2 of 4

৮০. সৌদাসের প্রতি বশিষ্ঠের গোদান-উপদেশ

৮০তম অধ্যায়

সৌদাসের প্রতি বশিষ্ঠের গোদান-উপদেশ

‘মহর্ষি বশিষ্ঠ কহিলেন, ‘হে মহারাজ! সায়ংকালে ও প্রাতঃকালে আচমনপূর্ব্বক “ঘৃতক্ষীরপ্রদা ঘৃতোৎপাদিকা ঘৃতনদী ও ঘৃতবের্ত্তস্বরূপা ধেনুসমুদয় নিরন্তর আমার আলয়ে বিরাজিত হউন; ঘৃত আমার হৃদয়ে, নাভিতে, সর্ব্বাঙ্গে ও মনোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত আছে; ধেনুসমুদয় আমার অগ্রে, পশ্চাতে ও চতুর্দ্দিকে রহিয়াছে; আমি সতত গোমধ্যে বাস করিয়া থাকি,” এই মন্ত্র জপ করা অবশ্য কর্ত্তব্য। যে পুরুষ সন্ধ্যা ও প্রভাতসময়ে আচমনপূৰ্ব্বক এই মন্ত্র জপ করেন, তাঁহার দিব্যসঞ্চিত পাপসমুদয় বিনষ্ট হইয়া যায়। যে স্থানে সুবর্ণময় প্রাসাদসমুদয় সুশোভিত ও সুরনদী মন্দাকিনী প্রবাহিত হইতেছে, যথায় অপ্সরা ও গন্ধৰ্ব্বেরা নিরন্তর বাস করিতেছে এবং যথায় নবনীতরূপ পঙ্কসঙ্কুল [কর্দ্দমাক্ত], ক্ষীররূপ নীরযুক্ত, দধিরূপ শৈবালজালমণ্ডিত নদীসমুদয় প্রবাহিত হইতেছে, সহস্র গোদাতা দেহান্তে সেই উৎকৃষ্ট স্থানে গমন করিয়া থাকেন।

যিনি বিধানানুসারে লক্ষ গোদান করেন, তিনি পরম সমৃদ্ধি লাভ করিয়া দেবলোকে সমাদৃত হয়েন। তাহার পুণ্যবলে তাঁহার পিতৃকুলের দশ পুরুষও উৎকৃষ্ট লোক লাভ করেন এবং তাঁহার কুল পরম পবিত্র হয়। ধেনুপ্রমাণ [গাভীর তুল্য পরিমিত] তিলধেনু প্রদান করিলে যমলোকে কিছুমাত্র যাতনা হয় না। গোসমুদয় পরমপবিত্র, জগতের অবলম্বন, দেবগণের মাতা ও উপমারহিত। উহাদিগকে যজ্ঞে নিধন [পূজা], যাত্রাকালে দক্ষিণপার্শ্বে রাখিয়া গমন ও উপযুক্তকালে সৎপাত্রে প্রদান করিবে। কাংস্যদোহনপাত্র, বসন ও উত্তরীয়ের সহিত শৃঙ্গসম্পন্না সবৎসা ধেনু প্রদান করিলে নিতান্ত দুষ্প্রবেশ্য যমসভায় নির্ভয়ে প্রবেশ করিতে পারা যায়। “সুরূপা, বহুরূপা, মাতৃরূপা ধেনুসমুদয় আমার মঙ্গলবিধান করুন”, প্রতিদিন এই বাক্য কীৰ্ত্তন করা সকলেরই কর্ত্তব্য। গোদান অপেক্ষা উৎকৃষ্ট দান ও গোদানফল অপেক্ষা উৎকৃষ্ট ফল আর কিছুই নাই। গোদান কার্য্য অপেক্ষা উৎকৃষ্ট কার্য্য কখন হয় নাই, হইবেও না। ধেনু ত্বক, লোম, শৃঙ্গ, পুচ্ছ, দুগ্ধ ও মেদদ্বারা যজ্ঞ সাধন করিয়া থাকে, সুতরাং উহা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট আর কি আছে? যাহাদ্বারা এই চরাচর জগৎ ব্যাপ্ত হইয়া রহিয়াছে, সেই ভূত-ভবিষ্যের প্রসূতি [বিধানকর্ত্রী] ধেনুকে নমস্কার করি।

‘মহারাজ! এই আমি গোসমূহের গুণসমুদয়ের কিয়দ্দংশমাত্র কীৰ্ত্তন করিলাম। ফলতঃ গোদান অপেক্ষা উৎকৃষ্ট দান এবং গোসমুদয় অপেক্ষা উস্কৃষ্ট আশ্রয় আর কিছুই নাই।’ ”

ভীষ্ম কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ! মহর্ষি বশিষ্ঠ এই কথা কহিলে মহারাজ সৌদাস গোদান করাই সর্ব্বোৎকৃষ্ট কার্য্য, এই চিন্তা করিয়া ব্রাহ্মণগণকে গোদান করিতে লাগিলেন। ঐ কার্য্যপ্রভাবে তাঁহার উৎকৃষ্ট লোকসমুদয় লাভ হইয়াছে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *