2 of 4

৫৬. কুশিকবংশের ভাবী ব্রাহ্মণত্ব বিবরণ

৫৬তম অধ্যায়

কুশিকবংশের ভাবী ব্রাহ্মণত্ব বিবরণ

“চ্যবন কহিলেন, ‘মহারাজ! তোমার কুলে ব্রাহ্মণত্বলাভ হইবে বলিয়াই আমি তোমার কুল নির্ম্মূল করিতে অধ্যবসায়ারূঢ় হইয়াছিলাম, এক্ষণে যেরূপে তোমার কুলে ব্রাহ্মণত্বলাভ হইবে, তাহা কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। ক্ষত্রিয়েরা ভৃগুবংশীয়দিগের যজমান, ইহা চিরকালই প্রসিদ্ধ আছে। কিন্তু কোন অলৌকিক কারণবশতঃ ক্ষত্রিয়েরা ভৃগুবংশীয়দিগের সহিত বিবাদ করিয়া উহাদিগকে বিনাশ করিতে প্রবৃত্ত হইবে। উহারা দৈবোপহতচিত্ত [দৈববশে বিকৃতচিত্ত] হইয়া ভৃগুবংশীয় রমণীগণের গর্ভ ভেদ করিয়া তন্মধ্যস্থ সন্তানগণকেও মৃত্যুমুখে নিপাতিত করিবে। ঐ সময় কোন একটি ভৃগুবংশীয় গর্ভবতী নারী ক্ষত্রিয় হইতে আপনার গর্ভ রক্ষা করিবার নিমিত্ত এক পৰ্ব্বতে প্রচ্ছন্নভাবে অবস্থান করিবেন। উঁহার গর্ভে আমাদিগের বংশধর, সূর্য্য ও হুতাশনসদৃশ তেজস্বী উর্ব্বনামক এক পুত্র উৎপন্ন হইবে। সেই উৰ্ব্ব ত্রৈলোক্যবিনাশের নিমিত্ত ক্রোধানলের সৃষ্টি করিয়া এই পর্ব্বতবনসম্পন্ন অবনীকে ভস্মসাৎ করিতে উদ্যত হইবে। তখন অনেকে সেই ব্যাপার দর্শনে নিতান্ত ভীত হইয়া তাহাকে ক্রোধোপশমের নিমিত্ত অনুরোধ করিলে সে সেই ক্রোধবহ্নি সমুদ্রমধ্যে বড়বামুখে নিক্ষেপ করিবে।

‘উৰ্ব্বের ঋচীকনামে এক পুত্র উৎপন্ন হইবে। ক্ষত্রিয়গণের বিনাশসাধনের নিমিত্ত কোন অলৌকিক উপায়ে সমগ্র ধনুর্ব্বেদ ঐ ঋচীকে সংক্রান্ত হইবে। ঋচীক আপনার বংশরক্ষাৰ্থ তোমার আত্মজ গাধির কন্যার পাণিগ্রহণ করিবে। ঐ সময় তোমার আত্মজ গাধি স্বীয় বংশধর পুত্র উৎপন্ন না হওয়াতে যারপরনাই দুঃখিত হইয়া কালযাপন করিবে। কিয়দ্দিন পরে ঋচীক ভাৰ্য্যা ও শর পুত্রোৎপত্তির নিমিত্ত ব্রাহ্ম ও ক্ষাত্র এই দুই প্রকার চরু প্রস্তুত করিবে। কিন্তু তোমার পুত্রবধূ উৎকৃষ্ট পুত্রলাভ করিবার অভিলাষে কন্যাকে অনুরোধ করিয়া স্বয়ং ব্রাহ্ম চরু ভক্ষণ করিবে। ঋচীক সেই বৃত্তান্ত অবগত হইয়া ঐ চরুপ্রভাবে যাহার যেরূপ পুত্র উৎপন্ন হইবে, তাহাদিগের সমক্ষে তাহা প্রকাশ করিবে। তখন ঋচীকের ভাৰ্য্যা ঋচীকের বাক্য শ্রবণে ভীত হইয়া, ক্ষত্রিয়ত্ব যাহাতে আপনার পুত্রে সংক্রামিত না হইয়া পৌত্রে হয়, সেই বর প্রার্থনা করিবে। ঋচীকও তাহাতে সম্মত হইবে। পরে ঐ চরুপ্রভাবে ঋচীকের ভাৰ্য্যা জমদগ্নিনামক এক পুত্র প্রসব করিবে। সমগ্র ধনুর্ব্বেদ ঋচীক হইতে ঐ জমদগ্নিতে সংক্রান্ত হইবে। জমদগ্নির ঔরসে রামনামে এক পুত্র উৎপন্ন হইবে। সে স্বীয় পিতামহীর বরগ্রহণানুসারে ক্ষাত্রধর্ম্মাবলম্বী হইয়া সমগ্র ধনুর্ব্বেদ অধিকার করিবে। এ দিকে তোমার পুত্রবধূ সেই ব্রাহ্মতেজোমিশ্রিত চরুপ্রভাবে বিশ্বামিত্ৰনামে ধর্ম্মপরায়ণ পুত্র প্রসব করিবে। বিশ্বামিত্র কালসহকারে ঘোরতর তপানুষ্ঠানপূর্ব্বক ব্রাহ্মণ হইবে। হে মহারাজ! বিধাতার অভিপ্রায়ানুসারে স্ত্রীলোকই তোমার বংশে ব্রাহ্মণত্ব ও আমার বংশে ক্ষত্রিয়ত্বসঞ্চারের মূল হইবে। বিধাতার অভিপ্রায় কদাচ অন্যথা হইবার নহে। সুতরাং তোমার পৌত্র নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণত্ব লাভ করিবে। এই ঘটনানিবন্ধন ভৃগুবংশীয়দিগের সহিত তোমার সম্বন্ধ সংস্থাপিত হইবে, সন্দেহ নাই।

“মহর্ষি চ্যবন এই কথা কহিলে মহারাজ কুশিক হৃষ্টান্তঃকরণে তাঁহাকে সম্বোধনপূর্ব্বক কহিলেন, ‘ভগবন্! আপনার প্রসাদে আমার বংশে ব্রাহ্মণত্ব সঞ্চারিত হউক।’ তখন মহর্ষি তাঁহাকে সম্বোধনপূৰ্ব্বক পুনরায় কহিলেন, ‘মহারাজ! তুমি এক্ষণে আমার নিকট বর প্রার্থনা কর। আমি তোমাকে অভিলষিত বর প্রদান করিব।’ কুশিক কহিলেন, ‘ভগবন্! আপনার অনুগ্রহে আমার বংশপরম্পরা সকলেই যেন ব্রাহ্মণ হয় এবং তাহাদিগের যেন ধর্ম্মে দৃঢ়তর আসক্তি থাকে। তখন মহর্ষি চ্যবন ‘তথাস্তু’ বলিয়া কুশিককে অভীষ্ট বর প্রদানপূর্ব্বক তাঁহার নিকট বিদায় লইয়া তীর্থপর্য্যটনে নির্গত হইলেন।

“হে ধৰ্ম্মরাজ! ভৃগুবংশীয়দিগের সহিত কৌশিকদিগের যেরূপে সম্বন্ধ নিবদ্ধ হইয়াছিল এবং যে কারণে কুশিকের পৌত্র ব্রাহ্মণত্ব ও ঋচীকের পৌত্র ক্ষত্রিয়ত্ব লাভ করিয়াছিলেন, তাহা আনুপূর্ব্বিক তোমার নিকট কীৰ্ত্তন করিলাম।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *