৮৩. মহাজনি বদ্ধ ও টেন্যান্সি নিয়ে যোগেনের উলটো ভাবনা
অ্যাসেম্বলি হাউসের বাগান দেখে যোগেনের মনে আসে : ফাল্গুনের শেষ। এত সুন্দর বাগান যে বাগানের দিকে তাকিয়ে থাকলেই চোখ আর মন জুড়িয়ে যায়। সামনে ইডেনের সবুজ কত রকম ঢেউয়ে-ঢেউয়ে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়্যালের মাথায় ঘুরন্ত পরী। তার প্রায় পাশে প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতালের লালবাড়ির আভাস। রেসকোর্সটাকে ঠিক বের করা যায় না। যেন মনে হয়, ময়দানটাই ওখানে একটু গড়িয়ে নেমে গেছে। ময়দানে গাছ একেবারেই নেই প্রায়, কিন্তু বহু-বহু ব্যবধানে সব গাছই যেন একটা আয়তন পেয়েছে। এই-যে অ্যাসেম্বলি হাউস থেকে যোগেন তাকিয়ে আছে—তাতে মনে হয়, এই বাগানটাও ঐ ময়দানের নকশাতেই করা। তা তো নয়—এতটা একসঙ্গে দেখা যায় বলেই সবটাকে একটা নকশা মনে হয়। নকশাটা কেউ বানিয়ে রাখেনি। যোগেনই বানিয়েছে।
যোগেন প্রকৃতি প্রেমিক নয়। প্রেমিক হওয়ার জন্য প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্নতা দরকার। যোগেনদের তো জীবনই প্রকৃতির ওতপ্রোত। মৈস্তারকান্দির কোনো ছেলে বা মেয়ে বা বৌ কি সাঁতার শিখে জলে নামে, নাকী হাঁসের মত বা গাঙশালিকের মত জলে যে-চলন লাগে, সেই চলনই তার শরীর থেকে বেরয়। বরিশালের খাল তো আকাশের মত, যত বাড়াতে চাও, ততই বাড়বে, পাড়ও নেই, সীমাও নেই। সেই আকাশের জীব হয়ে কি আকাশটাকে আলাদা করে দেখা যায়? বিস্তার জুড়ে বিপুল জলস্রোতের বয়ে যাওয়ার দিকে যোগেন আবার কবে তাকিয়ে দেখে। নদী যেমন হয়, নদীতো তেমনি হবে। না-হলে বরং খেয়াল হয়—’আইজ কড়া জোয়ার খেলছে? নদীরে যেন গুমসান্ দেহি।’ নদীর পাড়ে পৌঁছে এ-কথা যে বোঝে, সে কি নদী থেকে কখনো এতটা সরে যেতে পারে যে নদী যেন দৃশ্যই মাত্র, যা সব সময়ই ভাল।
যে নির্লেপ ছাড়া প্রকৃতিকে আলাদা দেখা সম্ভব নয়, সেটা হয়ত টানা কলকাতা-বাসের ফলে একটু একটু করে যোগেনের ভিতর ঢুকে গিয়ে, জমা হয়ে, তার স্বভাবের একটা ভঙ্গি হয়ে উঠতে চাইছে। গত বছরে তার জন্মদিনের পর কলকাতায় এসেছিল, ছ-মাস পরে জুলাইয়ে গিয়েছিল বরিশাল তারপর গোপালগঞ্জে পদ্মবিলার মেলা সেরে ফিরে এল কলকাতায়। সেপ্টেম্বরে গেল সিলেটে। সেখান থেকে বরিশালে গিয়ে পুত্রমুখ দেখে কলকাতা ফিরল। তারপর নতুন বছরেরও তিন মাস কাটল—ছ-মাসের মধ্যে যোগেন আর বরিশালে যায়নি। আগৈলঝরা স্কুলের অনুমোদন নিয়ে গোলমাল তো নলিনী সরকার আর শ্যামাপ্রসাদ মিটিয়ে দিলেন। ইনস্পেকশন ছাড়াই ডিপিআই জ্যাসকিনশাহেব অনুমোদন পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তাতে স্কুলের ঝামেলা মেটেনি। যে-জমির ওপর স্কুল, সেটা ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের জমি—নামমাত্র খাজনায় স্কুলকে লিজ দেয়া হয়েছিল। সেই লিজও শেষ হয়ে গেল। বারবার বলা সত্ত্বেও ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের সেক্রেটারি লিজ রিনিউ তো করছিলেনই না, তার ওপর বোর্ড মিটিঙের এজেন্ডাতেও বিষয়টি রাখছিলেন না। যে-কারণে ইনস্পেক্টর রিপোর্ট পাঠাননি, সেই কারণেই ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের সেক্রেটারিও জমির লিজ-রিনিউয়ের সময় পার করে দিচ্ছিলেন। গৌরনদী থানায় নমশূদ্ররাই সংখ্যাগুরু। সুতরাং মুসলমান অফিসাররা সব কাজে যতটা পারেন, বাধা দিচ্ছিলেন। যোগেন ইচ্ছে করেই ভূমিরাজস্ব মন্ত্রী স্যার বিজয়ের সঙ্গে দেখা করল না। ঠিক করেছিল, পরের মিটিঙে যদি বোর্ডের এজেন্ডায় না-দেয়, তাহলে অ্যাসেম্বলিতে প্রশ্ন তুলবে। যোগেন্দ্রনাথ তখন এমএলএ হিশেবে ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের পদাধিকারি সদস্য। পরের মিটিঙের নোটিশ পেল মিটিঙের দুদিন আগে—শুক্রবার বেলা বারটায় মিটিঙ, নোটিশ পেল বিকেলের ডাকে বেলা তিনটে নাগাদ, বুধবারে। হঠাৎ ঠিক করে খুলনা মেল ধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালে সদর রোডে নেমেই ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট জন লিস্টার লিউলিন-এর সঙ্গে দেখা করলেন। যোগেন একে এমএলএ, তার ওপর স্কুলের সেক্রেটারি। কিন্তু শাহেবকে তিনি কোনো নালিশ করলেন না, তাতে তার সম্মান নষ্ট হত। যোগেন বলল—বোধহয় কেউ খেয়াল করেনি, লিজটা তো ল্যান্স করে যাবে যদি এ মিটিঙেও না-হয়। শাহেব ঠিকই সন্দেহ করল—এ-ধরণের রুটিন-ব্যাপার তো কারো খেয়ালের ওপর নির্ভর করে না, স্কুল থেকে নিশ্চয়ই ঠিক সময়ে চিঠি দেয়া হয়েছিল। শাহেব জানতেও চাইল—কোনো স্থানীয় রেশারেশি নেই তো? যোগেন সংক্ষিপ্ত ‘না’ বলল, যাতে শাহেব বুঝল, আছে। আপনি কাল বোর্ড মিটিঙে থাকছেন তো—শাহেবের প্রশ্নের জবাবে যোগেন জানায়—কাল নোটিশ পেয়ে দেখে সোজা খুলনা মেল ধরেছে, কাউকে কিছু বলেও আসতে পারেনি। শাহেব বলল—তবু আমি আপনাকে অনুরোধ করব—এসেইছেন যখন কাল মিটিঙটাতে থাকুন, স্কুলের লিজের জন্য নয়, ওটা তো রুটিন—অনুযায়ীই হয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু আপনারা মিটিঙে থাকলে লোক্যাল সেলফ গবর্মেন্টটার কাজ অনেক দুরস্ত হয়।
ফেব্রুয়ারির ঐ এক রাতে প্রহ্লাদদার ওখানে থেকে, মিটিং সেরে, সন্ধ্যার লঞ্চ ধরল। হিশেব করলে তাহলে সত্যি দাঁড়ায়—একবছরে দু-বার গেছে, দ্বিতীয়টাকে যদি যাওয়া ধরা হয়। ছ-মাসে একবার। কিন্তু বরিশাল থেকে তো অনবরত লোকজন নানা কাজকম্ম নিয়ে কলকাতা আসছেই। মামলামোকদ্দমায় তো আসতেই হয়। যোগেনেরও স্বার্থ আছে—তাতে। তবে সিভিল কেস ছাড়া যোগেন নিচ্ছে না। ফৌজদারি মামলায় মক্কেলকে রিলিফ দেয়ার হাঙ্গামা অনেক। লোকজন ক্রমেই বেশি আসছে দুটো কারণে। নানারকম খবর রটে। তপশিলি হলেই নাকী পুলিশে চাকরি হচ্ছে। ঋণ-সালিশি বোর্ডের তদবির-তদারকিতে মহাজনি-চাষীরা আসছে বেশি করে, হিন্দুও মুসলমানও। এরা সুদে টাকা খাটায়। চাষী হিশেবে মাঝারি আয়ের—নিজের জমিও আছে, বর্গাতেও জমি নেয়া আছে। যদিও পাটের দর পড়ে গেছে, সেই পাটের টাকা থেকেই এদের হাতে নগদ এসেছে। ভদ্দরলোকরা হাতে বাড়তি টাকা এলে হয় সোনা কেনে, না-হয় জমিদারি কেনে। কথায় বলে—জমি আর সোনা/দর কখনো পড়ে না। আর, চাষীর হাতে বাড়তি টাকা জমলেই সে মহাজানি শুরু করে। তেমন চাষী-মহাজনরা কলকাতায় তদবির করতে এসে যোগেনের সঙ্গে দেখা করে বলে—আর কত ক্ষতির ব্যবস্থা দিবে তোমার এই সরকার। সালিশি কইর্যা ঋণ মকুব আর গেরস্তঘর থিক্যা জমি-কাটা—তাইলে আমাগো কী হইব? শুধু তো জমিদার আর বর্গাদারেরই জমি থাকে না। যে-মানুষগুল্যা জমিদারের মতন আবওয়াব পায় না, উলট্যা আবওয়াব দেয়া লাগে জমিদারগ, আবার যে মানুষগল্যা বর্গায় জমি নিব্যারও পারে না, নিজের যেটুকু জমিজমা সেইডা নাড়াচাড়া কইর্যা জীবন কাটায়—সেই গেরস্ত মানুষগুল্যার কী হবে। তোমার তো সবই জানা—সংসার তো আর কমে না, খাওয়ার মুখ বাড়ে। ছাওয়ালগ বিয়্যা হয়, নাতিনাতনি হয়, মাইয়্যারা কী বোনরা বেধবা হইয়্যা ফিরা আসে, আর তোমারা আইন কইর্যা ঋণমকুব জমিমকুব করো।
এদের মধ্যে হিন্দুও আছে, মুসলমানও আছে—সংখ্যায় হিন্দুই বেশি, যোগেন, তার গ্রাম, থানা, জিলার অভিজ্ঞতাতে এটা কিছুটা জানে ও কিছুটা অনুমনে করে যে—এই গৃহস্থরা সত্যি কথা বলে না। তাঁরা শুধুই তাঁদের নিজেদের এখনকার অসুবিধের কথাটুকুই বলছে—কিছু পুরনো আইনে, কিছু নতুন আইনে ও কিছু আইনের গুজবে। তাদের কথা শুনে প্রথমে মনে হতে পারে যে তারা তো লেখাপড়া জানে না, তাই হয়ত দশ হাটে দশ রকম কথা শুনে কলকাতায় চলে এসেছে খবরটা কী জানতে, তাদের কী করতে হবে ঠিক করতে। যোগেন এদের কথা-অনুযায়ী সব দলিলদস্তাবেজ দেখে বোঝে—এদের কোনো আইনেই কোনো বিপদ নেই। গৃহস্থির যে জমিটুকুর ওপর ওদের সারা বছরের খাওয়াদাওয়ার নির্ভর তাতে তো কেউ হাত দিচ্ছে না। বর্গাদারের সঙ্গেও তাদের বিবাদ হওয়ার কথা নয়—কারণ এমন সব গৃহস্তিজমি যেমন পুরষানুক্রমিক, বর্গাদারও তেমনি পুরুষানুক্রমিক। পুরনো মালিকের জমি ছেড়ে দিতে যাবে কেন বর্গাদার? তবে, নতুন কোনো মালিকানার আভাস পেলেই প্রথম কোপটা পড়ে একা অধবা-বিধবা-অনাথ-নাবালকের ওপর। সেসব তো গ্রামের দশজনই মিটিয়ে দেয়। এই গৃহস্থ ভদ্রলোকদের সঙ্গে কথা বলতে-বলতে যোগেন জেনে গেছে তাদের কারো কারো ছেলে স্কুলকলেজে পড়ছে।
ঠিক স্কুলকলেজ নয়। ম্যাট্রিক পর্যন্ত না। তবে একটুআধটু পড়াশুনো ঢুকছে—ক্লাশ এইট হলে জুনিয়ার মোক্তারি পরীক্ষায় বসা যায়। ঝোঁকটা সেদিকেই বেশি। ক্লাশ এইট বলে যে ক্লাশ এইটই হতে হবে, তা তো নয়। থানার হাইস্কুলের মাস্টারমশায়দের ধরলে মডেল স্কুলে ক্লাশ সিক্স পাশ করলেও ক্লাশ এইট পাশের সার্টিফিকেট জোগাড় করা যায়। ক্লাশ সিক্স পর্যন্ত পাশটা করতেই হবে, না-হলে হাই স্কুলের পুরো এক্তিয়ারে আসবে না।
সে কলকাতায় আছে, নানা আইন নিয়ে নানা তর্কবিতর্ক চলছে। তার সঙ্গে সত্যি কে কী চাইছে তার কোনো সম্পর্ক নেই। কে কী চায় তার সঙ্গে সম্পর্ক কাদের ভোট পেয়ে তারা জিতেছে। মুখে যতই লম্বাচওড়া বক্তৃতা দিক–কংগ্রেসের কেউ কি সত্যি করে চাইতে পারে যে জমিদারিব্যবস্থা বাতিল হোক। হলে–কংগ্রেসকে ভোট দেবে কে? গত ভোটের হিশেবে তো ধরা পড়ে গেছে কংগ্রেসের ভোটার মানে হিন্দু জমিদারির সঙ্গে মাকড়সার জালের মত জড়ানো সব লোকজন। এককথায় তাদের ‘বাবু’ বললেও সবটা বলা হয় না। কোনো সাহা-কে তো আর কেউ ‘বাবু’ বলবে না। কিন্তু ব্যাবসাবাণিজ্যে সাহারা হিন্দু বলেই জমিদারবাবুর সঙ্গে তাদের একটা সম্পর্ক থাকে। তাদের লোকজন ডাকে কখনো ‘মহাজন’ কখনো ‘সাহাবাবু’ বলে।
কলকাতায় না-থাকলে যোগেন কি এটা এত স্পষ্ট দেখতে পেত যে গ্রামের মানুষজনের মধ্যে যাদের মাঝামাঝি বলে আলাদা করা যায়, বিশেষ করে তাদের নানারকম গোপন আয় আছে। বাড়ির খেজুর গাছের রসের জন্য জমা দেয়া—এর ভিতর তো আর গোপনীয় কিছু নেই। সকলেই জানে, সকলেই দেখে। কিন্তু গোপনতা এই কারণে দরকার যে নিজের খেজুর গাছগুলিকে মার্কা দিতে-দিতে প্রতিবেশীর কোনো খেজুর গাছেও মার্কা দিয়ে দেয়া হয়। তেমন সুযোগের প্রধান কারণ বাড়ির পুরুষকে বাইরে থাকতে হয়, মাসে বড়জোর একবার আসে। বাড়িতে গরুগুলোকে নিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা গিন্নিমা ব্যস্ত। তার পক্ষে জানাই সম্ভব নয় তাদের খেজুর গাছের রস চুরি হয়ে যাচ্ছে। বা, ভাগের দিঘিতে জাল দিতে ছেলেদের ডাক দেয়া। জলের ওপর তো আর শরিকি চিহ্ন থাকে না—তাহলে নিজের জালফেলার বরাদ্দটাকে পনের দিন আগে ধরতে দোষ কী? বরিশালে সুপুরি চালান হয় নৌকা-নৌকা। গাছুয়া গাছে উঠে তিন কোপে গাছ শেষ করে নেমে আসে। কোনো বাড়িতে সুপুরিগাছ তো আর-একটা থাকে না-লাইন বেঁধে থাকে। এক গাছে উঠে, কেটে, আর-এক গাছে ওঠার সময় গাছু-র কি লাইন ভুল হয়ে যেতে পারে না?
এমন গোপন আয়ই যাদের প্রধান বিনিয়োগ তাদের অনেকেরই সবচেয়ে বড় আয় সুদে টাকা খাটানো। এমন কী গেরস্ত বাড়ির পুরনো বৌঠাকরুনরাও এ-ব্যবসা করেন। বন্ধকি ঘরে বসে টাকা। শুধু সোনা বন্ধক। বাজারে যা দাম হতে পারে, তার সিকিভাগও দেয় না। সিকিতে ষোল আনা লাভ তিন মাসে। মাসে লাভ দাঁড়ায় মূলের ছয় আনি।
বরিশালের বাইরে, কলকাতায় আছে বলেই ও প্রতিদিনই বরিশালের লোকজন এসে তাকে জানিয়ে যায় বলে—যোগেন এই বাস্তবটাকে বুঝতে পারে বন্ধকি লাইসেন্স আইন পাশ হবে এই গুজবে ঐ মাঝামাঝি গেরস্তদের কেন ভয়? যোগেন বুঝতে পারে জমিদার-চুকানিদার দর চুকানিদার-বর্গাদার এইসব স্তরভাগে গ্রামের কৃষি অর্থনীতির গোপন অথচ কার্যকর সব অনাধিকারী আয়ের নিশানা মেলে না।
তাহলে বরিশাল থেকে দূরে থাকায় যোগেনের জ্ঞানবুদ্ধি সূক্ষ্ম হয়েছে। তেমনি কি তার একটা প্রকৃতিবোধও তৈরি হয়েছে? সেই প্রকৃতিবোধে, এই সাজানো প্রকৃতির নানারকম সবুজ, গাছগুলোর মধ্যে অনিয়মিত ব্যবধান, খুব দূরে ঐ সবুজ চিরে ট্রামগাড়ির নৌকোর মত হেলেদুলে আসা, কি তাকে এমন কোনো মনোভাবের দিকে, আলগা হলেও, ঠেলা দিতে পারে এখন না হয়, কোনো ভবিষ্যতে যে না-সাজালে প্রকৃতি সুন্দর হয় না? অথবা, এগুলোর, এই তাকিয়ে থাকা, এই ভাললাগা—এগুলোর এটুকু মূল্য ছাড়া কোনো মূল্য নেই।
