(১৪) কল মি লিও

(১৪) কল মি লিও

কলকাতা, জানুয়ারি, ২০২০:

আবছা নীল আলোটা যেন আস্তে আস্তে পুরো ঘরটাকে অধিকার করে ফেলছে। সম্বুদ্ধর মাথার মধ্যে ততক্ষণে আবার একটা ঝিমঝিম ভাব। তার মনে হচ্ছে, চোখের সামনের দুনিয়াটা যেন দুলে দুলে উঠছে। সে এক-পা এক-পা করে এগিয়ে যেতে থাকে সেই কাচের ক্যাপসুলটার দিকে। ওই ক্যাপসুলটা তাকে যে করেই হোক ভেঙে ফেলতে হবে। শতাব্দীর পর শতাব্দী জুড়ে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ওই পৃষ্ঠাগুলো। ওগুলো তাকে কাছে ডাকছে। চোখের সামনের সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসছে, শুধু গাঢ় অন্ধকারের মধ্যে একটা জ্বলজ্বল করতে থাকা নীল আলোর বিন্দু। সম্বুদ্ধর মনে হয়, ওর কানের কাছে মুখ এনে কেউ যেন ফিশফিশিয়ে বলে যাচ্ছে, “আমি মুক্তি চাই। আমায় মুক্তি দাও।”

ধীরে ধীরে চেতনা লোপ পাচ্ছে সম্বুদ্ধর। চৈতন্য আর অবচেতনের মাঝের সীমারেখা যেন ক্রমশ মুছে যাচ্ছে। আবছা অন্ধকারের মধ্যে একটা ধোঁয়াশা-ঘেরা মূর্তি ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠতে থাকে। মূর্তিটা আকারে মানুষের হলেও তার অবয়ব সুস্পষ্ট নয়। যেন একটা আবছা ধোঁয়ার কুণ্ডলী রয়েসয়ে মানুষের আকার নিচ্ছে। মূর্তিটা পায়ে পায়ে সম্বুদ্ধর দিকে এগিয়ে আসে। তারপর সম্বুদ্ধের শরীরী কাঠামোতে লীন হয়ে যায়। সম্বুদ্ধ বুঝতে পারে, তার চারপাশে আস্তে আস্তে একটা ঘন কুয়াশার বলয় তৈরি হয়ে তাকে ঘিরে ধরছে। দমবন্ধ হয়ে আসছে ওর। মনে হচ্ছে, কেউ যেন ওকে একটা বদ্ধ ঘরে দীর্ঘদিন বন্দি করে রেখেছে। ভ্যাপসা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ নাকে এসে ধাক্কা মারছে। সম্বুদ্ধর মনে হয়, ওই বিশাল কাচের শিশিটায় সে যেন নিজেই বন্দি হয়ে আছে। উন্মাদের মতো হাঁপাতে থাকে সে। দু-হাত বাড়িয়ে সেই কাচের ক্যাপসুলটাকে টেবিলের ওপর থেকে তুলে নেয়। তারপর এক ঝটকায় সেটাকে মাথার ওপরে তোলে। ঠিক তখনই, পিছন থেকে কেউ একজন বলে ওঠেন, “সাতশো বছরের পুরোনো কাচ, সম্বুদ্ধবাবু। একবার পায়ে ফুটলে সেপটিক হওয়া থেকে স্বয়ং শয়তানও বাঁচাতে পারবে না।”

*

একঘেয়ে একটানা শব্দ করে ছুটে চলেছে ট্রেনটা। সাইড লোয়ারে জানালার পাশে বসে দুই হাঁটু ভাঁজ করে তার ওপর থুতনি রেখে বাইরে তাকিয়ে ছিল ইন্দ্র। ঝড়ের গতিতে একটার পর একটা ছোটবড় বাড়ি, গাছপালা, ছোট্ট ছোট দোকানপাট, টিমটিমে আলো-জ্বলা একলা প্ল্যাটফর্ম সব যেন সেই বিরাট জানালার ফ্রেমে ভেসে উঠেই পরমুহূর্তে মিলিয়ে যাচ্ছে। উলটোদিকের সিটে নিজের রুকস্যাকটাকে জড়িয়ে ধরে শিশুর মতো নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে ইভানি। ইন্দ্ৰ সেদিকে তাকিয়ে মৃদু হাসে। তারা একটা ভয়ংকর, প্রায় অসম্ভব মিশনে যাচ্ছে। অথচ ইভানিকে দেখে তা বোঝার বিন্দুমাত্র উপায় নেই। একটু আগেই ট্রেনে উঠে সে ইন্দ্রর মুখোমুখি জানালার পাশে বসে স্টেশন গুনছিল। খানিকক্ষণ পর নিজেই বোর হয়ে একটা লম্বা হাই তুলে মুখের সামনে দুটো তুড়ি মেরে নিজের রুকস্যাকটা জড়িয়ে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। ইভানিকে যত দেখে, ততই যেন অবাক হয় ইন্দ্র। মেয়েটাকে অদ্ভুত বললেও কম বলা হয়। যে মেয়ে এইরকম দুঃসাহসিক অভিযানে যেতে ভয় পায় না, সরকারি সিকিয়োর ওয়েবসাইট হ্যাক করতে যার মনে বিন্দুমাত্র ভয় বা দ্বিধাবোধ কাজ করে না, যে উদ্যত বন্দুকের নলের সামনে নির্ভয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়, সেই মেয়েটাই অঝোর বৃষ্টিতে বাজের শব্দে ভয়ে কুঁকড়ে যায়। আরশোলা বা মাকড়সা দেখলে চিৎকার করে বাড়ি মাথায় করে। ইভানি মুখ থেকে একটা আরামের অস্ফুট আওয়াজ করে পাশ ফিরে শুল।

ওরা যাচ্ছে রানিখেত এক্সপ্রেসে। গন্তব্য কাঠগোদাম, উত্তরাখণ্ডের একটা ছোট্ট জনপদ। নৈনিতাল যাওয়ার সময় অনেকে সেখানে নেমে ছোটবড় গাড়ি ভাড়া করে বাকি রাস্তা পাড়ি দেন। তবে ওরা নৈনিতাল যাচ্ছে না। ওরা যাবে উত্তরাখণ্ডের একটা তুলনামূলক অখ্যাত গ্রামে। সেই গ্রামের পাদদেশ থেকেই শুরু হয়েছে গভীর জঙ্গল। গ্রামে সবাই একত্রিত হলে তাদের অভিযান শুরু হবে। ইন্দ্র এবং ইভানি যাচ্ছে বিবাহিত কাল্ল হিসেবে। মিস্টার অ্যান্ড মিসেস দাস। বাকিরা এই ট্রেনেই থাকলেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন কামরায়, বিভিন্ন ছদ্মনামে। কাঠগোদাম স্টেশনে নেমেও তারা একসঙ্গে সেখানে যাবে না। আলাদা আলাদাভাবে সবাই পৌঁছোবে সেই প্রাথমিক গন্তব্যে। সেখান থেকেই তাদের অভিযান শুরু।

ইন্দ্র কবজি উলটে ঘড়ি দেখে। রাত প্রায় সাড়ে বারোটা। এইবার একটু গড়িয়ে নেওয়া দরকার, কারণ ভোরের আলো ফুটতে-না-ফুটতেই ট্রেন গিয়ে থামবে কাঠগোদাম। ইন্দ্র নিজের সিট ছেড়ে উঠে আসে ওয়াশরুমের দিকে। দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে বেসিনে নীচু হয়ে চোখে-মুখে জল ছিটিয়ে মাথা তুলে তাকাতেই চমকে ওঠে। তার সামনের আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব পড়েছে ঠিকই, কিন্তু তার পিছনে ট্রেনের চলন্ত কামরার ওয়াশরুমের প্রতিচ্ছবি নয়, বরং একটা কালচে-সবুজ ঘন জঙ্গলের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। চকিতে ইন্দ্ৰ পিছন ঘুরে তাকায়। সে দাঁড়িয়ে রয়েছে কোনও এক অচেনা-অজানা গহিন অরণ্যের মাঝে। কতকটা যেমন অরণ্যে লিওনার্দো তাকে নিয়ে এসেছিল, সেইরকম। ইন্দ্র মাথা ঘুরিয়ে এদিক-ওদিক কাউকে খুঁজতে থাকে। হঠাৎ‍ পিছন থেকে কে যেন ফেরিওয়ালার মতো সুর করে বলে ওঠে, “কোডেক্স গিগাস চাই, কোডেক্স গিগাস….”

ইন্দ্র মাথা ঘুরিয়ে দ্যাখে তার পিছনে আর সেই আয়না বা বেসিন নেই, বদলে দাঁড়িয়ে আছেন লিওনার্দো। আজ তাঁর পরনে চারকোল রঙের টু-পিস স্যুট। ঠোঁটের কোণে সেই মৃদু দুষ্টু হাসি। হাতে জ্বলন্ত সিগার। ইন্দ্র এবারে আর ওকে দেখে অবাক হয় না। বরং হঠাৎ এভাবে এরকম জায়গায় চলে এসে সে মনে মনে হয়তো লিওনার্দোকেই আশা করেছিল। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইন্দ্র বলে, “আমার ফোন নম্বরটা দিয়ে দিচ্ছি, পরের বার কথা বলার হলে হোয়াট্সঅ্যাপ করে নেবেন।” ইন্দ্রর বিদ্রুপ লিওনার্দো কানে তোলেন না। জ্বলন্ত সিগারেটে একটা লম্বা টান দিয়ে শূন্যে ধূসর ধোঁয়া ছেড়ে বলেন, “আগের দিন আপনাদের আগামী মিশন সম্পর্কে আপনার সম্যক ধারণা ছিল। না। তাই আমিও যেচে কিছু বলিনি। কিন্তু এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। যে, আপনাদের এই মিশন সমগ্র মানবজাতির ভবিষ্যতের পক্ষে কতটা ভয়ংকর হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

“ভয়ংকর! কেন?”

“আপনি যথেষ্ট বুদ্ধিমান মানুষ, ইন্দ্রজিৎবাবু। খুব ভালোই বুঝতে পারছেন যে ওই পৃষ্ঠাগুলো ভুল লোকের হাতে গেলে মহাপ্রলয় ঘটতে পারে।”

“মানে আপনি কী বলতে চান, ওই পৃষ্ঠাগুলোতে সত্যিই শয়তানকে নেমন্তন্ন করার ফর্মুলা লেখা আছে?” ইন্দ্রর গলায় শ্লেষের সুর, “যে-কেউ ওই মন্ত্রগুলো উচ্চারণ করবে আর স্বয়ং ডেভিল দর্শন দেবেন পাতাল থেকে উঠে এসে?”

“সবকিছু এত সহজে বোঝানো সম্ভব নয়, ইন্দ্রজিৎবাবু। মূর্খের মতো কথা বলবেন না,” এইবার লিওনার্দোর গলায় উষ্মা।

“আপনিই তো আগের দিন বললেন যে, আপনি জাদুতে বিশ্বাস করেন না। সেইজন্যই বললাম।”

“আমি এখনও বলছি, আমি জাদুতে বিশ্বাস করি না। কিন্তু পৃথিবীতে এখনও এমন অনেক রহস্য আছে, এমন অনেক ঘটনা আছে, যা সাধারণ বুদ্ধিতে বিচার্য নয়। সেগুলোকেই আমরা অলৌকিক বলি। আপনি সেরকম ঘটনা নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন, তাই আপনার কাছ থেকে এরকম হঠকারী মন্তব্য কাম্য নয়।”

“কী ঘটনা? আপনার সঙ্গে টাইম ট্রাভেল?”

“একেবারেই নয়। আমি কোন্ ঘটনার কথা বলছি, তা আশা করি, আপনি বুঝতে পারছেন।”

এইবার ইন্দ্র বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে যায়। সে স্পষ্ট বুঝতে পারে, লিওনার্দো কোন্ ঘটনার কথা বলছেন। পরমা এবং লিলির মৃত্যুর কথা। কিন্তু কী করে…..

“যা-ই হোক, স্বয়ং শয়তান এই পৃথিবীতে নেমে আসবেন কি না, সেসব তর্কসাপেক্ষ। কিন্তু আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়ে আমি আপনাকে একটা কথা বলতেই পারি, ওই পৃষ্ঠাগুলো যার হাতে পড়বে, সে হয়ে উঠবে এই পৃথিবীর সর্বশক্তিমান ব্যক্তি। আর এই পৃথিবীতে শক্তি বণ্টনের ভারসাম্য থাকাটা ভীষণ প্রয়োজনীয়। সেই ভারসাম্য কোনওভাবে বিঘ্নিত হলে এই মানবসভ্যতার ধ্বংস শুধু সময়ের অপেক্ষা। আমরা নাইটস টেম্পলাররা প্রায় হাজার বছর ধরে এই ভারসাম্যরক্ষার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছি। নিজেদের জীবন বারবার বিপন্ন করে সেই পৃষ্ঠাগুলোকে সাধারণের হাত থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছি।”

“হ্যাঁ। তার জন্য মাঝেসাঝে দু-চারজনকে কিডন্যাপ বা খুনও করেছেন।”

এইবার সশব্দে হেসে ওঠেন লিওনার্দো। বলেন, “ফ্যাক্ট ইজ আ সাবজেক্টিভ ম্যাটার, ইন্দ্রজিৎবাবু। তবে ফর ইয়োর কাইন্ড ইনফর্মেশন, আমরা আপনার বন্ধুকে কিডন্যাপ বা খুন কোনওটাই করিনি। আপনার বন্ধু নিজে স্ব-ইচ্ছায় আত্মগোপন করেছেন। কারণ অত মূল্যবান একটা প্রত্নতত্ত্ব তাঁর নিজের জিম্মা থেকে খোয়া গেলে তাঁর চাকরি তো যেতই, এমনকি তাঁকে জেলের ঘানি অবধি টানতে হত। সেই জায়গায় তাঁর অপহরণ হলে তাঁর চাকরি এবং সম্মান দুইই বাঁচবে। কিছুদিন পর তিনি আবার বহাল তবিয়তে ফিরে আসবেন। হ্যাঁ, বলতে পারেন আমরা ওঁকে এই বিষয়ে সামান্য সাহায্য করেছি। আমরা পৃথিবীর প্রাচীনতম এক শক্তির রক্ষাকর্তা, ইন্দ্রজিৎবাবু, কোনও ছ্যাঁচড়া চোর-ডাকাত বা কিডন্যাপার নই। আর যদি অসৎ উপায়ে বলপ্রয়োগ করে আমরা নিজেদের উদ্দেশ্য সাধন করতাম, তাহলে আপনি এই মিশনের জন্য জীবিত থাকতেন না।”

“বেশ। আচ্ছা, ওই পৃষ্ঠাগুলো যদি এতটাই ভয়ংকর এবং শক্তিশালী হয়, যে সেটা ভুল লোকের হাতে পড়লে পৃথিবীর সমূহ বিপদ অবশ্যম্ভাবী, তাহলে আপনারা এতদিন পৃষ্ঠাগুলোকে নষ্ট করে দেননি কেন?”

“আপনি তো কোডেক্স গিগাস নিয়ে গবেষণা করেছেন দীর্ঘদিন। নিশ্চয়ই জানেন যে, ষোলোশো সাতানব্বই সালের সাতই মে তৎকালীন স্টকহোমের রাজপ্রাসাদে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়। তখন এই কোডেক্স গিগাস বইটা রাজপ্রাসাদের গ্রন্থাগারেই ছিল। গ্রন্থাগারের বাকি সমস্ত বই পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেলেও একমাত্র এই বইটা অবিশ্বাস্যভাবে কেউ জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয়। ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন, কোডেক্স গিগাস-এর ওজন প্রায় আশি কেজি। এত ভারী একটা বই কারও পক্ষে একা তোলাই অসম্ভব। সেখানে দাউদাউ করে জ্বলতে-থাকা অগ্নিকাণ্ডের মধ্যেও কোনও এক অজ্ঞাত ব্যক্তি নিজের জীবন উৎসর্গ করে সেই অসম্ভব ভারী বইটা জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয় শুধু বইটা রক্ষা করবে বলে! ব্যাপারটা কি খুব স্বাভাবিক লাগছে? আর শুধু এই ঘটনাই নয়, গত সাতশো বছরেরও বেশি সময় ধরে বারবার বিভিন্ন বিপদ থেকে বইটা আশ্চর্যজনকভাবে যেন নিজেকেই নিজে রক্ষা করে নিয়েছে।”

“বুঝলাম। কিন্তু আপনি তো সাধারণ মানুষ নন। আপনি অতীত বা ভবিষ্যতে অনায়াসে চলাচল করতে পারেন। তাহলে নিশ্চয়ই আপনি জানেন যে, ভবিষ্যতে কী হতে চলেছে। তাহলে কেন আমাকে বাধা দেয়ার বারবার চেষ্টা করছেন? যা ভবিতব্য তা তো অবশ্যম্ভাবী।”

“আমি ভবিষ্যৎ জানি বলেই আপনাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছি, ইন্দ্রজিৎবাবু। আর আমাদের অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ, কোনওটাই স্থির বা নিশ্চিত নয়। বলতে পারেন সবটাই আপেক্ষিক। অর্থাৎ আপনার ভবিষ্যতের কোনও সিদ্ধান্ত আপনার অতীতকে প্রভাবিত করতে পারে। আমরা সময়কে যেমন লিনিয়ারভাবে দেখি, সময় আদপেই তেমন নয়। বরং বলতে পারেন আমাদের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সবটাই একটা ইনফাইনাইট লুপে আবদ্ধ। সেই লুপের কোনও এক জায়গায় নির্দিষ্ট কোনও পরিবর্তন ঘটানো হলে, সেই পরিবর্তন সম্পূর্ণ লুপকে এফেক্ট করে।” কথা শেষ করে লিওনার্দো নিজের কোটের পকেট থেকে একটা এক বিঘত লম্বা লোহার পেরেক বের করেন, তারপর সেটা ইন্দ্রর দিকে বাড়িয়ে দেন।

ইন্দ্ৰ হাত বাড়িয়ে সেটা নিয়ে উলটেপালটে দেখে লিওনার্দোকে প্রশ্ন করে, “এটাই কি সেই হোলি নেল?”

“হ্যাঁ। এই সেই।”

“কিন্তু এটা আপনি আমাকে কেন দিচ্ছেন?”

“কারণ খুব তাড়াতাড়ি আপনি একটা অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে চলেছেন। সেখানে আপনাকে দুটো সম্ভাব্য ভবিষ্যতের মধ্যে থেকে একটাকে বেছে নিতে হবে। আর সেই সিদ্ধান্তই আপনার জীবনের সব থেকে কঠিন সিদ্ধান্ত হতে চলেছে। আপনার সেই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে সমস্ত মানবজাতির ভবিষ্যৎ। যা-ই হোক, আজকের মতো বিদায়, বন্ধু।” কথা শেষ করে লিওনার্দো ধীরপায়ে ঘন জঙ্গলের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলেন।

“বিদায়, লিওনার্দো,” পেরেকটাকে পকেটে ঢোকাতে ঢোকাতে বলল ইন্দ্ৰ।

লিওনার্দো থমকে গিয়ে পেছন ফিরে তাকালেন। তারপর মুচকি হেসে বললেন, “গুডবাই, ইন্দ্রজিৎবাবু। বাই দ্যা ওয়ে, কল মি লিও।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *