৯৭. হক-মণ্ডল চোর-পুলিশ
রাইটার্সের পথে হকশাহেব জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমার কি আইজ অপরাহ্নে কোনো কাঠিবাজি আছে?’
‘তেমন কিসু নাই। ক্যা?’
‘ক্যা? কাঠিবাজিতে তো কোনো হাফছুটি নাই। প্রত্যেকডা মিনিট ইমপোরট্যান্ট। তবে তোমরা তো বর্তমানে এড্ডু, যাকে বলে, ন্যাত্যায়া পড়ছ? না?’
যোগেন বলে ওঠে, ‘ন্যাতাইয়া পড়নের কারণডা কী?’
‘এই হার। মন্ত্রিসভা ভাইব্যার পারল্যা না?’
‘বিরোধী পক্ষের যা করণীয় তা তো কইরব্যারই লাগে।’
‘তুমি ‘বিরোধী’ পক্ষে পার্মানেন্ট?
‘যদি আপনার মন্ত্রিসভায় ঐ গজা খাজা আর ছোট জাইতের রাজা-নবাবগুল্যা আফিমখোরের মতন ভুল্যায়, তালি বিরোধী পক্ষেই ভাল।’
হকশাহেব একটু হেসে বললেন, ‘মণ্ডল, আমার মনে হইছিল ক্যা জানো যে তোমার কিছু বুদ্ধিসুদ্ধি আছে! অবস্থার বৈগুণ্যে তুমি ঘোল খাইব্যার পারো, কিন্তু নিজের দুর্বুদ্ধিতে ঘোল গিলব্যা না। ক্যান যে মনে হইছিল?’
‘আপনার মনের খবর কেউ কইব্যার পারে? শাহেবগুল্যা আপনারে দুই চক্ষে দেইখবার পারে না। কিন্তু জিয়াইয়্যা রাহে আপনারেই। আপনার কখন হিশাব ছিল যে আপনে আমারে শূলে দিব্যার চাইলেও আমি পলাব্যার পারব। তারপরে যহন দ্যাখলেন, আরে, ছ্যামড়াডা তো পলায় না, তহন, আমারে জিগ্যান–তোরে-না আমি আর এডডু চালাক ভাবছিল্যাম। বধ্যভূমিতেও তুমি এত নিৰ্ভয় কেন যুবক? মাতৃভূমির জন্য মরিবার উৎসাহে। এ-মরণ তো চিরকালের মত বাঁচা।’
হকশাহেব একেবারে হো হো হাসিতে দুলে ওঠেন, ‘এবার তোমার কোটেশন আমি ধইরা ফেলছি। ‘মীরকাশিম’। না?
ধরা পড়েও যোগেন হাসে। ফজলুল হক ছাড়া আর-কেউ কি তার নিজের কথার মধ্যে নাটকের আলাপ ঢুকিয়ে দেয়ার মজাতে এমন সাড়া দিত? দিয়েছে কখনো? হকশাহেব এতটা হালকা রাখেন কী করে? নিজেকে?
রাইটার্সে লাল পাগড়ির পেখম মেলা দারোয়ান গাড়ি দাঁড়াতে না-দাঁড়াতেই দরজা খুলে ধরে। গাড়ি থেকে নামতে হকশাহেবের অসুবিধে হয়। গাড়ির সিট তো পেছনে হেলানো। সেটাকে উল্টে সামনে নুইয়ে বাঁ পাটা, বের করতে সময় লাগে।
হকশাহেব গাড়ি থেকে নামার পরই মণ্ডলকে ঘাড় ঘুরিয়ে ধমকান, ‘তোমারে নামাইতে কি অপ্সরাগণ চৌদোলা নিয়া আইসবে নাহি? নামো—আরে, নামো।’ মন্ডল গাড়ির ভিতর থেকে বলে ওঠে, ‘আপনে না অ্যাহুনি বাইরাবেন কইলেন। তালি আর মিছামিছি আপনার লগে সিঁড়ি ভাঙি কেন?’
হকশাহেব দু-এক পা এগিয়ে গিয়েছিলেম। যোগেনের কথার জবাব দিতে তাঁকে দাঁড়াতে ও ঘুরতে হয়, পুলিশ বা দারোয়ান বুঝতে পারে না কী করবে। হকশাহেব, ‘এই মণ্ডল এইখানে তোমারে বইয়্যা থাকতে দিব না। আইসো আমার লগে, ফাঁকাইন্যা কইরা না।’
মণ্ডলকে নামতেই হয়। সে হকশাহেবের সঙ্গে একটু দূরত্ব রেখে পেছন-পেছন যায়। কয়েক পা যেতেই ছোট্ট একটা লিফট। একেবারেই ছোট—শুধু প্রাইম মিনিস্টার আর চিফ সেক্রেটারির জন্য। যদিও অন্য সেক্রেটারিরা ও মন্ত্রীরাও ওঠানামা করে, সুযোগ বুঝে
হকশাহেব লিফটের দিকে ঘুরতেই যোগেন দোতলার সিঁড়িতে পা দেয়। লিফ্ট উঠতে শুরু করেছে আর ভিতর থেকে হকশাহেবের চিৎকার ওঠে, ‘আরে রে রে, মণ্ডল গেল কৈ?’ একই স্বরে লিফটম্যানকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘মণ্ডলরে উঠ্যাইল্যা না।’ তারপর কোল্যাপসিবল গেটের ফাঁক দিয়ে আরো গলা তুলে ডাকতে থাকেন, ‘হেই, বরিশালের যোগেন মণ্ডল, গৌরনদীর যোগেন মণ্ডল, আরে গ্যালা কুথায় পলাইয়া? এই লিফ্ট নামাও। লিফ্ট নামাও। মণ্ডলরে আনো। তারে আইনল্যাম ডাইক্যা আর ফেললাম ফেইক্কা। এ কী কালা পুরুত আর তোতলা যজমানের কাণ্ড!
হকশাহেবের হুকুমে লিফট আবার একতলায় নামে। হকশাহেবই বেরচ্ছিলেন যোগেনকে খুঁজতে কিন্তু পাখামেলা মোরগের মত পাগড়ি-মাথায় দারোয়ান, ‘আমি যাই স্যার’, বলে বেরিয়ে দোতলার সিঁড়ি কয়েক ধাপ লাফিয়ে উঠে যোগেনকে ধরে ফেলে বলে, ‘স্যার, পি-এম খোঁজেন তো!’
লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে হকশাহেব হেসে উঠে হাততালিও দেন প্রায়, ‘আরে মণ্ডল, তুমি কিন্তু, উদ্যা-চালাক, দেখনদারিতে যত, কামদারিতে তত না।
যোগেন বুঝে ফেলেছিল, হকশাহেব আরো বিপর্যয় ঘটাতে পারেন। সে সিঁড়ি ভেঙে নেমে দাঁড়ায়, হকশাহেব লিফটের ভিতরে ঢোকেন, তাঁর পেছনে যোগেন, শেষে দারোয়ান।
লিফট উঠতে শুরু করতেই—হকশাহেব যোগেনকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি কি আমারে ভড়কি খাওয়াইল্যা, না কী পলাইল্যা?’
যোগেন কোনো জবাব না দেয়ায় লিফট দোতলায় ঠেকে ও ওরা সকলে বেরন। যোগেন বুঝতে পারে পি-এমের দারোয়ান এখন তার দিকে নজর রাখছে। ইতিমধ্যে যোগেন ঠিক করে ফেলেছে, যতক্ষণ হকশাহেব তাকে না-ছাড়েন, ততক্ষণ সে আর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে না। যোগেন এসব কিছুকে পাত্তা না দেয়ার মেজাজেই বরাবর থাকে। কিন্তু রাজনীতিডা অ্যাহন এতড়াই প্যাঁচাইলা হইয়া গিছে যে কেউ ভাইববে হকশাহেব যোগেনরে টোপ দিচ্ছে, কেউ ভাইববে, যোগেনই হকশাহেবকে খেলাচ্ছে। হয়তো এমন মিশ্রণ একটা হকশাহেব ঘটালেন—সিদ্দিকির সঙ্গে তর্ক করতে-করতে যোগেনকে কাছে ডাকেন, তারপর পাকড়াও করেন। কিন্তু মতলবটা তো ঠাহর করতেই পারছে না যোগেন।
ওঁর ঘরের দরজাটা খুলে দিয়ে দারোয়ান দাঁড়িয়ে ছিল। হকশাহেব ঘরের ভিতরে ঢুকে যান—চকিতে একবার পেছনে তাকিয়ে। যোগেন সাজানো চেয়ার গুলির প্রথম সারির শেষ চেয়ারটায় গিয়ে বসে। সেটা পড়ে হকশাহেবের ডাইনে কিন্তু হকশাহেবের চেয়ার থেকে দেখা যায় না—মাঝখানে রিভলবিং বুকশেলফ একটা আড়াল দিয়েছে।
হকশাহেবের সঙ্গেই দু-চারজন ঢুকেছিল, তাদের কেউ-কেউ দাঁড়িয়ে থাকল, একজনই শাদা চামড়া ছিল, সে প্রথম সারির মাঝের চেয়ারটায় বেশ আয়েশ করে বসল। আর দু-জন দ্বিতীয় সারির কোণের চেয়ারে বসল। শাহেবের বসার মধ্যে একটা ভাব ছিল, যেন ওর অনেক কথা আছে। অন্যদের কাজ সেরে চলে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। সেই অন্যদের একজন কয়েকটা ফাইল রাখল হকশাহেবের ডানহাতি ট্রেতে। আর একজন কী জিজ্ঞাসা করে বেরিয়ে গেল। হকশাহেব চশমা খুলে টেবিলে রেখে চেয়ারে হেলে শাদা চামড়ার দিকে তাকালেন। কিন্তু তাঁর ভঙ্গিতে এটা কোথাও বোঝা গেল না যে তিনি শাহেবকে তাঁর কথা-বলার জন্য আহ্বান করছেন। হকশাহেব এটা জানেন যে শাহেবরা তাঁকে একেবারে পছন্দ করে না, তারা পছন্দ করে খাজা নাজিমুদ্দিনকে। সুযোগ পেলেই হকশাহেব বুঝিয়ে দেন, তিনিও শাহেবদের পছন্দ করেন না। যোগেন মনে করে উঠতে পারে না—হকশাহেব কোনো আলোচনা বা তর্কে শাহেবের কথা, এমন কী লাটশাহেবের কথাও, ‘হ্যাঁ’ বলে মেনে নিয়েছেন কী না। বরং, হকশাহেব চুপ করে গিয়ে অন্য দিকে ঘাড় ঘোরান, তাতে বুঝে নিতে হয় তাঁর অগত্যা সম্মতি।
শাহেব যা বলার তা বলল, অমন হেলে থেকেই। হকশাহেবের গলা চাপা স্বরেও গমগমিয়ে ওঠে, ‘বাট দি সাবজেক্ট অব এক্সপোর্ট ট্যাক্সিং শুড বি টেকেন আপ উইথ দি সেন্ট্রাল গবমেন্ট। দি স্টেটস ডু নট হ্যাভ এনি রাইট টু নিগোসিয়েট।’
শাহেব বলল, ‘হ্যাঁ, তারা সেটা জানে। সেই কারণেই ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশন থেকে কোনো গভর্নমেন্টের সঙ্গেই ফর্মালি মুভ করা হয়নি। কারণ, ট্যাক্স ইকুয়ালাইজেশনের ব্যাপার বিটউইন দি কনসার্নড স্টেটস অ্যামিকেবলই সেটল্ড হয়ে যায়। অ্যাজ প্রোডিউসার অ্যান্ড এক্সপোর্টার কেন দু-বার ট্যাক্স দেব?
শেখশাহেব একটা বাঁকা হাসির সঙ্গে বললেন, ‘যদি তোমরা আমার রেললাইন ও গুডসশেড ব্যবহার করো আর বম্বে পোর্ট ব্যবহার করো, তা হলে দুটো ফেসিলিটির জন্য দু-বার পে-করাই তো প্রপার অ্যান্ড ফেয়ার।’
হকশাহেবের এই প্রশাসনের ক্ষমতাটা কেউ দেখতেই পায় না। যোগেনও যে খুব বেশি পেয়েছে, তা নয়। যা দেখেছে, কল্পনা করে নিতে পেরেছে তার চাইতে বেশি। হকশাহেবের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কাজকর্ম, আচার-আচরণের কোনো মিল তো নেই-ই বরং বেমিল আছে। সবাই সহজেই ভেবে নিতে পারে, হকশাহেবের মনের বা মতের কোনো স্থিরতা নেই, নিজেরই তৈরি করা দল ভেঙে দেন, নিজেই নিজের মতের বিরোধিতা করেন, যখন যে-কৌশল সবচেয়ে কাজ দেবে তখন সবচেয়ে তাড়াতাড়ি সেই কৌশল নেবেন। ফলে, যে কেউ ভাবতে পারে, হকশাহেবের কাছ থেকে সে তার কাজ আদায় করতে পারবে। সমস্ত স্তরের লোকজনের এই ধারণার ওপরই তাঁর জনপ্রিয়তার নির্ভর। কিন্তু প্রশাসনের সবচেয়ে ওপরে যাঁরা তাঁরা জানেন—হকশাহেবের হাতে তামাক খাওয়া প্রায় অসম্ভব। খাজা নাজিমুদ্দিনও ভাল প্রশাসক, বিশেষ করে শাহেবসুবোরা জানে যে খাজার ব্যক্তিগত স্বার্থটা ধরিয়ে দিতে পারলে খাজা যে-কোনো অর্ডারে সই মেরে দেবে। খাজাও অবিশ্যি বোঝালেই বোঝে না। কিন্তু বিষয়টা যদি এমন ভাবে উপস্থিত করা যায়, কিছু-কিছু দরকারি ফাঁক রেখে-রেখে যে খাজা যখন একা-একা ঐ ফাঁকগুলো দিয়ে দেখবে, তখন সে দেখে-ফেলতে পারবে যে কিছু দিন পর থেকেই এই অর্ডারটি তাকে সুদ দিতে থাকবে। খাজা তার শরীরের ভাঁজে-ভাঁজে, গাঁটে-গাঁটে, এতটাই স্বার্থান্ধ যে সে নিজের চোখে দেখতে না পেলে, সে-স্বার্থটাকে সে স্বার্থ বলে স্বীকারই করবে না। হয়তো, হয়তো কেন, নিশ্চয়ই, হকশাহেবও স্বার্থপর, টাকার জন্য তিনি করতে পারেন না এমন কোনো কাজ নেই। কিন্তু হকশাহেবের পদ্ধতিটায় অনিশ্চয়তা থাকে।
দুটো সুবিধের জন্য দুবার পয়সা দেবে না? হকশাহেবের এই কথায় শাহেব বলে উঠেছিল, ‘একই রপ্তানির জন্য?’
হকশাহেব জিজ্ঞাসা করেন, ‘রপ্তানি এক হল কী করে? যদি কলকাতা পোর্ট ব্যবহার করতেন, তা হলেও বলতে পারতেন—রপ্তানি একটাই। কিন্তু বাংলায় উৎপন্ন চা, বাংলার রেলপথ ব্যবহার করে রপ্তানির জন্য আপনাদের ব্যবসার খাতিরে বম্বে পোর্ট থেকে পাঠাবেন আর আমাকে পয়সা দেবেন না? আপনাদের তো এই দেশটার ওপর এটুকু দরদ থাকা উচিত। এই দেশটা তো আপনাদের খাওয়ায় পরায়।
‘শুধু ক্যালক্যাটাই আপনার দেশ হল? বম্বে আপনার দেশ না? ক্যালকাটা পোর্ট থেকে যদি পোল্যান্ডের ডাইরেক্ট শিপমেন্ট লাইন না থাকে, তা হলে বম্বে যাওয়া ছাড়া আমাদের উপায় কী?’
‘আমিও তো তাই বলছি। আপনাদের ব্যবসা বাড়বে, পোল্যান্ডের লোককে চা খাওয়াবেন আর তাদের জন্য সরকারের পকেট কাটবেন? সরকারটাও তো আপনাদের?’
‘তা মনে না করলে কি আমরা ইন টোটো ভোট দিয়ে আপনার গর্বমেন্টকে বাঁচাতাম? এখনো তো একমাসও পার হয়নি। আমরাও তো ইন রিটার্ন এটুকু এক্সপেক্ট করতে পারি।’ হকশাহেব মুখটা একটু থমথমে হয়ে গেল, তিনি তাঁর চেয়ারে সোজা হয়ে বসে টেবিলের ওপরের কোনো একটা জিনিস অপ্রয়োজনীয় সরালেন।
হকশাহেবের একটা অনভ্যস্ত গলায় বলে উঠলেন, ‘আমার মনে হয়, ট্যাক্সরদের এইসব ব্যাপারের খুব দূরপ্রসারী ফল আছে। আপনি বরং আপনার সংগঠনের ফর্ম্যাল মেমোরান্ডাম নিয়ে ফাইন্যান্স মিনিস্টারের সঙ্গে কথা বলুন—আপনাদের অথরাইজড টিম নিয়ে। এ-ধরনের অনুরোধ ওয়ান-টু-ওয়ান, করা ও রক্ষা করা প্রশাসনে খুব খারাপ দৃষ্টান্ত হয়। আমার মত যথাসময়ে জানাব। আশা করি, ফাইলটা আমার কাছে আসা ও আমার দেখার অনেক আগেই আমাদের অনেকবার দেখা হবে,’ শাহেবকে তো চলে যেতেই বলা হল। বলা হল বটে, তবে, যোগেনের মনে হয়, যে-মেজাজে হকশাহেব শুরু করেছিলেন, সে-মেজাজে শেষ করেননি। গোপনে একটা সন্ধি করে নিলেন কি?
‘ম ন ড ল’
‘হ্যাঁ, আছি, কন,’
‘আন্ধারমানিক হইয়্যা আছো ক্যা? যাতে কেউ না দেখে?
‘আপনার কাছে কাজকামে লোকজন আইব। আমারে ঢেঁকির নাগাল বসাইয়া রাইখলেন ক্যা?’
‘তুমি তো বরিশাইল্যা। তাই প্রাইম-মিনিস্টার ডাইক্যা নিলেও তোমার কিছু যায় আসে না। ডাকছি যহন, তহন কারণও আছে। তোমার লগে কথা আছে।’
‘কথা? তা কন!’
‘এই হানে? রাইটার্সে? এডা কি কোনো মনের কথা কওয়ার জায়গা? এডা তো দোকানদারির জায়গা। শুইনল্যা না শাহেবের কথা, ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান। কয়—আমাগ ভোটে গবর্মেন্ট বাঁইচল, আমাগো ডিউটি ছাড় দ্যান। শাহেব হইলে কি চোখের পাতা ভুরু কিছুই থাহে না? এ-কথা কওয়ারও তো একডা আচরণ আছে।’
‘আপনে তো অরে শ্যাষে কইলেন ফাইন্যান্স মিনিস্টারের লগে কথা কইব্যার—’
‘তা কই নাই। আমি প্রপার চ্যানেলডা কইল্যাম।’
‘কথাডাই যদি প্রপার না-হয়, চ্যানেল কী কইর্যা প্রপার থাহে?’
‘মন্ডল, ঐডা হইল কওয়া যে আপনে এবার আসেন। আর কথাডা তো অসত্য না। অগ ২৫ ভোটেই তো আমি প্রাইম মিনিস্টার। বাজেট সেশন শ্যাষ হয় নাই। তোমরা আবার কবে হঠাৎ কাট মোশন তুইল্যা বসো, ঠিক আছে কিছু?’
‘ওদের উপর ভর দিয়্যা নাও চালাইবেন?’
‘আমারে ওরা ফেইলবে না। ওরাই হাড়ে হাড়ে জানে আমি হচ্ছি ইউনিফাইঙ ফ্যাক্টর। ওরা চায় খাজারে। কিন্তু অ্যাও জানে খাজার লগে কুনো মানুষ নাই। খাজা মানুষ হিশাবেই খারাপ–শাহেবগ তো স্বার্থের কাছে মা-বাপও পর। ইয়োরোপিয়ান বিজনেস কমিউনিটি খাজার মত আপাদমস্তক কনসিসটেন্ট লোক চায় না। চায় আমার নাগাল ইনকনসিসটেন্সি। জিত্যা আইস্যা নিজের দলরে নিজেই ভাইঙ্গ্যা দিল্যাম। শাহেবগ ভোটে টিক্যা থাইক্যা অ্যাহন আবার দলডারে গোছাইতে লাগব। সেই পরামর্শ তোমার সঙ্গে।’
