ডাকনাম ভুলে গেছি – ২০

বিশ

পলাশপুরের কালো পিচের রাস্তার একপাশে একটা বড় বাস দাঁড়িয়ে ঘড়-ঘড় করছে। বাসের কাচের মুখের ওপর বড় হলুদ অক্ষরে ‘ঢাকা’ লেখা আছে। লেখা না থাকলেও অসুবিধা ছিল না, একটা কোঁকড়া চুলের যুবক ছেলে “ঢাকা, ঢাকা।” বলে অবিরত চিৎকার করে যাত্রী আকর্ষণ করছে। ছেলেটার শার্টের বোতাম অধিকাংশ খোলা, নির্লোম বুকের নিচে পাঁজর ভীষণ দৃশ্যমান, তার পরনে আছে আঁটসাঁট ময়লা জিন্স প্যান্ট। বাসের উইন্ডশিল্ডে গন্তব্যের নিচেই বাসের চরিত্র লেখা আছে, ‘বিরতিহীন’। আমি ছেলেটাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, “কতক্ষণ লাগবে ঢাকায় পৌঁছাতে?”

“উইঠ্যা বহেন, এক ঝিমানি শেষ হওয়ার আগেই ঢাকা নামাইয়া দিমু।” ফ্যাসফ্যাসে গলায় জানালো ছেলেটা।

বাসটা এমনভাবে কাঁপছে যেন কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এসেছে। অল্প কয়েকজন যাত্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে ভেতরে, কেন যেন সবার মুখে অসন্তোষ। আমি জানালার পাশে একটা ফাঁকা সিটে গিয়ে বসলাম, আমার দুই পায়ের মাঝখানে রাখলাম ১৯৭৯ সালে কেনা আমার বাবার একটা কাঁধব্যাগ। গত দুই দশক ধরে এটার ভেতর তেলাপোকা বংশবিস্তার করেছে, ওপরে জমা হয়েছে ধুলোর পুরো স্তর। তেলাপোকার রাজ্য উজাড় করা গেছে, কিন্তু ধুলো পুরোপুরি উৎখাত করা সম্ভব হয়নি। ব্যাগের মধ্যে আমার কিছু জীর্ণ কাপড়চোপড় আছে, ভেতরের পকেটে আছে হীরার সাদা খামের চিঠি আর কিছু নগদ টাকা। আমার পায়ের নিচে ব্যাগটার পেট অনাহারীর মতো চুপসে আছে। পথে খরচ করার জন্য খুচরা কিছু টাকা আমি শার্টের বুকপকেটে রেখেছি, বুকে হাত দিয়ে একটু পর পর সেগুলোর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হচ্ছে। হীরা আমাকে জানিয়েছে, ঢাকার রাস্তায় জাদুকর ঘুরে বেড়ায়, ভরা পকেট কখন খালি হয়ে যায়, কেউ টেরও পায় না।

বাসে যাত্রী বেড়েছে, আমার পাশে এসে বসেছে একজন মধ্যবয়স্ক লোক, স্বাস্থ্য ভালো। চুল তেলে ভেজা, গায়ে রংজ্বলা খয়েরি একটা শার্ট, নাকের নিচে কাঁচাপাকা গোঁফ ছোট করে ছাঁটা। লোকটার নাকের ফুটো দুটো স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশি বড়, তাকে দেখলে প্রথমেই এই দুটো ফুটো নজরে পড়বে। বিশাল ব্যাসের এই দুটো গহ্বরের সৃষ্টিরহস্যও জানতে পারলাম ক্ষণিক পরেই।

লোকটা সিটে বসার পর পরই তার ডান হাতের মোটা তর্জনি নাকের ডান ছিদ্রে ঢুকিয়ে ময়লা সন্ধান করতে লাগল। তার হাতের আঙুলগুলোও বেশ পুরুষ্ট, দেখে মনে হয় দুই হাতে দুই ছড়া সবরি কলা ঝুলছে। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর ছাই বর্ণের একটা পাতলা ময়লার আস্তরণ উদঘাটন করতে পেরে লোকটার মুখে তৃপ্তি ছড়িয়ে পড়ল। সে ভীষণ আহ্লাদের সাথে ময়লাটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে লাগল, প্রসব করার পর মা যেমন করে নবজাতক শিশুকে দেখে। তারপর সিটের কাপড়ে ঘষে আঙুল পরিষ্কার করে নিলো। বাম গহ্বরে অনুসন্ধান চালানোর আগে ঘাড় ঘুরিয়ে আমাকে দেখে নিলো।

“ঢাকায় যাইবেন নাকি, ভাই?” তার পান খাওয়া দাঁতগুলো বের করে জিজ্ঞাসা করল লোকটা।

আমি ঘাড় দুলিয়ে জানালাম, “যাব।”

“আমিও তো।” তারপর লোকটা এমন একটা বীভৎস কাজ করল, যার কারণে আমার পুরো বাসযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে গেল। সে তার তর্জনিসমেত ডান হাতটা আমার দিকে বাড়িয়ে ধরল হ্যান্ডশেক করার জন্য। সহযাত্রীর এমন আহ্বান উপেক্ষা করা যায় না, ভীষণ অনিচ্ছায় আমার সংকুচিত হাত তার হাতে সমর্পণ করলাম। লোকটা আমার পরিষ্কার হাতটা কয়েকবার ঝাঁকিয়ে জিজ্ঞাসা করল, “ঢাকায় কই যাইবেন?”

“জানি না।”

“এই ফার্স্ট যাইতাছেন?”

“হ্যাঁ।”

“আপনেরে দেইখাই বুঝছি, আমি আট বছর ধইরা ঢাকায় থাকি, ফুড বিজনেসে আছি।”

“কীসের ব্যবসা আপনার?”

“রমনা পার্কের সামনে ফুচকার গাড়ি আছে আমার, আইসেন একদিন, নিজ হাতে বানাইয়া খাওয়ামু আপনেরে, সারাজীবন মনে থাকবো।”

হীরা জানিয়েছিল, সে ফুচকা খেতে ভীষণ ভালোবাসে। তাকে যদি এই ঘটনাটা বলি, তারপর কি আর কোনোদিন সে ফুচকা খেতে পারবে? থাক, জীবনের একটা সুখ থেকে তাকে বঞ্চিত করার প্রয়োজন নেই। আমার অবশ ডান হাতটা তখনো সেই স্পর্শ ভুলতে পারেনি, মনে হচ্ছিল পাকস্থলিটা পেটের মধ্যে পাশ ফিরে শুলো। ঠিক তখনই বাস নড়ে উঠে চলতে শুরু করল। এর আগে যখন আমি বাসে চড়েছিলাম তখন আমার পাশে কে বসেছিল, মা নাকি বাবা? মনে করতে পারছি না। এত বছর আমি শুধু আমার পায়ের ওপর ভর করেই চলেছি, এখন হঠাৎ করে চাকার ওপর উঠে ভরসা করতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল পৃথিবী পিছলে যাচ্ছে আমার পায়ের তলা থেকে। বাসের খোলা জানালা দিয়ে বাতাস ঢুকছে প্রবল আক্রোশে, সাথে ঢুকছে তেলপোড়া গন্ধ।

আমার পাকস্থলি এখন ডিগবাজি দিচ্ছে। আমার মুখ ভরে গেছে লালায়, গলার পেছনে পাচক রসের স্বাদ পেলাম। পেটের ভেতর থেকে সব ঠেলে ওপরে উঠে আসছে, আমি তাড়াতাড়ি জানালার বাইরে মুখ বের করে বমি করলাম। বাস ছেড়েছে তখনো দশ মিনিটও হয়নি। যেই ছেলেটা বাসের সামনে দাঁড়িয়ে গলার রগ ফুলিয়ে যাত্রী ডাকছিল, সে বমির শব্দ শুনে তাড়াতাড়ি একটা পলিথিন নিয়ে আসলো। মুখে উপহাস এবং বিরক্তি নিয়ে বলল, “রেকর্ড করলেন, ভাইজান, মহিলামানুষও এত তাড়াতাড়ি বমি করে না।”

সেদিন রেকর্ড ভাঙতে ভাঙতে ঢাকার পথে এগোতে লাগলাম আমরা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার সহযাত্রী ভীষণ সহমর্মী। প্রতিবার বমি করার পর সে আমার পিঠে, মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে। ফুচকাওয়ালা সান্ত্বনা এবং কনডাক্টর পলিথিনের জোগান দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছিল না। প্রতিবার বমি করার পর মনে হতে থাকল, ঢাকা আর কত দূর!

এদিকে বিরতিহীন বাস হাতের ইশারায় অনায়াসে থেমে যাচ্ছে, মাঝে মাঝে ইশারার প্রয়োজনও হচ্ছে না। দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ মানেই সম্ভাব্য যাত্রী, ছাই দেখলেই তারা তলায় রতন খুঁজতে দাঁড়িয়ে পড়ছে। রাস্তার পাশে কাত হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে যখন তখন। বাসের ইঞ্জিনের পিপাসা মেটাতে হয়েছে দুইবার, একবার করতে হয়েছে চাকা পরিবর্তন। বাসটা অক্ষত দেহে ঢাকায় পৌঁছাতে পারবে কি-না সবাই সন্দেহ করতে লাগল। কিন্তু নিন্দুকের মুখে কালো ধোঁয়া ছেড়ে একসময় বাসটা ঠিকই ঢাকার প্রান্তে পৌছে গেল।

শহরের কাছে আসতেই বাসের জানালা থেকে ধানক্ষেতগুলো হারিয়ে যেতে লাগল। রাস্তার পাশে সারবাঁধা দোকানের পেছনে বাক্সের মতো বাড়িঘর দেখা যাচ্ছে। মাঝে মাঝে দুই-একটা অসহায় গাছও দেখা যায়, ভুল জায়গায় জন্ম নেওয়ার অনুশোচনায় নুয়ে আছে। গাছের পাতার সবুজ রং ধুলোবালিতে ঢেকে গেছে। দোকানের সারি শেষ হতেই একটা করে ময়লার ভাগাড় উন্মুক্ত হচ্ছে, ভাগাড়ের কালো দেহের মধ্যে আটকা পড়ে রঙিন ছেঁড়া পলিথিন ছটফট করছে বাতাসে। ধোঁয়া, আবর্জনা, ঘাম আর পাপের গন্ধ আমাকে শহরে স্বাগত জানালো। বাসের বৃদ্ধ ইঞ্জিনের বিকট শব্দ ছাপিয়ে আমার কানে এলো একটা ভোঁতা গর্জন, শহর শ্বাস নিচ্ছে।

রাস্তায় দলে দলে মানুষ হাঁটছে, ছুটছে। শহরে ঢোকার দশ মিনিটের মধ্যে আমি যত মানুষ দেখেছি, এত মানুষ মহিমগঞ্জে সারাজীবনেও দেখিনি। চাকার ওপর টিনের বাক্সগুলো গাদাগাদি করে স্রোতের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। একটা আরেকটার বেশি কাছে চলে আসলেই হর্ন বাজিয়ে সাবধান করে দিচ্ছে, হর্নে কাজ না হলে জানালা থেকে গালি বের হয়ে আসছে। এক মুহূর্তের জন্য নীরবতা নেই এখানে, শব্দের মরুভূমি থেকে আমাকে এই বাসটা কোলাহলের সমুদ্রে এনে ফেলেছে, আমি হাবুডুবু খাচ্ছি, কোনো তল পাচ্ছি না।

বাস থেকে নামার পর দেখলাম সবাই ডানে অথবা বামের কোনো একটা ভিড়ে মিশে যাচ্ছে। তারা জানে তারা কোথায় যাবে। আমি ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম, আমি জানি না আমার গন্তব্য ডানে নাকি বামে। আমার হাতে উনত্রিশ বছর আগের একটা ধুলোমাখা ব্যাগ। আশেপাশের মানুষের দিকে তাকিয়ে নিজেকে অদ্ভুত লাগছিল। মোটা কলারের একটা শার্ট পরেছি, যেটা ছিল আমার বাবার শার্ট। মা তাদের বিবাহবার্ষিকীতে শখ করে বাবাকে এই শার্ট কিনে দিয়েছিল ঢাকার নিউমার্কেট থেকে। সে-সময়ের জন্য এই শার্ট খুব বেশি আধুনিক ছিল, বাবা ঘরের বাইরে এই শার্ট পরে যেত না। বলত, “এগুলো কমবয়সি ছোকরারা পরে, আমার পার্সোনালিটির সাথে যায় না।”

পঁচিশ বছর আগের আধুনিকতা এখন আমার গায়ে। আমার প্যান্ট এতটাই ঢোলা যে অনায়াসে হাতির পা ঢুকে যাবে। প্যান্টের নিচের দিকে ছিঁড়ে গিয়েছিল, ঘিয়া রঙের প্যান্টের ছেঁড়া অংশ আমি মেরামত করেছি সবুজ সুতা দিয়ে। মহিমগঞ্জে আলাদা করে সবুজ সুতাটা নজরে পড়েনি কোনোদিন, ঢাকায় এসে এখন সেই অংশটুকুই জ্বলজ্বল করছে। এখানে সবাই ঝকঝকে পোশাক আর মলিন মুখ নিয়ে হাঁটছে। শহরের রাস্তায় নিজেকে ভীষণ বেমানান মনে হচ্ছিল। ভাগ্যিস এখানে কেউ কাউকে দেখে না, কারো দাঁড়ানোর অবসর নেই এখানে।

রাস্তাটাকে নিঃশ্বাস নেওয়ার অবকাশ না দিয়ে গাড়ির লেজে গাড়ি চলছে, এরমধ্যেই মানুষ কীভাবে যেন রাস্তা পার হয়ে যাচ্ছে। আমি আঁতকে উঠছিলাম, এই রুদ্ধশ্বাস পারাপার দেখে মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল আর্তচিৎকার। এই যে ছেলেটা হাত উঁচু করে দৌড় দিলো, এক্ষুনি হয়তো বড় বাসটার চাকা তাকে পিষে চলে যাবে, বাচ্চা কোলে নিয়ে বউয়ের হাত ধরে পার হতে যাওয়া লোকটাকে ধাক্কা দিবে কালো গাড়িটা, মোটরসাইকেলের চাকা চলে যাবে বৃদ্ধ লোকটার বুকের ওপর দিয়ে। কিন্তু কিছুই ঘটল না, কী চমৎকার নৈপুণ্যে সবাই নিরাপদে পার হয়ে গেল। আমার চিৎকার শহরের বিপুল কোলাহলের সাথে মিশে হারিয়ে গেল।

ফুটপাতে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে শহরের আলিঙ্গন উপভোগ করার উপায় নেই। জনস্রোত আমাকে ঢেউয়ের মতো ভাসিয়ে নিয়ে গেল একদিকে। ব্যস্ত মানুষের ভিড়ের সাথে একদিকে চলতে শুরু করলাম। রাস্তার মোড়ে এসে গাছ দেখে মনে হলো পরিচিত স্বজনের দেখা পেলাম। গাছটাকে স্পর্শ করলাম, তরুণ কড়ইগাছটার খড়খড়ে ত্বকের ছোঁয়া আমাকে এক মুহূর্তের জন্য জমিদারবাড়িতে নিয়ে গেল। আমি দুই হাতে জড়িয়ে ধরলাম গাছটাকে। ঠিক তখনই বাতি জ্বলে উঠল চারপাশে, কড়ইগাছের একটা ডালেও ঝুলছে ছোট একটা কাচের সূর্য।

এভাবেই আকস্মিক সন্ধ্যা নামে ঢাকা শহরে। মহিমগঞ্জে এমন সুইচ টিপে সন্ধ্যা নামায় না কেউ, কবুতরের খসে যাওয়া পালক যেভাবে ধীরে ধীরে মাটিতে পড়ে, সেখানে সন্ধ্যা নামে ঠিক সেভাবে। আলো সংক্রামক রোগের মতো ছড়িয়ে পড়ল সবখানে, বড় বড় দালানের প্রতিটা কাচ জ্বলে উঠল, রাস্তায় এত আলো যে অন্ধকারের মুখ লুকানোর জায়গা নেই কোথাও, দুইপাশে ঘাড় নুয়ে তাকিয়ে আছে অসংখ্য স্ট্রিট লাইট। দোকানে দোকানে আলোর তুমুল অপচয়ে চারদিক ঝলমল করছে। ঢাকা শহরের চকচকে সন্ধ্যা যেন লাস্যময়ী যুবতি, সেই তুলনায় মহিমগঞ্জের আলোকিত বাজার হচ্ছে শতবর্ষী বিমর্ষ বৃদ্ধা।

একটা রেস্টুরেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। রেস্টুরেন্টের খোলা দরজা দিয়ে তৃপ্ত মানুষ মুখ মুছে বেরিয়ে আসছে, আর সাথে ভেসে আসছে বিভিন্ন খাবারের ঘ্রাণ। মনে পড়ল সারাদিন আমি বমি করেছি, খাইনি কিছুই। সিরামিকের প্লেট আর চামচের টুংটাং শব্দে অবশ হয়ে গেলাম। বিমোহিতের মতো ভেতরে গিয়ে ঢুকলাম, আর অবাক হয়ে দেখলাম ভেতরে চেয়ার-টেবিলের ছড়াছড়ি, টেবিলভরতি ক্ষুধার্ত মানুষের মাথা। যারা খাবার পরিবেশন করছে তাদের সবার শরীরে একই রকম খয়েরি পোশাক এবং একই রকম ব্যস্ততা। মানুষ ঢুকছে আর বের হচ্ছে রাস্তার যানবাহনের মতো। যারা ঢুকছে তাদের আগ্রহ করে ডেকে নিয়ে ফাঁকা চেয়ারে বসাচ্ছে খয়েরি পোশাক। কিন্তু আমাকে কেউ ফাঁকা চেয়ারে বসালো না, তারা হয়তো বুঝতে পারছে না আমি গ্রাহক নাকি উটকো ঝামেলা। চারজনের টেবিলে দুটো ফাঁকা চেয়ার দেখে নিজেই একপাশে গিয়ে বসলাম, ক্ষুধায় শরীর ঝিমঝিম করছে।

আমার সামনে বসে দুজন সাদা কাপে চা খাচ্ছে, চায়ের কাপের আশেপাশে এর আগে তারা যা খেয়েছে তার উচ্ছিষ্ট ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তারা দুজন কাছাকাছি বসেছে, কিন্তু গল্প করছে উচ্চস্বরে। তাদের গল্পের কিছুই আমার মাথায় ঢুকছে না। একজন খয়েরি পোশাক পরা লোক এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করল, “কী খাইবেন?”

আমি জানি না এখানে কী খাবার পাওয়া যায়, তাই জিজ্ঞাসা করলাম, “কী আছে?” তারপর লোকটা আন্তঃনগর ট্রেনের মতো গড়গড় করে কতগুলো খাবারের নাম বলল, যাদের নাম এর আগে শুনিনি কোনোদিন। যে খাবারটা আমি চিনি, সেটার কথাই জিজ্ঞাসা করলাম, “ভাত আছে?”

“ভাত খাইবেন?” কপাল কুঁচকে উঠল লোকটার। “ভাতের সাথে কী?” আমার আর জিজ্ঞাসা করার সাহস হলো না, কী আছে? লম্বা লিস্ট শোনার ধৈর্য এখন নেই। বললাম, “মাছ আছে?”

“রুই মাছের কালিয়া আছে, দিবো?”

আমি ঘাড় কাত করলাম। মুখে ‘হ্যাঁ’ বলার শক্তিও আমার নেই। ঠান্ডা ভাতের মলিন একটা প্লেট আমার সামনে দিয়ে গেল লোকটা, তারপর মাছ এলো, গোলাপি ফুল আঁকা একটা বাটিতে রুই মাছের পিঠ ডুবে আছে সোনালি ঝোলে। আমার এত ক্ষুধা পেয়েছিল যে ইট চাবিয়ে খেয়ে ফেলতে পারতাম, তবুও অতিরিক্ত তেল, নুন, মশলা জিহ্বা জ্বালিয়ে ফেলল। সজল চোখ, নাক মুছতে মুছতে কোনোমতে গিলছিলাম কেবল, নিজের পাকস্থলির জন্য মায়া হচ্ছিল খুব। ঢাকা শহরের মানুষ কি এমন খাবারই খায়? হীরার সাথে সাথে তেল-মশলাও কীভাবে যেন আমার রান্নাঘরে ঢুকে পড়েছে, কিন্তু হীরাও এত নির্দয়ের মতো তরকারিতে মশলা মেশায় না।

তারচেয়েও বড় নিষ্ঠুরতা দেখলাম, যখন ওয়েটার একটা সাদা কাগজ এনে ধরিয়ে দিলো আমার হাতে। কাগজে যে সংখ্যাটা লেখা আছে, তাতে জমিদারবাড়ির রান্নাঘরে এক মাসের খাবার মজুদ করা যাবে। আমি সংখ্যাটার মাঝে তন্ন-তন্ন করে খুঁজেও একটা দশমিক পেলাম না। আমার বুকপকেটের সবগুলো খুচরা নোট মিলেও এই দায় মেটাতে পারবে না। উপায় না পেয়ে আমি ব্যাগের চেইন খুললাম।

যখন রেস্টুরেন্ট থেকে বের হলাম, তখন বুকে আর পেটে দুই জায়গাতেই জ্বলুনি হচ্ছিল। চাকায় চড়ার অভ্যাস আমার নেই, তাই খালি রিকশাগুলোকে অবজ্ঞা করে হাঁটতে থাকলাম। অনেকক্ষণ হাঁটার পর উপলব্ধি করলাম এই নগরের রাস্তা কোথাও গিয়ে শেষ হয় না। আমাকে যেতে হবে ওয়ারি, সেখানেই শাকের মাহমুদের অফিস। এভাবে এলোমেলো না হেঁটে কাউকে ঠিকানা জিজ্ঞাসা করতে হবে। কিন্তু কাকে জিজ্ঞাসা করব! একটা স্থির মানুষ খুঁজে পেলাম না। তাছাড়া এত রাতে কি সেই অফিস খোলা থাকবে? জানি না রাত কত হলো, কোথাও ঝিঁঝিপোকার ডাক শোনা যায় না এখানে।

হাঁটতে হাঁটতে এমন এক জায়গায় এসে পৌছালাম যেখানে পাশাপাশি বেশ কয়েকটা কষ্ণচূড়া আর জারুলগাছ দাঁড়িয়ে আছে। আলোর বাহাদুরি এখানে কিছুটা কম। রাস্তার ধারে কিছু চায়ের দোকান আছে, সামনে কাঠের বেঞ্চ পাতা, সেখানে লোকজন বসে চা খাচ্ছে, গল্প করছে। গাড়ির হেডলাইট ফুটপাতের ওপর হাত বাড়িয়ে রাখা ভিখারিদের ওপর আলো ফেলে চলে যাচ্ছে, ঐশ্বর্যের আলোয় নগরের দরিদ্র চেহারা উদ্ভাসিত হয়ে যাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। লক্ষ করে দেখলাম এই ভিখারিরাই সবচেয়ে বেশি স্থির, চটের বস্তায় নিজের দারিদ্র্য সাজিয়ে বসে আছে, মানুষ দেখলে হাতটা একটু প্রসারিত করে দিচ্ছে কেবল।

আমি অনেক ভেবেচিন্তে একজন ভিখারিকে বাছাই করলাম ঠিকানা জিজ্ঞাসা করার জন্য। লোকটার বয়স ত্রিশের বেশি হবে না, গায়ে একটা ছেঁড়া-ময়লা স্যান্ডো গেঞ্জি, যেটা তার বাম কাঁধ থেকে বারবার নেমে যেতে চাচ্ছে। লোকটার থুতনিতে কিছু ফিনফিনে দাড়ি, গাল নির্লোম, চামড়া তামাটে, মাথায় চুল কম, চোখ দুটো তার পান খাওয়া দাঁতের মতোই লাল। দৃশ্যমান কোনো ক্ষত কিংবা খুঁত তার শরীরে খুঁজে পেলাম না, তার প্রত্যেকটা অঙ্গ অটুট আছে। আমি কাছে যেতেই লোকটা হাত প্রসারিত করে ধরল, আমাকে ভালো করে দেখে তার বাড়ানো হাতটা আবার খাটো হয়ে গেল।

“ভাই, একটু ডিস্টার্ব করব, ওয়ারি কোথায় বলতে পারেন?” খুব নরম স্বরে জিজ্ঞাসা করলাম আমি। এত ভদ্রতায় লোকটা বোধহয় অভ্যস্ত না, ফ্যালফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর মুখে এক আঙুল দিয়ে হাতে ইশারা করে জানালো, যাকে আমি ঠিকানা জিজ্ঞাসার জন্য নির্বাচন করেছি সে বোবা।

ব্যাগ হাতে নিয়ে একটা জারুলগাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি, রাস্তায় গাড়ির ছুটে চলা দেখছি। এখানে রাস্তা বেশ প্রশন্ত, গতিও বেশি। ফুটপাতে শত শত মানুষ হেঁটে যাচ্ছে, কেউ এসে জিজ্ঞাসা করছে না-ভাই, কোথায় যাবেন? এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? যেন আমার কোনো অস্তিত্ব নেই। অস্তিত্বহীন হতে ভালো লাগছে, কিন্তু এই মুহূর্তে আমাকে গন্তব্যে পৌছাতে হবে, কোনো একজনের কাছে পথের নির্দেশনা চাইতে হবে। মহিমগঞ্জে এভাবে কেউ দাঁড়িয়ে থাকলে প্রত্যেকে এসে বাড়িঘর, আত্মীয়-স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশীদের খোঁজ নিয়ে যেত।

“বাবা, একটু শুনবেন?” পাশ থেকে কেউ একজন বলল।

তাকিয়ে দেখি একজন বৃদ্ধ লোক, গায়ে পরিষ্কার সাদা পাঞ্জাবি, পাঞ্জাবির পকেটে একটা ফাউন্টেন কলম গাঁথা আছে, মুখে পরিপাটি পাকা দাড়ি, চোখে কালো ফ্রেমের চশমা, হাতে একটা ব্যাগ।

“আমার বাড়ি নাটোর, আমি নলডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক।” হাসিমুখে জানালো লোকটা। “আপনার কাছে একটা উপকার চাইছি।”

আমার চোখের জিজ্ঞাসা পড়ে লোকটা আবার বলতে শুরু করল। “আজকে সন্ধ্যায় আমি বাস থেকে নেমেছি, আমার ছেলের বাসায় যাচ্ছি, ওর বাসা খিলগাও। আমার একটা নাতনি আছে, সাড়ে তিন বছর বয়স, নতুন কথা বলা শিখেছে। আসার আগে ফোনে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, সে কী চায়? নাতনি বলল সে কোনো খেলনা চায় না, শুধু একটা ‘ঘুড়ি বেলুম’ চায়, বুঝলেন তো? ঐ যে গ্যাস-বেলুন। ঢাকায় নেমে গ্যাস-বেলুন খুঁজতে খুঁজতে শেষ পর্যন্ত শাহবাগে এসে পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। বেলুনওয়ালার কাছে শেষ একটাই বেলুন ছিল, আল্লাহর রহমত। বেলুন কিনে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু আমার এমন দুর্ভাগ্য, হঠাৎ বেলুনটা হাত ফসকে উড়ে গেল, কিন্তু বেশিদূরে যেতে পারেনি, ঐ সামনের কৃষ্ণচূড়াগাছের ডালে আটকে আছে।”

লোকটা আঙুলের ইশারায় পাশের একটা গাছ দেখালো আমায়। তারপর বলল, “বয়স হয়েছে, হাঁটতে চলতেই কষ্ট হয়, নয়তো আমিই গাছে চড়ে বেলুনটা নামিয়ে আনতাম। অন্যসময় রাস্তায় ছেলেপেলে থাকে, টাকা দিলে তারাও হয়তো গাছে চড়ত। কিন্তু এখন কাউকে পাচ্ছি না। আপনি অনেকক্ষণ এখানে দাঁড়িয়ে আছেন দেখলাম, দেখে মনে হচ্ছে আমার মতো ঢাকার বাইরে থেকে এসেছেন, এখানকার মানুষের মতো অত ব্যস্ততা নেই আপনার, মাশাল্লাহ বয়সও বেশি না আপনার, শরীরটাও পোক্ত মনে হচ্ছে। আপনি যদি একটু কষ্ট করে গাছ থেকে বেলুনটা পেরে দেন, খাস দিলে আপনার জন্য দোয়া করব, বাবা।”

এমন অনুরোধ মানুষ কীভাবে অগ্রাহ্য করে? আমি তার সাথে কৃষ্ণচূড়াগাছের নিচে এসে ওপরে তাকালাম। একটা নীল বেলুন গাছের পাতার ভেতর মুখ লুকিয়ে রেখেছে। বেলুনের নিচে লেজের মতো সাদা সুতা ঝুলছে, একটা ডালে চড়তে পারলেই সুতাটা নাগালের মধ্যে পাওয়া যাবে। তখন মুক্তিকামী বেলুনটাকে আবার বন্দি করা যাবে।

“পারবেন না, বাবা?” লোকটা খুব আশাভরা কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করল আমাকে।

একটা সাড়ে তিন বছর বয়সি মেয়ের মুখের হাসির জন্য আমি গাছে চড়লাম। গাছের দেহ ঠান্ডা এবং শক্ত, তবুও স্পর্শ করলে নিষ্প্রাণ মনে হয় না, শহরে এইটুকু বন্য উপাদান পেয়ে আমারও শান্তি লাগছিল। আমার বনে যে গাছপালা আছে, এই কৃষ্ণচূড়া তাদের শহুরে আত্মীয়। আমাকে খুব সানন্দে নিজের দেহে চড়তে দিলো, একটা ডালে পা ঠেকিয়ে হাত বাড়িয়ে নিজের দেহটাকে দীর্ঘ করে আঙুলের মাথায় সাদা সুতার স্পর্শ পেলাম। তারপর সুতাটা আঙুলে পেঁচিয়ে অক্ষত বেলুনসহ আমি ভীষণ পরিপাটি উপায়ে নিচে নামলাম।

নিচে নেমে দেখি গাছের নিচে কেউ নেই, নলিতাবাড়ি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাতনির হাসির পরোয়া না করে, আমার চুপসানো ব্যাগটা নিয়ে পালিয়ে গেছে। কৃষ্ণচূড়াগাছটার দিকে তাকিয়ে মনে হলো আমার বোকামি দেখে সে মুখ টিপে হাসছে। আমি উপলব্ধি করলাম, এই শহরের সবাই অন্ধ না, কেউ কেউ চোর।

ঢাকা শহরের দয়ামায়াহীন রাস্তায় একটা নীল বেলুন হাতে নিয়ে হাঁটছি। রাস্তায় ব্যস্ত মানুষের সংখ্যা কমে গেছে, কুকুরের সংখ্যা বেড়ে গেছে। উজ্জ্বল দোকানপাট ঝাঁপ নামাতেই আলোর দেমাগ কমে গেছে শহরের। ফুটপাতে ছোপ ছোপ অন্ধকার, অন্ধকারে নিজেদের আড়াল করে রেখেছে সব সন্দেহজনক মানুষজন, নগরের সবচেয়ে স্থির মানুষ তারা, বকপাখির মতো ধৈর্য নিয়ে তারা ফুটপাতে চোখ পেতে রেখেছে। আশ্চর্য ব্যাপার হলো নিঃস্ব হওয়ার পর আমার আর ভয় লাগছে না। আমার প্যান্টের পকেটের মধ্যে যে একটা দামি ঘড়ি দলা পাকিয়ে পড়ে সঠিকভাবে সময় গুনছে, তা মনে ছিল না। মনে থাকলে হয়তো নির্ভয়ে এই রাস্তায় হাঁটতে পারতাম না। আমার মধ্যে ভয় দেখে হয়তো অন্য কোনো শিকারি ভিন্ন কোনো ফাঁদ পাতত আমার জন্য।

আমি নিজেই অন্ধকারের এক প্রাণীকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, “ভাই, ওয়ারি কোনদিকে বলতে পারেন?” সে আকাশের দিকে আঙুল দেখালো। তার চেহারা দেখে মনে হলো না সে মশকারি করছে। আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে আসছিলাম। তখন পেছন থেকে লোকটা আমাকে ডাক দিলো, “ঐ ভাই, শোনেন।”

আমি কাছে যেতেই বলল, “এই জিন্দিগিতে আমারে কেউ ধন্যবাদ দেয় নাই, আমি এদিকে দাঁড়াইয়া গাঞ্জা বেচি, ইস্টুডেন্টরা আইসা কিন্যা লইয়া যায়, ধন্যবাদ দেয় নাই কুনোদিন, আপনে ফাস্ট।”

তারপর এগিয়ে এসে বলল, “অহন তো ওয়ারির বাস পাইবেন না মনে হয়, ক্যামনে যাইবেন? হাঁইট্যা?”

“হ্যাঁ।”

“তাইলে এদিক দিয়ে সোজা হাঁইট্যা গুলিস্তান যাইবেন, তারপর জয়কালি মন্দির পার হইয়া-“

আমি তাকে থামালাম, বললাম, “ভাই, আমি এইসব কিছুই চিনি না, আপনি আমাকে শুধু বলে দিন কোন দিকে হাঁটতে হবে।”

“পুব দিক ধইরা হাঁটতে থাকেন।”

তারপর লোকটা তার পকেট হাতড়িয়ে নিউজপ্রিন্ট কাগজে মোড়ানো একটা পুরিয়া বের করে আমার দিকে বাড়িয়ে ধরে বলল, “নেন, ট্যাকা লাগবো না।”

নির্দয় শহরে এত সদয় মানুষও আছে! আমি অভিভূত হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, “এগুলো কি গাঁজা?”

“টান দিলে বুঝবেন, একের মাল।”

নিজের পণ্যের গুণগত মান নিয়ে তার মধ্যে প্রচ্ছন্ন গর্ব দেখলাম। “দুঃখিত, আপনার উপকার আমি মনে রাখব, কিন্তু এই উপহার গ্রহণ করতে পারছি না, আমি ভাই ধূমপান করিনি কোনোদিন।” বিনীতভাবে জানালাম তাকে।

“আইচ্ছা, ভাই। সাবধানে যান তাইলে, কেউ ডাক দিলে থাইমেন না।” মাদকবিক্রেতার কণ্ঠে মমতা টের পেলাম। কত বিচিত্র প্রাণ ধারণ করে আছে এই নগর।

রাস্তার বাঁক, মোড়, শাখা, উপশাখা ইত্যাদিতে আমি পূর্বদিক হারিয়ে ফেললাম। নক্ষত্র দেখে দিক নির্ধারণের বিদ্যা আমার জানা আছে, আকাশের দিকে তাকালাম, মাথার ওপর উঁচু দালানের ফাঁক দিয়ে ছাই রঙের অস্পষ্টতা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলাম না। নগরের আলো স্তিমিত হয়ে আসছে, ঝিমিয়ে পড়েছে সবকিছু, বন্ধ দোকানের সামনে ময়লা চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ছে ছাদবিহীন মানুষ। আমার পা অবসন্ন হয়ে বিশ্রাম চাইছে, মধ্যরাত পর্যন্ত হেঁটে ওয়ারি শব্দটা খুঁজে পেলাম না কোনো সাইনবোর্ডে। তবুও একটা বেলুন হাতে নিয়ে হাঁটছি; দালান, কোঠার নগরে আমার থাকার কোনো জায়গা নেই। অনেক হাঁটার পর রেললাইন খুঁজে পেলাম। ঘুমন্ত নগরীর মাঝখানে এই লোহার পথ ধরে হাঁটতে থাকলাম। অবশেষে এসে পৌঁছালাম একটা স্টেশনে, যেখানে অনেক মানুষ প্ল্যাটফর্মে হাত-পা গুটিয়ে শুয়ে আছে, যেভাবে মায়ের গর্ভে শিশুরা নিশ্চিন্তে ঘুমায়। আমি তাদের পাশে গিয়ে শুয়ে পড়লাম, হাত ফসকে বেলুনটা উড়ে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *