৮৮তম অধ্যায়
পিতৃলোকের প্রিয়বস্তু-প্রশংসা
যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! পিতৃলোককে কোন্ বস্তু দান করিলে অক্ষয় হইয়া থাকে?”
ভীষ্ম কহিলেন, “বৎস! শ্রাদ্ধকালে যেসমস্ত দ্রব্য পিতৃলোককে প্রদান করিতে হয় এবং যাহা দান করিলে যেরূপ ফল উৎপন্ন হইয়া থাকে, আমি তাহা কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। তিল, ধান্য, যব, মাংস, জল, মূল ও ফলদ্বারা শ্রাদ্ধ করিলে পিতৃগণ একমাস পরিতৃপ্ত হইয়া থাকেন। মনু কহিয়াছেন যে, সমধিক তিলদ্বারা শ্রাদ্ধ করিলে পিতৃলোকের অক্ষয় তৃপ্তি হয়। শ্রাদ্ধকালে যেসমস্ত ভোজ্য প্রদান করা যায়, তন্মধ্যে তিলই সর্ব্বপ্রধান।
‘শ্রাদ্ধে মৎস্য প্রদান করিলে পিতৃগণের দুই মাস, মেষমাংস প্রদান করিলে তিন মাস, শসসমাংশ প্রদান করিলে চারি মাস, অজমাংস প্রদান করিলে পাঁচ মাস, বরাহমাংস প্রদান করিলে ছয় মাস, পক্ষীর মাংস প্রদান করিলে সাত মাস, পৃষতনামক মৃগের মাংস প্রদান করিলে আট মাস, রুরুমৃগের মাংস প্রদান করিলে নয় মাস, গবয়ের মাংস প্রদান করিলে দশ মাস, মহিষমাংস প্রদান করিলে একাদশ মাস এবং গোমাংস প্রদান করিলে এক বৎসর তৃপ্তিলাভ হইয়া থাকে। ঘৃত-পায়স গোমাংসের ন্যায় পিতৃগণের প্রীতিকর; অতএব শ্রাদ্ধে ঘৃত-পায়স প্রদান করা অবশ্য কর্ত্তব্য। শ্রাদ্ধে বাধ্রীনসছাগের [খাসীর] মাংস প্রদান করিলে পিতৃগণ দ্বাদশবৎসর সুপ্তিসুখ অনুভব করিয়া থাকেন। গণ্ডকের [নিদ্রাসুখ] মাংস, কালশাক ও রক্তবর্ণ ছাগের মাংস প্রদান করিলে তাঁহাদের অনন্তকাল তৃপ্তি উৎপাদন করা যায়।
“আমি পূৰ্ব্বে সনৎকুমারের মুখে শুনিয়াছিলাম যে, পিতৃগণ কহিয়া থাকেন, যদি কোন ব্যক্তি আমাদিগের কুলে উৎপন্ন হইয়া দক্ষিণায়নকালে মঘানক্ষত্রে ত্রয়োদশী তিথি উপলক্ষ্যে আমাদিগকে ঘৃত-পায়স প্রদান বা গজচ্ছায়া-যোগে রক্তবর্ণ ছাগের মাংসদ্বারা শ্রাদ্ধ করে এবং ঐ শ্রাদ্ধ যদি ব্যজনদ্বারা বীজিত হয়, তাহা হইলে নিশ্চয়ই অক্ষয় তৃপ্তিলাভ হইবে। বহুপুত্রের কামনা করা উচিত; কারণ, উহাদের মধ্যে অন্ততঃ একজনও অক্ষয়বটসমলঙ্কৃত গয়ায় গমন করিতে পারে। অমাবস্যাতে শ্রাদ্ধকালে জল, মূল, ফল, মাংস ও অন্ন মধুমিশ্রিত করিয়া প্রদান করিলে উহা অনন্ততৃপ্তি উৎপাদনে সমর্থ হয়, সন্দেহ নাই।”
