ক্যালকাতায় নবকুমার – ১৮

আঠেরো

ঘুম ভাঙল মোবাইলের আওয়াজে। তড়াক করে উঠে বসে বালিশের পাশে রাখা যন্ত্রটাকে চালু করে কানে চাপল নবকুমার—’হ্যালো!’

‘সরি, নবদা বলছেন তো?’ ওপার থেকে গলা ভেসে এল।

নবদা! হকচকিয়ে গেল নবকুমার। ফোন করে ‘নবদা’ বলবে, এমন কাউকে সে জানে না। সামলে নিয়ে সে জিজ্ঞাসা করল,—’কে বলছেন?’

‘আমি বলছি। গজানন মাইতি। চিনতে পারছেন না? অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোডাকশন ম্যানেজার। এর আগে কখনও মোবাইলে গলা শোনেননি তো, তাই অচেনা লাগছে।’ লোকটা হে হে শব্দ করল।

‘কী ব্যাপার? এত সকালে?’

‘আর বলবেন না। আমাকে রাত বারোটায় আপনার নাম্বার দিয়ে বলা হয়েছিল খবরটা দিতে। তখন আপনি ঘুমিয়ে পড়েছেন ভেবে ফোন করিনি।’ গজানন মাইতি বলল, ‘নবদা, আজ দুপুরের মধ্যেই কলকাতায় ফিরে আসতে হবে যে!’

‘আমি গতকাল এসেছি, আজই ফিরতে হবে কেন?’ অবাক হল নবকুমার?

‘আজ সন্ধেবেলায় ”পদ্মপাতায় জল”-এর গানের সিডি রিলিজ করা হবে। গীতিময়দা চাইছেন সেই অনুষ্ঠানে আপনাকে থাকতে হবে। হিরো না থাকলে খুব ভালো দেখাবে না।’ গজানন বলল, ‘আপনি যদি চান, তা হলে এখনই আপনার জন্য গাড়ি পাঠাতে পারি! মানে, গীতিময়দা তাই বলেছেন।’

‘ঠিক আছে, আমি গীতিময়দার সঙ্গে কথা বলছি।’ নবকুমার বলতেই গজানন মাইতি কেটে দিল।

এই ব্যাপারটা নবকুমারের মাথায় ঢুকছিল না। ‘পদ্মপাতায় জল’ ছবিতে গান আছে। সবই মেয়েদের গলায়। তার সিডি রিলিজ করা হবে, একথা কি প্রোডাকশনের লোকজন জানত না? ছুটি নিয়ে সে গ্রামে চলে আসার পর তার কথা ওদের মনে পড়ল!

নবকুমার গীতিময়কে ফোন করল। ফোন বন্ধ। ঘুম ভাঙার পর নিশ্চয়ই যন্ত্রটাকে চালু করবেন। কিন্তু সেটা কখন?

দরজায় মা এসে দাঁড়াল—’ওমা, উঠে পড়েছিস!’

‘ফোনটা ঘুম ভাঙাল।’ বিছানা থেকে নেমে এল নবকুমার।

‘কে ফোন করেছিল? খারাপ খবর না তো!’ মা উদ্বিগ্ন।

‘আমি যে ছবিতে কাজ করছি সেখান থেকে।’ এড়িয়ে গেল নবকুমার।

‘হ্যাঁরে, তোকে রান্না করে দেয় কে?’

‘মুক্তোদি। তোমাকে বলেছিলাম, তুমি ভুলে গিয়েছ।’ নবকুমার বলল, ‘আগে শেফালি মায়ের সঙ্গে ছিল, তখনই পরিচয় হয়।’

‘এখন শেফালি মায়ের কাছে থাকে না?’

প্রশ্নটার ঠিক উত্তর শুনলে মা আরও অনেক প্রশ্ন করে যাবে। তাই অসত্য বলল নবকুমার—’শেফালি মা এখন আর কলকাতায় থাকেন না। যাই, মুখ ধুয়ে আসি। তারপর বাজারে যাব।’

‘না, না, তোকে আর বাজারে যেতে হবে না। জানিস তো, তোর বাবার পছন্দ হয় না অন্য কেউ বাজার করলে। তুই বাথরুম থেকে আয়, আমি চা করছি।’

বাথরুম থেকে বেরিয়ে উঠোনে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকাল সে। এখনও সূর্য ওঠেনি, কিন্তু চারপাশ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। কী করা যায়! গীতিময়দা কখন ঘুম থেকে উঠবেন, তার জন্য অপেক্ষা করবে? বড়বাবুকে তো সকাল দশটার আগে ফোন করাই যাবে না। তাকে যদি সকালেই রওনা হতে হয়, তা হলে বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। ওদের তৈরি হতে দু’তিনদিন দরকার হবেই। আবার সে একা চলে গেলে ওরা পরে আদৌ যাবে কি না, তাতেও নিশ্চয়তা নেই। হঠাৎ মন্দাক্রান্তার কথা মনে এল। এখন কি ওঁকে ফোনে পাওয়া যাবে?

‘নে, ধর!’ মায়ের গলা শুনে ফিরে তাকাল নবকুমার। চায়ের কাপ-প্লেট নিতেই দেখল প্লেটের একপাশে বিস্কুট রয়েছে। সে বলল, ‘বিস্কুট খাব না।’

‘খালি পেটে শুধু চা খেতে নেই।’

চায়ে চুমুক দিয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে নবকুমারের মনে হল, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মাকে বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া দরকার। কীরকম সাদা সাদা দেখাচ্ছে মাকে। মনে হচ্ছে রক্ত কমে গিয়েছে।

সে বলল, ‘তোমার শরীর এত খারাপ, তা আমাকে জানাওনি কেন?’

‘কে বলল শরীর খারাপ! দূর!’ মা হাসতেই মুখের চেহারা অন্যরকম দেখাল। যেন একটু ভেঙে গিয়েই ঠিক হয়ে গেল।

‘তুমি সত্যি কথা বলছ না মা।’

‘তুই অ্যাদ্দিন পরে বাড়িতে এসে এইসব আরম্ভ করলি?’ মা আকাশের দিকে তাকাল—’তোর বাবা তো ওষুধ এনে দিচ্ছে।’ বলে মা আর দাঁড়াল না। নবকুমার বুঝতে পারল মা এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে চাইল।

সকাল সাতটায় মন্দাক্রান্তা-র নাম্বার ধরার চেষ্টা করল সে। প্রথমবার কানে এল—’নাম্বারটি ব্যস্ত আছে।’ শুনে ভালো লাগল। তার মানে, মন্দাক্রান্তা ঘুম থেকে উঠে কারও সঙ্গে কথা বলছেন। অর্থাৎ একটু বাদে ওঁর সঙ্গে কথা বলা যাবে। ভাবতে না ভাবতেই নবকুমারকে মোবাইল জানান দিল—সে চমকে উঠে দেখল, মন্দাক্রান্তাই তাকে ফোন করছেন।

বোতাম টিমে ‘হ্যালো’ বলতেই মন্দাক্রান্তা-র গলা কানে এল—’হ্যাঁ, বলো নবকুমার, এই সকালে তোমার নাম্বার দেখে অবাক হলাম।’

‘খুব প্রয়োজন হওয়ায় আমি ফোন করছি। আপনার ফোন খোলা আছে বুঝে আবার ফোন করব বলে ঠিক করেছিলাম।’

হাসলেন মন্দাক্রান্তা—’রাবণের চিতা নাকি কখনও নেভে না, আর আমার ফোনও কখনও বন্ধ হয় না। শুনি, কী ব্যাপার।’

‘আমি গতকাল বড়বাবুর কাছ থেকে ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছি। এখন কলকাতায় কোনও কাজ ছিল না বলেই জানতাম। এসে দেখলাম, আমার মা খুব অসুস্থ। দু’চারদিনের মধ্যে বড় ডাক্তার দেখাতে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া দরকার। কিন্তু হুট করে তো ওদের পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়।’

‘কী হয়েছে তোমার মায়ের?’

‘মা খুব রোগা, খুব দুর্বল হয়ে গিয়েছে। প্রায় রক্তশূন্য বলে মনে হচ্ছে।’

‘কলকাতায় এনে কোন ডাক্তারকে দিয়ে চিকিৎসা করাবে?’

‘আমার সঙ্গে তো কারও আলাপ নেই। আমি ভেবেছি হাসপাতালে নিয়ে যাব।’

‘তার দরকার নেই। প্রথমে ওঁকে একজন মেডিসিনের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে। আমি এরকম একজন বিখ্যাত ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে দিচ্ছি।’ মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘তা হলে আমাকে জানিও তোমরা কবে আসছ।’

‘সেই ব্যাপারেই তো সমস্যা হয়েছে।’ নবকুমার বলল।

‘সমস্যা!’

‘হ্যাঁ। আজ ভোরে প্রোডাকশন ম্যানেজার ফোন করে জানালেন ফিরে যেতে হবে। আজই নাকি ”পদ্মপাতায় জল”-এর গানের সিডি রিলিজ করবে। গীতিময়দা বলেছেন আমাকে সেখানে উপস্থিত থাকতে হবেই।’

‘ব্যাপারটা তুমি আগে জানতে না?’

‘না। কেউ বলেনি। আমি আজ কলকাতায় চলে গেলে আবার ফিরে আসতে হবে মাকে নিয়ে যেত। তাতে তো দেরি হয়ে যাবে!’

একটু সময় নিলেন মন্দাক্রান্তা, জিজ্ঞাসা করলেন—’তুমি আমাকে ফোন করেছিলে কেন বলো তো?’

গলার স্বরে এমন কিছু ছিল, যা নবকুমারকে অস্বস্তিতে ফেলল। সে বলল, ‘আমি আপনার সাহায্য চাইছিলাম।’

‘সাহায্য!’

‘যদি গীতিময়দাকে বলে দেন…!’

‘কী বলব? তুমি আজ আসতে পারবে না এবং সেজন্যে ডিরেক্টর যেন কিছু মনে না করেন। এই তো?’ মন্দাক্রান্তা হাসলেন, কিন্তু এই হাসিটা একটুও স্বাভাবিক নয়।

‘খুব ভালো হয়। সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

‘কিন্তু নবকুমার, আমি চাইলেই ডিরেক্টর সেটা মেনে নেবেন বলে তো আমার মনে হয় না। উলটে প্রোডিউসারকে বলবেন, মানে কমপ্লেন করবেন।’

‘গীতিময়দা আপনার বিরুদ্ধে বলবেন?’

‘সেটাই তো স্বাভাবিক! উনি যখন শুটিং করছিলেন, তখন যদি আমি গিয়ে বলতাম, শুটিং বন্ধ করুন, নবকুমারের গ্রামে যাওয়া দরকার, তা হলে উনি ওঁর কাজে নাক গলানোর জন্য প্রোডিউসারের কাছে আমার বিরুদ্ধে কমপ্লেন করতেন কি না বলো! আর তা ছাড়া, এটা ডিরেক্টর আর তোমার ব্যাপার। ওঁর সঙ্গে কথা বলে ঠিক করে নাও। হ্যাঁ, তোমার মায়ের চিকিৎসার ব্যাপারে যদি আমার সাহায্যের দরকার হয়, তা হলে নিঃসংকোচে বলবে, যথাসাধ্য করব।’

ফোন ছেড়ে দিলেন মন্দাক্রান্তা। হতভম্ব নবকুমার। এভাবে তার সঙ্গে কখনও কথা বলেননি মন্দাক্রান্তা। তা হলে তিনি কি তাকে আর পছন্দ করছেন না? না কি, বড়বাবুর ইচ্ছে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন? নবকুমারের কেবলই মনে হচ্ছিল, সে যেন কীরকম একা হয়ে গেল। দেখা না হোক, কথা না বলুক, মনে মনে এতদিন জানত, যে-কোনও বিপদে সাহায্য চাইলে মন্দাক্রান্তা তার পাশে দাঁড়াবেনই। সেই ভরসাটা আজ চলে গেল! কিন্তু তাই যদি হয়, তা হলে কেন বলবেন মায়ের চিকিৎসার ব্যাপারে সাহায্য চাইলে যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন!

বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে বাবা দরজায় এসে দাঁড়াল—’হ্যাঁরে, কী মাছ খাবি?’

হেসে ফেলল নবকুমার। এই প্রশ্নটা সে কোনওদিন বাবার মুখে শোনেনি। একটু এগিয়ে গিয়ে সে বলল, ‘যা রাঁধতে মাকে বেশি কষ্ট করতে হবে না, তাই এনো। আমার কোনও পছন্দ নেই।’

‘তোর মা বলল, কলকাতায় তো ভালো মাছ খেতে পাস না..!’

‘না, না সব পাওয়া যায়।’ নবকুমার বলল, ‘আমি তোমার সঙ্গে যাব?’

‘তুই বাজারে যাবি?’

‘হ্যাঁ।’

‘দরকার নেই। তুই সিনেমায় নামার পরে তোকে নিয়ে লোকে খুব কথা বলে। বাজারে তোকে দেখলে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করবে।’

মেনে নিল নবকুমার। তারপর ‘একটু দাঁড়াও বলে ব্যাগ থেকে পাঁচ হাজার টাকা বের করে বাবার সামনে ধরল—’এটা রাখো।’

‘এত টাকা কীসের জন্য?’

‘কোনও বিশেষ কিছুর জন্য নয়। রেখে দাও।’

বাবা একটু ভাবল। তারপর বলল, ‘তোর মাকে দিয়ে দিস।’

‘আচ্ছা।’

‘তুই বলছিলি মাকে কলকাতায় নিয়ে যাবি ডাক্তার দেখাতে। তাতে তোর অসুবিধে হবে না তো?’

‘অসুবিধে হবে কেন?’

‘তুই তো সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকিস…!’

‘এখন কিছুদিন ছুটি আছে।’

‘ও। তা হলে দিন চারেক পরে নিয়ে যা।’

‘নিয়ে যা মানে? তুমি যাবে না?’

‘দুজনে একসঙ্গে গেলে এই বাড়ির কী অবস্থা হবে, তা ভেবে দ্যাখ। ভূতের নেত্য করবে চোর-বদমাশরা। তা ছাড়া যাওয়ামাত্র ডাক্তারের ওষুধে সে ভালো হয়ে যাবে না। তাকে কিছুদিন থাকতে হবে ওখানে। আমার পক্ষে তো বাড়ি, মাঠ ছেড়ে বেশিদিন থাকা সম্ভব নয়! তুই মাকে নিয়ে যা। দরকার হলে আমি দুদিনের জন্য কারও ওপর বাড়ির দায়িত্ব দিয়ে গিয়ে দেখে আসব।’ বাবা চলে গেল।

আর ঠিক তখনই নবকুমারের মোবাইল বেজে উঠল। সে দ্রুত যন্ত্রটা তুলে দেখল, গীতিময়ের নাম ফুটে উঠেছে।

মোবাইল অন করে সাড়া দিয়েই গীতিময়ের গলা কানে এল—’ফোন করেছিলে কেন? ব্যাপারটা এমন কিছু হাতিঘোড়া নয়। সিডির উদ্বোধন হবে। আমরা সবাই থাকব। তোমাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এটা একটা ভালো মওকা। কাগজে তোমার ছবি, তোমার কথা ছাপা হলে পাবলিক জানবে একজন নতুন নায়ক আসছে। আসলে সিডির ব্যাপারটার সঙ্গে সঙ্গে তোমাকে ইন্ট্রোডিউস করার এটা একটা ভালো প্ল্যাটফর্ম, বুঝতেই পারছ। একটু স্মার্ট পোশাক পরে এসো। এখনকার বাঙালি মেয়েরা যা পছন্দ করে, তা নিশ্চয়ই জানো!’ একটানা বলে গেল গীতিময়।

‘কিন্তু গীতিময়দা…’ ঢোক গিলল নবকুমার।

‘আবার কী হল? তোমার শরীর-মন থেকে গাঁইয়া গন্ধ এখনও গেল না। শুনলাম তুমি গ্রামের বাড়িতে গিয়েছ, কলকাতায় ফিরতে কত সময় লাগে?’

‘বেশি নয়।’

‘তা হলে একটার মধ্যে চলে আসবে। এসেই আমাকে ফোন করবে। তুমি কি জানো কোথায় অনুষ্ঠানটা হচ্ছে?’

‘না।’

‘দ্যাখো! কী করে যে তুমি মানুষ হবে! সাড়ে ছ’টায় ”হোটেল হিন্দুস্থান”-এ। তুমি ঠিক ছ’টায় চলে আসবে। না, না, হয়তো হোটেলটা কোথায়, তা-ই জানো না। তুমি তোমার ফ্ল্যাটেই থেকো। ঠিক সাড়ে পাঁচটায় গাড়ি যাবে তোমাকে আনতে। আর কিছু বলার আছে?’

‘হ্যাঁ। আমি না গেলে কি সমস্যা হবে?’ কোনওমতে বলল নবকুমার।

‘মাই গড! আরে নবকুমার, এত নার্ভাস হলে কি চলে! বললাম না, এটা সিডির বাহানায় তোমারই অনুষ্ঠান।’

‘তা হলে কাল-পরশু আমি কি ছুটি পেতে পারি?’

‘এখন প্রমোশন ছাড়া কোনও কাজ নেই। নিও ছুটি।’

‘খুব উপকার করলেন দাদা। আমি ঠিক একটার মধ্যে কলকাতায় পৌঁছে যাব। আপনি চিন্তা করবেন না।’ নবকুমার বলল।

‘না এলে নিজের কফিনে নিজেই পেরেক মারবে।’ লাইন কেটে দিলেন গীতিময়। সঙ্গে সঙ্গে নবকুমার চেঁচিয়ে ডাকল—’মা।’

দূর থেকে মায়ের নিস্তেজ গলা ভেসে এল—’কীরে!’

নবকুমার বাইরে বেরিয়ে এসে দেখল, মা উঠোনে বড়ি শুকোতে দিচ্ছে। সে একটু রেগে জিজ্ঞাসা করল—’এখনও তুমি এসব করো?’

‘বাজারের বড়ি তোর বাবা খেতে পারে না।’

নিজেকে সামলে নিয়ে নবকুমার বলল, ‘শোনো, আমি আজ সকাল দশটার টেন ধরে কলকাতায় যাব। কিন্তু কাল সকালেই ফিরে আসব। তুমি তৈরি থেকো। পরশু তোমাকে নিয়ে কলকাতায় যাব ডাক্তার দেখাতে।’

উবু হয়ে বড়ির সামনে বসা শরীরটাকে ধীরে ধীরে পাশ ফিরে মাটির ওপর শুয়ে পড়তে দেখল নবকুমার। দৌড়ে কাছে গিয়ে সে বুঝতে পারল, মা অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। তার শরীর নিংড়ে চিৎকারটা বেরিয়ে এল—’মা!’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *