মজন্তালী সরকার – রোহন রায়
মজন্তালী সরকার – রোহন রায়
প্রথম প্রকাশ জানুয়ারি ২০২৫
MAJANTALI SARKAR
Contemporary Thriller Novel by Rohan Roy
.
ঐন্দ্রিলাকে
যে সঙ্গে না থাকলে এই বই লেখা হত না।
.
ঋণস্বীকার
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, আগাথা ক্রিস্টি, শশধর দত্ত,বিল ফিঙ্গার, বব কেন, কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনো, আনন্দবাজার ডিজিটাল আর্কাইভ, উইকিপিডিয়া, ড. চম্পক ভট্টাচার্য।
.
পুসিক্যাট, পুসিক্যাট, হোয়ার হ্যাভ ইউ বিন?
এই আখ্যানের সময়কাল ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ। সে-বছরই প্লটটা আমার মাথায় এসেছিল। তখন কলেজে পড়ি। তার আগের বছর দিল্লিতে নির্ভয়া-কাণ্ড। বোধহয় সে-ঘটনারই অভিঘাতে ভাবনাটা মাথায় বুড়বুড়ি কাটতে শুরু করেছিল। সলতে পাকানো শুরু করলাম আরও প্রায় তিন বছর বাদে। তারপর দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তর ছুরি-কাঁচি চলল। আমার আখ্যান আমার সঙ্গে-সঙ্গেই বড় হল। চাকরি পেয়ে স্টেবল হল। লেখালিখিকে ততদিনে সিরিয়াসলি নেবার কথা ভাবছি। গপ্প লিখে হাত পাকাচ্ছি। অন্যান্য লেখার ফাঁকে ফাঁকে এ-ব্যাটা বেতালের মতো ঘাড়ে চেপে বসেছিল। সব মিলিয়ে ঘাড় থেকে নামাতে এত বছর লেগে গেল। আরও যে দেরি হল না, তার কৃতিত্ব আমার স্বজনবন্ধুদের আর অবশ্যই পত্রভারতী পরিবারের।
একেবারে শেষদিকে এসেও এন্তার খুঁতখুঁত করেছি। বারবার কাটাকুটি করেছি। সারারাত টানা লিখে ল্যাপটপ বগলে গুঁজে ভোরবেলার ট্রেন ধরেছি, আবার ট্রেনে বসে ল্যাপটপ খুলেই হয়তো কেটে উড়িয়ে দিয়েছি সারারাতের পরিশ্রম। স্বীকার করি, লেখক হিসেবে আখ্যানের থেকে যে নৈর্ব্যক্তিক দূরত্ব রাখা প্রয়োজন, তা রাখতে পারিনি।
লিখতে বসে ফেটেফুটে গেছি। আখ্যানের অন্ধকার আমার ভিতর ঢুকে এসেছে। আমার ব্যক্তিগত ক্ষত হাঁ হয়ে গেছে আখ্যানের কোনও চরিত্রে। লেখকজীবন বেছে নিলে কপালে এমনিতেই অনন্ত নরকবাস লেখা থাকে। তার ওপর বিষয়টাও নিজগুণেই দাহ্য। একটা দীর্ঘ অস্বস্তিকর লেখার সঙ্গে লেখকের সাধারণত ‘লাভ-হেট’ সম্পর্ক হয়ে যায়।
এই লেখাটা শেষদিকে কার্যত আমার দু-চোখের বিষ হয়ে উঠছিল। আমরা একে-অন্যকে একটুও সহ্য করতে পারছিলাম না। বাড়ি, হোটেল, অফিস, ট্রেন, রেস্তোরাঁ—যখন যেখানে বসে লিখেছি, সেই মুহূর্তে সেই জায়গাটা আমার জন্য আউশভিৎজ বা আবু ঘ্রাইব হয়ে গেছে। অবশেষে এতদিনে, সকল কাঁটা ধন্য করে, লেখাটা বেরোচ্ছে।
সুদূর অতীত নিয়ে কাজ করার একটা মস্ত সুবিধা হচ্ছে, প্রচুর মান্য উপাদান পাওয়া যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতের নির্মাণে সেই সুবিধা পাওয়া যায় না। দশ-এগারো বছরের পুরনো ইতিহাসের মাপজোক নিতে হলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার ডিজিটাল আর্কাইভ ছাড়া গতি নেই। কিন্তু তাতে সাময়িকতা-দুষ্ট রিপোর্টের ফাঁদে পড়তেই হয়।
এই অসুবিধা শিয়রে নিয়েই সময়টাকে যথাসাধ্য ধরার চেষ্টা করেছি। এ-লেখায় সমসাময়িক কিছু ঘটনার ছায়া হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে, তবে মূল ঘটনাপ্রবাহ কঠোরভাবে কাল্পনিক। বিশেষত সিআইডি দপ্তর বা আলিপুর সংশোধনাগারের ঘটনাগুলোর সঙ্গে বাস্তবের বিন্দুমাত্র যোগাযোগ নেই।
কাহিনির মূল চরিত্রের নাম নিয়েছি উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর বিখ্যাত গল্প থেকে। সঙ্গে জুড়েছি বিল ফিঙ্গার ও বব কেনের তৈরি একটি চরিত্রের ভাবনাকে। শুরুর দিকে আগাথা ক্রিস্টির ‘মার্ডার ইজ অ্যানাউন্সড’ গল্পের মূল ঘটনার আদলে একটি ঘটনা আছে। পরিচিত, অর্ধপরিচিত বা পৌনেপরিচিত অনেক মানুষের মতামত উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে চারিয়ে গেছে।
ফলে, এই আখ্যান সর্বার্থেই পলিফোনিক। ন্যারেটিভ নিয়েও বিরাট একটা ঝুঁকি নিয়েছি। জানি না পাঠক পছন্দ করবেন কিনা। অবশ্য আরও বড় ঝুঁকি নিয়েছেন পত্রভারতী কর্তৃপক্ষ। আজকের পোস্ট-লিটারেট সমাজে (যেখানে লোকে বই পড়তে সক্ষম কিন্তু পড়েন না) আনকোরা লেখকের প্রথম উপন্যাসে তাঁরা বাজি ধরেছেন। তাঁদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আর আমার স্বজন-বন্ধুদের তো আলাদা করে ধন্যবাদ জানানোর কিছু নেই। তাঁরা না থাকলে কি এইভাবে কেরিয়ার, পিএইচডি সব শিকেয় তুলে নাগাড়ে লিখে যেতে পারতাম? এ-বইয়ের হয়ে ওঠার পিছনে অনেকের অনেক যত্ন আছে। ক’জনেরই-বা নাম নেব?
যে-সময়ে বইটা বের হচ্ছে, আশ্চর্যভাবে সে-ও একটা ক্রান্তিকাল। মানুষের গড় মনোযোগ এখন গোল্ডফিশের চেয়েও কমে গেছে। কিন্তু এই বিশেষ ঘটনাটা বাঙালি ভুলে যেতে চাইছে না। একটা ঘটনার অভিঘাতে সম্ভাব্য সমস্ত মৌল প্রশ্ন উঠে আসা জরুরি। আশার কথা, সেগুলো উঠে আসছে।
আমি চাই, এই প্রশ্নেরা দীর্ঘায়ু পাক। সিস্টেমের দিকে আঙুল তুলুক। আমাদের ভাতঘুমকে বিঘ্নিত করুক। আক্রমণ করুক আমাদের সত্তার নিভৃতচারী পিতৃতান্ত্রিক জীবাণুগুলোকে। আমি চাই, এই প্রশ্নেরা আমাদের পাহারা দিক। আমার এই আখ্যানও আদতে এই একই প্রশ্নমালার অংশ। কোর্স এক। সিলেবাসও এক। আমি চাই, ভুলে না-যেতে চাওয়ার এই সামূহিক অঙ্গীকারে আমার এই অকিঞ্চিৎকর লেখাটাও থেকে যাক। বাকি কথা লেখা নিজেই বলবে।
রোহন রায়
সেপ্টেম্বর ২০২৪
কলকাতা


Please upload অম্বুবাচী by মধুমিতা সেনগুপ্ত
ঈশ্বরপুরের প্রেম কথা,আর সাথী দাসের দূরের পাখি, সেই তো এলে ভালোবাসা আপলোড করুন
Please upload “ বিভাষিকা ১৪৩২ ” থ্রিলার পত্রিকা
Please upload “ ১.৬১৮ ” written by Samiran Samanta
Please Upload Blue Wings by abhik Arjun Dutta
পথ নেই by রোহন রায় বইটি upload করুন please
এই লেখকের পথ নেই বইটি upload করুন please পথ নেই by রোহন রায়
এখান থেকে বই কি download করে পড়া সম্ভব? যদি হয় তবে কিভাবে?
না, আমরা অন্যান্য সাইট থেকে পিডিএফ নিয়ে সেগুলো ওসিআর করে এখানে দিই। আপনি অনলাইনে সার্চ করলে অন্যান্য সাইটে প্রায় সব বই-ই পেয়ে যাবেন।