্গে কি ক্রেডিট কার্ড আছে?’
‘না’—মাথা নাড়ল নবকুমার।
টোটো বিশ্বাস বললেন, ‘এতে তো ফিল্মের পাবলিসিটি হবে। তুমি যদি প্রোডিউসারকে স্পনসর করতে বলো।’
‘বলতে পারি, কিন্তু তাতে আজ কাজ হবে না। ঠিক আছে আজ শুধু কথাগুলো টেপ করে নিই। প্রোডিউসার স্পনসর করলে, তুমি আমাদের সঙ্গে ”তাজবেঙ্গল”-এ গিয়ে যত পারো ছবি তুলে নিও। নবকুমারবাবু, চলুন, প্রোডিউসারের ঘরে গিয়ে বসি।’—রবি চৌধুরি বললেন।
‘উনি নেই, ওঁর ঘরে বসা ঠিক হবে না। মেক-আপ রুমে বসলে হবে?’
‘আপত্তি নেই। চলুন।’
গুছিয়ে বসার পর রবি চৌধুরি জিজ্ঞাসা করলেন—’নবকুমার, আপনার বাড়িতে আর কে কে আছেন?’
‘বাবা, মা!’
‘বাহ, ছোট ফ্যামিলি। ওঁরা কোথায় থাকেন? আপনার সঙ্গে?’
‘না। ওঁরা গ্রামে থাকেন।’
‘গ্রাম। ইন্টারেস্টিং। আপনার সঙ্গে থাকেন না কেন?’
‘এখনও আমি, যাকে বলে প্রতিষ্ঠিত, তা নই। তা ছাড়া ওঁরা গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে থাকতে চাইছেন না।’ শেষটা তৈরি করে বলল নবকুমার।
‘আপনি কি স্টেজে অভিনয় করতেন?’
‘না।’ নবকুমার ভেবে পাচ্ছিল না, ‘হ্যাঁ’ বললে কী প্রশ্ন করবেন রবি চৌধুরি।
‘তা হলে একেবারে ছবিতে কী করে অভিনয় করছেন?’
সবাই, বিশেষ করে প্রাণকৃষ্ণদা দেখিয়ে দিচ্ছেন বলে। সে অভিনয় করতে পারছে, এই কথাগুলো বলতে গিয়ে সামলে নিল নবকুমার। এই সত্যিকথাগুলো বললে, ওঁরা ভেবে নেবেন, তার কোনও কৃতিত্ব নেই। রবি চৌধুরি জিজ্ঞাসা করলেন—’বলুন!’
‘কী বলব? জীবনে যা দেখেছি, তা-ই আমি অভিনয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা করছি। পেরেছি কি না, তা দর্শক বিচার করবেন।’ কথাগুলো মুখ থেকে যেন অসাড়ে বেরিয়ে গেল।
‘বাহ! চমৎকার!’ রবি চৌধুরি বললেন, ‘লেখাটার ক্যাপশন হবে—”নবকুমারের অভিনয়, জীবন থেকে নেওয়া”। গুড। হ্যাঁ, এবার বলুন, পড়াশোনা কতদূর। নিশ্চয়ই গ্র্যাজুয়েট?’
মাস্টারদা বলত, ‘যে প্রশ্নের উত্তর জানিস না, তা শুনলে শুধু হাসবি।’ সেটা মনে পড়ায় এখন নবকুমার হাসল।
‘কলকাতায় পড়ার সুযোগ পেলে কোথায় পড়তেন? প্রেসিডেন্সি, না বেলুড়ে।’
‘যেখানে সুযোগ পেতাম।’
‘আপনি কি আরও ছবির অফার পেয়েছেন?’
‘বড়বাবু বলেছেন, তাঁর ছবি শেষ হওয়ার আগে, এই ব্যাপারে কথা না বলতে।’
‘তার মানে, পেয়েছেন। বলছেন না।’
‘হিন্দি ছবিতে চান্স পেলে মুম্বই যাবেন?’
‘হুম! এই ছবিতে বিদিশা আর ঊর্মিলা আপনার দুই নায়িকা। দুজনের কাকে আপনার বেশি ভালো লাগল?’
‘সবাই বলল, বিদিশা খলনায়িকা।’
‘ওকে কেমন লাগল?’
‘সবাই খুব সহযোগিতা করেছেন।’
‘শুনলাম বিদিশা আপনাকে লম্বা চুমু খেয়েছেন। তাই?’
‘হ্যাঁ। ছবির প্রয়োজনে।’
‘কিন্তু শুনলাম, অনেকবার টেক করতে হয়েছে। ওটা কি ইচ্ছে করে? প্লিজ খোলাখুলি বলুন।’
‘না, না।’
‘আপনি কি, অথবা আপনাকে কি এর আগে কোনও মেয়ে চুমু খেয়েছে? নিশ্চয়ই ভুলে যাননি!’
‘না, না।’
‘লোকে বলছে, আপনারা নাকি বাংলা ছবির সবচেয়ে লম্বা চুমু খেয়েছেন। এটা রেকর্ড। আর তাতে ঊর্মিলা খুব দুঃখ পেয়েছেন।’
‘জানি না। তবে এরকম কিছু ছবিতে বোধ হয় থাকবে না।’ কথাগুলো বলেই নবকুমার বুঝতে পারল, সে ভুল করল। ততক্ষণে চোখ বড় করেছে রবি চৌধুরি—’সে কী! ওরকম বাম্পার চুমু দর্শকরা দেখতে পাবে না?’
টোটো বিশ্বাস হাসলেন—’বোধ হয় ভয় পাচ্ছে, সেন্সর কাঁচি চালাতে পারে!’
রবি চৌধুরি মাথা নাড়লেন—’দূর। আজকাল রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছেলেমেয়েরা পাবলিকের সামনে চুমু খাচ্ছে, কেউ কিছু বলছে না। পর্দায় দেখলে বলবে কেন? আচ্ছা নবকুমার, আপনি নিশ্চয়ই প্রেমে পড়েছেন। প্রথম প্রেমিকার নাম কী?’
‘না, না!’—লজ্জা পেল নবকুমার—’ওসব কখনও হয়নি।’
‘সে কী? একটাও না?’
‘না’—মাথা নাড়ল নবকুমার।
‘তার মানে, আপনি ভার্জিন?’
অবাক হয়ে তাকাল নবকুমার। শব্দটার অর্থ সে চট করে বুঝতে পারল না। সেটা আন্দাজ করে রবি চৌধুরি বললেন, ‘এখনও আপনার কৌমার্য কেউ হরণ করেনি?’
এবার শক্ত হল নবকুমার—’না।’
‘দার্জিলিং-এর আউটডোরে দুই নায়িকার সঙ্গে ছিলেন সন্ন্যাসী হয়ে?’
চিড়বিড়িয়ে উঠল মন। নবকুমার শান্ত গলায় বলল, ‘আমি ওখানে শুটিং-এর কাজে গিয়েছিলাম। ওঁদের সঙ্গে আমার কোনও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না।’
‘এই খবরটা পড়ে আপনার মহিলা ফ্যানরা খুব খুশি হবে। তা হলে আজ এই পর্যন্ত। বাকিটা ”তাজবেঙ্গল”-এ ফোটোশুটের দিন হবে। সিগারেট আছে?’ হাত বাড়ালেন রবি চৌধুরি। মাথা নাড়ল নবকুমার—’আমি ধূমপান করি না।’
‘দ্যাট’স গুড। এটাও লিখে নেব। আচ্ছা।’
ওঁরা বেরিয়ে গেলে কয়েক মিনিট চুপচাপ বসে রইল নবকুমার। রবি চৌধুরি-র প্রশ্নের জবাব আরও বানিয়ে বানিয়ে বলা উচিত ছিল। আপনি নিশ্চয়ই প্রেমে পড়েছেন, প্রথম প্রেমিকার নাম কী—এই প্রশ্নের উত্তরে কোনও কথা না বলে অল্প হাসলেই হত। সেই হাসি দেখে যা বোঝার লোকটা বুঝে নিত।
এইসময় নবকুমারের খেয়াল হল, দুপুর পেরিয়ে যাচ্ছে। নিবারণদার চিকিৎসার টাকা আজই পৌঁছে দিতে হবে! নিবারণদা তো আইসিইউ-তে। ওঁর হাতে দেওয়ার প্রশ্নই নেই। দিতে হবে ওই মহিলাকে, যিনি এতদিন নিবারণদার পাশে থেকেছেন। ভদ্রমহিলা নিশ্চয়ই বিকেলে হাসপাতালে যাবেন। কিন্তু তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগেই যদি তাঁকে টাকাটা দিতে পারত, তা হলে! নবকুমার দ্রুত স্টুডিও থেকে বেরিয়ে একটা রিকশা নিল।
একদিন আসায় আজ অসুবিধে হল না। দরজার কড়া নাড়ল সে। ভিতর থেকে মহিলা কণ্ঠ ভেসে এল—’কে?’
‘আমি নবকুমার।’ বলেই সে হাসল। আগে হলে তার মুখ থেকে ‘আজ্ঞে, আমি নবকুমার’ বেরিয়ে আসত। দরজা খুললেন সেই মহিলা—’আপনি?’ সাজ দেখে বোঝা যাচ্ছিল বাইরে বেরোনোর জন্য তৈরি হয়ে গিয়েছেন।
‘আমাকে চিনতে পারছেন তো?’ নবকুমার জিজ্ঞাসা করল।
‘সিনেমার নায়ক।’—মহিলার ঠোঁটে একচিলতে হাসি ফুটেই মিলিয়ে গেল।
‘আপনি নিশ্চয়ই হাসপাতালে যাচ্ছেন। আমি দার্জিলিং-এ গিয়েছিলাম শুটিং-এর জন্য। ফিরে এসে শুনলাম, দাদা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’
‘আপনাকে আমি ভেতরে এসে বসতে বলতে পারছি না—তা হলে পৌঁছোতে দেরি হয়ে যাবে। আপনি কিছু মনে করবেন না।’ মহিলা কথাগুলো বলে, ভিতরে গিয়ে চাবি আর তালা নিয়ে এলেন।’
‘না, না, আমি বসতে আসিনি!’ নবকুমার বলল।
দরজায় তালা দিয়ে মহিলা বললেন, ‘আমাকে বাঙ্গুর হাসপাতালে যেতে হবে। আপনি কি যাবেন? অবশ্য ওরা বোধ হয় কাছে যেতে দেবে না।’
‘না দিক, দূর থেকেই না হয় দেখব!’
ওরা পাশাপাশি হেঁটে বড় রাস্তায় এল। বাসের দেখা না পেয়ে নবকুমার একটা ট্যাক্সিকে আসতে দেখে, হাত নেড়ে থামাল—’উঠে পড়ুন।’
‘বাসেই তো যাই! খামোকা বেশি খরচ করার কী দরকার?’
‘এই তো বললেন দেরি হয়ে গিয়েছে।’
মহিলার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছিল, এই বাড়তি খরচে তিনি খুশি নন। কিন্তু নবকুমার সমস্যায় পড়ল। টাকাটা কীভাবে দেওয়া যায়! বড়বাবু বলেছেন, তিনি যে টাকা দিয়েছেন, তা যেন কেউ না জানতে পারে। বলেছেন, ‘তুমি তো রোজগার করো। তুমিও দিতে পারো।’ কিন্তু এত অল্প চেনা মানুষের চিকিৎসার জন্য তার মতো নতুন অভিনেতা এককথায় কুড়ি হাজার টাকা দিচ্ছে, তা কি এই মহিলা বিশ্বাস করবেন?
ট্যাক্সি খুব অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতালের সামনে চলে এল। ভাড়া মিটিয়ে মহিলার সঙ্গে রাস্তা পার হয়ে গেটের কাছে পৌঁছে নবকুমার দাঁড়াল—’যেজন্য আপনার কাছে গিয়েছিলাম, তা বলাই হয়নি।’
‘কী জন্য?’
কথাগুলো চট করে মুখে এসে গেল নবকুমারের—’আমি যে ছবিতে অভিনয় করছি, সেই ছবিতে নিবারণদা কাজ করেছেন। ওঁর কিছু পেমেন্ট বাকি ছিল, আমি আসছি শুনে অফিস থেকে সেটা দিয়ে দিয়েছে।’ কথাগুলো বলতে শেষ পর্যন্ত হোঁচট খেল সে।
‘সে কী!’ মহিলা অবাক—’ওঁর চিকিৎসার জন্য টাকা জোগাড় করতে যখন আমি দিশেহারা, তখন স্টুডিওতে গিয়েছিলাম। ওরা বলল, কোনও পাওনা নেই। তা হলে কি সত্যি বলেনি?’
‘যে বলেছে, সে জানত না। আসল লোকজন তো আউটডোরে ছিল!’
‘ও। কত টাকা?’
খামটা বের করে মহিলার হাতে দিয়ে, টাকার অঙ্ক বলল সে।
হঠাৎ ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন মহিলা—’হাতশূন্য করে আজ সকালে দশ হাজার নিয়ে হার বন্ধক রেখেছি। কী বলে তোমাকে ধন্যবাদ দেব ভাই, জানি না। প্রার্থনা করো যেন মানুষটা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসে।’
