2 of 4

৯৯. বলিদানকারণপ্রশ্নে অগস্ত্য-নহুষসংবাদ

৯৯তম অধ্যায়

বলিদানকারণপ্রশ্নে অগস্ত্য-নহুষসংবাদ

যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! পুষ্প, ধূপ ও বলিপ্রদাতাদিগের যেরূপ ফললাভ হয়, তাহা শ্রবণ করিলাম। এক্ষণে গৃহগণ কি নিমিত্ত বলি প্রদান করিয়া থাকেন, তাহা পুনরায় শ্রবণ করিতে বাসনা করি।”

ভীষ্ম কহিলেন, “মহারাজ! মহর্ষি ভৃগু, অগস্ত্য এবং নরপতি নহুষের কথোপকথনপ্রসঙ্গে যে এক পুরাতন ইতিহাস কীৰ্ত্তিত আছে, আমি এই উপলক্ষ্যে তাহা কহিতেছি, শ্রবণ কর। নরপতি নহুষ স্বীয় পুণ্যবলে স্বর্গে গমন করিয়া তথায় প্রথমতঃ দৈবী ও মানুষী ক্রিয়াসমুদয়ের অনুষ্ঠান করিয়াছিলেন। তিনি সমিধ ও কুশ আহরণ করিয়া হোমানুষ্ঠান, অন্ন ও লাজদ্বারা বলিপ্রদান এবং ধূপদীপ দান, ধ্যান, জপ ও শাস্ত্রানুসারে দেবার্চ্চনা প্রভৃতি বিবিধ কার্য্যকলাপের অনুষ্ঠান করিতেন। কিয়দ্দিন পরে ‘আমি ইন্দ্রত্ব লাভ করিয়াছি’ বলিয়া তাঁহার মনোমধ্যে অহঙ্কারের আবির্ভাব হইল; সুতরাং তাঁহার পুৰ্ব্বাচরিত ক্রিয়াকলাপেরও লোপ হইতে লাগিল। পরিশেষে তিনি একান্ত গর্ব্বিত হইয়া ঋষিগণকে বাহক করিলেন। ঋষিগণ পৰ্য্যায়ক্রমে তাঁহার যান বহন করিতে লাগিলেন। এইরূপে বহুকাল অতীত হইলে একদা মহর্ষি অগস্ত্যের পৰ্য্যায় সমাগত হইল। ঐ দিন ব্রহ্মবিদগণের অগ্রগণ্য মহাতপা, ভৃগু ভগবান অগস্ত্যের আশ্রমে সমুপস্থিত হইয়া তাঁহাকে সম্বোধনপুৰ্ব্বক কহিলেন, ‘ভগবন্‌! পাপাত্মা নহুষ আমাদিগের প্রতি যারপরনাই অত্যাচার করিতেছে, আমরা কোনরূপেই তাহার অত্যাচার সহ্য করিতে সমর্থ হইতেছি না; অতএব আপনি উহা নিবারণের উপায়বিধান করুন।’

“অগস্ত্য কহিলেন, ‘মহর্ষে! দুরাত্মা নহুষ ব্রহ্মার নিকট যে বর প্রাপ্ত হইয়াছে, তাহা আপনার অবিদিত নাই। এক্ষণে আমি কিরূপে তাহাকে শাপ প্রদান করিতে সমর্থ হইব? ঐ পামর স্বর্গারোহণসময়ে সর্ব্বলোকপিতামহ ভগবান্ ব্ৰহ্মর নিকট “আমি দৃষ্টিমাত্রে সকলের তেজোহ্রাস করিব” বলিয়া বর গ্রহণ করিয়াছে এবং ভগবান্ ব্ৰহ্মও তাহাকে ঐ বর ও তাহার পানাৰ্থ অমৃত প্রদান করিয়াছেন। এই নিমিত্তই কি আপনি, কি আমি, কি অন্যান্য মহর্ষিগণ আমরা কেহই এতাবৎকাল তাহাকে দগ্ধ বা নিপাতিত করিতে পারিতেছি না। যাহা হউক, ঐ দুরাত্মা এক্ষণে বরদর্পিত হইয়া ব্রাহ্মণগণকে নিতান্ত নিপীড়িত করিতেছে। অতএব অদ্য আপনি আমাকে যেরূপ উপদেশ প্রদান করিবেন, আমি সেইরূপ কাৰ্য্যে প্রবৃত্ত হইব, সন্দেহ নাই।

“তখন ভৃগু কহিলেন, “ভগবন্! আমি নিতান্ত মোহিত হইয়া নহুষকে প্রতিফল প্রদান করিবার নিমিত্ত সৰ্ব্বলোকপিতামহ ভগবান্ ব্রহ্মার আজ্ঞানুসারে আপনার নিকট সমুপস্থিত হইয়াছি। পাপপরায়ণ দুরাত্মা নহুষ আজ আপনাকে রথের বাহক করিবে স্থির করিয়াছে; অতএব আজ আমি আপনার সমক্ষেই স্বীয় তেজঃপ্রভাবে সেই পামরকে ইন্দ্রত্ব হইতে পরিভ্রষ্ট করিয়া পুরন্দরকে ইন্দ্রত্ব প্রদান করিব, সন্দেহ নাই। আজ যখন সেই ব্রাহ্মণদ্রোহী পাপাত্মা মত্ততানিবন্ধন আত্মবিনাশের নিমিত্ত আপনাকে পদাঘাত করিবে, সেই সময় আমি রোষাবিষ্ট হইয়া আপনার সমক্ষে “তুমি সর্প হও” বলিয়া তাহাকে অভিশাপ প্রদানপূর্ব্বক ভূতলে নিপতিত করিব। এক্ষণে এ বিষয়ে আপনার মত কি, তাহা ব্যক্ত করুন।’ মহর্ষি ভৃগু এই কথা কহিলে ভগবান অগস্ত্য তাহার বাক্যশ্রবণে যারপরনাই প্রীতিযুক্ত হইলেন।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *