2 of 4

৬৪. নক্ষত্রযোগযুক্ত দানসময় নিরূপণ

৬৪তম অধ্যায়

নক্ষত্রযোগযুক্ত দানসময় নিরূপণ

যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! আমি আপনার মুখে অন্নদানের ফল শ্রবণ করিলাম, এক্ষণে কোন্ নক্ষত্রে কোন্ বস্তু দান করিলে কিরূপ ফললাভ হয়, তাহা কীৰ্ত্তন করুন।”

ভীষ্ম কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ! আমি এই স্থলে নারদ দেবকীসংবাদনামক এক প্রাচীন ইতিহাস কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। একদা দেবকী দেবরূপী নারদকে দ্বারকায় সমাগত দেখিয়া, এক্ষণে তুমি আমাকে যেরূপ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতেছ, ঐরূপ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিলেন। তখন নারদ তাঁহাকে সম্বোধনপূর্ধ্বক কহিলেন, ‘দেবি! কৃত্তিকানক্ষত্রে ঘৃতপয়সদ্বারা ব্রাহ্মণগণের তৃপ্তিসাধন করিলে উৎকৃষ্ট লোকলাভ হয়। রোহিণীনক্ষত্রে ব্রাহ্মণগণের আনৃণ্য লাভ করিবার নিমিত্ত তাঁহাদিগকে মৃগমাংস, অন্ন, ঘৃত, দুগ্ধ ও বিবিধ পানীয় প্রদান করিবে। মৃগশিরানক্ষত্রে সবৎস ধেনু প্রদান, করিলে সুরলোকলাভ হয়। আর্দ্রানক্ষত্রে উপবাস করিয়া তিলমিশ্রিত কৃষর [খিচুড়ী] প্রদান করিলে দেহান্তে অতি দুর্গম ক্ষুরধার পর্ব্বত অনায়াসে অতিক্রম করা যায়। পুনৰ্ব্বসুনক্ষত্রে পিষ্টক ও অন্ন প্রদান করিলে মনুষ্য পরজন্মে রূপসম্পন্ন ও যশস্বী হইয়া সুসমৃদ্ধ ব্যক্তির গৃহে জন্মগ্রহণ করিতে সমর্থ হয়। পুষ্যানক্ষত্রে সুবৰ্ণদান করিলে চন্দ্রের ন্যায় ভাস্কর লোকসমুদয় লাভ হইয়া থাকে। অশ্লেষানক্ষত্রে রজতবৃষ দান করিলে সকল ভয় হইতে মুক্তিলাভ ও ঐশ্বর্য্য অধিকার করা যায়। মঘানক্ষত্রে তিলপূর্ণ শরাব প্রদান করিলে ইহলোকে পুত্র ও পশু এবং পরলোকে অসীম সুখলাভ হইয়া থাকে। পূর্ব্বফাল্গুনীনক্ষত্রে উপবাস করিয়া ব্রাহ্মণগণকে ফাণিত [ফেণীবাতাসা] প্রভৃতি বিবিধ ভক্ষ্য প্রদান করিলে সৌভাগ্যলাভ হয়। উত্তরফাল্গুনীনক্ষত্রে ঘৃত ও ক্ষীরের সহিত ষষ্ঠধান্যের তণ্ডুল প্রদান করিলে দেবলোকে সমাদর লাভ হইয়া থাকে। শাস্ত্রে নির্দ্দিষ্ট আছে যে, এই নক্ষত্রে যেকোন বস্তু প্রদান করা যায়, তাহাই অক্ষয় ফল প্রদান করিয়া থাকে। হস্তানক্ষত্রে উপবাস করিয়া হস্তী ও রথ প্রদান করিলে পবিত্র অভীষ্টফলপ্রদ লোকসকল লাভ হয়। চিত্রানক্ষত্রে বৃষ ও গন্ধদ্রব্য দান করিলে অপ্সরাদিগের সহিত নন্দনকাননে বিহার করিতে পারা যায়। স্বাতীনক্ষত্রে আপনার প্রিয় বস্তু প্রদান করিলে ইহলোকে খ্যাতি প্রতিপত্তি ও পরলোকে শুভ লোকসমুদয় লাভ হয়। বিশাখানক্ষত্রে বৃষ, দুগ্ধবতী ধেনু এবং ধান্য, বস্ত্র ও বৃষের সহিত শকট প্রদান করিলে পিতৃ ও দেবগণের তৃপ্তিসাধন এবং দেহান্তে দুর্গম নরকসমুদয় অতিক্রমপূৰ্ব্বক অক্ষয় ফল এবং সুরলোক লাভ করিতে পারা যায়। অনুরাধানক্ষত্রে উপবাস করিয়া উত্তরীয়, পরিধেয় ও অন্ন দান করিলে শতযুগ দেবলোকে বাস করা যায়। জ্যেষ্ঠানক্ষত্রে ব্রাহ্মণগণকে মূল্যের সহিত কালশাক প্রদান করিলে ইহলোকে অভীষ্ট গতিলাভ হইয়া থাকে। মূলানক্ষত্রে সমাহিত হইয়া ব্রাহ্মণগণকে ফলমূল প্রদান করিলে পিতৃলোকের তৃপ্তি সম্পাদন ও অভিলষিত গতিলাভে সমর্থ হওয়া যায়। পুৰ্ব্বাষাঢ়ানক্ষত্রে উপবাস করিয়া কুলীন সচ্চরিত্র বেদবেদাঙ্গপারগ ব্রাহ্মণকে দধিপাত্র দান করিলে মনুষ্য দেহান্তে বহু গোধনসম্পন্ন ব্যক্তির গৃহে জন্মগ্রহণ করে। উত্তরাষাঢ়ানক্ষত্রে ঘৃত ও ফাণিতের সহিত উদককুম্ভ ও শক্তু প্রদান করিলে অভীষ্ট ফললাভ হইয়া থাকে। অভিজিৎনক্ষত্রে ধপরায়ণ হইয়া মনীষী ব্রাহ্মণগণকে মধুঘৃতসংযুক্ত দুগ্ধ প্রদান করিলে দেবলোকে পূজিত হওয়া যায়। শ্রবণানক্ষত্রে বস্ত্রান্তরিত কম্বল প্রদান করিলে শ্বেতবর্ণযানে আরোহণ করিয়া প্রকাশ্যলোকে গমন করিতে পারা যায়। ধনিষ্ঠানক্ষত্রে সমাহিত হইয়া গোসংযুক্ত যান, বস্ত্র ও ধন প্রদান করিলে জন্মান্তরে রাজ্যলাভ হয়। শতভিষানক্ষত্রে অগুরুচন্দন প্রভৃতি গন্ধদ্রব্যসমুদয় দান করিলে দেহান্তে অপ্সরাদিগের সহিত একত্র বাস ও দিব্যগন্ধসমুদয় লাভ হইয়া থাকে। পূৰ্ব্বভাদ্রপদনক্ষত্রে রাজমাষ [মাসকলাই] প্রদান করিলে মনুষ্য দেহান্তে সুখী ও সৰ্ব্বভক্ষ্যসম্পন্ন হয়। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্রে যিনি ব্রাহ্মণকে মেষমাংস প্রদান করেন, তিনি পিতৃলোকের তৃপ্তিসম্পাদনে ও দেহান্তে অনন্তফললাভে সমর্থ হয়েন। যিনি রেবতীনক্ষত্রে কাংস্যদোহনপাত্রের [কাঁসার দোহন পাত্রের] সহিত ধেনু দান করেন, তিনি লোকাস্তরপ্রাপ্তি হইলে ঐ ধেনু পুনরায় সমীপবর্ত্তিনী হইয়া সমুদয় অভিলাষ পূর্ণ করিয়া থাকে। অশ্বিনীনক্ষত্রে অশ্বের সহিত রথ প্রদান করিলে মনুষ্য পরজন্মে তেজস্বী হইয়া হস্তী, অশ্ব ও রথসম্পন্ন ব্যক্তির গৃহে জন্মগ্রহণ করিতে সমর্থ হয়। ভরণীনক্ষত্রে ব্রাহ্মণগণকে তিলধেনু প্রদান করিলে পরলোকে প্রভূত ধেনু ও যশোলাভ করিতে পারা যায়।

“হে ধৰ্ম্মরাজ! দেবী দেবকী দেবর্ষি নারদের মুখে এইরূপে যে যে নক্ষত্রে যে বস্তু প্রদান করিলে যেরূপ ফললাভ হয়, তৎসমুদয় শ্রবণ করিয়া পুত্রবধূগণের নিকট আনুপূর্ব্বিক কীৰ্ত্তন করিয়াছিলেন।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *