চতুর্বিংশ দিন
তারিখ : ২৫ আগস্ট
ভবানী ভবন, সকাল ১০টা
‘মানে?’ রাহুলের কথা আটকে গেল প্রায়, ‘তু…তুমি বলছ, সম্পূর্ণাকে পরে খুঁজে বের করে ইচ্ছাকৃতভাবে ফ্রেম করা হয়েছে?’
দময়ন্তী বলল, ‘হ্যাঁ। ওর অতীত ঘেঁটে কেউ ওকে খুঁজে বের করে গল্পটা সাজিয়েছে।’
রাহুল স্তব্ধ হয়ে কয়েক মুহূর্ত বসে রইল। তারপর বলল, ‘কিন্তু তাহলে ওর প্যাটার্নের সঙ্গে মজন্তালীর প্যাটার্নের এত মিল কী করে হল?’
‘ওইখানেই তো সবচেয়ে বড় টেক্কাটা খেলেছে। রেখা ভট্টাচার্য ওরফে সম্পূর্ণা মিত্র হচ্ছে এই কেসের সবচেয়ে বড় ফলস ফ্ল্যাগ।’
তানিয়া চোখ গোল গোল করে বলল, ‘মানে তুমি বলছ, ওর ইতিহাস ঘেঁটে ওকে খুঁজে বের করেছে মজন্তালীরা? যেমন আমরা বের করেছি?’
‘কেন? লিলুয়া হোমের প্রাক্তন প্রধান অপর্ণা সামন্ত কী বলেছিলেন মনে নেই?’ দময়ন্তী মিটিমিটি হাসল, ‘আমাদের এক বছর আগেই কেউ রেখার খোঁজ করেছিল।’
তানিয়া দু-আঙুল দুই ভুরুতে চেপে ধরল, ‘অ্যাড্রিনালিন রাশের চোটেই এবার মরে যাব আমি!’
রাহুলকেও দিশেহারা দেখাচ্ছে, ‘কিন্তু দময়ন্তীদি, তাহলে তো এরকম আরও অনেককে ওরা খুঁজে বের করতে পারে।’
দময়ন্তী বলল, ‘করেছে তো। এবং তাদের নিয়েই এই গার্লস গ্যাং। কেউ ফান্ড জোগাড় করছে, কেউ নেটওয়ার্কিং করছে, কেউ খুনজখম করছে, কেউ ফলস ফ্ল্যাগ হয়ে আমাদের বিভ্রান্ত করছে। এবং এদের সাহায্য করছে পুলিশের বড়কর্তা বা কর্ত্রী, যাঁর খুব সম্ভবত একটা নর্থ বেঙ্গল লিঙ্ক রয়েছে।’
রাহুল অপলক বিস্ময়ে কয়েক সেকেন্ড চেয়ে থেকে বলল, ‘এটা শিওর হয়ে যাবার পরেও তুমি সম্পূর্ণাকে ছেড়ে দিলে?’
‘আমি মেয়েটাকে আরেকটা সুযোগ দিয়ে দেখতে চাই। ওর ব্লুমিং কেরিয়ারটা শেষ হয়ে যাক আমি চাই না। ওর সামনে নিউট্রালাইজ হওয়া ছাড়া আর পথ নেই। আর তাছাড়া মনোরোগীর বয়ানের ভিত্তিতে চার্জশিট ফাইল করা যায় না। ওর সঙ্গে মজন্তালীদের যোগাযোগ এস্ট্যাবলিশ করার মতো প্রমাণ নেই আমাদের হাতে। সেরকম প্রমাণ ভবিষ্যতে পাবও না। কারণ ওর কাজটা শুধুই ফলস ফ্ল্যাগ দেওয়া। নাথিং এলস।’
‘এরা সকলেই তো একেকটা যন্ত্রণার ইতিহাস নিয়ে বসে আছে দময়ন্তীদি,’ তানিয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘এভাবে কজনকে ছাড়বে তুমি?’
‘কিছু ব্যাপার ছেড়ে রাখলেই বেশি করে হাতের মুঠোয় থাকে, বুঝলি?’ হাসল দময়ন্তী, ‘ওর ওপর থেকে নজরদারি তুলিনি। এবার ও নিশ্চিন্ত হয়ে কোনও ভুল স্টেপ নিলে সেটা আমাদের জন্য একটা হাতেগরম প্রমাণ হবে।’
‘এইবার অঙ্কটা মিলল,’ রাহুল ঠোঁট টিপে মাথা নাড়ল, ‘তাই ভাবছি। তুমি তো এমন কাঁচা কাজ করার লোক নও।’
দু-আঙুলের ফাঁকে পেন চেপে ঘোরাতে ঘোরাতে দময়ন্তী বলল, ‘আরেকটা খুব জরুরি জিনিস মাথায় এল। সম্পূর্ণা মিত্র একটা ফলস ফ্ল্যাগ হলে তার কেসটা যে পিচ করেছিল, সে-ও কি সন্দেহের আওতায় চলে আসছে না?’
তানিয়া চমকে উঠল, ‘মালিপাঁচঘড়া থানার সেই অফিসার?’
‘ইয়েস। সাগ্নিক বড়াল। যিনি নিজে দায়িত্ব নিয়ে পরম যত্নে কেসটার প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করালেন।’
তানিয়া বিভ্রান্ত গলায় বলল, ‘কিন্তু আমরা তো লোকটার ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করেছি। যা-যা বলেছিল সবকিছুই জেনুইন।’
দময়ন্তী নিজের নোটবুক খুলে বসে পড়েছিল। মুখ না-তুলেই বলল, ‘ডিগ ডিপার, বৎস। আরও গভীরে খোঁড়ো।’
.
রাইটার্স বিল্ডিং, সকাল ১১টা ৩০
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বেশ খোশমেজাজে ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে নিজেই এগিয়ে এলেন অমিতাভর দিকে। প্রসন্ন মুখে বললেন, ‘ওয়েল ডান মিঃ সান্যাল। আমি আপনার ওপর ভরসা রেখে ভুল করিনি।’
‘থ্যাঙ্কিউ স্যার,’ বিগলিত হাসি হাসলেন অমিতাভ, ‘তবে এই মামণি হেমব্রম মেয়েটি আসল বিড়াল নয়।’
‘আমি নিশ্চিত, আসল বিড়াল শিগগিরি ধরা পড়বে। আর তারপরেই আপনার প্রোমোশন। সেন্ট্রালে লিয়েনে ছাড়ছি না আপনাকে। নতুন দপ্তরে আসবেন নাকি?’
‘কোন দপ্তর স্যার?’
‘সে একটা কিছু ভাবা যাবে। হাওড়ায় নতুন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিল্ডিং প্রায় রেডি। অক্টোবরে ওপেনিং। এই কেস মিটলে সেখানে বসবেন কিনা ভাবুন। সময় নিয়ে ভেবে জানাবেন। অসুবিধে নেই।’
‘বলুন বলুন।’
‘এই কৃতিত্ব আমার একার না, আমার দলের প্রত্যেকের। তাই সকলের কথাই যদি…।’
‘এইতো, প্রকৃত ক্যাপ্টেনের মতো কথা,’ হেসে অমিতাভর পিঠে হাত রাখলেন করুণাময় বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘শুনুন, ডিজি আর এডিজির সঙ্গে আজই কথা হল। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে রাজ্য পুলিশ “বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী আত্মরক্ষা প্রকল্প” নামে একটা কর্মশালা চালু করছে। এইট থেকে টুয়েলভের স্টুডেন্টদের জন্য। বিনামূল্যে ক্যারাটে, তায়কোন্ডু শেখাবে। আমি ভেবেছি, এর ইন্সট্রাক্টর হিসেবে দময়ন্তী মুখার্জীর নাম পাঠাব। ওঁকে বলবেন। আপনাদের ওই জুনিয়র মেয়েটিও থাকবে। কী যেন নাম?’
‘তানিয়া।’
‘হ্যাঁ। তানিয়া। ওর নামও পাঠাব। আর টিমের সবার প্রমোশনের ব্যাপারটাও মাথায় রাখব। আমি ভালো কাজের মূল্য দিই।’
‘অবশ্যই স্যার। আপনার মতো অভিভাবক থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।’
করুণাময় হৃষ্ট গলায় বললেন, ‘শুনুন মিঃ সান্যাল, আমি নিজে স্ট্রাগল করে আসা লোক। স্ট্রাগলের মর্ম বুঝি। যাঁরা মন দিয়ে কাজ করবেন, তাঁরা আমার কাছে সবসময় গুরুত্ব পাবেন। আমি তো বলেই দিয়েছি কোথাও কোনও রং দেখা হবে না। গুণীকে আমি সবসময় সম্মান দেব। আগের সরকারের আমলে যেটা একেবারে নষ্ট হয়ে গেছিল। বুঝলেন কিনা?’
‘তা তো ঠিকই, তা তো ঠিকই।’ বশংবদের মতো মাথা নাড়লেন অমিতাভ।
.
ভবানী ভবন, দুপুর ১টা
‘দময়ন্তীদি!’ ডেস্কটপ থেকে মুখ তুলে উৎফুল্ল স্বরে তানিয়া বলল, ‘পেয়ে গেছি।’
রাহুল আর দময়ন্তী নিচু গলায় কিছু-একটা নিয়ে আলোচনা করছিল। দুজনেই চমকে তাকাল। দময়ন্তী বলল, ‘কী পেলি?’
‘সুতাহাটা গ্রামের নামটা চেনা চেনা লাগছিল। পেয়ে গেছি। পূর্ব মেদিনীপুরের ডিসট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট এই মামণি হেমব্রমের কেসটা পাঠিয়েছিল।’
‘শাব্বাশ! বল শুনি!’
‘চয়নিকা রাউত ঠিকই বলেছিলেন। মামণিকে রেপ করে জিভ কেটে দেওয়া হয়েছিল। কাজটা করেছিল তার কোনও এক তুতো দাদা। মামণির মা হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়েছিল সেই লোককে। ফলে তার জেল হয়েছিল। মায়ের নাম সুলোচনা হেমব্রম। গল্পটা অনেকটা রেখার মতোই। প্রতিশোধের জন্য খুন এবং জেল।’
‘ব্রিলিয়ান্ট!’ হাততালি দিয়ে উঠল দময়ন্তী, ‘এইটুকু নিশ্চিত করাই দরকার ছিল। আচ্ছা, রেখা আর এই মামণির হোমে আসার মধ্যে কত বছরের ব্যবধান রে?’
তানিয়া ডায়েরিতে খসখস করে হিসেব কষল, ‘রেখা হোমে এসেছিল আটানব্বই সালে। আর মামণি দুহাজার পনেরো। সতেরো বছর।’
‘এই সতেরো বছর হচ্ছে আমাদের গোল্ডেন টাইম,’ তুড়ি মারল দময়ন্তী, ‘চয়নিকা রাউত আটানব্বই আর দু-হাজার পনেরো দুই সময়ের কর্মীদেরই লিস্ট দিয়েছেন। দুটোকে ট্যালি কর।’ বলে রাহুলের দিকে ফিরল দময়ন্তী, ‘রাহুল, যে-নামগুলো কমন বেরোবে, তুই সেগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড চেক কর। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, অন্তত একটা বেড়াল ওখানেই ঘাপটি মেরে আছে।’
কথার মাঝখানে দরজা ঠেলে উঁকি মারল রমেশ। রাহুলকে বলল, ‘স্যার আপনাকে একজন খুঁজতে এসেছেন।’
‘আমাকে? রাহুল ভুরু কুঁচকে বলল, ‘কে?’
একটু পরে যে ঘরে এসে ঢুকল তাকে দেখে সবার একগাল মাছি।
রাহুল বিস্ময়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছিল। অবিশ্বাসের সুরে বলল, ‘লীনা? কী ব্যাপার?’
.
বালিগঞ্জ প্লেস, লাইভ নিউজের অফিস, দুপুর ১টা ১০
স্বপনদা লীনার এপিসোডের স্ক্র্যাচ ফাইল পাঠিয়েছে। শাক্যর কম্পিউটারে সৌমিলিরা ওটাই চেক করছিল। শিরিন বলল, ‘অসম্ভব স্বতঃস্ফূর্ত কথাবার্তা হয়েছে। শালিনীদি চমৎকার সাজিয়েছেন পুরোটা।’
‘কেমন একটা লোক জোগাড় করে দিলাম বল। পৃথ্বীশদার উচিত আমায় আলাদা করে একটা ট্রিট দেওয়া।’
‘পৃথ্বীশদার ট্রিট!’ রণ খ্যাঁক খ্যাঁক করে হাসল, ‘ওটা একটা মিথ। সবাই শুনেছে, কেউ কোনওদিন দ্যাখেনি।’
শিরিন চোখের ইশারা করে বলল, ‘ওই দ্যাখ, লুসিফারের নাম নিতে না নিতেই লুসিফার হাজির।’
কাচের দরজার ওপাশে সত্যিই পৃথ্বীশকে দেখা যাচ্ছে। হাতে একটা কাগজ। ভঙ্গিতে উত্তেজনা। হলে ঢুকেই চেঁচিয়ে উঠল, ‘গাইজ! মে আই হ্যাভ ইয়োর কাইন্ড অ্যাটেনশন প্লিজ? একটা অ্যানাউন্সমেন্ট আছে।’
হলশুদ্ধু সবাই কাজ থামিয়ে উৎসুক হয়ে পৃথ্বীশের দিকে তাকাল।
পৃথ্বীশ চারদিকে মাথা ঘুরিয়ে লোকজনের মুখের অভিব্যক্তিগুলো দেখে নিল একবার। তারপর বলল, ‘গত সপ্তাহের টিআরপি রিপোর্ট এসেছে। বাংলা নিউজ চ্যানেলগুলোর মধ্যে আবার আমরা এক নম্বরে।’
সবাই হইহই করে উঠল। ‘পার্টি চাই! পার্টি চাই!’ বলে রব উঠল।
জননেতারা ভোটের আগে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দেবার সময় যেরকম মুখ করে, পৃথ্বীশের প্রশান্ত মুখে অনেকটা সেরকম ভাব ফুটে উঠেছে। দু-হাত তুলে আশ্বাসের ভঙ্গিতে বলল, ‘হবে হবে! আগে পুরো কথাটা শেষ করতে দে। এই নিয়ে টানা তিন সপ্তাহ আমরা টপ করছি। আর যেটা আমি স্পেশালি মেনশন করতে চাই, সেটা হচ্ছে এবার আমাদের জিভিটি আনবিলিভেবল। ৭৮৫৬। আমাদের পরে নিউজ সারাদিন। ওদের জিভিটি ৬৫৩২। আর এই অ্যাচিভমেন্ট মেইনলি কয়েকজনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল। তাদের কথা আলাদা করে না বললে অন্যায় হবে।’ বলে পৃথ্বীশ সৌমিলিদের দিকে তাকাল, তারপর উচ্ছ্বসিত স্বরে বলল, ‘অল দ্য ক্রেডিট গোজ টু আওয়ার টিম মজন্তালি! সৌমিলি, শিরিন আর শাক্য! দ্য থ্রি মাস্কেটিয়ার্স! গিভ দেম আ বিগ হ্যান্ড, এভরিওয়ান!’
হাততালিতে ফেটে পড়ল গোটা হলঘর।
.
ভবানী ভবন, দুপুর ১টা ১২
কোনও সঙ্গত কারণ নেই, কিন্তু রাহুল কিছুতেই আজ লীনার চোখে চোখ রাখতে পারছিল না। তার হাত-পা কাঁপছিল।
লীনা চেরা গলায় বলল, ‘আপনি আমার মেসেজের রিপ্লাই দিচ্ছেন না কেন?’
‘আমি ব্যস্ত ছিলাম,’ ঢোঁক গিলল রাহুল, ‘কিন্তু আপনি তা বলে এভাবে অফিসে চলে আসবেন?’
‘আপনার ফোন নম্বর বা ঠিকানা কোনওটাই নেই আমার কাছে। ফেসবুকে মেসেজ করেছি, দেখেননি। কী করব?’
আড়চোখে দময়ন্তী আর তানিয়ার দিকে তাকাল রাহুল। বিস্ময় যায়নি, তার সঙ্গে একটা অতি সূক্ষ্ম কৌতুকের হাসি যোগ হয়েছে ওদের ঠোঁটে। ব্যাপারটা বেশ অস্বস্তিকর। রাহুল অসহায়-গলায় বলল, ‘আসলে দুদিনের জন্য কলকাতার বাইরে কাজে গেছিলাম। ফেসবুক খোলার সুযোগ হয়নি।’
‘মিথ্যে কথা! আপনি মেসেজ দেখেছেন তবু রিপ্লাই দেননি! আপনি নেট অন করেছিলেন। মেসেজ ডেলিভারড হয়েছে।’
দময়ন্তী তানিয়াকে নিয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে সন্তর্পণে দরজা টেনে দিয়ে গেল। উফফ! এ কী চাপ! এভাবে বাঘের মুখে একা ফেলে কেউ চলে যায়! রাহুল উপায়ান্তর না দেখে মাথা নিচু করল, ‘আমার খারাপ লেগেছিল।’
‘ভুল শুধরে নেবার সুযোগটুকুও কি দিতে নেই?’
‘আপনি বসুন প্লিজ।’
‘আমি যেটা বলছি সেটা শুনুন আগে! ভুলটা আমার।’
‘দেখুন, সেদিন হাতে বেশি সময় নিয়ে যাইনি। এমনিই আমায় উঠতে হত।’
‘শুনুন, আমি ভালো থাকার ভান করছি।’ রাহুলকে কথা শেষ করতে না দিয়েই অধৈর্য স্বরে বলে উঠল লীনা, ‘কিন্তু আমি ভালো নেই। একেবারেই ভালো নেই।’
রাহুল কী বলবে বুঝতে না পেরে বোকার মতো দাঁড়িয়ে রইল।
লীনা অপ্রকৃতিস্থের মতো বলল, ‘আমার সঙ্গে যা হয়েছে তার জন্য বিন্দুমাত্র লজ্জিত নই। কিন্তু এই ঘটনাটা আমার পার্মানেন্ট একটা ক্ষতি করে দিয়ে গেছে। আমি মানুষকে সহজে বিশ্বাস করতে পারছি না। ভালো ব্যবহার দেখলেই শুধু মনে হচ্ছে অপরচুনিস্ট। কিংবা দয়া করছে। আমি চাই না কেউ আমাকে দয়া করুক। দয়া আমি একদম সহ্য করতে পারি না। আপনি… আপনি…।’ বলতে বলতে লীনা হঠাৎ কেঁদে ফেলল।
রাহুল প্রচণ্ড বিপন্ন বোধ করল। এ সময় দময়ন্তীদি বা তানিয়া কাছে থাকলে ভালো হত। চাইলে ওদের ডাকাই যায়। কিন্তু কারও দুর্বল মুহূর্ত হাটবাজার করে দেওয়া মানে তাকে অপমান করার সামিল।
কাঁদতে কাঁদতে লীনা মাথা তুলল, ‘আমাকে ক্ষমা করুন। আমি আপনাকে ভুল বুঝেছি।’
লীনার চোখের দিকে তাকিয়েই রাহুল সর্বনাশটা টের পেল। চোখের ভাষায় কখনও মিথ্যে বলা যায় না। ভুল হয়ে গেছে। কোথাও একটা মস্ত ভুল হয়ে গেছে। কিন্তু এখন আর কিছু করার নেই। খানিকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইল রাহুল। তারপর খুব মৃদুস্বরে বলল, ‘তা হয় না লীনা!’
লীনা জলে ভরা আয়ত দুটি চোখ তুলে বলল, ‘কী হয় না?’
‘আপনি যেটা ভাবছেন। হয় না।’
লীনা রাহুলের দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিল। তারপর অস্বাভাবিক দৃঢ় গলায় বলল, ‘আমি কিচ্ছু বলতে চাইনি। আপনি ভুল ভাবছেন।’ বলেই দ্রুত পায়ে দরজা ঠেলে বেরিয়ে গেল।
.
কালীঘাট, সন্ধে ৭টা
দরজা খুলে উপাসনা অবাক এবং খুশি, দুটোই একসঙ্গে হলেন, ‘আরে শালিনী, তুমি?’
শালিনী গলায় অনুতাপ মেশাল, ‘কাল দুম করে চলে যেতে হল। নিজেরই এত খারাপ লাগছিল। আজ ভাবলাম ঘুরে যাই একবার। না-বলে এসে অসুবিধা করলাম না তো?’
‘ধুর। এসো এসো।’ দরজা ছেড়ে দাঁড়ালেন উপাসনা, ‘ভালো হল আজ এলে। আমার ছেলের সঙ্গে তোমার আলাপ করিয়ে দেব।’
‘ছেলে?’
‘অ্যাডপ্টেড।’
‘তাই বলুন। আপনি তো বলেছিলেন বিয়ে করেননি। সেইজন্যই শুনে অবাক হলাম। ছেলে কত বড়?’
‘ফার্স্ট ইয়ার। খুব লাজুক। বেশি লোকজন এলে ও বেরোতে চায় না। সেইজন্যেই সবার সঙ্গে আলাপ করানোর সুযোগ হয়ে ওঠে না। দার্জিলিংয়ে পড়ে। এক সপ্তাহের ছুটিতে এসেছে। দাঁড়াও ডাকছি।’ উপাসনা গলা তুললেন, ‘বনিইই! অ্যাই বনি! এদিকে শোন!’
দোতলার সিঁড়ির মাথায় একটা মাথা উঁকি দিল। তারপর ছেলেটা ধীর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে একেবারে নিচের ধাপে এসে দাঁড়াল। মাঝারি উচ্চতা। শান্ত, গভীর চোখ। চুল পেতে আঁচড়ানো।
উপাসনা বললেন, ‘এই দ্যাখ, এই হচ্ছে শালিনী আন্টি। সাইকোলজিস্ট। রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে পড়ান।’
বনি শালিনীর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। নম্র গলায় বলল, ‘আমার তো সায়েন্স কলেজেই পড়ার ইচ্ছে।’
‘নিশ্চই পড়বে। কী নিয়ে পড়ছ তুমি?’
‘বটানি অনার্স।’
উপাসনা বললেন, ‘শালিনী, কী খাবে বলো? চা বা কফি, নাকি জুস?’
‘কফিই দিন।’
‘বনির সঙ্গে গল্প করো। আমি কফি নিয়ে আসছি।’ উপাসনা ভিতরের ঘরে চলে গেলেন।
শালিনী লক্ষ্য করল, ছেলেটার শরীরী ভাষায় একটা গুটিয়ে-থাকা ভাব। সদ্য সাবালকত্ব পাওয়া ভিতর-মহলে কোথাও যেন কিছু একটা লুকোনো রয়েছে, আনত দৃষ্টি যা গোপন করতে চায়। ভারতীয় সমাজ ছেলেমেয়েদের বয়ঃসন্ধির পরিবর্তনজনিত অধ্যায়টিতে হাত ছোঁয়াতে চায় না। তড়িঘড়ি পাতা উল্টে পরের অধ্যায়ে চলে যায়। হাত ছোঁয়ালে হাত পুড়ে যেত। শালিনী বনিকে জিগ্যেস করল, ‘শুনলাম তুমি দার্জিলিংয়ে পড়াশোনা করছ? কোন কলেজ?’
‘দার্জিলিং গভর্নমেন্ট।’
‘বাঃ! এখন তো ভালো স্টুডেন্টরা জেনারেল লাইনে পড়তেই চায় না। শুনে ভালো লাগল।’
বনি মাথা লাজুক গলায় বলল, ‘আমি তেমন ভালো স্টুডেন্ট নই।’
‘কেন? নম্বর ভালো আসছে না?’
বনি ঘাড় নাড়ল, ‘আমার অ্যাটেনশনে সমস্যা হয়। বেশিক্ষণ টানা পড়তে পারি না।’
‘এটা কবে থেকে হচ্ছে?’
‘ছোটবেলা থেকেই।’
‘ডিজিটাল ডিভাইসের জন্য নয়?’
‘না। আমার গেমসের নেশা নেই। আমি বই পড়তে ভালোবাসি।’
‘বই পড়তে ভালোবাসো এটা তো খুব ভালো কথা। তা প্রচুর বাইরের বই পড়ো বুঝি?’
‘হ্যাঁ। বাইরের বইই বেশি পড়ি।’
‘এখন কী পড়ছ?’
‘রাস্কিন বন্ড।’
উপাসনা কফি নিয়ে ঢুকলেন। বনিকে বললেন, ‘তুই এবার যা। আমরা গল্প করি।’
বনি সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেল দোতলায়।
শালিনী বলল, ‘ভারি মিষ্টি ছেলে। বড্ড লাজুক।’
‘হ্যাঁ। আমাদের সঙ্গেও খুব বেশি কথা বলে না। এখনও যে খুব ভালো বন্ডিং তৈরি হয়েছে তা নয়। আসলে বেশ খানিকটা বড় বয়েসে অ্যাডপ্ট করেছি তো!’
‘কত বয়েসে?’
‘তেরো।’
‘এত বড় বয়েসে অ্যাডপ্ট করলেন? কোনও বিশেষ কারণ?’
‘আসলে ওকে জুভেনাইল হোম থেকে অ্যাডপ্ট করেছিলাম।’
‘জুভেনাইল হোম থেকে?’ ঝটকা খেয়ে সোজা হয়ে বসল শালিনী, ‘কেন? কী করেছিল বনি?’
‘ও একটা বাচ্চা মেয়েকে মলেস্ট করেছিল। তখন ওর এগারো বছর বয়স।’
শালিনী এত অবাক বোধহয় জীবনে হয়নি। খবরের কাগজে মজন্তালী সরকারের অ্যাড দেখেও না।
শালিনীর মুখ দেখে উপাসনা মৃদু হাসলেন, ‘বনি চার বছর জুভেনাইল হোমে ছিল। একটা এনজিও-র হয়ে প্রজেক্ট করতে গিয়ে আমি ওকে দেখি। ও মেঝেয় বসে খড়ি দিয়ে আঁকছিল। ওর সঙ্গে অনেকক্ষণ গল্প করেছিলাম। তখনই কেন জানি না মনে হয়েছিল ওকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। শুরুতে দোটানায় ভুগছিলাম। সে-সময় সুজান খুব হেল্প করেছিল। সাত-আট মাস পর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম। তিন বছর ধরে কাউন্সেলিং করালাম। লার্ন-আনলার্নের প্রসেস চলল। তারপর একদিন নিয়ে এলাম বাড়িতে।’
শালিনী এখনও যেন ব্যাপারটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না, ‘আপনার মা-বাবা বাধা দেননি?’
‘দিয়েছিলেন। ওদের দোষ দেওয়া চলে না। আমি যেটা দেখতে পেয়েছিলাম ওরা তো সেটা দেখেননি। কিন্তু আমি ওদের বোঝাতে পেরেছিলাম। হ্যাঁ, উচ্চ মাধ্যমিকের পর ওকে এ-বাড়িতে রাখিনি। সেটা ওর ভালোর জন্যই। আসলে ওর ইতিহাস যারা জানে তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে থাকতে না পারলে ও পুরোপুরি নিজেকে মেলতে পারছিল না।’
‘আপনি কি বনির বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত, উপাসনাদি?’
‘একশো শতাংশ নিশ্চিত তো এ-বিষয়ে কখনওই হওয়া সম্ভব না। সাইকোলজিস্ট অ্যাশিওর করেছেন যে ওর মধ্যে টক্সিক ম্যাসকুলিনিটি সেভাবে নেই। আলফা মেল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। “কনসেন্ট” কী জিনিস সেটা ওর দ্বিগুণ বা তিনগুণ বয়সি পুরুষমানুষ বোঝে না, কিন্তু ও বোঝে। ইউ মে নাও কল হিম আ সারভাইভার।’
সারভাইভার। তাই তো! সুজান, লীনা বা তিয়াসাকে যদি সারভাইভার বলা যায়, বনিকেই বা বলা যাবে না কেন? একটা নরম, ঠান্ডা ভালোলাগায় ভরে গেল শালিনীর বুক। এমনও হয়? চাকাটাকে এইভাবে উল্টোদিকে ঘোরানোর কথাও ভাবা যায়?
চোখের ওপর এসে পড়া চুলের গুছি আঙুল দিয়ে সরিয়ে উপাসনা বললেন, ‘ইটস নট অ্যাবাউট জেন্ডার, শালিনী। তুমি তো জানো। ইটস অ্যাবাউট পাওয়ার স্ট্রাকচার। অতীতের সমস্ত আবর্জনা সাফ করে বনি একটা নতুন মানুষ হয়ে উঠছে। এই ফিরে আসার গল্পটাকে আমরা লীনাদের গল্পের পাশে বসতে দিতে পারি না?’
শালিনী সমাহিত গলায় বলল, ‘আপনার কাছে একটা নতুন জিনিস শিখলাম, উপাসনাদি। সারাজীবন মনে থাকবে।’
‘গতকাল তুমি কেন ওভাবে বেরিয়ে গেলে আমি কিন্তু বুঝতে পেরেছি।’ কৌতুকের হাসি ফুটল উপাসনার ঠোঁটে।
শালিনী কিছু বলতে পারল না। চোখ নামিয়ে নিল।
উপাসনা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলেন। শালিনীকে কুণ্ঠিত হতে একটু সময় দিলেন বোধহয়। তারপর নরম গলায় বললেন, ‘দ্যাখো, এঁদের মধ্যে কেউ মজন্তালী সরকার কিনা আমার জানা নেই। বা মজন্তালী সরকার যদি একটা স্কোয়াড হয়, এঁদের মধ্যে এক বা একাধিক লোক সেই স্কোয়াডের সদস্য কিনা সেটা আমি বলতে পারব না। কিন্তু গতকাল আমরা নতুন একটা প্রজেক্ট নিয়েই বসেছিলাম। স্কুল-কলেজের জন্য একটা ওয়ার্কশপ ডিজাইন করার কথা ভাবছিলাম। তিয়াসা তার ফেস হতে রাজি হয়েছে। তোমার তো এই ব্যাপারে অভিজ্ঞতা আছে। সেইজন্যই তোমায় ডেকেছিলাম। আর কিছু নয়। তবে তোমার পুরো অধিকার আছে আমায় এবং আমাদের সন্দেহ করার। আমি যে ভবানী ভবনের সাসপেক্ট তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছি সে-ও জানি। অ্যান্ড দ্যাট ডাজন্ট ম্যাটার। আমার কাজ তাতে থেমে থাকবে না।’ বলে একটু থেমে চোখ টিপলেন উপাসনা, ‘আসল কথা হচ্ছে, আমরা সবাই মজন্তালী সরকার হতে পারি। নিজের নিজের মতো করে। তাই না?’
.
ভবানী ভবন, সন্ধে ৭টা ২০
নবীন চতুর্বেদীকে ঘরে ঢুকতে দেখে দময়ন্তী উঠে দাঁড়াল, ‘গুড ইভনিং স্যার।’
চতুর্বেদী মাথা ঝুঁকিয়ে পাল্টা সম্ভাষণ জানিয়ে বললেন, ‘কংগ্র্যাটস ফর রিসেন্ট প্রগ্রেস। তোমাদের আরেকটু উপকারে আসতে পারব বলে মনে হচ্ছে। অমিতাভ কোথায়?’
‘স্যার বাইরে আছেন। আজ আর এখানে ফিরবেন না। প্লিজ বসুন।’
‘একটা হাঞ্চ পেয়েছি। তোমাকে বলে যাই,’ চেয়ারে বসে বললেন নবীন, ‘অস্ত্র এবং আরডিএক্স পাচারে নর্থ বেঙ্গলের যে “সুন্দরী” ম্যাডামের কথা বারবার উঠে আসছে, তিনি সম্ভবত কোনও পুলিশ বা আমলা না।’
‘তাহলে?’
‘তিনি খুব সম্ভবত একজন বাংলাদেশী নাগরিক। আমি লোক লাগিয়ে রেখেছি। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি একটা নিশ্চিত খবর পাবে। সর্বাণীদিও বিষয়টা দেখছেন, ডোন্ট ওরি।’
দময়ন্তী হাঁ, ‘সর্বাণী সেন?’
‘হ্যাঁ। অমিতাভকে জানিও।’ বলে চতুর্বেদী লম্বা লম্বা পায়ে প্রস্থান করলেন।
দময়ন্তীর হাঁ বন্ধ হতে অন্তত আড়াই থেকে তিন মিনিট লাগল।
.
পার্ক স্ট্রিট, রাত ৮টা ৩০
‘কেটে দিচ্ছি যখন, বারবার কল করছ কেন?’
‘বারবার কল করলে বুঝতে হয় ব্যাপারটা আর্জেন্ট। তাই না?’
‘কী ব্যাপার?’
‘কোড রেড। লিলুয়া হোম থেকে লিড বেরোচ্ছে।’
‘শিট। তাহলে?’
‘দিদিমণিকে খাপে যেতে হবে। এখনই। আর কোনও অপশন নেই।’
.
সল্টলেক, রাত ১১টা
নবীন চতুর্বেদীর আবিষ্কার করা বাংলাদেশ-কানেকশন নিয়ে ভাবতে ভাবতে মাথাটা পেগলে যাচ্ছিল। একটু বিশ্রাম নিতে বিছানায় এসে অমিতাভর নজরে পড়ল চাদরটার রং চটে গেছে। সবকটা চাদরেরই কমবেশি এই হাল। গোবিন্দ বলছিল বটে। কাবেরী চলে যাবার পর বিছানার চাদর কেনা হয়নি। অনেক কিছুই কেনা হয়নি। বাড়ির একটা সম্পূর্ণ মেক ওভার দরকার। নতুন পরদা, নতুন পাপোশ, নতুন কিছু আসবাব। অমিতাভ ভাবছিলেন, এ-ব্যাপারে দময়ন্তীর সাহায্য নেওয়া যায় কিনা। ভাবতে ভাবতেই দেখলেন, দময়ন্তী ফোন করছে।
‘স্যার, একটা বিরাট লিড পেয়েছি। পঁচানব্বই সাল থেকে দু-হাজার সতেরো সাল অবধি লিলুয়া হোমে রান্নার কাজ করতেন নীলিমা চৌধুরী। তিনি মারা গেছেন। কিন্তু তাঁর একমাত্র মেয়ে বরুণ বিশ্বাসের স্কুলের কলিগ।’
ফ্রিজে রাখা মাছের মতো জমে গেল অমিতাভর বুক, ‘ঘোষ ইন্সটিটিউশন?’
‘হ্যাঁ স্যার। শম্পা চৌধুরী। ঘোষ ইন্সটিটিউশনের ইতিহাসের শিক্ষিকা।’
তথ্যটা হজম করতে অমিতাভ কয়েক সেকেন্ড সময় নিলেন। তারপর বললেন, ‘এটুকু কি যথেষ্ট?’
‘আরও দুটো পয়েন্ট পেয়েছি। তিয়াসা পৈলান এই ভদ্রমহিলার কাছে টিউশনি পড়ত। তিয়াসার ওপর অ্যাসিড-অ্যাটাক হবার পর তিনি বেশ কয়েকবার ওদের বাড়ি গিয়েছিলেন। পাকা খবর। আর দ্বিতীয় পয়েন্ট, মানিকতলা এলাকায় শম্পাদেবীর দিদির বাড়ি।’
‘তাহলে? তুলব তো?’
‘অবশ্যই। কোথায় থাকেন মহিলা?’
‘বাগুইআটি।’
‘দেন বারোটা পনেরো, শার্প।’
‘ওকে স্যার। আর ততক্ষণে আরও কিছু তথ্য পাই কিনা দেখি।’
ফোন রেখে এক লিটারের একটা জলের বোতল ঢকঢক করে প্রায় শেষ করে দিলেন অমিতাভ। তারপর বাথরুমে গিয়ে সটান শাওয়ার চালিয়ে দিলেন। ভীষণ অস্থির লাগছে। সেই ঘোষ ইন্সটিটিউশন? কাবেরীও কি তবে…?
.
