ডাকনাম ভুলে গেছি – ২৪

চব্বিশ

সন্ধ্যা হতেই মোতালেব কাকার বাড়ির গেইটের সামনে গাড়ির হর্ন শুনতে পেলাম। গলির অধিকাংশ দখল করে দাঁড়িয়ে আছে একটা সাদা গাড়ি, ড্রেন থেকে যে ময়লা উঠিয়ে রাখা হয়েছিল শুকানোর জন্য, যেগুলোকে মানুষ এবং রিকশার চাকা এড়িয়ে যায়, সেই ময়লার ঢিবিগুলো গাড়ির চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে আহত অবস্থায় পড়ে আছে। আমি গেইট থেকে বের হতেই গাড়ির পেছনের দরজা খুলে গেল। গাড়ির সামনের সিটে ড্রাইভারের পাশে মনখারাপ করে বসে আছে একচক্ষু রাক্ষস রুবেল।

গাড়িতে উঠে বসলাম, পাশে যে ছেলেটি বসে আছে তার সাথে আগেও দেখা হয়েছে। আমার চিৎকার আটকানোর জন্য মুখে কাপড় ঢুকিয়েছিল সে, তাকেও খুব বেশি উৎফুল্ল দেখাচ্ছে না। গাড়ি মূল রাস্তায় উঠতেই রুবেল রাস্তার দিকে চোখ রেখে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল, “বস আপনারে জিগাইতে কইছে আপনে কোন ব্র্যান্ডের সিগারেট খান?”

রুবেলের নম্র কণ্ঠে ‘আপনি’ শুনতে অদ্ভুত লাগছে। বললাম, “আমি তো সিগারেট খাই না।”

“পান-জর্দা?”

“এইটাও কি আপনার বস জিজ্ঞেস করতে বলেছে?”

“জি।” রুবেলের দীর্ঘশ্বাস শুনতে পেলাম পেছনের সিটে বসে।

“কিছু লাগবে না আমার, শুধু গাড়ির জানালাগুলো একটু খুলে দিতে বলেন, বমি পাচ্ছে।”

মুহূর্তেই গাড়ির সবকয়টা জানালা একসাথে নামতে শুরু করল। গাড়ি যখন শহরের বাইরে একটা দোতলা বাড়ির সামনে এসে থামল, ততক্ষণে তিনবার বমি করেছি, পাশে বসা ছেলেটার প্যান্টের একপাশ তখনো আমার বমিতে ভিজে আছে। কিছু বলেনি সে, শুধু সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করেছে একটু পর পর। যে বাড়ির সামনে আমরা দাঁড়িয়ে আছি তার দেয়াল জেলখানার দেয়ালের মতো উঁচু। হর্ন দিতেই হা হয়ে গেল ইস্পাতের বন্ধ মুখ। ভেতরে একটা ন্যাড়া বাগান, যেখানে ঘাস ছাড়া আর কোনো গাছ নেই। ঘাসের বাগানের মাঝ দিয়ে একটা পথ এসে থেমেছে গ্যারেজে। দরজা খুলে নেমে দেখলাম গ্যারেজে লাল গাড়িটা ঘুমাচ্ছে। বাড়িটাতে কোনো গাছ নেই, ঘাসের ছোট আঙিনার মাঝামাঝি একটা দোলনা দুই পা ফাঁক করে দাঁড়িয়ে

আছে। দেখে মনে হচ্ছে এই দোলনায় কেউ দোল খায় না, শুধু সাজসজ্জার জন্য বেচারা দোলনাটাকে এখানে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। বাড়িটা ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে আছে, এত আধুনিক বাড়িতে এত কম আলো দেখা যায় না। বাতি সবগুলো জ্বলছে না, যেগুলো জ্বলছে সেগুলো নিতান্ত অনিচ্ছায় কৃপণের মতো আলো দিচ্ছে। রুবেল আমার দিকে তাকাচ্ছে না, একটা দরজা দেখিয়ে বলল, “যান, বস আছে ভেতরে।”

ভেতরেও বাতিগুলো ঝিমাচ্ছে, কোনদিকে যাব বুঝতে পারছিলাম না। ঘরের বামদিকে বিশাল বৈঠক সাজানো আছে, ডানে মুরগির ছানার মতো অনেকগুলো চেয়ার লম্বা সাদা টেবিলের মধ্যে ঢুকে আছে। মাঝখানে একটা সিঁড়ি বাঁক নিয়ে দুইতলায় গিয়ে হারিয়ে গেছে। সিঁড়িটাকে দেখে নদীর কথা মনে পড়ল আমার। আর মনে পড়ল হীরার শুকিয়ে যাওয়া চোখ দুটো। হঠাৎ করে শাকের মাহমুদ এইসব আসবাবের মাঝ থেকে উদয় হলো। বলল, “কোনো সমস্যা হয়নি তো আসতে?”

বমির কথাটা চেপে গেলাম, গর্ব করে বলার মতো কিছু না। জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনি এখানে থাকেন?”

“মাঝে মাঝে,” মৃদু হেসে বলল শাকের। তারপর সিঁড়িতে উঠে বলল, “আসুন, ওপরে যাই।”

নদীর মতো সিঁড়ি বেয়ে আমরা কয়েকটা দরজার মুখোমুখি হলাম, এরমধ্যে যেটা একটু খোলা, সেখানে ঢুকলাম আমরা। এখানেও একটা ডেস্ক আছে, তবে জনতা ট্রেডিংয়ের অফিসের মতো অত বড় না, ডেস্কের চেয়ারটাও স্বাভাবিক উচ্চতার। কোনো নেতা-নেত্রীর পোট্রেট এই ঘরে ঢুকতে পারেনি। পুরো ঘর ফুল আর বনসাই দিয়ে সাজানো, মনে হচ্ছে সামনের আঙিনা থেকে বাগানটা উঠিয়ে এই ঘরে এনে পুরে রাখা হয়েছে। এখানেও সোফা পাতা আছে, সোফার সাথে শোকেসে নানা রঙের বোতল দেখতে পেলাম। শোকেসের নিচে লম্বা কাউন্টারে কাচের গ্লাস সাজানো আছে। সোফায় বসে রঙিন বোতলগুলো দেখছিলাম আমি।

“শখ আছে নাকি?” শাকের মাহমুদ জিজ্ঞাসা করল।

“না, কিন্তু আপনি চাইলে খেতে পারেন।”

“আমিও ওসব খাই না। গেস্টদের জন্য রেখেছি, আমি রাজনীতি করি, আই নিড মাই ব্রেইন ওয়ার্কিং অল দ্য টাইম।” তারপর ঘরটাতে চোখ বুলিয়ে বলল, “এটা আমার পার্সোনাল অফিস, বিশিষ্ট না হলে এখানে কেউ ঢুকতে পারে না। আপনাকে যে এখানে নিয়ে আসলো, তার এক চোখ নষ্ট হয়েছে আমাকে বাঁচাতে গিয়ে, কিন্তু তারও এই ঘরে ঢোকার অনুমতি নেই। আই রেসপেক্ট লয়্যালিটি বাট আই বিলিভ ইন ক্লাস।”

হঠাৎ উচ্চশ্রেণিতে স্থান পেয়ে সংকুচিত হয়ে গেলাম। প্রসঙ্গ পাল্টাতে বললাম, “আমাকে কিছু একটা দেখাবেন বলেছিলেন।”

“হ্যাঁ, সেইজন্যই তো আপনাকে কষ্ট দিলাম, কিন্তু তার আগে একটু রিল্যাক্স হয়ে বসুন। আমার চারপাশে এত মানুষ, কিন্তু একজনও গল্প করার মানুষ নেই।”

শাকের লম্বা কাউন্টারের ড্রয়ারে টান দিয়ে নকশা করা একটা কাঠের বাক্স বের করে আনলো। বাক্স থেকে আমার পলাশপুরের বাসের সহযাত্রীর আঙুলের মতো মোটা চুরুট বের করে আনলো, তারপর কাঁচির মতো কিছু একটা দিয়ে এক মাথা কাটল, চারকোনা একটা লাইটার দিয়ে চুরুটটার মুখে আগুন দিলো, চুরুট ধরাতে এত সময় লাগে জানতাম না। বাক্সটা আমার দিকে ঘুরিয়ে বলল, “নিন একটা, এগুলো সাধারণ সিগার না, কিউবা থেকে আনিয়েছি।”

“রান্নাঘরের চুলার ধোঁয়া আর ঢাকা শহরের বাসের ধোঁয়া ছাড়া আর কোনো ধোঁয়া সেবন করিনি।”

“ইউ ডোন্ট নো হোয়াট ইউ আর মিসিং।”

তবুও হাসিমুখে কিউবার মোটা চুরুটকে অবহেলা করলাম। শাকের দাঁতে চুরুট চেপে ধরে আরাম করে সোফায় হেলান দিলো। ধোঁয়া ছেড়ে বলল, “হাসান সাহেব, পলিটিশিয়ানদের আপনার কেমন মানুষ মনে হয়?”

গঞ্জের দোকানের কাঠের বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসে মানুষ চায়ের সাথে রাজনীতি সেবন করে, সেসব বেঞ্চে বসিনি কোনোদিন। আমার খাদ্যতালিকায় রাজনীতি নেই, ভোটার লিস্টে নাম ওঠেনি আমার। ভোটের দিন আঙুলে কালি লাগিয়ে একদল মানুষ খুব আত্মতৃপ্তিতে ভোগে। কিছুদিনের মধ্যে তাদের আবার হতাশ হতে দেখি, আঙুলের সান্ত্বনা পুরস্কার মুছে যায় ঘাম, কাদা আর অশ্রুতে। তাদের স্বপ্ন বদল হয় না, তারা নেতা বদল করে। সেইসব নেতাদের নাম জেনেছি তাদের তালি আর গালিতে। রাজনীতিবিদদের চিনি কেবল তাদের পোস্টারে।

আমাকে চুপ থাকতে দেখে শাকের আবার জিজ্ঞাসা করল, “বললেন না, নেতাদের আপনার কেমন মানুষ মনে হয়?”

“তারা সবাই হাস্যমুখী, পোস্টারে দেখেছি।”

শাকের মাহমুদ এমনভাবে হেসে উঠল যে তার মুখ থেকে চুরুট খসে পড়ে যাচ্ছিল। তার হাসি কালবৈশাখি ঝড়ের মতো হঠাৎ শুরু হয়ে আবার হঠাৎ মিলিয়ে গেল। বলল, “আই ক্যান অ্যাসিউর ইউ, পলিটিশিয়ানরা পোস্টারে যতই হাসুক, বাস্তবে প্রায় প্রত্যেকে গোমড়ামুখী। এবং প্রায় প্রত্যেকেই সাহসী মানুষ। সাহস ছাড়া কেউ নেতা হতে পারে না। কিন্তু বড় নেতা হতে হলে সাহস ছাড়াও ভালো গল্প বলতে জানতে হয়। শুধু ভালো গল্প হলেই চলবে, বিশ্বাসযোগ্য হওয়া লাগবে না। যে গল্পটা শুনতে ভালো লাগে মানুষ সেই গল্পটাই বিশ্বাস করে, যত অবাস্তবই হোক না কেন।”

একটু থেমে শাকের বলল, “হাসান সাহেব, আমি একদিন অনেক বড় নেতা হবো। শুধুমাত্র সাহসের জন্য নয়, সাহস আমার যথেষ্ট আছে, পত্রপত্রিকা পড়লে জানতে পারবেন। সাহস তো অনেকেরই থাকে, কিন্তু নেতা হওয়ার প্রচণ্ড আকাঙ্ক্ষা আছে আমার মধ্যে, প্রায় অসুস্থ পর্যায়ের। যখন স্কুলে পড়ি, তখনই রাজনীতিতে নাম লেখাই। আমার স্কুলের খাতা কেউ খুঁজে আনলে দেখতে পাবে, এইম ইন লাইফ রচনায় আমি পলিটিশিয়ান হতে চেয়েছি। এবং আমি ভালো গল্প বলতে পারি। আমি একদিন এই দেশের স্টুপিডদের শাসন করব, তারা আমার মূর্তি বানিয়ে পূজা করবে, আমার আঙুলের ইশারায় আগুনে ঝাঁপ দিবে, আমাকে ভয় পাবে, ভালোবাসবে। মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে এইসব বেকুবদের ভাই ডাকলে, বন্ধু বললে তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাবে।”

শাকের মাহমুদের চেহারায় কিছু একটা বদলে গেছে, তাকে হঠাৎ করে অচেনা লাগছে। তার হাতের চুরুট আঙুলের ফাঁকে ঘুমিয়ে যাচ্ছে, মৃদু ধোঁয়ার নিঃশ্বাস ছাড়ছে। শাকের সোফার নরম গদির আলিঙ্গন থেকে নিজেকে মুক্ত করে উঠে বসে আমার আরো কাছে এগিয়ে এলো। “অল্পবয়সে আমি অনেক দূর এগিয়েছি। আমার এত টাকা, উঁচু চেয়ার, এমনি এমনি আসেনি।” তারপর গলা একটু নামিয়ে বলল, “আই হ্যাভ কিলড মেনি ম্যান, সাম অফ দ্যাম কলড মি ব্রাদার।”

আবার হেলান দিলো সোফায়, ঘুমন্ত চুরুটকে জাগিয়ে তুলল আবার। ধোঁয়া ছেড়ে বলল, “অ্যান্ড আই হ্যাভ জিরো গিল্ট, আমাকে হয়তো সাইকোপ্যাথ মনে হচ্ছে আপনার, কিন্তু লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য আমি যে-কোনো কিছু করতে পারি।”

শাকের আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল, “হাসান সাহেব, আপনি আমাকে ভয় পাচ্ছেন এখন?”

“একটু একটু।” জানালাম আমি।

“আপনার কোনো ভয় নেই, ইউ আর মাই ব্রাদার।” হা হা করে হেসে উঠে আবার বলল, “স্যরি, দ্যাটস নট কমফোর্টিং আইদার।”

“আপনি কী যেন দেখাবেন বলেছিলেন।” জানি না কেন আমার গলা কেঁপে উঠল।

“ইয়েস, ইউ ডোন্ট ফরগেট আই সি।”

শাকের উঠে ডেস্কের কাছে গিয়ে ঝুঁকল, একটা ড্রয়ার টান দিয়ে চারকোনা রঙিন একটা খাম বের করে এনে আমার সামনে রাখল। “খুলে দেখুন,” চোখ নাচিয়ে বলল শাকের মাহমুদ।

“কী এটা?”

“বিয়ের কার্ড, খুলে দেখুন, অরিগ্যামি করা আছে।”

আমি হাতে নিয়ে কার্ড খুললাম। খুলতেই একটা ফুলের তোরণ কার্ডের ভাঁজ থেকে উঠে এলো, দ্বিতীয় পাতা খুলতেই দাঁড়িয়ে গেল আস্ত তাজমহল। পুরো কার্ড সোনালি জরিতে ঝলমল করছে।

“খুবই সন্তা পছন্দ, আমার ভালো লাগেনি।” চুরুটে টান দিয়ে বলল শাকের।

“কার বিয়ের কার্ড এটা?” জানতে চাইলাম আমি।

“এখনো বুঝতে পারলেন না? এটা আমার বিয়ের ইনভিটেশন কার্ড। আমি পছন্দ করলে ফাইনাল হবে, মেয়ের রুচি খুব একটা সুবিধার না, বিয়ের জন্য সে একটা বেগুনি শাড়ি পছন্দ করেছে। কোন মেয়ে বিয়েতে বেগুনি শাড়ি পরে বলুন তো! যাক তাতে সমস্যা নেই, রুচির অভাব কিংবা রূপের অভাব সবই মেয়ের বাপ পুষিয়ে দিয়েছে। মেয়ের বাবা সাবেক মন্ত্রী, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি এবং আমার পলিটিকাল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উঁচু সিঁড়ি।”

হাতের কার্ডটা ছেড়ে দিতেই তাজমহল ঝপ করে কাগজের ভাঁজে লুকিয়ে পড়ল। শাকের মন্ত্রীকন্যার বেঢপ চেহারা নিয়ে কী যেন বলছে, কিন্তু সেসব আমার কানে ঢুকছে না। ধোঁয়ায় ঢাকা তার অস্পষ্ট চেহারার দিকে তাকিয়ে আছি, কানের কাছে শুনতে পাচ্ছি রক্তের মিছিল। সে কী বলছে তা শোনার ধৈর্য আমার ছিল না, তাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম, “কিন্তু হীরা? স্যরি, পিয়া?”

“নো প্রবলেম, কল হার হোয়াট ইউ লাইক।”

শাকের হাতের চুরুটটা অ্যাশট্রের কিনারায় এমনভাবে রাখল যাতে চুরুটটা কোনোদিকে মুখ থুবড়ে না পড়ে যায়। সে সোফা ছেড়ে উঠে পকেটে হাত ঢুকিয়ে পায়চারি করতে লাগল, কিন্তু তার পায়চারিতে কোনো অস্থিরতা নেই। “হাসান সাহেব, আপনি লক্ষ করেছেন হয়তো, আমার অফিসে নানা জাতের ফুল গাছ আর বনসাইয়ে ভরা। কিন্তু আমার বাড়িতে কোনো বড় গাছ নেই, কেন জানেন?”

এটা বোধহয় কোনো প্রশ্ন ছিল না, কারণ আমাকে ‘না’ বলার সুযোগ না দিয়েই শাকের বলতে লাগল, “এইসব গাছ যখন আমার আর ভালো লাগবে না, তখন চাইলেই পাল্টে ফেলতে পারব, কিন্তু বড় গাছ শিকড় গেড়ে ফেলে, সহজে নড়ানো যায় না।”

আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলাম শাকেরের দিকে। শাকের বলল, “টিভি-সিনেমার মডেল আর নায়িকাদের সাথে মিশতে আমার ভালো লাগে, নিজেকে ক্ষমতাবান মনে হয়। কিন্তু আমি চাই না শিকড় গজিয়ে কেউ আমার জীবনে স্থায়ী হয়ে যাক।”

“কিন্তু সে প্রেগন্যান্ট, নিজের সন্তানের জন্য আপনার মায়া হয় না?” কানে নিজের নিরাশ কণ্ঠ পেলাম।

“দ্যাটস নট মাই চাইল্ড শি ইজ বেয়ারিং, তার পেটে যেটা আছে সেটা হচ্ছে বোকামি, একটা ভুল বোঝাবুঝিকে পেটের মধ্যে বড় করেছে সে।”

শাকের মাহমুদের মুখের পেশিতে এই প্রথম একটু রাগের আভাস দেখতে পেলাম। চুরুটটাকে অ্যাশট্রে থেকে তুলে নিয়ে মুখ থেকে রাগের সব চিহ্ন মুছে ফেলল সে। ডেস্কের ওপর হীরার ঘড়িটা বিছানো ছিল, শাকের সেটা তুলে ধরে বলল, “এই ঘড়িটার দাম জানেন? আপনি যে সাদা গাড়িটায় এখানে এসেছেন, এই দাম দিয়ে তেমন একটা গাড়ি কেনা যাবে। অনেক বড় সেলিব্রিটি তারচেয়ে কম পেলেও খুশি থাকে, দুবাই নিয়ে একটা গলার হার কিনে দিলে কিংবা সিনেমার একটা কন্ট্রাক্টের ব্যবস্থা করে দিলে অনেক উঠতি অভিনেত্রী ধন্য হয়ে যায়। বাট শি ইজ অ্যা ফুল, স্বপ্নের জগতে বাস করে।”

কিছুক্ষণ চুপ থেকে শাকের আবার বলল, “অর শি ইজ ঠু ক্লেভার, হয়তো এইসব তার মায়ের বুদ্ধি, সে শিকর গেড়ে বসতে চায়।”

শাকেরের মধ্যে কিছুটা অস্থিরতা দেখতে পেলাম। সে তার ডান হাতে তর্জনি আর বুড়ো আঙুল একটু ফাঁক করে ধরে আমাকে বলল, “এইটুকু, এইটুকু দূরত্বে আছি আমি, সব গুছিয়ে এনেছি। বানরের পাছার মতো চেহারার একটা মেয়েকে বিয়ে করছি শুধু মন্ত্রীর মেয়ে বলে। অনেক সিনিয়র লিডারকে ডিঙিয়ে এইবার আমার নমিনেশন পাওয়ার চান্স খুবই হাই। বিরোধীপক্ষ হন্যে হয়ে আমার দুর্বলতা খুঁজছে, তারা যদি এসব জানতে পারে, আমাকে ল্যাংটা করে ফেলবে মিডিয়ায়। আমার ক্যারিয়ারের কবর হয়ে যাবে, আই ক্যান নট লেট দ্যাট হ্যাপেন।”

“কী করবেন তাহলে?” শুকনো গলায় জিজ্ঞাসা করলাম আমি। শাকের আমার দিকে এমনভাবে তাকালো যেন হঠাৎ করে আমাকে এখানে আবিষ্কার করেছে, যেন এতক্ষণ আমি অদৃশ্য ছিলাম।

“আর ইউ থার্স্টি?” আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে বলল সে।

“সমস্যা নেই,” বললাম আমি।

“স্যরি, মাই ব্যাড, আই অ্যাম বিয়িং অ্যা রিয়েলি ব্যাড হোস্ট।” শাকের কাউন্টার থেকে একটা স্বচ্ছ গ্লাস নিয়ে নিচের ছোট ফ্রিজ খুলে তাতে কিছু বরফের টুকরা রাখল, বরফের টুকরাগুলো গ্লাসে টুংটাং করে আনন্দে নাচতে লাগল। শাকের আরেকটা স্বচ্ছ কাচের বোতল থেকে পানি ঢেলে গ্লাসটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো। ঠান্ডা পানি সবটুকু এক চুমুকে খেয়ে ফেললাম আমি, গলার সুযোগ না দিয়েই সব পানি খেয়ে ফেলায় গ্লাসের ভেতর থেকে আমার দিকে নিরাশ হয়ে তাকিয়ে আছে বরফখণ্ডগুলো।

“আপনি খুব চুপচাপ মানুষ, আই লাইক ইউ ফর দ্যাট, শান্ত গলায় বলল শাকের। সে এখন আবার সোফায় এসে বসেছে। বলল, “আচ্ছা হাসান সাহেব, এসব কথা যদি আপনি গিয়ে হীরাকে বলেন, কী হবে?”

“সে হয়তো কষ্টে মরে যাবে, বললাম আমি।

“দ্যাট উড বি নাইস অফ হার, কিন্তু মানুষ এত সহজে মরে না, হাসান সাহেব।”

আমার বিস্মিত দৃষ্টি দেখে শাকের হেসে উঠল, বলল, “আরেক গ্লাস পানি দিবো?”

আমি মাথা নাড়লাম। তবুও শাকের আরেক গ্লাস পানি ঢেলে আনলো, “একটু পর আপনার আবার পিপাসা পাবে।”

“হীরার কী হবে?” জিজ্ঞাসা করলাম আমি।

“আমার আঙিনার বড় গাছগুলোর যা হয়েছে, হীরারও তাই হবে, শেকড়সহ উপড়ে ফেলা হবে তাকে,” খুব স্বাভাবিকভাবে বলল শাকের। তার কণ্ঠ এতটাই স্বাভাবিক ছিল যে আমি ভেবেছি এটাও তার কোনো একধরনের অবিবেচক শহুরে কৌতুক, যার অর্থ আমি ধরতে পারিনি। কিন্তু তার চেহারায় কৌতুকের কোনো রেখা খুঁজে পেলাম না। আমার শরীর ঘামতে শুরু করেছে, কিন্তু হাত-পায়ে টের পেলাম আশ্চর্য শীতলতা। সোফার নরম শরীরে আরো ডুবে যাচ্ছিলাম। শাকের ঠিকই বলেছে, আবার পিপাসা পেয়েছে আমার। বহুকষ্টে পানির ঠান্ডা গ্লাসটা উঠিয়ে কিছুটা পানি খেলাম। শাকেরের দিকে তাকিয়ে বললাম, “আমি এখন চলে যাব, আপনার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করছে না আর।”

আমার কথায় শাকেরের ঠোঁট দুটো কিছুটা প্রসারিত হলো। বলল, “এক্ষুনি চলে যাবেন, মানে কী? কাজের কথাটাই তো বলা হলো না, তাছাড়া আপনার জন্য ডিনারের আয়োজন করা হয়েছে।”

আমি কিছু বললাম না আর। শাকের চুরুটে আগুন দিলো। “বুঝলেন, হাসান সাহেব, দুটো বাজারি মেয়ে মানুষকে মেরে ফেললে পৃথিবীর কিছু যাবে আসবে না। আপনি এই নিয়ে মনখারাপ করবেন না।”

“দুইজন না তিনজন, বাচ্চাটাকেও গোনায় ধরতে হবে, বললাম আমি।

“ওকে, ইফ ইউ ফিল বেটার।”

শাকেরের ঠোঁটের কোনায় নিষ্ঠুরতা কিংবা উপহাস দেখা গেল, আলাদা করতে পারলাম না। তার দিকে তাকিয়ে বিমর্ষ হয়ে বললাম, “আমার জগৎ খুবই ছোট, জানতাম না পৃথিবীতে এমন মানুষও আছে। মানুষ কি আসলেই এত নিষ্ঠুর হতে পারে? নিজ হাতে নিজের সন্তানকে মেরে শান্তিতে ঘুমানো যায়?”

“প্লিজ নিজের ইন্টেলিজেন্সকে এভাবে অপমান করবেন না। আই থট হাইলি অফ ইউ, ডোন্ট বি অ্যা ইমোশনাল ফুল, দিস ইজ বিজনেস, আমার দিকে তাকিয়ে নিরাশ কণ্ঠে বলল শাকের। “আর আপনি কী ভেবেছেন, আমি যে এতগুলো মানুষ মেরেছি, সব নিজ হাতে মেরেছি? নিজ হাতে কোনো খুন করিনি আমি। রক্ত, গোঙানি, কাকুতি-মিনতি, বাঁচার জন্য ছটফটানি-এইসব ভীষণ নোংরা লাগে আমার। এগুলো করার জন্য প্রফেশনাল লোকজন আছে।”

শাকের নিজের থুতনি চুলকে চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল, “কিন্তু এই কেইসটা খুবই সেনসিটিভ, পুলিশ কোনো সমস্যা না, আই ক্যান বাই দেম। সমস্যা হচ্ছে স্টুপিড জনগণ, গুণ্ডা, বদমাশ, পলিটিক্যাল অপনেন্ট মারলে জনগণের কোনো সমস্যা হয় না, সকালে পত্রিকা উল্টে কিছুক্ষণ চুকচুক করবে তারপর খেলা অথবা সিনেমার রঙিন পেইজে গিয়ে চায়ে চুমুক দিয়ে খবরটাকে হজম করে ফেলবে। কেউ কেউ দুই-একদিন চাবাবে খবরটা, তারপর থুতু দিয়ে ফেলে দিবে। কিন্তু এখানে একটা প্রেগন্যান্ট মেয়ে আছে, প্রেগন্যান্ট শুনলেই বেকুবগুলোর আবেগ উথলে উঠবে, বিবেকের পোকা কামড়াবে, মিডিয়া ওদের ইমোশন আরো উস্কে দিবে, আমার অপনেন্ট আনন্দে খ্যামটা নাচ নাচবে, ইট উইল বি অ্যা ডিজাস্টার।”

শাকের আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “সেজন্য এই কাজে কোনো প্রফেশনাল হায়ার করতে পারছি না, কাউকে ইনভলভ করতে চাচ্ছি না, যত কম মানুষ জানে ততই ভালো। নাও ইউ আর দ্য অনলি ওয়ান হু ক্যান হেল্প মি।”

আমার বুকে আবার ঢেউ উঠল, কানের কাছে রক্তের পদধ্বনি শুনতে পেলাম। সোজা হয়ে বসে শাকেরের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম সে কী বলতে চাইছে। শাকের আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “এত চমকে ওঠার কী আছে, যেভাবেই হোক আপনি এসবে ইনভলভ হয়ে গেছেন, এখন ক্লিনিং জবটা আপনাকেই করতে হবে।”

“আই অ্যাম নট অ্যা মার্ডারার।” কানে নিজের বিধ্বস্ত কণ্ঠ পেলাম।

“উই অল আর, ইউ জাস্ট ডোন্ট নো ইট ইয়েট।” নিজের পিঠটাকে সোফার গদি থেকে আলাদা করে, সামনের দিকে ঝুঁকে বলল, “আপনি জানেন না? পানিতে ডুবে যাওয়ার সময় মা তার সন্তানকে পায়ের নিচে ঠেলে দেয় নিজে শ্বাস নেওয়ার জন্য।”

“আমি খুনি না, আপনি যাই বলুন, আমার পক্ষে কারো প্রাণ নেওয়া সম্ভব না,” কাতরকণ্ঠে বললাম আমি।

“শুনুন, আমি হিসাব করে দেখেছি সব, আপনি কাজটা করলেই ক্যাজুয়ালিটি সবচেয়ে কম হয়, এভরিবডি উইনস। মিডিয়াতে মানুষ হারিয়ে যায় সহজেই, পিয়ার মতো মডেল গত কয়েক মাস মিডিয়াতে নেই, তার কথা ভুলে গেছে সবাই। তার মা সবাইকে বলেছে সে বেড়াতে গেছে, বদনামের ভয়ে পুলিশে রিপোর্ট করেনি সে। আপনার কাছে যতটুকু জেনেছি, আপনার বাড়িতে মানুষজনের আসা-যাওয়া নেই। মেরে মাটিতে পুঁতে রাখলে কারো জানার কোনো উপায় থাকবে না। আপনি আমাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করলে সারাজীবন আপনার উপকার মনে রাখব। আপনার জীবনে কোনো অপূর্ণতা রাখব না আমি। ক্ষমতা, ঐশ্বর্য, ফুর্তি-কোনোকিছুর অভাব হবে না।”

“শান্তি?”

“শান্তিও পাবেন, যদি ফালতু সেন্টিমেন্ট বাদ দিতে পারেন।”

“আমার পক্ষে সম্ভব নয়, সারা পৃথিবীর বিনিময়েও সম্ভব নয়।”

শাকের সোফা থেকে উঠে দাঁড়ালো, ঘাড় নাড়িয়ে বলল, “ওকে ওকে, আমি জানতাম শুধু লোভ দেখিয়ে আপনাকে রাজি করানো যাবে না, তাই আপনাকে জানিয়ে রাখি, ইট’স ইউর লাইফ অন স্টেইক নাও। আপনি এখান থেকে বের হলে অনেকগুলো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, রাস্তায় গেলে হয়তো একটা গাড়ি আপনাকে পিষে চলে যাবে, নয়তো উঁচু কোনো বিল্ডিং থেকে আপনি অসাবধানে নিচে পড়ে যাবেন, কোনো এক ছিনতাইকারী আপনার বুকে ছুরি বসিয়ে চলে যাবে। এনিহাউ ইউ উইল নট লিভ লং।”

“মারার চেয়ে মরা আমার জন্য সহজ।”

“কিন্তু তাতে লাভটা হবে কী? আপনি মরবেন, সেই দুজনকে মারার জন্য আমাকে প্রফেশনালদের ইনভলভ করতে হবে, তারা নিশ্চয়ই খুব আদর করে কাজটা করবে না, শি উইল সাফার মোর, আমাকেও একটু ঝামেলা করতে হবে। আপনি আমাদের সবাইকেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারেন।”

শাকের আমার দিকে কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল, তারপর বলল, “আই সি ইউ হ্যাভ সিম্প্যাথি ফর হার। আপনার চোখে স্পষ্ট দেখা যায়। আপনি তাকে জীবন দিতে পারবেন না, কিন্তু পিসফুল ডেথ তো দিতে পারেন, হয়তো এটা ভেবে আপনি সান্ত্বনা পেতে পারেন।”

পুকুরঘাটে বসে থাকা হীরার চেহারাটা মনে পড়ল আমার, সারারাত ঘুমায়নি, চোখের নিচে অনিদ্রা। হাতে তার একটা চিঠি, সে যখন আমার হাতে চিঠিটা তুলে দেয় তখনো জানত না নিজের মৃত্যুর পরোয়ানা তুলে দিচ্ছে সে।

“এই মৃত্যুর শহরে আসা উচিত হয়নি আমার।” মনে মনে বলা কথাগুলো কীভাবে মুখে চলে আসলো জানি না। সবকিছু এলোমেলো লাগছে, দুই হাতে মাথা চেপে ধরে চোখ বন্ধ করে বসে থাকলাম।

“ক্রাই ইফ ইউ ওয়ান্ট।” শাকেরের কণ্ঠ শুনতে পেলাম, মনে হলো কেউ আমার দিকে পাথর ছুড়ে মারল।

“প্লিজ, আপনার কোনো কথা শুনতে চাচ্ছি না,” মাথা চেপে ধরেই বললাম তাকে। আমি টের পেলাম শাকের আমার পাশে এসে বসেছে।

“হাসান সাহেব, আপনি শুধু শুধুই আমার ওপর রাগ করছেন, আমি শুধু টিকে থাকতে চাইছি। মানুষ সার্ভাইভ করতে চাইবে, এটাই তার প্রকৃতি। আপনারও নিজের প্রকৃতির বাইরে যাওয়া উচিত নয়।”

আমার দীর্ঘশ্বাস চুরুটের ধোঁয়ায় মিশে গেল। শাকের বলল, “নিজেকে এত অসহায় মনে করবেন না, আই উইল নট লিভ ইউ চয়েসলেস। আপনি কীভাবে কাজটা করতে চান, সেই ব্যাপারে আপনার স্বাধীনতা আছে। তবে আপনি যেহেতু আনাড়ি, ছুরি, কাঁচি ব্যবহার না করাই ভালো, পিস্তল একটা ভালো অপশন, ভিকটিমের কাছে যেতে হয় না, ট্রিগারে টিপ দিলেই হয়, একটা চার্ম আছে। কিন্তু সেজন্য পিস্তল হ্যান্ডেল করতে জানতে হয়, ইফ ইউ ওয়ান্ট আই ক্যান টিচ ইউ। তবে ক্যামিক্যালি করতে পারলে কাজটা সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন হয়, যদিও সার্ভাইভালের কিছু রিস্ক থাকে, সেক্ষেত্রে ব্যাকআপ হিসেবে একটা পিস্তল রাখতে পারেন, ইট’স ইউর ডিসিশান।”

মরণাস্ত্র বাছাই করার স্বাধীনতা পেয়ে আমি ঠিক আপ্লুত হলাম না। শাকেরের কাছ থেকে একটু দূরে সরে বসলাম। শাকের বলল, “আমি জানি সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ না। মেন্টাল প্রিপারেশনেরও দরকার আছে। আমি আপনাকে এক দিন সময় দিলাম, আগামীকাল সন্ধ্যায় এখানে আপনার নিমন্ত্রণ রইল। আর এই এক দিন আমার একটা চোখ সবসময় আপনার ওপর থাকবে। প্লিজ ডোন্ট মেইক ইট ডিফিকাল্ট ফর হার।”

মাথা তুলে বললাম, “আমি কি এখন যেতে পারি?”

শাকের হাসিমুখে বলল, “এখন যাবেন কি? ডিনার রেডি হয়ে গেছে হয়তো এতক্ষণে।”

সোফার হাতল ধরে কোনোমতে দাঁড়িয়ে নাক কুঁচকে বললাম, “আমার বমি পাচ্ছে।”

গ্যারেজে সাদা গাড়ি বসে আছে আমার অপেক্ষায়, কিন্তু আমি গাড়ি উপেক্ষা করে হাঁটতে শুরু করলাম। গেইট থেকে বের হয়ে দেখলাম সদর রাস্তার কালো দেহটা পায়ের নিচে শুয়ে আছে। জ্যোৎস্নার জাল গুটিয়ে হাঁটু ভাঁজ করে আকাশে বসে আছে একটা হতাশ চাঁদ, শুকনো নদীর সামনে যেভাবে বসে থাকে মনমরা জেলে। আমাকে শহরের বিপরীত দিকে নিয়ে যাচ্ছে আমার পা, যেখানে রাত এখনো দূষিত হয়নি, যেখানে চাঁদের আলো মাটি ছুঁতে পারে। তখনো জানতাম না এই রাত, এই পথ পৃথিবীতে আমাকে আরো একটু একা করে দিবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *