(১৭) এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন….

(১৭) এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন….

“বিটা, তুমি নিশ্চিত তো যে এটাই আমাদের এন্ট্রি পয়েন্ট?” বিটার ল্যাপটপের দিকে ঝুঁকে পড়ে বলল ইন্দ্ৰ। বিটা ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ না সরিয়েই বলল, “হুম। আমাদের এমপ্লয়ার রাফলি এই এলাকাটা মেনশন করার পর থেকে আমি সম্পূর্ণ এলাকার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ট্র্যাক করতে শুরু করি। দেখি যে গভীর জঙ্গলের মধ্যে সম্পূর্ণ জনমানবহীন এই এলাকায় মাত্র এক থেকে দেড় কিলোমিটার রেডিয়াসের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট পাওয়া যাচ্ছে, যেটা একটু আনইউজুয়াল। আমি অনেকদিন ধরেই জায়গাটার ওপর নজর রাখছিলাম, তারপর হঠাৎ একদিন খেয়াল করে দেখলাম, এখান থেকে ঠিক তিনশো মিটার নর্থ-ওয়েস্টে একটা ছোট্ট গুহামুখ আছে। তার কাছাকাছি এসেই হঠাৎ করে সবার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বেমালুম মিলিয়ে যাচ্ছে। তখনই আমার সন্দেহ হয়, যে এই গুহামুখের পরিধি ছোট হলেও ভিতরে একটা লম্বা সুড়ঙ্গ আছে এবং এর ভিতরেই নাইটস টেম্পলারদের ডেরা। একটা সামান্য গুহামুখ যেভাবে হেভিলি আর্মড গার্ড দিয়ে আপাদমস্তক মুড়ে ফেলা হয়েছে, তাতে এটুকু নিশ্চিত যে ভিতরে খুব দামি কিছু তারা গোপন করে রেখেছে।”

“শাবাশ! তাহলে এখন আমাদের নেক্সট কোর্স অফ অ্যাকশন কী?”

এইবার প্রশ্নটা করলেন গামা। আলফা ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে দৃষ্টি তুলে সামনের দিকে তাকালেন। তাদের সামনে বেশ বড়সড়ো একটা লেক। উত্তরাখণ্ডের এই এলাকায় প্রকৃতির খেয়ালে সৃষ্ট এরকম বেশ কয়েকটা লেক রয়েছে। এখানে স্থানীয়রা একেই বলে তাল। ঠিক যেমন নৈনিতাল, ভীমতাল। তিনদিকে পাহাড়-ঘেরা বিস্তীর্ণ উপত্যকা হঠাৎ যেন প্রকৃতির খেয়ালে মুড বদলে নীচু হয়ে জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। ওপরের সবজেটে জল স্বচ্ছ কাচের মতো স্থির। আয়তনে খুব বেশি নয়, আমাদের গ্রামবাংলার দিঘির থেকে একটু বড়। কিন্তু এক-এক জায়গায় নাকি একশো ফুট অবধি গভীর। সেই লেকের দিকে তাকিয়েই আলফা বললেন, “সরাসরি ওই গুহামুখ দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করা মূর্খামি। গুহামুখের চারপাশে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রসহ একাধিক প্রহরা রয়েছে। এমনকি ঘন জঙ্গলের ভিতর গাছপালার আড়ালে কোনও ট্র্যাপ থাকাও অসম্ভব নয়। তাই আমরা অন্য পথে সেখানে ঢুকব। কী, তা-ই তো মিস্টার পাই?”

কথা শেষ করে আলফা মিস্টার পাইয়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। পাই একটু দূরে একটা গাছে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেটে সুখটান দিচ্ছিলেন। আলফার কথা শুনে মাথা ঝাঁকিয়ে সিগারেটে শেষ টানটা দিয়ে সেটা মাটিতে ফেলে বুটের আগা দিয়ে ঘষে আগুন নিবিয়ে বললেন, “যখনই আমরা মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেলাম যে এই গুহার ভিতরে কোনওভাবে তারা নিজেদের সেফ বেস গড়ে তুলেছে, তখন আমরা নজরদারি শুরু করলাম। বিটা, শো দেম ইয়োর ম্যাজিক!”

এইবার বিটা হেসে পকেট থেকে নিজের মোবাইলটা বের করল। তারপর মাথা নীচু করে তাতে কিছু খুটখাট করতেই একটা বেশ বড়সড়ো মৌমাছি উড়ে এসে বসল বিটার ল্যাপটপের ওপর। খুব সাবধানে সেটাকে হাতে তুলে নিয়ে ওদের চোখের সামনে তুলে ধরল বিটা। দূর থেকে দেখে কোনওভাবেই বোঝার উপায় নেই যে সেটা আদপেই একটা মৌমাছি নয়, সেটা একটা ড্রোন।

— “এতে স্টেট অফ দ্য আর্ট প্রক্সিমিটি, ম্যাগনেটিক এবং থার্মাল সেন্সর লাগানো আছে। এ ছাড়াও ইনফ্রারেড ক্যামেরা রয়েছে থার্মাল ইমেজিং সার্ভেইলেন্স-এর জন্য। এইরকম আরও চার-পাঁচটা ড্রোন আমরা ব্যবহার করেছিলাম খুব মাইনিউট সার্ভেইলেন্স করতে। অবশ্য, এতে একটা খুব বড় রিস্কও ছিল। সেটা হল ওই গুহার ভিতরে জ্যামার লাগানো। বেশি কাছাকাছি চলে গেলে ড্রোন বিকল হয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেই ড্রোন ওদের হাতে পড়লেই চিত্তির। তা ছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরাও রয়েছে। সুতরাং, খুব কাছাকাছি চলে গেলে ধরা পড়ার ভয় থেকেই যায়। তবে সৌভাগ্যবশত সেসব কিছু হয়নি। যা-ই হোক, এই সার্ভেইলেন্স চালিয়ে যেটা জানতে পেরেছি, সেটাও কিন্তু বেশ বিস্ময়কর। ওই গুহার মুখটা আপাতভাবে ছোট হলেও, ভিতরটা ফাঁপা এবং বিশাল বড়। ওই ছোট্ট গুহামুখ ওখান থেকে শুরু হয়ে বিশাল সুড়ঙ্গ তৈরি করে চলে গিয়েছে পিছনের ওই সবুজ পাহাড়ের গর্ভে। এবং ওই পুরো পাহাড়টাই প্রায় ফাঁপা। তার ভিতরেই নাইটস টেম্পলারদের দুর্গ। অবশ্য এই পুরো ব্যবস্থাটা নাইটস টেম্পলারদের নিজেদের তৈরি করা নয়। প্রকৃতির খেয়ালে তৈরি হওয়া এই আশ্চর্যকে তারা নিজেদের সুবিধার্থে ব্যবহার করছে।”

“আর ওইভাবে গুহার ভিতরে এত বড় একটা দুর্গ গড়ে তুলতে গেলে প্রপার স্যানিটেশনের ব্যবস্থা তো করতেই হবে। সেটা প্রাকৃতিক হোক কি আর্টিফিশিয়াল।” বিটার মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বলতে শুরু করলেন পাই, “তাই আমরা খোঁজ করতে শুরু করলাম যে এদের ডিসপোজাল সিস্টেমের এগজিট পয়েন্ট বা সোজা কথায় বললে ড্রেনেজ সিস্টেমের বাইরের দিকের মুখ কোথায়। বেশ কিছুদিন পর আবিষ্কার করলাম, এই লেকের নীচে সেই পাইপের মুখ এসে মিশেছে। বাইরে থেকে দেখে অবশ্য কিছু বোঝার বিন্দুমাত্র উপায় নেই। যা-ই হোক, আমরা এই লেকের তলায় লুকিয়ে-থাকা সেই পাইপলাইনের মধ্যে দিয়েই ভিতরে ঢুকব। আমি অলরেডি একবার গিয়ে রেইকি করে এসেছি। পাইপলাইনটা একজন মানুষের ঢোকার পক্ষে যথেষ্ট চওড়া। আমার বিশ্বাস, সেটা সোজা গিয়ে মিশেছে ওই লম্বা সুড়ঙ্গের মধ্যে কোথাও। সেখান থেকে বাকি রাস্তা খুব সাবধানে আমাদের পেরোতে হবে। আমরা চেষ্টা করব যতটা সম্ভব ডাইরেক্ট কনফ্লিক্ট এড়িয়ে চলতে। কারণ আমাদের তুলনায় নাইট টেম্পলারদের সংখ্যা অনেক বেশি। এ ছাড়াও ওটা ওদের নিজেদের বেস। সুতরাং, হাতের তালুর মতো চেনা। কিন্তু আমাদের কাছে পুরো জায়গাটাই সম্পূর্ণ নতুন। তাই খুব সাবধান…”

*

আজ অমাবস্যা। মাথার ওপরের ঘন কালো মখমলি আকাশে তারা ঝিকমিক করছে। ইন্দ্র দোতলা সংলগ্ন ঝুলন্ত কার্নিশে দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসে একদৃষ্টে আকাশের তারাগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ পিছন থেকে খচমচ আওয়াজ শুনে ফিরে তাকিয়ে দেখে, পাশে এসে বসেছেন আলফা। হাতে দুটো বিয়ারের বোতল। বসে একটা বোতল ইন্দ্রর দিকে এগিয়ে দিলেন আলফা। ইন্দ্ৰ হাত বাড়িয়ে বোতলটা নিয়ে তাতে চুমুক দিল। বেশ খানিকক্ষণ দু-জনেই চুপচাপ। তারপর একসময় আলফা নিজেই নৈঃশব্দ্য ভেঙে বলে উঠলেন, “জানেন ডেল্টা, ছোটবেলায় এভাবেই আকাশের দিকে তাকিয়ে বসে থাকতাম ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কখনও বা সারারাত্রি। রাতের আকাশ আমাকে বরাবরই আকর্ষণ করে। আমার মনে হয়, পৃথিবীতে মহাকাশের মতো রহস্য ধারণ করার ক্ষমতা আর কারও নেই।”

“হ্যাঁ। আমার বাবা স্কুলটিচার ছিলেন। বাবার সঙ্গে রাতের পর রাত আকাশের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকতাম। বাবা আমাকে নিজে হাতে করে চিনিয়েছিলেন সপ্তর্ষিমণ্ডল, কালপুরুষ বা আকাশগঙ্গা। তারপর আমি যখন ক্লাস এইটে উঠি, তখন আমাকে একটা দূরবিন কিনে দিয়েছিলেন। তেমন কিছু আহামরি দূরবিন নয় অবশ্য। তবে আমিও রাতের পর রাত সেটাই চোখে দিয়ে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতাম ওই আকাশের দিকে। মহাকাশের অনন্ত শূন্যের কনসেপ্টটা আমার কিছুতেই হজম হত না। এখনও হয় না অবশ্য। যখনই চোখ বুজে কল্পনা করতাম যে আমার মাথার ওপরের এই আকাশটা শুধুই শূন্য, যত দূর অবধি যাব শুধুই অনন্ত, আমার কল্পনাও যেন কোথাও একটা গিয়ে ধাক্কা খেত।”

আলফা হাসলেন। বললেন, “সেটা মহাকাশের নয়, আপনার কল্পনার অক্ষমতা। আমার ব্যাপারটা আবার একটু অন্যরকম। আমি খালি মনে করতাম, এই রাত্রিবেলার ওই দূরের কালো আকাশের ওপারে আরও একটা সূর্য আছে। আর একটা কালো চাদর দিয়ে যেন কেউ সেই সূর্যটাকে আপাদমস্তক ঢেকে রেখেছে। সেই কাপড়ের ছোট্ট ছোট্ট ফুটিফাটা গলে তার আলো অনধিকার প্রবেশ করছে আমাদের পৃথিবীতে।”

ইন্দ্ৰ শুনে সশব্দে হেসে ওঠে। তার হাসিতে যোগ দেন আলফা। হাসতে হাসতেই জিজ্ঞেস করেন, “কাল আমাদের মিশন। নার্ভাস লাগছে?”

ইন্দ্র কথার উত্তর না দিয়ে হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গিয়ে বোতলে চুমুক দেয়। তারপর বলে, “আপনাদের কাছে হয়তো এটা জাস্ট অ্যানাদার মিশন। আপনাদের এমপ্লয়ারদের হাতে জিনিসটা তুলে দিয়ে নিজেদের পাওনাগন্ডা বুঝে নিয়ে আপনারা পরের মিশনের জন্য নিজেদের তৈরি করবেন। কিন্তু আমার কাছে এই মিশন মোটেও তা নয়। আমি এই মিশনে যোগ দেওয়ার পর থেকে প্রত্যেকটা পদক্ষেপে নিজের বিবেকের সঙ্গে লড়াই করে চলেছি। আমি একজন সামান্য ইতিহাসের শিক্ষক, মিশন ইম্পসিবলের টম ক্রুজ নই। তা ছাড়া আমরা এই মিশনে যেটা করতে যাচ্ছি, সেটা আইনগত বা নৈতিক দিক থেকেও মোটেও স্বচ্ছ নয়। প্রত্যেকদিন সকালবেলায় ঘুম ভাঙার পর আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখে চোখ রাখতে পারি না। আমার অবচেতন মন সব সময় আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে আমি যা করতে চলেছি, সেটা আদপে চুরি করা। কিন্তু যে মুহূর্তে আমার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল, যখন মনে হচ্ছিল যে জেলের ভিতরের ওই চারটে স্যাঁতসেঁতে নোংরা দেওয়াল থেকে আমার উদ্ধার পাওয়ার আর কোনও আশা নেই, সেখানেই আমায় আমার বাকি জীবনটা দগ্ধে দগ্ধে মরতে হবে, তখনই মিস্টার পাই সেখানে পৌঁছে আমাকে মুক্তির আশা দেখান। আমাকে সেই নরক থেকে মুক্তি দেন। কতকটা সেই কৃতজ্ঞতাই আমাকে এই মিশনের সঙ্গে বেঁধে ফেলেছে, আপনাদের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে আমার জীবন। তা ছাড়া আমি এই মুহূর্তে একজন কনভিক্টেড ক্রিমিন্যাল। বাইরের চেনাজানা জগতে আমার আর কোনও জায়গা নেই। এই মুহূর্তে আমার কাছে আপনারা চারজনই আমার সমাজ। আমি…”

কথা বলতে বলতে ইন্দ্ৰ হঠাৎ চুপ করে যায়। আলফা ইন্দ্রর কথায় মৃদু হাসেন। তারপর বলেন, “এই মিশন আমার কাছে জাস্ট অ্যানাদার মিশন নয়, ডেল্টা। আমি জাতসৈনিক। খুব অল্প বয়স থেকে একের পর এক যুদ্ধ দেখে আসছি, লড়ে আসছি। যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী দুই পক্ষের মধ্যে এক পক্ষের হয়ে অস্ত্র তুলে নিতে নিতে আমার মধ্যের বিবেকটা হয়তো বহুদিন আগেই মারা গিয়েছে। যুদ্ধের সময় কোনও ন্যায়-অন্যায় থাকে না, কোনও নিয়ম থাকে না, কোনও আইন থাকে না। যুদ্ধের সময় শুধু একটাই লক্ষ্য থাকে, যে-কোনও উপায়ে প্রতিপক্ষের পরাজয়। যুদ্ধক্ষেত্রে যখন প্রথমবার আমি কোনও মানুষের প্রাণ নিই, তখন আমার বয়স… আঠারো কি উনিশ। আমার অস্ত্রের শানিত ফলা লোকটার বুক এ ফোঁড়-ও ফোঁড় করে দিয়েছিল। সেই মুহূর্তে সেখানে দাঁড়িয়ে আমি থরথর করে কাঁপছি। আমার মনে হচ্ছে, ফলাটা বুকের ভেতর থেকে একটানে বের করে আনলেই অবাধ্য রক্তের ধারা গলগল করে ছিটকে পড়বে মাটিতে। চারপাশ রক্তে লাল হয়ে যাবে। আমার হাত কাঁপছিল। আমি কাঁপা-কাঁপা হাতে চোখ বন্ধ করে একটানে বের করে আনলাম আমার অস্ত্র। প্রাণহীন শরীরটা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল একটা ভোঁতা শব্দ করে। আমি তখনও চোখ খুলিনি। একটু পরে অনুভব করলাম আমার পায়ের তলায় চ্যাটচেটে রক্তের স্রোত। এর পরেরবার যখন আবার কারও প্রাণ নিতে হল, তখন আগের তুলনায় কুণ্ঠা কিছুটা মসৃণ হয়ে এসেছিল। এবার আর আমাকে চোখ বন্ধ করতে হল না। চোখের সামনে দেখলাম, হতভাগ্য মানুষটা কাতরাতে কাতরাতে আস্তে আস্তে ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে। তারপর আবার, তারপর আবার… বারবার একের পর এক অগুনতি মানুষকে নিজের এই দুই হাতে হত্যা করে এসেছি আমি। কিন্তু জানেন, এত কিছুর পরেও আমি কীভাবে প্রতি রাত্রে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি? কারণ সম্মুখসমরে পরাজিতকে হত্যা করা বীরত্ব, খুন নয়। আমি শুধু আপনাকে একটাই উপদেশ দিতে পারি, ডেল্টা। যুদ্ধের সময় বিপক্ষের প্রাণ নেওয়া আপনার বাধ্যবাধকতা। কারণ না হলে সে আপনার প্রাণ নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না। কিন্তু সেই আঘাত আপনি হানবেন বিপক্ষের চোখে চোখ রেখে। পিছন থেকে অতর্কিত আক্রমণে কাপুরুষের মতো নয়। তাহলেই দেখবেন, আয়নায় চোখ রাখতে গেলে মাথা নীচু হয়ে যাচ্ছে না।” কথা শেষ করে ইন্দ্রর উত্তরের অপেক্ষা না করেই সেখান থেকে উঠে গেলেন আলফা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *