৬৫. পদ্মবিল্যা কাইজ্যা : কবিগান
নমশূদ্রদের মধ্যে কবিগান বানানোর খুব রেওয়াজ। গুরুচাঁদের এক বেশ বড় শিষ্য কলকাতার পাটোয়ার বাগানে বইটই নিয়ে কোনো চাকরি করত। এ-চাকরি মুসলমানদের একচেটিয়া, তাও হাওড়া-হুগলি আর যশোরের মুসলমানদের। যশোরের মানুবুড়া এই কাজের পুরনো কারিগর। কয়েক বছর আগে, খালাতভাইয়ের শাদি দিতে মানুবুড়া এসেছিল ফুলতলা থেকে বিলদুলি-তে, এই গোপালগঞ্জেরই। সেই বিয়ের আসরে গুরুচাঁদের শিষ্য হারানচন্দ্র সূত্রধর কবিগানে কৈকেয়ীর ঝি মন্থরার সঙ্গে, কৌশল্যার ঝি ফক্কড়ার ঝগড়া এমন জমিয়েছিল যে মানুবুড়া তাকে ফক্কড়া। সঙ্গে নিয়ে ফেরে, ‘আই রে, দেখছে নি মণি। মায়ের প্যাটের ভিতর থাকার টাইম থিক্যা রামায়ণ শুইন্যা আসছি। শূর্পনখার স্বামীর নাম শুদ্ধ্যা জানি। আর বিলদুলিতে আইসে জানতি হইল কৌশল্যারও এক মন্থরা আছিল। তার নাম ফক্কড়া। এমন পণ্ডিত কবিয়ালরে বিলদুলিতে ফেইলে রাইখলে দুনিয়া জাইনবে ক্যামনে? চলো, বাবা, আমার লগে কইলকাতায় চলো।’ কলকাতায় সে যে-কারখানায় কাজ করে সেই কারখানায় ঢুকিয়ে নেয়। কলকাতায় মানুবুড়ার সন্ধ্যাকাটানোর কোনো সমস্যা নেই—এত আলো। দেশের কথা বলার লোকেরও অভাব নেই—যশোরের লোক এত। কিন্তু হারানচন্দ্রের কবিগান কে শোনাবে। হারানচন্দ্রের কবিগাওয়ার ছদ্ম নাম ছিল আলাদা— গুরুচাঁদদাস বৈরাগী। গুরুচাঁদের নাম থাকলে সম্মান বাড়ে। আর ভনিতায় ছন্দ মেলানোর জন্য বৈরাগীটা খাপ খায়। ‘সূত্রধর’ বলে ভনিতা দিলে একটু ছোট লাগে। সেই সূত্রধর বা বৈরাগী দেশ থেকে এই ভাদ্রসংক্রান্তিতে শেখ আক্রমণের খবর পেল। তকে যেতে হবে। গান গাইতে না, যুদ্ধ করতে ছোট একটা কবিগান লিখে একেবারে ছাপিয়ে নিয়ে এসে ওড়াকান্দিতে হৈহৈ ফেলে দেয়। সূত্রধর বা বৈরাগী কবি ছিল বটে কিন্তু লিখতে পারত না। বড় মোটা হরফে ছাপা বই কেঁদেকঁকিয়ে পড়তে পারত কিন্তু সে-পড়ায় তো ছন্দটা আসত না। তাই তার পড়া ছিল শুনে-শুনে আর লেখা ছিল মনে-মনে। এই গানটা যখন প্রায় শেষ করে এনেছে, মানুবুড়াকে শুনিয়েছে। মানুবুড়া মুগ্ধ। গানটাতে মুসলমানদের খুব খারাপ খারাপ কথা বলা আছে। তাতে মানুবুড়া বলে, ‘আরে গীতড়া তৈরি হইল গালাগাল দিয়ার লগে, সেইহানে হরিসংকীর্তন আইসব ক্যামনে?’ সে তাকে নিয়ে যায় ঐ রাস্তারই এক ছোট ছাপাখানার পেছনের ঘরে। সেটা কাগজের ছোটখাটো গুদাম। যার কাছে নিয়ে গেল মানু, সে নাকী কলেজে পড়ে। মানুবুড়া তাকে বলল, ‘ভাইজান, এই আমাগ দ্যাশের ছাওয়াল ছুতার—’।
হারান তাতে আপত্তি করে বলে, ‘বৈরাগী।’
মানুবুড়া একটা চড় মারে বাতাসে, ‘স্যায়, যহন গাইব্যা তহন বৈরাগী হইয়ো। ভাইজানের কাছে বানান্-নাম নি কওয়া যায়? ভাইজান, ও একডা গান বাইন্ধছে। ও গাউক। তুমি এড্ডু কাগজে লিখ্যা দ্যাও।’
সিলিঙের কাছাকাছি কাগজের গাদার ওপর থেকে ভাইজান নীচে তাকিয়ে বলল, ‘সে আবার কী? উনি বাঁধলেন গান আর সেটা উনি লিখতে পারবেন না?’
‘তোমাগো নিয়্যা এই এক কাইজ্যা ভাইজান। গান বান্ধে বইল্যা কি ও অক্ষর লিখবার পারে?’
‘ও—’ বলে ভাইজানকে ব্যাপারটা বুঝে নিতে একটু চুপ করে থাকতে হয়, সেই উচ্চতায় তারপর বলে, ‘কিন্তু নীচে তো লাইট নেই। লিখব কী করে?’
মানুবুড়া এবারও ভাইজানের সমস্যা বুঝতে পারে না।
‘যেইখানে আলো সেইখান ছাড়া কি লিখন যায়?’
‘তাহলে কাল সকালে আসুন।’
‘কী যে কন ভাইজান? আমাগ কি আসনের সকাল আছে। ও তলা থিক্যা গাউক, আপনি উঁচা থিক্যা ল্যাহেন। ছাপাইয়া দ্যাশে নিয়া যাবে।’
‘ও। ওঁকে গাইতে হবে কেন? বলুন-না, বললেই হবে।’
‘ভাইজান, তোমাগো বিদ্যা আছে, বুদ্ধি নাই। আরে গান যে-বাইন্ধে স্যায় কি না-গাইয়া কইতি পারে? নে, গা—’
সেই গুদামের অন্ধকার মেঝে থেকে হারান গান গায়, ঘুরিয়েফিরিয়ে, তাল ছেড়ে, তাল দিয়ে, ঘাড় দুলিয়ে। আর সেই গুদামের একটা বাল্বজ্বলা আলোর নীচে কাগজের পাহাড়ের মাথায় বসে ভাইজান মাঝেমধ্যে লেখে আর বেশিরভাগ সময়ই তার নিজের ও কাগজের ছায়াতে ঢাকা হারানের গান বাঁধা দেখে।
সেই গান পরের সন্ধ্যায় মানুবুড়া নিয়ে যায় দুই কোঠা দূরে একটা প্রেসে যেখানে ট্রেডল মেসিন আর মেশিনম্যান ছাড়া একটা ধেড়ে ইঁদুরও যেতে পারবে না। মানুবুড়া কাগজটা এগিয়ে বলে, ‘বা-জান, এইডা, প্রজারে দিয়্যা কম্পোজ করাইয়্যা বিকালের শ্যাষে দুইশ শিলিপ টাইন্যা দিয়ো–’
‘সাইজ?’
‘ক্রাউনরে আটভাজি দিয়ো। ছোড তো!’
ছেলেটি ততক্ষণে গানটার চেহারা দেখে নিয়েছে, বলল, ‘ও? কবিতা?’
সেই কবিতা বা গানের ছাপানো প্যাকেট নিয়ে সেবারের, মানে ২৫ সালের বা ২৬ সালের, ভাদ্রসংক্রান্তির দুইদিন আগে, তিনদিনই বলা যায়—হারান তো পৌঁছেছিল সন্ধ্যারও পর, রাতও বলা যায়—খুলনা থেকে লঞ্চ লাইন বন্ধ ছিল, হারান একটা সাল্ লঞ্চে মোল্লাহাট হয়ে গোপালগঞ্জে আসে। সে তো আসবেই কিন্তু ওড়াকান্দির আশ্রমে দড়ি খুলে সে যখন ঐ ছাপানো গান সকলের হাতে হাতে দেয় তখন ‘জয়গুরু গুরুচাঁদ’ আওয়াজে অনেকে ভয় পেয়েছিল, বুঝি শেখেরা দিনদুই আগেই আক্রমণটা করল। হারান আর ক-জনের হাতে দিল? তাদের বেশির ভাগই পড়তে জানে না। ঠাকুরবাড়িতে তো সকলেই পণ্ডিত কিন্তু তারা তো তখন ঘুমোয়। শেষে এক ভক্ত, বয়সও সকলের চাইতে বেশি, পদমর্যাদাতেও—সে ছিল গুরুর আশ্রমের বারবাড়ির কর্তা, বলে উঠল, ‘এইডা কী কথা? শ্যাখগোর সঙ্গে যুদ্ধে একডা কামান কান্ধে লয়্যা বৈরাগী সেই কইলকাতা থিক্যা, তিন বিল হাঁইট্যা আর চাইর বিল সাঁতরাইয়া ওড়াকান্দি আইসতে পারে আর সেই কামান গুরু নিজের চক্ষে দেইখবেনে না?’ সে দুটো ছাপানো পাতা হাতে নিয়ে ভিতরবাড়ির দিকে চলে যায়। গুরুর শয়নকক্ষে।
গুরু দেশেশুনে এমন মোহিত যে তখনই দু-চারটে লণ্ঠন জ্বালানো হয়, হাঁক পেড়ে লোকজন ডাকা হয়, হারানকেও। হারান গুরুর সামনে দাঁড়িয়ে গানটা গেয়ে চলে আর গুরু তার পড়ার যে-চশমা ঢাকা থেকে বানিয়ে এনেছেন, সেইটি নাকে লাগিয়ে গাওয়া গানের সঙ্গে ছাপা গান মেলান। যদিও এদের সকলেরই চেনাজানা ঘটনা—এই পদ্মবিলার দাঙ্গা, কেই-বা সেদিন ছিল না পদ্মবিলার পাড়ে—তবু গানে বললেই যেন সবকিছু বদলে যায়। গানে সেদিনের নমশূদ্র-সমাবেশের পেছনবরাবর ঠাকুর গুরুচাঁদের তাঁর শূদ্রবাহিনীকে উৎসাহদানের কথা বলা হয়েছে। ঠাকুর এত উঁচু দিয়ে হাঁটছেন, যেন রণপায়ে উঠেছেন। ঠাকুর এক পায়ের পর আর-এক পা ফেলছেন, যেন রণপা-র পা ফেলছেন।
এগুলো তো গান-ছাড়া ঘটে না। পদ্মবিলার দাঙ্গা তো চলচিল চার-পাঁচ বছর। চার-পাঁচ বছরে চার-পাঁচটি ঘটনা—সেই হাটভাঙা, গরুডাকাতি, গরুবাঁধা, কাইসিনি মার্ডার, তারপর, দুই-তিন দিন পদ্মবিলায় দুই-তিন হাজার শুভ্র জমায়েত—যারা এই সবগুলোতেই হাজির ছিল, সবগুলোর মাত্বর ছিল তাদের একজনও এই চার-পাঁচ বছরের কোনো ঘটনায় ঠাকুর গুরুচাঁদকে সশরীর আসতে দেখেনি। অথচ বৈরাগীর গানে ঠাকুরই সেনাপতি। তার ওপর বৈরাগী যখন গলার-গান কাগজে ছেপে এনেছে, তখন তো কথাই নেই। যারা অক্ষর চেনে, তাদের জন্য বৈরাগীর ছাপা গান। আর যারা গলা চেনে, তাদের জন্য বৈরাগীর গলার গান। শেখেরা চারদিক থেকে এসে ওড়াকান্দি আক্রমণ করবে, এমন একটা ভয়, একেবারে গুজব হয়ে গেল। সেই গুজবের যুদ্ধের ভাদ্রসংক্রান্তিতে এই গানটা কলকাতা থেকে কামানের মত এসে পড়ায়, কয়টা ভাদ্রসংক্রান্তির পরে, ওড়াকান্দির স্নানযাত্রার মেলার সঙ্গে নমশূদ্রের জয়যাত্রার মেলাও মিশে গেল।
এখন, ১৯৩৭-এর জুলাই মাসে, ১৯৩৫-এর ভারতশাসন আইন ও কমিউন্যাল অ্যাওয়ার্ড অনুযায়ী ভোটে তৈরি আইনসভার প্রথম অধিবেশনের শেষে ও দ্বিতীয় অধিবেশনের আগে, সারা ভারতে সাধারণ বা জেনারেল সিটে দাঁড়ানো একমাত্র বিজয়ী নমশূদ্র তথা শিডিউল্ড কাস্ট প্রার্থী বরিশালের যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল তাঁর নির্বাচনক্ষেত্র, বসতবাড়ি, স্ত্রী ও ওড়াকান্দির স্নানযাত্রা সফর শেষে কলকাতায় ফিরে যাবেন—২৯ জুলাই ৩৭ লাটশাহেবের ভাষণ, আইনসভায়।
তাঁর দুই সঙ্গীকে তিনি এই স্নানযাত্রা-জয়যাত্রায় আসার পথে বলে ফেললেন, যে, নমশূদ্রদের তো নতুন শক্তি তৈরি হয়েছে—অন্যান্য শিডিউল্ড কাস্ট। এখন এই পুরনো গুরুগিরি করে নিজেদের খুব খাঁটি অথচ আলাদা হিন্দু হিশেবে জাহিরের দরকার নেই। আরো দরকার নেই, হিন্দু সেজে মুসলমানদের সঙ্গে দাঙ্গা করার। মুসলমানদের সঙ্গে যদি দাঙ্গা বাধাবার শখ হয়, তাহলে সে-দাঙ্গাটা বামুন-কায়েত-বৈদ্যরাই করুক।
আরো দরকার নেই, মুসলমানদের সঙ্গে বিবাদের। মুসলমানদের সঙ্গে নমশূদ্রদের কোনো বিবাদই নেই। ঐ খিলাফৎ—অসহযোগের দুই দিককার ভদ্রলোকরা মিলে নমশূদ্রদের সঙ্গে বিবাদ বাধিয়েছিল। সে খিলাফৎ-ও নেই, সেই আইন-অমান্যও নেই। কংগ্রেসের ইউনিয়ন বোর্ড বয়কট গিয়ে থেমেছে আইনসভায়। শেখ আর শূদ্ররা ইউনিয়ন বোর্ডে যাচ্ছে দেখে সাত তাড়াতাড়ি কংগ্রেস এসে লাইন দিয়েছে, যাতে বোর্ডগুলো হাতছাড়া না হয়। তাহলে তো এখনই সময়—মুসলমানদের সঙ্গে মিলে নিজেদের জাতের ছেলেমেয়েদের পড়ার স্কুল-কলেজ, থাকার হস্টেল, কারণ হিন্দুহস্টেলে নমশূদ্র ছাত্রদের থাকতে দেয় না স্কলারশিপ, সাহায্য ও কবার চাকরিবাকরি করার, হিন্দুদের আটকানো খাল কেটে দেয়। হিন্দুদের বাড়তি জলের খালে বাঁধ বসানোর কোটা আদায়ের।
যোগেন মণ্ডল যে এই কথাগুলি এমন সাজিয়েগুছিয়ে বলেছে তা একেবারে নয়। কিন্তু এই কথাবার্তা থেকেই কথাগুলির সাজগোছ তৈরি হচ্ছিল—সেই ৩৭ সালের জুলাইয়ে যোগেন, প্রহ্লাদ আর শিবু তখন বিলপথ দিয়ে হেঁটে ওড়াকান্দির গুরুচাঁদ ঠাকুরের আশ্রমে যাচ্ছিল, শিবুর মাথায় একটা মাটির কলসী—সেটা যোগেনের শাশুড়ি দিয়েছে যোগেনের ছেলে যাতে ভালভাবে হয় সেই মানতে।
‘হিন্দুরা আমাগ হিন্দু মাইনব না, তাও আমাগ হিন্দুই হওয়ার লাগব। যাও, মন্দিরে ঢুইক্যা ফুল ছিটাইয়্যা আর এক বামুন জুটাইয়্যা তার পাশে বইস্যা পংক্তিতে খাইয়্যা কংগ্রেসের অস্পৃশ্য দূর করো গিয়্যা।’
এর পরের দশ বছর ধরে তো অনেক ঘটনা ঘটবে। সেসব ঘটনার ঘটক সারা দেশও সাম্রাজ্যে ছড়ানো অজস্র-অজস্র অণুঘটক ছাড়া এইসব ঘটনা ঘটতে পারত না।
আবার ঐসব ঘটনা না ঘটলে, ইতিহাসও তৈরি হত না। মনে হয় যেন, পাওয়ার- জেনারেশন কাইসিনি বিদ্যুত-উৎপাদন পাওয়ার-ডিভোলিউশন বা বিদ্যুৎ-হস্তান্তরের কারিগরি প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই ঘটনা-অণুঘটক থেকে ইতিহাস-উৎপাদন ও ইতিহাস-হস্তান্তর ঘটনার কাব্যিক মিল আছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন না-করলে বিদ্যুতের হস্তান্তরণ সম্ভব নয়। কোনো উৎপন্ন জিনিশেরই তেমন হস্তান্তরণ সম্ভব নয়। তেমনি অন্য জিনিশের সঙ্গে বিদ্যুতের এই একটি বড় তফাত যে বিদ্যুতের উৎপাদন মানেই বিদ্যুতের হস্তান্তরণ—এটা একটাই প্রক্রিয়া। হস্তান্তরণ খুব জটিল ও সেটা ঘটতে থাকে ব্যাপকতম দেশে। লোহার বা কংক্রিটের থাম ও টাওয়ার দরকার হয়। বিদ্যুতের তাপ অনুযায়ী বিভিন্ন ধাতুর ও বেধের তার দরকার হয়—লোহা, তামা, এলুমিনিয়াম। কত পরিমাণ বিদ্যুৎ হস্তান্তরণ করা হচ্ছে সেই অনুপাতে বাহকন্ত বদলাতে হয়। আরো নিশ্চয়ই কত সূক্ষ্ম ও অতিসূক্ষ্ম জটিলতা ব্যবস্থাটিতেই আছে। তেমন জটিলতা ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন ও হস্তান্তরণ সম্ভবই নয়। বিদ্যুতের এ-জটিলতা বিদ্যুতের অস্তিত্বের একটা প্রকার। যেমন, কোনো সৌরগ্রহে জল খুঁজে পাওয়ার আগে সাঁতারু খুঁজে পাওয়া যাবে না। যেমন, এমন কোনো মানুষ সম্পূর্ণ মানুষ নয় যার মস্তিষ্কের ভিতরটায় মানুষের সম্পূর্ণতা নেই। পাওয়ার-জেনারেশন ও পাওয়ার-ডিভোলিউশন ঘটনা-অণুঘটনা-নির্ভর ইতিহাস তৈরির প্রক্রিয়ার, আর-বেশিদূর টানা ঠিক হবে না, মনে হয়। কারণ, এরপর অমিলই বেশি। যা উৎপন্ন ও হস্তান্তরণ হচ্ছে, তা বিদ্যুৎ কীনা সেটা পরীক্ষা করা যায়। ইতিহাস তেমন পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। বিদ্যুৎব্যবস্থার সঙ্গে কারো কোনো নিজস্ব সম্পর্ক থাকতে পারে না—চিফ ইনজিনিয়ার, অ্যাডিশন্যাল চিফ, গ্যাংম্যান, মন্ত্রী বা উপদেশক, সচিব। ব্যক্তিগত সম্পর্ক না-থাকলে ইতিহাস বলে কিছু ঘটেই না।
এসব আভাস দেয়ার উদ্দেশ্য—পরের দশ বছরের নানা অণুঘটনার সংকেত দশবছর পরে, ১৯৩৭-এর জুলাইয়ের এই স্নান-বিজয় যাত্রায় খোঁজা হতে পারে।
