ঋগ্বেদ ০৯।১১০

ঋগ্বেদ ০৯।১১০
ঋগ্বেদ সংহিতা ।। ৯ম মণ্ডল সূক্ত ১১০
পবমান সোম দেবতা। ত্র্যরুণ ও ত্রসদস্যু নামক দুই ঋষি।

১। হে অবিচলিত পরাক্রমশালী সোম! অন্নদানের জন্য তুমি শত্রুদিগের অভিমুখে গমন কর। তোমার সাহায্যে আমরা ঋণ হইতে মুক্তি লাভ করি। শত্রু সংহার করিবার জন্য তুমি যাইতেছ।

২। হে সোম! তুমি প্রস্তুত হইয়াছ, এই লোকাকীর্ণ রাজ্য মধ্যে আমরা তোমার স্তব করিতেছি। হে ক্ষরণশীল! তুমি বিবিধ অন্নের জন্য চলিতেছ।

৩। হে সোম! তুমি জলের আশ্রয়স্থানস্বরূপ আকাশে সূর্যকে নিজ বলে সংস্থাপন করিয়াছ। তোমার জ্ঞান অতি মহৎ, তাহাতে তুমি অতি সত্বর গোধন আহরণ করিয়া দিয়া থাক।

৪। হে অমৃত তুল্য সোম! অমৃত তুল্য চমৎকার বৃষ্টিবারির আধারভূত আকাশের উপর মানুষদিগের উপকারের নিমিত্ত তুমি সূৰ্য্যকে সৃষ্টি করিয়াছ, অন্ন ভাগ করিয়া দিতে দিতে তুমি সর্বদাই যুদ্ধে যাইয়া থাক।

৫। যেরূপ কোন ব্যক্তি লোকদিগের জল পানের নিমিত্ত অক্ষয় জলপূর্ণ জলাশয় খনন করে, কিংবা যেমন কেহ দুই হস্তের অঞ্জলিদ্বারা জল ভরিতে থাকে, তদ্রুপ তুমি অন্ন দিবার নিমিত্ত পবিত্র ভেদ করিয়া যাইয়া থাক।

৬। যখনই সূৰ্য্যদেব অন্ধকার অপনয়ন করিলেন, তখনই দিব্য লোকবাসী বসুরুচ নামক কতগুলি ব্যক্তি এই পরমাত্মীয় সোমকে দর্শন করিতে করিতে স্তব করিতে লাগিল।

৭। হে সোম! তাহারাই সর্ব প্রথম কুশচ্ছেদনপূৰ্বক প্রচুর অন্ন ও বল লাভের জন্য তোমাকে ধ্যান করিতে লাগিলেন। অতএব তুমি আমাদিগকে যুদ্ধে বীরত্ব প্রকাশের জন্য প্রেরণ কর।

৮। প্রশংসিত সোম প্রাচীন কাল হইতে দেবতাদিগের পেয় বস্তু হইয়াছেন। স্বর্গধামের নিগুঢ় স্থান হইতে তাহাকে দোহন করা হইয়াছিল(১)। ইন্দ্রের উদ্দেশে তিনি প্রস্তুত হইলেন, তখন তাহাকে স্তব করিতে লাগিল।

৯। হে ক্ষরণশীল! এই যে দ্যুলোক ও ভূলোক, এই যে সমস্ত প্রাণী বর্গ তুমি নিজ বলে সকলের উপর আধিপত্য কর। যেমন যূথের উপর বৃষ আধিপত্য করে, তদ্রুপ তুমি করিয়া থাক।

১০। সোমের সহস্রধারা, তাহার সাতিশয় বেগ, তিনি শোধিত হইবার সময় বালকের ন্যায় মেষলোমের উপর ক্রীড়া করেন; এইরূপে তিনি ক্ষরিত হইলেন।

১১। এই যে সোম, যিনি শোধিত হইয়া মধু তু্ল্য হয়েন, যিনি যজ্ঞের স্বামী, উজ্জ্বল ও সুরস, যিনি অন্ন দান করেন, কাম্যবস্তু দিতে জানেন এবং পরমায়ু বৃদ্ধি করেন, তিনি তরঙ্গে তরঙ্গে ইন্দ্রের জন্য ক্ষরিত হইতেছেন।

১২। হে সোম! তুমি প্রতিযোদ্ধাদিগকে পরাভব কর, দুর্ধর্ষ রাক্ষণ দিগকে দূরীভূত কর, উত্তম অস্ত্র ধারণ পূর্বক বিপক্ষদিগকে সংহার করিয়া থাক; এতাদৃশ তুমি ক্ষরিত হও।

————

(১) সোমরস দেবগণের প্রাচীন পানীয় দ্রব্য; স্বর্গধামের নিগূঢ় স্থান হইতে সোমকে দোহন করা হইয়াছে, ইত্যাদি, বৈদিক বর্ণনা হইতে পৌরাণিক অমৃতের উপাখ্যান উৎপন্ন হইয়াছে। ঋগ্বেদে আকাশকে জলীয় বলিয়া বিশ্বাস করিত এবং অনেক সময “সমুদ্র” বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। সুতরাং সমুদ্র হইতে অমৃতমন্থনস্বরূপ পৌরাণিক গল্প অনায়াসে উৎপন্ন হইল।