১০
2 of 4

৬২. পদ্মবিল্যা কাইজ্যা : আদিকথা

৬২. পদ্মবিল্যা কাইজ্যা : আদিকথা

১৯২১-এ গান্ধীর নেতৃত্বে প্রথম অসহযোগ আন্দোলনে শুরু থেকেই নমশূদ্রেরা বিপক্ষে। গুরু গুরুচাঁদ ব্যাখ্যা করেছিলেন—অসহযোগে ভদ্দরলোকদের আর কী এসে যায়। এক ভাই উকিল, এক ভাই মাস্টার আর-একাভাইয়ের ব্যাবসা। উকিল গেল অসহযোগ করে জেলখানায়, মাস্টার নিল সংসারের দায় আর ব্যবসায়ী খাদর বেচে লাভ করল।

এগুলো তাদের সাজে। নমশূদ্ররা চাষ ছেড়ে অসহযোগে গেলে, তার সে-বছরের চাষ তো গয়া-গঙ্গা।

নীরদ মল্লিক কাউন্সিলে বলল, ‘পচা ঘায়ে যেমন মাছি বসে তেমনি কিছু অসহযোগী আমাদের জীবনযাপনকে দুর্বিষহ করছে।

বাখরগঞ্জে কংগ্রেসের ডাকা হরতাল, নমশূদ্র বাজারিরা দিল ভেঙে। পটুয়াখালিতে হরতাল হল বটে কিন্তু পুলিশ-নমশূদ্র মিলে তা ভাঙার চেষ্টা করল। পিরোজপুরে প্রিন্স অব ওয়েলস-এর শুভাগমন উপলক্ষে সরকারি উৎসব নমশূদ্ররাই ভরিয়ে দিল।

১৯২২-এ অসহযোগ আন্দোলন গান্ধী তুলে নিলেন, আর তারপরই শুরু হয়ে গেল নানা আকারে নমশূদ্র সম্মিলন। সেসব সম্মিলনে এমনসব নতুন-নতুন কথা উঠল যা এর আগে কখনো শোনা যায়নি। জমির খাজনাহারের বদল চাই, জমির মালিকের বদল চাই। ভীষ্মদেব মণ্ডল কাউন্সিলে বললেন, ভদ্রলোকের ছেলেরা তো পড়াশুনো শিখবেই কারণ গ্র্যাজুয়েট হলেই বাঁধা চাকরি, নমশূদ্রের ছেলের যদি অমন চাকরি বাঁধা হত, তাহলে সে-ও গ্র্যাজুয়েট হত। নমশূদ্রদের রাজনীতি ও তার সমাজবদলের কর্মসূচি মিশে গেল। ফলে তাদের মধ্যে ভাগাভাগিও শুরু হল—কেউ বয়কট আর বিধবাবিবাহ দুয়েরই বিপক্ষে, কেউ বয়কট আর বিধবাবিবাহ দুয়েরই পক্ষে, কেউ বয়কটের পক্ষে কিন্তু বিধবাবিবাহের বিপক্ষে

খিলাফৎ আর অসহযোগ তো একসঙ্গেই শুরু। খিলাফতের নেতা বাদশা মিয়া এসে মুসলমানদের ডাক দিলেন ইসলামের জন্য কোরবানি দাও। আর, গোপালগঞ্জের খিলাফৎ-মৌলবি ডাক্তারশাহেব বিশেষ করে শাহেবদের বিরুদ্ধে ঘৃণার বন্যা এমন ডাকালেন যে হাওয়া গরম হয়ে উঠল। ঘৃণার বন্যা সত্যিই বন্যার জলকাদার মত—কোনো-না-কোনো ভাবে বন্যা তোমাকে ছোঁবেই। হয় তোমার প্রতিদিনের যাতায়াতের পথ হয়ে যাবে হাঁটুসমান কাদা, না-হয় তোমার বসবাসের ঘরে ঢুকবে মরা পশুপাখি নিয়ে বন্যার জল, না-হয় তোমার চষা ক্ষেত যাবে ভেসে। বন্যা থেকে বাঁচা যায় না। ঘৃণার বন্যা থেকেও বাঁচা যায় না। খিলাফতি নেতারা সেই বাখরগঞ্জ, পিরোজপুর, মাগুরা, গোপালগঞ্জ, কুমিল্লা পর্যন্ত ঘৃণার বিষ বইয়ে দিল। নইলে, বাথাডাঙা হাটের মত দূরের হাট থেকে গোলমাল বাঁধে? বাখরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ থাকতে বাথাডাঙা হাটে বাধল কংগ্রেসি-খিলাফতির সঙ্গে বয়কটবিরোধী শুদ্দুরদের লড়াই।

বাথাডাঙা হাট ছোট বটে কিন্তু দরকারি হাট। পূর্ববঙ্গে এমন দরকারি হাট না হলে মালপত্র নৌকো করে বাইরে নেয়া যায় না, নৌকো করে বিক্রির মালও আনা যায় না। এগুলো সব ডাকের হাট—সরকার থেকে এক বছরের ইজারা দেয়। বাঁধা মাল, বাঁধা বেচনদার, বাঁধা খরিদ্দার, বাইরের ফড়িয়া-ব্যাপারী-দালালেরা আসেই না, হাটশুদ্ধু লোক এ-ওকে চেনে। ঐ ১৯২২-এই, অসহযোগ তখন হয়ত উঠেই গেছে, হাটের দুই মুসলমান ইজারাদার একেবারে হঠাৎ খিলাফতি রাগে ফেটে পড়ল। নমশূদ্রদের তারা বিলেতি জিনিশ বিক্রি করতে দেবে না—কাপড়চোপড় ও না, নুনও না, নীলও না, লোহাও না। ওরা তো এগুলোই বেচে—বয়কটের মধ্যে কাপড়চোপড় ও হয়ত পড়ে—বাকি কিছু তো তেমন পড়েও না। এমন একটা নিষিদ্ধতা জারি হওয়ার আগে তো খবর রটে, জানাজানি হয় শুরু হয়ে গেছে। সেসব কিছু নেই। মাঝখানে এসে তম্বি করে দোকানভাঙা। এদিককার ফরাজি মুসলমানদের কখন যে রাগ থাকে না আর কার ওপর থাকে না—তার কোনো আন্দাজ পাওয়া যায় না। একটু ছাড়ান দিলে ওদের রা পড়ে যায় বা সরে যায়। ফরাজি কেউ যদি তার জমিদারকেও বলে, ‘আপনে বইস্যা থাহেন গন্‌শার নাগাল আর হাগেন জোড় লাগানর লাগান,’ তাহলেও, বেশিরভাগ সময় জমিদারবাবুকে হাসতে হয়।

ব্যথাডাঙার হাটে নমশূদ্ররা প্রথমে ভেবেছে—ফরাজি খ্যাপামি। তারা এড়িয়েই যাচ্ছিল। কিন্তু একটা হাটে কেনাবেচার ক্ষতি হলে সে-খরচা তারা পোষাবে কী করে? তাদের একটু সময়ও লাগল বুঝতে যে এটা খিলাফতি কাণ্ড। বা, ইচ্ছে করেই তারা বুঝছিল না। তারা এই পর্যন্তও বলেছিল নাকী, ‘এই হাটটা ছাইড়া দে, সামনের হাটে আনুম না।’ নমশূদ্ররাও কিছু বাপের সুপুত্র না। তারা যখন বুঝে গেল, পাইকারি বিক্রির সময় চলে গেল, তখন তারা এ ও-কে ডাকাডাকি করে, সব মালপত্র তুলে নিয়ে, তাদের মধ্যে বোকামত কেউ যদি বেকায়দা প্রশ্ন করে তবে তাকে, ‘হালা মাগগাশুখানি মাগরে জিগা,’ বলে থামিয়ে দিয়ে হাট ছেড়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় সবাইকে শুনিয়ে চিৎকার করে বলে যায়, ‘তোগ ধনের কাটা আগা খুইজতে যদি আমাগ ধনের পাও না ধরাই—তবে আমরা কেউ বাপচোদা-ছাওয়াল না—।’

পরের হাটেই বোঝা গেল নমশূদ্ররা ফাঁকা আওয়াজ ছাড়েনি। বাথা ডাঙা হাটের বিঘাটেক পশ্চিমে শুকনো, টনটনা একলপ্ত জমিতে নমশূদ্ররা আলাদা হাট বসাল। এমন হাটভাঙা হাট বসানো চালু প্রথা, নাম হত ‘দশের হাট’। কিন্তু এই দশের হাটটা যে-জায়গায় বসল তার নামডাক বাথাডাঙা থেকে বেশি। ‘পদ্মবিলা’।

এটা ফরাজিদের ধারণার বাইরে ছিল। তারা ফুঁসছিল কিন্তু কোনো উপায় পাচ্ছিল না। দশের হাট ভেঙে তো আর ডাকাহাট বসানো যায় না। দেখতে-দেখতে পদ্মবিলার হাট জমে গেল। জমে তো যাবেই–বাথাডাঙা আর পদ্মবিল্যা তো একই জায়গা। বাথাডাঙায় বসার বদলে পদ্মবিল্যায় বসবে না কেন, যদি ইজারাদারকে টিকিটের দাম দিতে না-হয়। সরকারের কাছে টাকা জমা দিয়ে ডাকাহাটে ইজারাদার যদি দোকানিদের কাছ থেকে মাশুল না তোলে, তাহলে ইজারাদার খাবে কী? কিন্তু দশের হাটের জন্য তো সরকারকে টাকা দিতে হয়নি, তাহলে মাশুল নেয়া হবে কেন। তার ওপর কোনো নমশূদ্র তো বাথাডাঙার হাটে বসবে না, অন্যদিকে মুসলমান ব্যাপারীরাও তো পদ্মবিল্যায় যাওয়া শুরু করেছে। দেখতে-দেখতে বছর খানেকের মাথায় বাথাডাঙার হাট, রাতে হঠাৎ-হঠাৎ জ্বলে উঠে, বিলের জলের আলোর মত নিবে যেতে লাগল।

ফরাজিরা দাঁতে দাঁত চিপে অপেক্ষা করছিল। এক বছর শেষ হওয়ার মুখে এক রাতে চল্লিশজনের এক ছিপ নৌকোয় পদ্মাবিলার লাগোয়া তিনটি নমশূদ্র গ্রাম থেকে শ-খানেক গরু ডাকাতি করে নিজেদের চরগুলিতে ছড়িয়ে দেয়। এই গরু ডাকাতির পরিকল্পনা ও এটাকে কার্যকর করা যে-কোনো যুদ্ধের একটা ফ্রন্টের লড়াইয়ের তুলনীয়। ছিপ নৌকোটা বাছাই-বাছাই গ্রামে পাঁচ-সাতজনকে নামিয়ে দিয়ে চলে গেছে। বা, চলে যেতে-যেতে নামিয়ে দিয়েছে। সেই পাঁচ-সাতজন রাত্রির বিলের জলের অন্ধকারের সঙ্গে, গাছের সঙ্গে, মাটির সঙ্গে মিশে এক-একটা গ্রামের গরুগুলোকে গোয়াল থেকে ছেড়ে জলে নামিয়ে ভেসে পড়ে। এরকম কাণ্ড ঘটতে পারে, জানা থাকলে, হয়ত জলের শব্দ ও রাতের আওয়াজের ভিতর কোনো ইশারা নমশূদ্ররা পেয়ে যেত—চেনা জানা ও আশঙ্কিত বিপদের আওয়াজ ফরাজি ও নমশূদ্রদের একই রকম জাগিয়ে দেয়। ফরাজিরাও সেটা জেনেবুঝেই এই গরুডাকাতি করেছে। রাতের অন্ধকারে জল যেন আকারে দশবিশগুণ বেড়ে যায়, আকাশের উচ্চতা যেন নেমে আসে চোখের সামনে। সেই অন্ধকার ও জলের ভিতর একরাতে পাঁচগ্রাম থেকে একশ গরুকে বিলে ভাসিয়ে নিজেদের জায়গায় তোলার ক্ষমতা কি সকলের থাকে? রাতের বিল বা বিলঘেঁষা নদী নমশূদ্র আর ফরাজি সকলেই এড়িয়ে যায়। আলোর এত অভাব যে চেনা জলও অচেনা হয়ে যায়। উলটে আবার কেউ-কেউ আছে যারা রাতের বিলেরই মানুষ। আরো পুবে তাদের মগ বলে। তারা নিজেরাও জলডাকাতি করে বড় নদীতে। কিন্তু বেশিরভাগই জমিদারদের কাছ থেকে এক-এক বায়না পায়—কোনো গ্রামকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার বায়না, কোনো পড়েথাকা চরে, রাতারাতি পুরনো বসতি, একেবারে মানুষজন বাচ্চাকাচ্চাসহ, কলাগাছ-লাউগাছ-গোয়ালঘরসহ একটা বসতি বসিয়ে দেয়।

নমশূদ্রদের মাথা কাটা গেল।

একবারেই তো সবটা জানা যায়নি। যতই জানা জানা যেতে লাগল, তাদের মাথা গনতিতে ততই বাড়তে লাগল। এটা কী কইরল শ্যাখেরা। এক রাইতে এতগুলা চরে ডাকাতি কইরল অথচ একডা প্যাঁচাও তো কুক দিল না। সামরিক পরাজয়ের গ্লানি থেকে মুক্ত হতে চাইছিল নমশূদ্ররা। কিন্তু শেখরা যে-অসম্ভবকে সম্ভব করেছে সে তো বিলের সকালের জলের মত টলটলা। নমশূদ্ররা বলল—শ্যাখরা গুনিন উড়াইয়্যা আইনছে খুইলন্যার তরাসডাঙা নদীর পাড়ের মিঠা তেঁতুলের গাছ থিক্যা। খুলনার এই গুনিনের নামডাক আছে, গাছ উড়িয়ে না কী যাতায়াত করে। একেবারে সবচেয়ে বড় কাজ ছাড়া হাতে নেয় না। তার ওপর তার কাছে পৌঁছনোই তো অসম্ভব। যতই জিজ্ঞাসা করুন, তরাসডাঙা নদীর সোঁতা কোনটা, ততই আপনাকে পালটা প্রশ্ন করবে, যাবেন কুথায়, নদী পার হইয়্যা না মিঠা তেতুলের ঘাটে। আপনি ঠিকঠাক উত্তর দিলেন—গুনিনের নিকট। যে-পথের নিশানা পেলেন সেই নদীতে নৌকো চালাতে-চালাতে হাত-পায়ে খিল ধরিয়ে দেখলেন, সেই শুরুর জায়গাটিতেই ফিরে এসেছেন। এবার নতুন একটা লোককে পুরনো প্রশ্নটাই করলেন। সে লোকটাও পুরনো প্রশ্নটাই করল। আপনি মিথ্যে করে বললেন, কী যে কন, আমরা নি গুনিনের সহবৎ জানি? তরাসডাঙা নদীড়া পার হইয়্যা বাঁ-হাতি স্রোত ধইরা উজান একঘাট যাব। সে আপনার মিথ্যে কথার উত্তরেও সেই পুরনো হদিশটাই দিল। যে-পথের নিশানা পেলেন, সেই নদীতে নৌকো চালাতে-চালাতে যখন আপনার পাঁজরার হাড়ের ভিতর থেকে ঢেঁকির পাড়ের মত হাঁফ বেরচ্ছে, তখন দেখলেন, আপনি সেই শুরুর জায়গাতেই ফিরে এসেছেন। সেখানে একটা নতুন লোক দাঁড়িয়ে। আপনার পুরনো প্রশ্নের পুরনো জবাবটা দেয়ার জন্য লোকটা ঠোঁট খুলেই আছে, মুখের ভিতরে তার জিভের ডগার নড়াচড়াও দেখা যাচ্ছে। আপনি বাঁচবেন না মরবেন, সেনা নির্ভর করে, আপনার বাঁচার ইচ্ছেটা তখনো ঢেকুর তোলে, কী না তার ওপর। তাহলে আপনি ঐ লোকটাকে ঐ পরনো প্রশ্নটাই করবেন, পুরনো উত্তরটাই শুনবেন আর হয়ত সেই পাকেই আপনার বৈঠা, নৌকো থেকে জলে পড়ে থাকবে কিন্তু বাইবে না। যদি আপনার বাঁচার ইচ্ছেটা থেকে কোনো ফাঁপা ঢেকুরও না ওঠে, আপনি লোকটির কাছে পথ জানতে চান না, লোকটিও আপনাকে পথ-জানাবার আগের প্রশ্নটা করতে পারে না, তাহলে, হতে পারে, আপনার বৈঠাটায় ছপছপ আওয়াজ উঠতেই থাকবে।

শ্যাখেরা এই তরাসডাঙার গুনিনকে এক বছরের চেষ্টায় ধরে এনে এক রাতে একশ গরু ডাকাতি করেছে।

পালটা গুনিনের খোঁজ শুরু হল। কিন্তু গরু ছাড়া তো চাষ-আবাদ বন্ধ। শেষে কাশিয়ানি থানার ছোটবাবু গরুগুলি উদ্ধার করে দিলেন কিন্তু একজনকেও চালান দিলেন না। ছোটবাবু অন্য জায়গার লোক, ওঁর সব কথা বোঝা যায় না। বললেন-দারোগা, আমি তো একডা পুলিশ, চুরি-ডাকাতি-স্বদেশী ধরি। গরু তো ফিরৎ পালি। অ্যাহন ডাকাত ধরা তো গুনিনের কাজ খোঁজো একডা গুনিন।’

কাঠের গুঁড়োর আগুনের ওপর আরো গুঁড়ো চাপা দিলে, আগুন নেবে না, বাড়ে। কয়েকদিনের মধ্যেই, সন্ধ্যার পর, কী এক ছোট গোলমাল উঠল কী উঠল-না, আলোও বেশি ছিল না, লোকজন যেমন ছুটে এসেছিল তেমনি ছুটে চলে গেল। বেশ অনেক রাতে দুই মাতাল ডোম এসে কাশিয়ানি থানায় জানাল, এডডা খুনা হইসেন। খুন্যা মানুষটো পইড়ে আছে গ।

তাদের কাছে অনেক জিজ্ঞাসা করেও জানা গেল না কোথায়। কারণ ওরা দেখেইনি। যে-বাবু তাদের মড়াটা সরিয়ে দেয়ার জন্য ডেকেছিল, সে-বাবু বলেনি, কোথায় সরাতে হবে। সেই বাবুকে আমরাও কিছু বলিনি। এটা আবার বলার কী? বাবু বলেছে। একটা পুরো গোটা নোট দিয়েছে। ডোম মড়া সরাবে। এর ভিতর আর কথাবলার জায়গা কোথায়। আমরা দুইজন আগে গেলাম বিলধারে। পুরো একটা এক টাকার নোটে অনেক নেশা হল, একটু ঘুমও হল, ঐ বিলধারে। তারপর যখন বলল, আমাদের আর নেশা পাওনা নেই, তখন আমরা প্রথম খেয়াল করলাম—কোথায় সরাতে হবে মড়াটা সেটা তো জানা হয়ইনি, কোথা থেকে সরাতে হবে সেটা তারা জানত কী না তাও মনে নেই। তাই আমরা দুইজন থানায় এলাম। মড়া সরানো হয়নি বলে থানাদার শাহেবকে তো ঐ বাবু নালিশ করবে, তখন থানাদার শাহেব তো আমাদের গারদ দেবে। তাহলে থানাদারশাহেবকেই সব বলতে এলাম। এখন থানাদারশাহেবের যা ঠিক মনে হয়, তাই করবেন। যদি মড়াটা কোথায় বলে দেন আর কোথায় সরাতে হবে বলে দেন, তাহলে ওরা থানাদারের হুকুম পালন করবে। আর, থানাদার যদি তাদের গরাদে ঢুকতে বলেন, তাহলে ওরা থানাদারের হুকুম পালন করবে।

কোন বাবু তার বলেছিল, সেটা তারা একেবারেই বলতে পারল না। একই উত্তর দিতে লাগল—’বাবু। বাবুকে চিনব কী করে। সব বাবুর মুখ তো একরকম। বাবু। বাবুকে কী দিয়ে চিনব?’

সেটাই ছিল পদ্মবিলা দাঙ্গার প্রথম রক্তপাত, প্রথম খুন। শেখদের একজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *