৭৪তম অধ্যায়
গোহরণ ও গোবিক্রয়ের পাপ
“ইন্দ্র কহিলেন, ‘ভগবন্! যে ব্যক্তি সম্যক অবগত হইয়াও অর্থলোভে গোহরণ বা গোবিক্রয় করে, তাহার কিরূপ গতিলাভ হয়, তাহা কীৰ্ত্তন করুন।
“ব্রহ্মা কহিলেন, ‘দেবরাজ! ভোজন, বিক্রয় বা ব্রাহ্মণকে দান করিবার নিমিত্ত ধেনু অপহরণ করিলে যে ফল হয়, তাহা কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। যে ব্যক্তি গোমাংস ভক্ষণ এবং যে ব্যক্তি ঘাতককে গোবধে অনুমতি প্রদান করে, তাহাদের সকলকেই সেই নিহত ধেনুর লোমপরিমিত বৎসর নরকে নিমগ্ন থাকিতে হয়। ব্রাহ্মণের যজ্ঞবিঘ্ন করিলে যে দোষ ও যে পাপ জন্মে, গোবিক্রয় ও গোহরণ করিলেও সেই দোষ ও সেই পাপ হইয়া থাকে। যে ব্যক্তি ধেনু অপহরণ করিয়া ব্রাহ্মণকে সম্প্রদান করে, তাহার সেই দাননিবন্ধন যত কাল স্বর্গভোগ হয়, অপহরণনিবন্ধনত তত কাল পর্য্যন্ত নরকভোগ হইয়া থাকে।
‘শাস্ত্রকারেরা গোদানবিষয়ে সুবর্ণ দক্ষিণা প্রদান করা কর্ত্তব্য বলিয়া নির্দ্দেশ করিয়াছেন। ফলতঃ দক্ষিণাবিষয়ে সুবর্ণই প্রশস্ত। দান ও দক্ষিণাপ্রদানবিষয়ে সুবর্ণ অপেক্ষা উৎকৃষ্ট আর কিছুই নাই। উহা পরমপবিত্র দ্রব্য। গোদান করিলে চতুর্দ্দশ পুরুষের উদ্ধার হয়; আর গোদান করিয়া সুবর্ণ দক্ষিণা সম্প্রদান করিলে অষ্টাবিংশতি পুরুষের উদ্ধার হইয়া থাকে। সুবর্ণ দান করিলে দাতার কুল পবিত্র হয়। হে দেবরাজ! এই আমি তোমার নিকটে দক্ষিণা দানের বিষয় বিশেষরূপে কীৰ্ত্তন করিলাম।”
ভীষ্ম কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ। লোকপিতামহ ব্রহ্মা ইন্দ্রকে এই বৃত্তান্ত কহিলে ইন্দ্র দশরথকে, দশরথ স্বীয় পুত্র রামের নিকট, রাম প্রিয়ভ্রাতা লক্ষ্মণের নিকট এবং লক্ষ্মণ বনবাসী ঋষিদিগের নিকট ইহা কীৰ্ত্তন করিয়াছিলেন। পরিশেষে ধার্ম্মিক নরপতিগণ ঋষিদিগের নিকট ইহা শ্রবণ করেন। আমি উপাধ্যায়ের প্রমুখাৎ এই বৃত্তান্ত শ্রবণ করিয়াছি। ভগবান ব্রহ্মা কহিয়াছেন যে, যে ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণসমাজে যজ্ঞ বা গোদানসময়ে অথবা কাহারও সহিত কথোপকথনকালে এই গোদানমাহাত্ম্য কীৰ্ত্তন করিবেন, তিনি দেবতাদিগের সহিত অক্ষয়লোকলাভে সমর্থ হইবেন, সন্দেহ নাই।”
