ডাকনাম ভুলে গেছি – ৬

ছয়

রশীদ চোর হলেও গল্প বলায় তার প্রতিভা আছে, হয়তো সব চোরদেরই এই গুণটা থাকতে হয়। ধরা পড়ার পর একটা বিশ্বাসযোগ্য গল্প অনেকসময় ক্ষুব্ধ মানুষের কিল-ঘুষি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। রশীদের গল্প আমি শুনেছি, কিন্তু তার সব কথা বুঝিনি তখন, এখন মনেও নেই। কিন্তু পরবর্তীতে আরো বহু মাধ্যমে একই গল্পের আরো বহু প্রকরণ শুনেছি। তবে সবগুলোকে গুলিয়ে যদি মোটামুটি একটা গল্প দাঁড় করানো যায়, তবে তা একটা তথাকথিত ভূতের গল্পই হয়।

জমিদার পার্থনারায়ণ রায় মহিমগঞ্জের নির্মল বাতাস আর নির্ভুল খাজনা আদায়ের লোভে এখানে একটা কাছারিঘর নির্মাণ করেছিলেন। এখানে এসে মাসখানেক থেকে স্বাস্থ্য এবং অর্থের এতই উন্নতি হলো যে, পরে পুরোদস্তুর একটা বাড়ি তৈরি করে ফেললেন। সাহেব ইঞ্জিনিয়ার, অভিজ্ঞ কারিগর, দ্বিগুণ খাজনা আর তার বিরাট শখের কল্যাণে বাড়িটাও তৈরি হলো চমৎকার। দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে লোকে এই প্রাসাদ দেখতে আসত। পার্থনারায়ণের শখ কেবল বাড়ি নির্মাণে সীমাবদ্ধ ছিল না; গানবাজনা, ইয়ারবন্ধু, মদ্যপান ইত্যাদি সব বিনোদনে তাঁর অনীহা ছিল না। অল্প কয়েকদিনে খুব সফলতার সাথে এই বাড়িটাকে তিনি রংমহলে রূপান্তর করে ফেললেন।

অথাগমনের পথ যত সুগম হলো, খরচের রাস্তাটাও তত প্রশস্ত হলো। বাইজি এলো, সার্কাস এলো, সাহেবদের পার্টি হলো, নদীর ঘাটে বিশাল বড় বজরা বাঁধা হলো। টাকার জোরে রঙিন আঁচল ঝুলিয়ে কত পালকি এসে ভিড়ল এই জমিদারবাড়িতে! কিন্তু টাকা দিয়ে সুখ কেনায় একসময় অরুচি ধরে গেল পার্থনারায়ণের। নিজের মহিমায়, ব্যক্তিত্বে, বাকচাতুর্যে, ভালোবাসার টোপ দিয়ে সম্মোহিত করে শিকার ধরার যে বিদ্যা, সেটা আরেকবার ঝালিয়ে নিতে ইচ্ছা হলো। এই গ্রামেরই একটা নিচু জাতের মেয়েকে পুকুরঘাটে সিক্ত বসনে দেখে ইচ্ছাটা তাঁর আরো প্রকট হলো।

নিচু জাত হলেও, তার অস্থি-মাংসের নিপুণ বিন্যাস দেখে শিকারির লোভ হলো। মেয়েটার চেহারায় একটা সরল, নিরীহ মাধুর্য আছে, গরিব না হলে বোধহয় এমন মাধুর্য আসে না। শুধু নিচু জাতটাই জমিদারের মনে খচখচ করতে লাগল। যত বড় লম্পটই তিনি হন, ধার্মিক তো বটে। কিন্তু সমস্যা হলো এই বয়সে প্রেমের ধার পরীক্ষা করার জন্য উঁচু জাতই বা পাবেন কোথায়!

আর তাঁর জাত কি এতই ঠুনকো যে একটা অবৈধ প্রণয়ের আঘাতে ভেঙে যাবে! জমিদার মেয়েটাকে দৃষ্টি দিলেন, মেয়ে চোখ তুলে তাকালো না; হাসি দিলেন, মেয়েটা ফিরিয়ে দিলো না। জমিদার উপহার দিলেন, মেয়েটা গ্রহণ করল, কিন্তু তাতে দয়া ছাড়া কোনো প্রেম তার নজরে পড়ল না। রূপের প্রশংসাতেও মেয়েটা সাড়া দিলো না। জমিদার বিরক্ত হলেন, যেখানে পয়সার চমকে অথবা গম্ভীর ধমকে কাজ হয়ে যায়, সেখানে এত ছলাকলা পোষায় না। তবুও এই খেলায় হারলে তো চলবে না, নিজের পৌরুষের অহংকারকে যে-কোনো উপায়ে জয়ী করা চাই।

নিজের আয়ত্তে থাকা সব বিদ্যা ব্যর্থ হওয়ার পর জমিদার ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগ করলেন, অর্থাৎ কেঁদে-টেদে প্রেম নিবেদন করলেন। সরল মেয়েটা চাতুর্য জানে না, হাসি দিয়ে যাকে কাবু করা যায়নি, কান্নায় সে বশ হয়ে গেল। জয় করা হয়ে গেলে, ভোগের আশ মিটে গেলে তারপর আসে অবহেলার পালা। বোকা মেয়েটার এই সহজ নিয়মের সাথে পরিচয় ছিল না। জমিদার তাকে কলঙ্কের হুমকি দিয়ে চোখ রাঙালেন।

মেয়েটা পারভাঙা নদীর মতো দাঁড়িয়েছিল, বুকের বিশাল একটা চাঙড় ভেঙে পড়েছে তার। সজল চোখে সে জানালো, পেটে তার নতুন চরের মতো একটা কলঙ্ক বড় হচ্ছে। দশটি টাকা ছুড়ে মেরে এবং অন্য কোথাও মরার পরামর্শ দিয়ে জমিদার দায়মুক্ত হয়ে গেলেন। মেয়েটা টাকা কুড়ালো না, অন্য কোথাও গেল না। জমিদারবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে প্রতিদিন বিষণ্ণ মুখে বসে থাকত সে। বাইরের বিষণ্ণতা প্রহরীদের কড়া পাহারায় ভেতরে ঢুকতে না পারলেও ভেতরের আমোদ-ফুর্তি, হাস্য-পরিহাস প্রাচীর উপচে বাইরে এসে পড়ত।

একটা চিঠি এসে জমিদারের সকল আমোদ-প্রমোদ তছনছ করে দিলো। তাঁর এই হর্ষ-তামাশার শব্দ বাইশ মাইল দূরের কাঞ্চনপুরে গিয়েও পৌঁছেছে। কাঞ্চনপুরে তাঁর ঘরের লক্ষ্মী সন্তানাদি নিয়ে বাস করেন। পার্থনারায়ণের এই প্রতিপত্তির পেছনে তাঁর নিজের গুণের চেয়ে শ্বশুরের সুনজরের কৃতিত্ব বেশি। শ্বশুর এখনো জীবিত এবং শ্বশুরের মেয়ে তার সমস্ত অস্তিত্ব নিয়ে বর্তমান। এদের কোনো একজনের বিরাগভাজন হওয়া তাঁর নিজস্ব অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর নয়। যিনি এত দিতে পারেন তিনি যে কত নিতে পারেন, তা জমিদার জানেন। শ্বশুর যদি তার কৃপার হাতটা সরিয়ে নেন, ঋণের খাতার চাপে তিনি পিষ্ট হবেন সন্দেহ নেই। চিঠিতে অর্ধাঙ্গিনী জানিয়েছেন, তিনি সন্তানাদিসহ মহিমগঞ্জে থাকতে আসছেন, এখানকার বিশুদ্ধ বায়ু কতটা স্বাস্থ্যকর তা তিনি নিজেই পরখ করতে চান।

জমিদার বুঝলেন শ্বশুরের কন্যা রঙ্গমহলের সব রং ঘষে ঘষে মুছে ফেলতে আসছে। সুতরাং ইয়ার-দোস্ত মদের বোতল গুটিয়ে বিদায় হলো, রঙিন আঁচলগুলো ফিরতি পালকিতে চড়ে বসলো, ঢোল-তবলার কোনো চিহ্ন রইল না জমিদারবাড়িতে। শুধু বিষণ্ণ একটা মুখ তার স্ফীত পেট আর অশেষ কলঙ্ক নিয়ে প্রাচীরের বাইরে অবিচল রইল। এতগুলো বড় বড় পাপ নিষ্কাশন করার পর এই ক্ষুদ্র পাপটাকে কোনোমতেই বাড়ির সামনে থেকে সরানো গেল না। ভয়, গলা ধাক্কা, লোভ—কোনো কিছুতেই এই সামান্য বাগদী মেয়েটা থেকে নিস্তার পাওয়া গেল না। কাঁদে না, গালি দেয় না, চোখে পাথরের মতো স্থির ঘৃণা নিয়ে সে কেবল দাঁড়িয়ে থাকে।

উপায় না পেয়ে একদিন সন্ধ্যায় জমিদার মেয়েটাকে ভেতরে ডেকে আনলেন। জমিদার তখন কেবল সন্ধ্যার পূজা-আহ্নিক সেরেছেন। কুয়ার পাশে তুলসিতলায় প্রদীপ জ্বালানো হয়েছে। চাকরের দল এখন এইপাশে খুব একটা থাকে না। খালিগায়ের ওপর তার শুভ্র পৈতাটা জ্বলজ্বল করছে। জমিদার কাতরকণ্ঠে জানালেন, তাঁর আর উপায় নেই। ব্রাহ্মণের সম্মান বাঁচাতে নিচু জাতের মানুষ প্রাণ দিলেও পুণ্য হয়। মেয়েটাকে পুণ্যবতী করতে দুজন হিন্দুস্থানি পেয়াদা মেয়েটার পেছনে এসে দাঁড়ালো। জমিদার কুয়াটা দেখিয়ে তাদেরকে জানালো, তিনি রক্তপাত চান না। পেয়াদাগুলো যখন মেয়েটার বাহু ধরল, তখন মেয়েটা জমিদারকে তার শেষ অনুরোধটা জানালো, সে চায় জমিদার কাজটা তাঁর নিজের হাতে করুক। জমিদার তাঁর অপারগতা জানিয়ে দিলেন, এখন তিনি ছুঁতে পারবেন না, নইলে আবার স্নান করতে হবে।

সজল কুয়াটাকে কী অপরাধে এক রাতে বুজিয়ে ফেলা হলো, কেউ বুঝতে পারল না। তার পরদিন থেকে জমিদারবাড়ির সামনে আর কোনো বিষণ্ণতা রইল না। গ্রামব্যাপী রটানো হলো মেয়েটা যে অন্যায়টুকু পেটে ধরেছিল, সেটাকে নিয়ে গ্রাম থেকে পালিয়েছে। সে-রাতে আকাশে চাঁদ ছিল, তুলসিতলায় প্রদীপ ছিল। আসল ঘটনাও চোরা স্রোতের মতো সবার কাছে পৌঁছে গেল, ফিসফাস হলো, কিন্তু তা কোলাহল হয়ে উঠতে পারল না। বাগদী একটা মেয়ের জন্য অন্নের সাথে কেউ শত্রুতা করতে সাহস করল না।

নদীতে পানি নেই, নৌকা আসার উপায় নেই, কিন্তু জমিদারগিন্নী আসার জন্য বর্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন না। আটজন বেহারার কাঁধে চড়ে তিনি মহিমগঞ্জের জমিদারবাড়িতে এসে উপস্থিত হলেন। পিতার রসুইয়ের আশীর্বাদে দেহে তাঁর রূপ-সৌন্দর্য যেমনই থাকুক, চর্বির অভাব নেই। পালকির সংকীর্ণ দরজাটা বহুকষ্টে অতিক্রম করে, কাহিল বেহারাদের অজস্র অভিশাপ দিয়ে তিনি আঙিনায় পা রাখলেন।

অলঙ্কার আর অহংকারে তাঁর সারা গা ঝলমল করছে। বেহারাদের দল তাঁর মেদ আর গয়নার ভারে ক্লান্ত হয়েছে ঠিক, কিন্তু নাজেহাল হয়েছে এই অহংকারের ভারে। গতি কমে এলেই পালকির ভেতর থেকে তিনি একটু পর পর জিভের চাবুক ছুড়ে মারেন, এমন হাভাতে-কমজোর বেহারা তিনি বাপের জন্মে দেখেননি, ঘোড়ার কাজ খচ্চর দিয়ে হয় না, সকালে ভাত খাইয়ে তবে কী লাভ হলো, ইত্যাদি ইত্যাদি। বেহারারা জানে আর কিছুদূর পৌঁছে দিলেই তাদের কাজ শেষ, অবিরাম গালাগালি থেকে মুক্তি। কিন্তু কেউ একজন তো তাঁর সাথে সংসার করবে, পাশাপাশি শোবে, সেই বেচারার দুর্দশা কল্পনা করে তাদের অন্তর মমতায় পূর্ণ হয়ে উঠল।

জমিদারগিন্নী বাড়িতে পা দিয়েই চাকরবাকরদের ব্যতিব্যস্ত করে তুললেন। এতদিন বাবু মদ খেয়ে ইয়ার-দোস্তদের আড্ডায় পড়ে থাকতেন, নয়তো কোলকাতা, লখনৌ থেকে আসা বাইজিদের সুরে অথবা শরীরে মজে থাকতেন। চাকরদের কাজের ফাঁকি ধরার অবসর তাঁর ছিল না, বাবু মৌজে থাকলে চাকররাও আরামে থাকত। এখন গিন্নী এসে পরিষ্কার মেঝেতে ধুলো খুঁজে পান, ভাঁড়ারের হিসাব তাঁর কোনোদিন মিলে না, খোকার দুধ তাঁর কাছে সবসময় পাতলা মনে হয়। দিনে মাত্র ছয় বেলা রান্না করতে বামুন ঠাকুরের কেন এত অনীহা, দুপুরবেলা কে কে ঘরে গিয়ে ঘুমোয় ইত্যাদি তদারক করে বেড়ান।

জমিদারবাবু এখন সবসময় সোনালি পাড়ের সাদা ধুতি পরে থাকেন, মাথায় থাকে তিলক, হাত থেকে পূজার থালাটা কোনোক্রমেই নামান না, পৈতাটা প্রদর্শন করে বউয়ের সামনে ঘুরে বেড়ান। তাঁর এই নতুন বেশে পরিবেশ কিছুটা শান্ত হয়েছে। জমিদারগিন্নীর বুদ্ধি এবং স্বাস্থ্য দুটোই স্থূল, এই প্রপঞ্চনা তিনি ধরতে পারলেন না, যেসব শত্তুরের দল তাঁর এমন স্বামী সম্পর্কে কানপড়া দিয়েছে, তাদের মুখে অনবরত ছাই বিতরণ করতে লাগলেন তিনি। তবুও আহ্লাদে যে একেবারে উথলে পড়েছেন তাও নয়, কানাঘুষা বাবদ বউয়ের মুখ ঝামটা আর চোখরাঙানির সাজাটুকু ভোগ করতেই হলো জমিদারবাবুকে।

পরদিন সন্ধ্যায় জমিদারগিন্নী দোতলার বারান্দায় ক্ষীরপুলি উপভোগ করছিলেন, নিচে তুলসিগাছের পাশে একটা মেয়েকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাঁক দিয়ে উঠলেন, “কে ওখানে দাঁড়িয়ে আছে শুধু শুধু, সন্ধ্যায় কি কাজের অভাব পড়েছে?”

মেয়েটা নড়ল না, যেমনি দাঁড়িয়ে ছিল তেমনি দাঁড়িয়ে রইল। জমিদারের বউ দেখলেন, মেয়েটা গর্ভবতী। এমন পোয়াতি মেয়েকে যে কাজে রেখেছে তার বুদ্ধির প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করে আগামীকালই একে বিদায় করার প্রতিজ্ঞা করলেন। শেষ পুলিটা গিলে ক্লান্ত হয়ে শয্যায় নিজেকে ঢেলে দিলেন।

গভীর রাতে কী কারণে যেন তাঁর আবার ঘুম ভাঙল, ঘুম ভেঙেই দেখলেন পোয়াতি মেয়েটা তাঁর মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। কী যেন আছে মেয়েটার মুখে। জমিদারগিন্নী স্বাভাবিক চিৎকার চেঁচামেচি করতে পারছেন না, ভয়ে কিংবা রাগে গলা দিয়ে স্বর বের হচ্ছে না। অনেক পরে গলা দিয়ে যখন কিছু একটা বের হলো, সেটা তাঁর সেই স্বাদের ক্ষীরপুলি। বমি করে ফিট হয়ে পুরো বাড়িতে একটা হুলুস্থুল বাঁধিয়ে দিলো জমিদারগিন্নী।

তারপর থেকে প্রায় রাতেই একটা পোয়াতি মেয়ে এই বাড়িতে ঘুরঘুর করে। জমিদারের বউয়ের সেই হাঁকডাক আর রইল না, কেমন চুপসে গেছেন। চাকরবাকরেরা চোখের সামনে অন্যায় করে পার পেয়ে যাচ্ছে, কাচের পিরিচ ভাঙার পরও মাইনে থেকে কিছু কাটা যাচ্ছে না, দুপুরবেলা গাছতলায় বসে একটু ঝিমিয়ে নিলেও ওপর থেকে বাঁজখাই গলার শাসন বেজে ওঠে না। অনিদ্রার কারণে জমিদারগিন্নীর চোখের নিচে কালির প্রলেপ পড়েছে, এত বছর ধরে সঞ্চয় করা মেদ পরিচর্যা না পেয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, জমিদারগিন্নীর খাবারের বিখ্যাত রুচিটা মরে গেছে; মোহনভোগ, ক্ষীরপুলি, রসকদম্ব তাঁর কাছ থেকে এত অবহেলে আর কখনোই পায়নি।

স্থানীয় ডাক্তার কেউ যখন রোগ ধরতে পারল না, তখন শ্বশুর মহাশয় কোলকাতা থেকে বহু ঘটা করে সাহেব ডাক্তার পাঠালেন। সাহেব ডাক্তার জানালো, ভয়রোগে ধরেছে তাঁকে, বায়ু বদল করা দরকার। জমিদারগিন্নী বেঁকে বসলো, পোয়াতি মেয়েটার নাকি যে-কোনোদিন বাচ্চা হবে, তাঁকে যেতে মানা করেছে। জমিদারগিন্নীকে নিয়ে যেতে তাঁর বাবা আসলেন। কিছুদিন উৎপাত চোটপাটে কাঁচুমাচু হয়ে থাকল জামাই। জমিদার মিনমিন করে জানালেন, বাড়িটাই খারাপ। শ্বশুর মহাশয় ঠোঁট বাঁকিয়ে জানালেন, কী আর কে যে খারাপ তিনি তা ভালোই জানেন। মেয়ে রাজি না হওয়াতে বাবা তাকে প্রায় জোর করে নৌকায় উঠালেন। জমিদারগিন্নী ছটফট করতে করতে বললেন, “সে আমাকে যেতে মানা করেছে। আমি যাব না।”

এমন প্রলাপ করতে করতে তারা যখন চাঁপাপুর পৌঁছালো তখন জমিদারগিন্নী চিরদিনের জন্য শান্ত হলেন। বাপের আদরের কোলে মেয়ের নিথর দেহ পড়ে রইল।

জমিদারবাড়ির লোকজন প্রায়ই সেই পোয়াতি মেয়েটার দেখা পেতে লাগল। এরমধ্যে একটা হিন্দুস্থানি পাহারাদারের অক্ষত লাশ পাওয়া গেল দিঘির ঘাটে। ভয়ের স্রোত তখন যুক্তির সব বাঁধ ভেঙে সবার মন লণ্ডভণ্ড করে দিলো, ভয়ে চাকরি ছেড়ে পালিয়েছে অনেকে। জমিদারের ছেলেমেয়েরা সব মাতামহের বাড়িতে আশ্রয় নিলো। শ্বশুরের সুনজর না পেয়ে জমিদারের ঋণের বোঝা কেবল বাড়তেই লাগল। জমিদার শেষরক্ষা করতে না পেরে আরব আলী শেখের কাছে বাড়ি বিক্রি করে কোলকাতায় চলে গেলেন। সেখানে তাঁর খুব করুণ মৃত্যু হয়েছিল, এই ব্যাপারে সবাই একমত। কিন্তু কীভাবে হয়েছে তা নিয়ে মতপার্থক্য আছে। কেউ বলে কুষ্ঠ হয়েছিল, কেউ বলে অনাহারে মরেছিল, কারো মতে রেলের নিচে মাথা দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল জমিদার।

আরব আলী শেখ পরিবার নিয়ে মহিমগঞ্জে আসে জমিদারি সামলানোর জন্য। এখানে আসার কয়েকদিন পর ভূতের এক গল্পের আঘাতে সংসারে তার শান্তি নষ্ট হয়ে যায়। আরব আলী এইসব গল্পে পাত্তা না দিলেও তার বউ পাত্তা না দিয়ে পারে না। কেঁদে কেঁদে বলে, “মাগো! এমন জংলাবাড়ি, আমার ভয় লাগে।” কেউ নাই আশেপাশে। আরব আলী তাই বাড়ির আশেপাশে গরিব লোকজনকে জায়গা দেয়, ঘর তোলার টাকা দেয়। এই পাড়াটা প্রায় একটা স্বতন্ত্র গ্রাম হয়ে উঠছিল। বউ তার শান্ত হয়, কিন্তু মন থেকে ভয় যায় না, মাঝে মাঝেই নাকি সে একটা মেয়েকে জঙ্গলে হাঁটতে দেখে।

তারপর এক আশ্বিনে বউয়ের জ্বর হয়, তিন দিনের জ্বর তাকে আর উঠতে দেয়নি, একমাত্র সন্তান রমিজের বয়স তখন ছয় বছর। এই মৃত্যুতে পুরোনো সেই গল্পটা আবার তার ভয়াবহতা নিয়ে ফিরে এলো। তারপর যখন মাঝি মালু মিয়ার লাশ পাওয়া গেল তার নৌকায়, তখন ভয় ছড়িয়ে গেল মহামারির মতো। মালু মিয়ার পায়ে ক্ষতচিহ্ন ছিল, সাপে কেটেছে হয়তো, কিন্তু একটা চটকদার ভৌতিক গল্পের কাছে সাপে কাটার যৌক্তিক কারণ ধোপে টিকল না। তারপরে যে-কোনো মৃত্যুই হয়ে উঠল অস্বাভাবিক মৃত্যু। মহামারি তখন নিত্য ঘুরে যেত গ্রামে, একরাতে কী এক অদ্ভুত জ্বরে তিনজন মারা যাওয়ার পর নব্য প্রতিষ্ঠিত গ্রামটা বিরান হয়ে গেল। ঘটিবাটি নিয়ে সবাই জমিদারবাড়ির সীমানা ছেড়ে পালালো। আরব আলী শেখ বিরক্ত হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে এই বাড়ি ছেড়ে চলে গেল।

তারপর বহুদিন এখানে কেউ বাস করতে আসেনি। কিন্তু গ্রামবাসীর গল্প তাতে থেমে যায় না। তারা নাকি নদীর ওপার থেকেই গভীর রাতে কার যেন কান্না শুনতে পায়। কেউ কেউ নদীর পারে একটা নগ্ন মেয়েকে বসে থাকতে দেখেছে, কারো কাছে সে ‘চান্দের লাহান সোন্দর’, কারো কাছে ‘রাক্ষসীর লাহান খতরনাক’। জমিদারবাড়ির ঐশ্বর্য কেউ ভোগ করতে পারল না, একটা পোয়াতি মেয়ের কাছে হেরে গিয়ে তার বিমর্ষ-বিবর্ণ দেহ নিয়ে বাড়িটা শুধু টিকে রইল।

মঞ্জু শেখ আদালতের বারান্দায় নিঃস্ব সৎভাইকে পেছনে ফেলে ঘরে এসে যখন দেখল, ছেলে তার আফিমে দম দিচ্ছে, তখন জয়ের আনন্দ তার একমুহূর্তে উবে গেল। ছেলের চোখে সে মানুষের দৃষ্টি খুঁজে পেল না। তার ঘরময় সিগারেটের অখাদ্য অবশিষ্ট আর দুইটা বোধহীন উচ্ছিষ্ট বন্ধু প্রায় উলঙ্গ হয়ে পড়ে আছে। নেশার সরঞ্জামগুলোর কোনো লুকোচুরি নেই, বেহায়ার মতো তারা উন্মুক্ত। একটা পুরোনো পোড়া গন্ধ তাকে ঠেলে ঘর থেকে বের করে দিলো। হাতের ফিতে-বাঁধা মামলার ফাইলটাকে শত্রুর মতো ছুড়ে ফেলল মঞ্জু শেখ, নেশাগ্রস্ত তো সে নিজেও হয়েছে।

নিজেকে উকিল-আদালত আর ছেলেকে বদসঙ্গ থেকে মুক্ত করার জন্য সপরিবারে মহিমগঞ্জে চলে আসলো মঞ্জু শেখ। রাতে বউ তার কানে দিতে চাইলো প্রচলিত সেই ভয়ের গল্প। এক ধমকে গল্পটাকে পিষে মারল মঞ্জু শেখ। এত সম্পদ যার জন্য সে ছিনিয়ে এনেছে, সে পাশের ঘরে জন্তুর মতো গোঙাচ্ছে। ছেলেটার কোনো উন্নতি নেই, ভেতরে যে অনেকটুকু ধসে পড়েছে, আগে টের পায়নি কেউই। চাল-ডাল হাঁড়িপাতিলের মধ্যে ডুবে থাকা তার বউটা রান্নাঘর ছাড়া সংসারের আর কোনোদিকে চেয়ে দেখেনি। ছেলেকে সিগারেট খেতে দেখে বলেছে, “আগে ভাতটা খেয়ে নে, আলু-টমেটো দিয়ে শিং মাছের ঝোল করেছি।” আর ছেলে টাকা চাইলে আঁচল থেকে চাবি খুলে দিয়ে দিয়েছে। হিরোইনের খোলা পুরিয়া দেখে জিজ্ঞাসা করেছে, “কী ওষুধ? অসুখ হইছে নাকি? দাঁড়া, সাবু করে দেই।”

এমনিতে ছেলের প্রতি স্নেহের কোনো কমতি নেই তার, প্রায়ই কাঁদে ছেলের কাছে গিয়ে, এর বেশি কিছু করার ক্ষমতাও তার নেই। কিন্তু ছেলেটা যে শেষ হয়ে যাচ্ছে, মা তার বুঝতে পারছে না। গভীর রাতে সে এসেছে পোয়াতি ভূতের গল্প বলতে। ছেলেকে ঘরে আটকে বাইরে তালা দিয়েছে মঞ্জু শেখ। ধমক-হুমকির পর গালাগালি করেও যখন তালাটা খুলতে পারল না, মুক্তির জন্য ছেলে করুণস্বরে বাবার কাছে আবেদন জানায়, “আব্বা, দরজাটা একটু খুইলা দেন।” বাবা তার সাড়া দেয় না। ছেলে তারপর মাকে ডাকে, “ও মা, মারে, দরজাটা খুইলা দে, মা।”

মা দরজার সামনে আছড়ে পড়ে কাঁদে, তালা খোলার চাবি কিংবা অনুমতি—কোনোটাই তার কাছে নেই। সন্তানের প্রতি অসীম মায়াও স্বামীর নিষেধাজ্ঞা ডিঙাতে পারে না। মায়ের অক্ষম কান্না সন্তানের আকুতিকে ছাপিয়ে যায়। একসময় সন্ধ্যা হয়, ছেলের কাকুতি-মিনতি চলতে থাকে, সাথে মায়ের কান্নাও। মঞ্জু শেখ শক্তমুখে চেয়ার পেতে বসে রইল বারান্দায়। রাতে দরজার ঐপাশে নীরব হলে এইপাশটাও শান্ত হলো। মঞ্জু শেখের বউ ক্লান্তিতে বিছানায় শুয়েই ঘুমিয়ে গেল, মঞ্জু শেখ সেই রাতে ঘুমাতে পারল না, বারান্দায় চেয়ারের ওপর বসে রইল। কেউ বুঝবে না, ছেলের প্রতি এই নিষ্ঠুর আচরণে সবচেয়ে বেশি আঘাত সে নিজে পেয়েছে।

শেষরাতে একবার মনে হলো, বাড়ির পেছনে যেখানে মরা কুয়াটা আছে, সেখানে কি একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে? মঞ্জু শেখ সাহসী লোক, একটা বিভ্রমের কাছে সে পরাজিত হতে চায় না। সে তার চার ব্যাটারির টর্চ নিয়ে নিচে নেমে এলো, চারপাশে আলো ফেলে দেখল কোনো মানুষের চিহ্ন নেই।

পরদিন ভোরবেলা মঞ্জু শেখ ছেলের ঘরের দরজা খুলে দেখল ঘরের সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে, ছিন্নভিন্ন বিছানা, বালিশের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আছে, চেয়ার-টেবিলের পা ঊর্ধ্বমুখি, কাচের কোনোকিছু অক্ষত নেই। জানালার পর্দা মাটিতে চুপসে পড়ে আছে, কাপড়চোপড় ঝড়ে মরা পাখির মতো এদিক-সেদিক পড়ে আছে, গ্লাস বাটিগুলোও সম্মানজনক অবস্থায় নেই। এত এত ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে মঞ্জু শেখ দেখল, তার বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকার বিছানার চাদরটা গলায় পেঁচিয়ে ঘরের মাঝখানে ঝুলে আছে, দখিনা বাতাসে শরীরটা তার এপাশ-ওপাশ দুলছে।

মায়ের অশ্রু ছেলের কবরকে শুকাতে দিলো না, টানা পাঁচ দিন সে কেঁদেই গেল। মঞ্জু শেখের হিংসাই হলো বউয়ের প্রতি, সে-ও যদি এত কাঁদতে পারত, বুকের ভারটা বোধহয় একটু কমত। পাঁচ দিন কাঁদার পরও মঞ্জুর বউয়ের শোক শেষ হলো না, পুত্রশোক সইতে না পেরে ভেজা কবরের ওপরেই মরে পড়ে রইল মা। বিপুল সম্পত্তি ছাড়া মঞ্জু শেখের আর কিছুই রইল না পৃথিবীতে। মঞ্জু শেখ মহিমগঞ্জ ছাড়ল, তারপর এই অভিশপ্ত বাড়িতে পা রাখতে কারো সাহস হলো না।

আমাদের যা আছে সেটা হলো অজ্ঞতা, সাহস নয়। না জেনে সেই মৃত্যুপুরীতে গিয়ে বাস করছি। তবে সাহসী যে দুই-একজন ছিল না তা নয়। এত বড় বাড়ি, ভেতরে বার্মা থেকে আনা কাঠের আসবাব, জমিদার অথবা রমিজ শেখ কিংবা মঞ্জু শেখের ফালানো ছড়ানো সোনা-দানা থাকাও অসম্ভব নয়। ইটগুলো খুলে আনলেও একটা পাড়ার আবাসন সমস্যা মিটে যায়। এত এত গাছপালা, ফল কুড়ালেই ঢের হয়ে যায়, নদীর ধারে উর্বর জমিগুলো গাভীর ওলানের মতো স্ফীত হয়ে আছে, কেউ দুইছে না। পুকুর-দিঘিতে মাছেরা বার্ধক্যে মারা যাচ্ছে। চোখের সামনে লোভনীয় এই হাতছানি সবাই এড়িয়ে যেতে পারে না।

বেপারিপাড়ার মাতব্বর সুলেমান মিঞা বেড়া ডিঙিয়ে এক বিঘা জমিতে নিজের অধিকার স্থাপন করল, সেই জমিকে সে গর্ভবতী করার জন্য দশজন ভীনদেশি কামলা নিয়োগ করল, তাদের হাতে তুলে দিলো গোলার সবচেয়ে দামি বীজ। সুলেমান মিঞার সাহস দেখে গ্রামবাসী তাজ্জব হয়ে গেল, তারা একটা অনিষ্টের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। সুলেমান মিঞার নিজেরও উৎকণ্ঠা কম ছিল না। সে শুধু প্রতীক্ষায় ছিল, একবার পাকা ধান ঘরে তুলতে পারলে পরের বছর দিঘিটা দখলে নিবে, দোয়া-দুরুদ পড়িয়ে পোয়াতি ভূতটাকে উচ্ছেদ করে ধীরে ধীরে পুরো বাড়িটা হস্তগত করবে সে। ধলা সর্দার এত সহজে যে সব ছেড়ে দিবে তা সে ভাবে না, কিন্তু ধলা সর্দার ভীতু মানুষ। সুলেমান মনে মনে ভাবে সাহসের কারণেই এই সম্পত্তিতে তার অধিকার জন্মেছে। বীরত্বের জন্য এই পুরস্কার তার প্রাপ্য।

কিন্তু জমির ধান কাঁচা থাকতেই একদিন নিজের উঠানে ঠাস করে পড়ে গেল শক্ত-সামর্থ্য সুলেমান মিঞা। মুখ তার এমন বাঁকা হয়ে গেল যে দেখলে মনে হয় ভেংচি কাটছে, শরীরের একপাশে তার আর কোনো নিয়ন্ত্রণ রইল না। গ্রামবাসী বলতে লাগল, এক বিঘা জমি দখল করতে গিয়ে নিজের এক হাত, এক পায়ের দখল হারাতে হলো সুলেমান মিঞাকে। জমির ধান একসময় পেকে বাতাসে ঝুনঝুন করে বেজে উঠল, কিন্তু সে সঙ্গীতে কেউ আকর্ষিত হলো না।

চায়ের দোকানে বসে সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে রশীদ জানালো, রাত সে ভয় পায় না। অন্ধকার হচ্ছে তার ব্যবসার পুঁজি। যে রাতে জ্যোৎস্না ঢাকার জন্য আকাশে মেঘ থাকে না, ফলদ বৃক্ষের মালিক ফলরক্ষায় বসায় সচেতন পাহারা, ফসলের ক্ষেতের পাশে বসে থাকে নির্ঘুম কৃষক, সেইসব রাতে যদি তার ‘নেশার টক’ ওঠে, তখন তার মন চায় গিয়ে ঢোকে জমিদারবাড়িতে, সেখানে একটা মারলে মাসখানেকের জন্য নিশ্চিন্ত থাকা যাবে। কিন্তু চিন্তাটা মনে আসতেই কেন যেন তার ডান পা-টা ‘শিনশিন’ করে ওঠে। সুলেমান মিঞার মতো একটা পা যদি তার অবশ হয়ে যায়! না খেয়ে মরতে হবে তাকে।

সুলেমান মিঞার গোলায় ধানের অভাব নেই, টাউনের গঞ্জে তার কেনা দোকান আছে, দুইটা কর্মঠ ছেলে আছে, তার জন্য চাকাওয়ালা চেয়ার কিনে আনা হয়েছে শহর থেকে। তবুও কী বিশ্রী জীবন যাপন করে সুলেমান মিঞা! ঘরের সামনে গর্জনগাছের তলায় বসে থাকে। রাস্তা দিয়ে কাউকে যেতে দেখলে গোঁ-গোঁ করে ডাকে, কেউ ফিরে তাকায় না। আগে সুলেমান মিঞা সালামের জবাব দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়ত, দিনের শেষভাগে শুধু ঘাড় নেড়ে কাজ সারত। যার সাথে একটু কথা বলার জন্য পেছনে দাঁড়িয়ে আধা ঘণ্টা হাত কচলাতে হতো, সে নরম স্বরে ডেকেও দুটো কথা বলার লোক জোগাড় করতে পারে না এখন।

এই ট্র্যাজেডির গল্পে আমরা নতুন চরিত্র। গ্রামে-গঞ্জে, খেলার মাঠে, বিকালের আড্ডায়, রাতের শয্যায় আমরাই হয়ে উঠলাম আলাপের বিষয়। ঘাটে গোসল করতে গিয়ে মেয়েদের দেরি হয়ে যায়, গল্প আর ফুরায় না। গ্রামে যাত্রাপালা হলে, মেলা বসলে, কেউ খুন হলে, কারো বউ পালিয়ে গেলে যত রোমাঞ্চ ছড়ায়, আমাদের আগমনে উত্তেজনা ছড়ালো তারচেয়েও বেশি। শুনেছি জুয়াড়িরা আমাদের নিয়ে বাজি ধরেছে—বাপ, মা, ছেলের মধ্যে পরিণামটা আগে কে ভোগ করবে? বাজির দর আপাতত আমার দিকেই বেশি। বাজার থেকে ফিরে বাবা হাসতে হাসতে এসব গল্প মাকে বলছিল, মা কিন্তু একটুও হাসল না, আমার মনে হলো কেউ যেন তার মুখে অন্ধকার লেপে দিয়ে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *