১৯
মেঘবতী…মেঘবতী? রুদ্ধদিনের রিক্ত মায়ায় অধীর কেন গুঞ্জরণ?
মেঘবতী…মেঘবতী! রূপনেত্রের অন্তরে কই হৃদয়জুড়ে আমন্ত্রণ?
স্তুতি চমকে আশেপাশে তাকাল। কার কণ্ঠ? কে মেঘবতী? সে তো মেঘবতী নয়! এভাবে আকুল হয়ে ডাকছে কে? চারদিকে শাল আর পিয়ালের জঙ্গলের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে স্তুতির গায়ে কাঁটা দিল। সে কি ভুল শুনল? স্পষ্ট পুরুষ কণ্ঠস্বর। কে সে? কোথাও মানুষের অস্তিত্ব নেই। এখানে এসে কিছুক্ষণ ধরেই স্তুতির মনে হচ্ছিল যে, এই গোটা দুনিয়ায় সে যেন একা এক জীবিত প্রাণ। নিস্তব্ধ চরাচর। কোনও এক স্বপ্নদৃশ্যের মতো সে যেন এসে পড়েছে একটি জনহীন দ্বীপে। দ্বীপকে বেষ্টন করে আছে একটি নদী। সুন্দরপুরের সীমানা পেরিয়ে এই নদীটির নাম ঝিনুক। দূরে পাহাড়ের ঢেউ।
প্রখর বৈশাখে ক্রমেই শীর্ণ হয়ে যাচ্ছে ঝিনুক নদী। এ নদীর বৈশিষ্ট্য হল, তীরভূমিতে লেগে থাকা ঢেউয়ে ভেসে আসা পলিমাটির সাদাটে রং। স্তুতির দেখে মনে হয়েছিল, ঠিক যেন বিষণ্ণ স্মৃতি। স্মৃতি কি এমন ফ্যাকাসে হয়? কিন্তু না, তার স্মৃতি তো ফ্যাকাসে হচ্ছে না!
ঝিনুক নদীর জলেভেজা মাটি দেখলে মনে হয়, এ কি মাটি? মাটি তো হাতে লেগে থাকে, মন খারাপের মতো। কিন্তু বিষাদকে কি ধোওয়া যায়?
স্তুতির চোখে আবার জল এল। নদীর জলে হলুদ আভা মুছে যাচ্ছে। একটু পর সন্ধ্যা হবে। তাই নদীর কাছে থাকলে তার কান্না পাবে। তাই স্তুতি সরে এসেছে।
নদীর থেকে গাছ বরং ভালো। গাছেরা কথা বলে না, নদী কথা বলে। গাছ এক নীরব, গম্ভীর শ্রোতা। তার সামনে বসে থাকা যায়। ছুঁলে কান্না পায় না। বরং গাছই হয়তো সহানুভূতিশীল। তাই তো গাছের কাছে থাকলে মাঝেমধ্যেই যেন শোনা যায় শ্বাসের শব্দ। গাছের নিঃশ্বাস? নাকি ওই গাছেদের শব্দ আসলে দুর্বল এই মানবজীবনগুলির প্রতি দীর্ঘশ্বাস?
যখন খুব কান্না পায়, যখন মনে হয় এভাবে কি বেঁচে থাকা যায়, তখন গাছেরা টুপটাপ করে পাতা খসায়। স্তুতির মনে হয়, গাছেরা তার কাছে আসা সেই দুখী মানুষের মাথায় গায়ে হাতে পাতা ফেলে ভরসা দেয় যে, আমি আছি। বিষণ্ণতাকে তোমার মন আর শরীর থেকে সরিয়ে দিলাম উড়িয়ে দিলাম বাতাসে।
স্তুতি অনেক ক্ষণ ধরে তিনটি দুর্গা-টুনটুনিকে দেখতে পাচ্ছে। কালো চকচকে শরীরের বুকে একটুকরো নীলচে আভা। তারা এক জায়গায় স্থির নয়। উড়ছে, বসছে, হাঁটছে লাফিয়ে লাফিয়ে।
এখন আর কোনও শব্দ নেই। কিন্তু ওই কণ্ঠ টানছে তাকে। স্তুতি আরও এগিয়ে গেল জঙ্গলের ভিতরে। বেশিদূর যেতে হল না। লম্বা দুই গাছের মাঝখানে একটা টুকরো ফাঁকা জায়গা। পাতা বিছানো মাটিতে গাছের গুঁড়ি পড়ে আছে।
মৃত গাছের গুঁড়ির উপরে বসে আছে এক যুবক। ব্লু জিনস। হাফ স্লিভ পিঙ্ক কটন শার্ট। যুবক সম্পূর্ণ পিছন ফিরে বসে নেই। মুখের একাংশ স্পষ্ট। হালকা দাড়িগোঁফ। গায়ের রং বেশ ফর্সা। দাড়ির রং খয়েরি ঘেঁষা। পাতলা ঠোঁটের নীচে এক টুকরো অহংকার লেপ্টে আছে। যুবকের কোলে একটি ডায়েরি। হাতে পেন। চোখ উপরের দিকে। আকাশ দেখছে?
নিঃশব্দে পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে স্তুতি। যুবক বুঝতে পারেনি, সে মগ্ন। স্তুতি ভাবছিল, তার কি কথা বলা উচিত? নাকি চলে যাবে? এই মানুষটিই যে একটু আগে ওরকম উচ্চকিত উচ্চারণ করছিল, এটা নিশ্চিত। কারণ আশেপাশে আর কেউ নেই। কিন্তু কেন? ডায়েরিতে সে কী লিখছে? কবিতা? সেটাই কি চিৎকার করে বলছিল! কাকে? এত প্রশ্ন একসঙ্গে মাথায় ভিড় করে এলেও স্তুতি একটু যেন থমকে গেল যুবককে দেখে। কারণ যুবক সম্পূর্ণ নিজের মধ্যেই মগ্ন।
‘রক্তিম চন্দ্রিমা ওই আসে ঘনঘোর…’। হঠাৎ বলে উঠল যুবক।
চমকে স্তুতির মুখ থেকে বেরিয়ে এল, ওহ্!
তৎক্ষণাৎ মুখ ঘুরিয়ে তাকিয়েছে যুবক। ভ্রু কুঁচকে গেছে। এক মুহূর্ত। দুজনের চোখ পরস্পরের দিকে নিবদ্ধ। স্তুতি চোখ সরাতে পারছে না। যুবকটি উঠে দাঁড়িয়েছে। চোখে চোখ রেখেই। তবে নড়ছে না।
কিছুক্ষণের স্তব্ধতা। তারপর সে বলল, আপনি? আপনাকে তো চিনতে পারছি না।
স্তুতি তখনও চোখ সরায়নি। এবার সম্বিৎ ফিরে পেল। বলল, আমাকে চেনার কথা নয়। আমি এখানে নতুন। কলকাতা থেকে এসেছি। আপনি বুঝি এখানেই থাকেন?
যুবক বলল, হ্যাঁ। তাও বলতে পারেন। আপনি কি এখানে নতুন এসেছেন? বেড়াতে? নাকি কাজে?
স্তুতি বলল, ব্রহ্মেন্দ্র সান্যাল আমার মামা হন। রোজারিও মেমোরিয়াল কলেজে হিস্ট্রি পড়াতেন। এখন রিটায়ার্ড। আপনি চেনেন কিনা জানি না। আমি কলকাতায় থাকি। মামার কাছে এসেছি।
যুবকটির চোখমুখ উজ্জ্বল হল। বলল, ব্রহ্মবাবুস্যার আপনার মামা? উনি আমার প্রিয় মানুষ। সুন্দরপুরের সকলেই ব্রহ্মস্যারকে ভালোবাসে। আপনি তো আমাদের এখানে অতিথি।
স্তুতি বলল, আমি আগেও এখানে এসেছি কয়েকবার। এই জায়গাটায় আগে বিশেষ আসা হয়নি। অনেকদিন আগে একবার পিকনিকে এসেছিলাম। আপনারা কোন দিকটায় থাকেন? মানে প্ল্যান্ট কলোনিতে? নাকি বাইরে?
যুবক বলল, আমি তো এখানে বছরখানেক এসেছি। আমার বাড়ি কলকাতা। এখানে বাসাভাড়া নিয়ে আছি। কলোনির বাইরে।
স্তুতি অবাক হল। বলল, এই যে আপনি বললেন, আমি আপনাদের এখানে অতিথি। আপনিও তো আমার মতোই কলকাতার মানুষ?
যুবক হেসে বলল, আপনি তো বেড়াতে, আমি এসেছি কাজে। জানি না এখানেই থেকে যাব কিনা। এখন এটাই আমার জায়গা! আপনাকে দেখে মনে হয়েছিল, আপনি হঠাৎ ভয় পেয়ে গিয়েছেন। আসুন না, বসুন এখানে।
স্তুতি দ্বিধায়। এখানে অচেনা একটি মানুষের সঙ্গে বসা ঠিক হবে? কেউ যদি এসে পড়ে? গাছের গুঁড়িতে পাশাপাশি বসে কথা বলার মধ্যে পরিচয়ের ঘনিষ্ঠতা আছে। এরকম ছোট্ট জনপদে বেশ চর্চারও বিষয় হতে পারে। স্তুতি অবশ্য পরোয়া করে না।
স্তুতি বসে পড়ল। বলল, ভয় পাইনি। তবে চমকে উঠেছিলাম। আপনি হঠাৎ চিৎকার করে উঠলেন। তাই-ই চমকে গিয়েছিলাম।
যুবক হাসল। বলল, ও আচ্ছা। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে। এখানে আমি ছাড়া আর কেউ থাকতে পারে, তা আন্দাজ করিনি। তাই চিৎকার করে পড়ছিলাম। আপনাকে দেখে আচমকা হতবুদ্ধি হয়ে গেলাম।
স্তুতির মনে হল, বাংলা সাহিত্যের চর্চা করে। না হলে কেউ এভাবে ‘হতবুদ্ধি’ শব্দটা ব্যবহার করে না।
স্তুতি বলল, আপনি একটু আগে উঁচুগলায় কিছু বলছিলেন? কাউকে ডাকছিলেন?
যুবক হেসে বলল, ওহ্! ওটা একটা কবিতা। আপনি শুনলেন বুঝি?
স্তুতি বলল, আমিও প্রথমে তাই ভাবছিলাম। কবিতার মতোই লাগল। আপনি এভাবেই কবিতা পড়েন?
যুবক বলল, আমি বৈশাখ। বৈশাখ বসু। এখানে মিশনারি স্কুলে পড়াই। আপনার নাম?
স্তুতি। একটু হেসে আবার বলল, এভাবে কবিতা পড়াই কি আপনার অভ্যাস? কবিতা পাঠ তো একটু পার্সোনাল, তাই না? কিন্তু আপনি যেভাবে পড়ছিলেন মনে হচ্ছিল কাউকে যেন শোনাচ্ছেন! কিছু মনে করবেন না।
বৈশাখ তৎক্ষণাৎ উত্তর দিল না। গম্ভীরভাবে কয়েক মুহূর্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, আপনি কখনও গাছের সঙ্গে কথা বলেছেন?
স্তুতি অবাক বলল, কই না তো! হঠাৎ একথা বলছেন? কী আশ্চর্য একটু আগে স্তুতি নিজেই ভাবছিল এমন কথা। আর এখন এই ছেলেটি ঠিক সেই প্রশ্ন করছে!
এই তো কিছু আগেই স্তুতি ভাবছিল, গাছের সঙ্গে কথা বলা অনেক সঙ্গত। গাছেরাই নির্ভরশীল শ্রোতা। নদীর বহমানতায় যেন মিশেছে চঞ্চলতা। স্রোতের ধর্মই সবকিছুকে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া।
নদীর সঙ্গে কথা বলা যায় না। তাই যা স্থির, গম্ভীর, নিরুত্তর, এই মহীরুহগুলি অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য। যেমন বৃহৎ।
স্থিরচোখে যুবকের দিকে তাকিয়ে বলল, কেন? আপনি কি গাছের সঙ্গে কথা বলেন?
বৈশাখ এবার ফের আনমনা। মাটিতে চোখ রেখে বলল, বলতে পারেন কথা বলার চেষ্টা করি। গাছেদের একটা ভাষা আছে। সেই ভাষা আমরা জানি না। পাখিদের ভাষা আছে। আমরা বুঝি না। গাছেদের কাছে গিয়ে কবিতা বলতে হয়। গান গাইতে হয়, আমি এসব করি কেন জানেন? জানতে চাই কবিতা শুনলে, গান গাইলে গাছের পাতার, শাখার কোনও অনুভূতি হয় কিনা।
বৈশাখ থেমে বলল, আপনি কি বিশ্বাস করবেন, অনুভূতির তারতম্যে গাছেদের প্রতিক্রিয়াও নানারকম হয়? গাছেদের সঙ্গে কথা বললে, গান শোনালে একদিন দেখবেন, গাছ আপনাকে চিনে নিয়েছে। সে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। পাতা দুলিয়ে কিংবা ডালের শব্দে আপনাকে ভালো লাগা বোঝাবে। অথবা পাখি! যেখানে পাখিরা থাকে সেখানে যদি একটা সুর তৈরি করেন, দেখবেন পাখিরা আপনার কণ্ঠস্বরে উড়ে যাচ্ছে না। বরং এগিয়ে আসছে কিছুটা। আসলে গুনগুন করে গান গাওয়া, মৃদুস্বরে কবিতা বলা মানুষকে পাখি, গাছ শত্রু মনে করে না। ভয় পায় না।
স্তুতি একটু চুপ থেকে বলল, আপনি কি আমাকে চমক দেওয়ার জন্য এরকম কথাবার্তা বলছেন? কয়েক মিনিটের আলাপে এভাবে কথা বলার মধ্যে কৃত্রিমতার গন্ধ থাকে না? ‘বাহ, ইনি কত সুন্দর করে ভাবেন’, আমি এরকম ভেবে নেব, এটা ভাবছেন নাকি?
যুবকটি রেগে গেল না, হাসলও না। বরং আরও চিন্তিত হল। স্তুতির কথা সে যেন শুনতেই পায়নি। নিজের মনেই বলল, সমস্যা হল, গাছেদের লক্ষ্য করছে না মানুষ। গাছেরা কিন্তু মানুষকে লক্ষ্য করছে। আপনি জানেন না, গাছের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগত কষ্ট প্রকাশ করলে দেখবেন কষ্টবোধটা কমছে। এর মানে কী?
নিজেই প্রশ্নের উত্তর দিল, মানে হল, কষ্টটা গাছ টেনে নিচ্ছে। শুষে নিচ্ছে। ঠিক টের পাবেন। তবে নিজের কষ্টের কথা গাছকে কেন শোনাবে মানুষ? আদানপ্রদান হওয়া উচিত। তাই গাছকে কবিতা শোনাই। গাছকে গান শোনাই, নালিশও করি। গাছ বদলে যায়…ফুল বদলে যায়।
স্তুতি লজ্জা পেল মনে মনে। এতটা আক্রমণাত্মক হওয়া উচিত হয়নি। এরকম খারাপ ব্যবহার সে করে না। স্তুতি ঠোঁট কামড়ে ধরল। তথাগতকে নিয়ে উদ্বেগ, হতাশা কি তার মধ্যে একটা তিক্ততার জন্ম দিয়েছে?
ছেলেটি এখনও তার কথার জবাব দেয়নি। বোঝা গেল ওই কথাগুলি তার কানে ঢোকেনি। কত বয়স? দেখে তো তিরিশের আশেপাশে মনে হচ্ছে। তথাগত বত্রিশ। ভাবলেই ওর চোখে জল আসছে। তথাগত স্তুতির নিছক দাদা নয়। সে তার বন্ধু, গাইড এবং রক্ষাকর্তা ছিল। সেই তথাগত হঠাৎ কোথায় গেল সকলকে অন্ধকারে রেখে?
স্তুতি কিছুক্ষণ চেয়ে রইল। উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আমি যাই। আপনার সঙ্গে আলাপ করে ভালো লাগল। মামাকে বলব।
বৈশাখ এবারও কোনও জবাব দিল না।
এবার স্তুতি লজ্জা পাচ্ছে, সংকোচ হচ্ছে। এটা কী করছে সে? হঠাৎ জঙ্গলের মধ্যে অজানা যুবকের সঙ্গে দেখা হতেই তার পাশে বসে সে এতক্ষণ ধরে কথা বলছিল কেন? কিন্তু তার উঠে পড়াটাও ছেলেটিকে স্পর্শ করছে না। ছেলেটি মানসিকভাবে সুস্থ তো?
হয়তো সে এভাবে ঘুরে বেড়ায় নদীতে, জঙ্গলে, প্রান্তরে। পরিবার, এলাকার মানুষ হয়তো জানে এই প্রবণতা। সে নতুন, তাই জানে না। কিন্তু যে মানসিক সুস্থ নয়, সে কীভাবে স্কুলে পড়ায়? অথচ স্বাভাবিক তো লাগছে না। এখনও ওপরের গাছের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ছেলেটি।
আসলে বৈশাখ তীক্ষ্ণ চোখে লক্ষ করছে যে, একটু আগে কবিতা থামিয়ে দিয়ে সে হঠাৎ একটি মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করায় গাছেদের আচরণে পরিবর্তন হল কিনা। মেয়েটি এসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর একজন মানুষের আগমন হল। সেই অতিরিক্ত আগমন কি গাছেদের মধ্যে মৃদু প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করল? তাই আকাশমণি গাছটি একটু উদাসীন হয়ে গেল? তার কি কবিতা শুনতে ভালো লাগছিল?
এরকম সব ভাবনা বৈশাখের মুখে এসে বসল। সে স্তুতির দিকে তাকিয়ে আছে। অথচ সে দৃষ্টি স্তুতির শরীরকে ভেদ করে যাচ্ছে। স্তুতি নিজের পিছনে দেখল।
সেরকম কিছুই নেই। তবে? একটি ফড়িং আছে। আর আছে নীল আর কালোয় মেশা দুটি প্রজাপতি।
স্তুতি সন্তর্পণে হাঁটতে শুরু করছে। জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এল। সামনেই ঢালু জমি গিয়েছে ঝিনুক নদীর দিকে। মেঘ আরও কালো করে এসেছে। ছায়া পড়েছে ঝিনুকে।
স্তুতির হঠাৎ মনে হল ঝিনুক নদী যেন আজ বিকেলে কাজল পরেছে চোখে। একটু কি কাব্যিক হয়ে গেল? স্তুতির হঠাৎ হাসি পেল। তার কী হয়েছে?
স্তুতির আরও একবার সেই ফড়িং আর প্রজাপতির কথা মনে পড়ল। বৈশাখ যাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। স্তুতি ভাবছিল, ফড়িং আর প্রজাপতিরা কি একে অন্যকে চেনে? সে খেয়াল করেছে এরা উড়তে উড়তে পরস্পরের সামনে চলে এসে কিছুক্ষণ যেন একে অন্যকে লক্ষ্য করে উড়তে উড়তেই।
স্তুতি একটা শ্বাস ফেলে এগিয়ে গেল। এবার ফিরতে হবে।
স্তুতির এই চলে যাওয়া স্পর্শই করল না বৈশাখকে। সে তখন ভাবছে, গাছের কি স্মৃতি থাকে? আমি যদি কয়েকদিন না আসি, গাছ কি আমায় ভুলে যাবে? আমি যে তার পরিচিত, এটা গাছ বোঝায় কেমন করে? নিশ্চয়ই একটা ইঙ্গিত আছে! কী সেটা? আমি বুঝতে পারছি না কেন? এইসময় বৈশাখের হাতে এসে বসল একটি হলুদ কালো প্রজাপতি! তারপর বৃষ্টি নামল।
