৮৯তম অধ্যায়
বিভিন্ন নক্ষত্রে অনুষ্ঠেয় কাম্যশ্রাদ্ধ
ভীষ্ম কহিলেন, “বৎস! এক্ষণে যম নরপতি শশবিন্দুকে ভিন্ন ভিন্ন নক্ষত্রে যেসমুদয় কাম্যশ্রাদ্ধের উপদেশ প্রদান করিয়াছিলেন, তাহা কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। যে ব্যক্তি কৃত্তিকানক্ষত্রে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করে, সে শোকসন্তাপবিহীন ও পুত্রবান হইয়া যজ্ঞানুষ্ঠান করিতে সমর্থ হয়। রোহিণীনক্ষত্রে সন্তান ও মৃগশিরানক্ষত্রে তেজঃ কামনা করিয়া শ্রাদ্ধ করা কর্ত্তব্য। আর্দ্রানক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে মানবদিগের ক্রূরকাৰ্য্যে প্রবৃত্তি ও পূনৰ্ব্বসুনক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে কৃষিকার্য্যের উন্নতি হয়। পুষ্টিকামনা করিয়া পুষ্যানক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করা কর্ত্তব্য। অশ্লেষানক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিয়া অতিশান্তস্বভাবসম্পন্ন পুত্র, মঘানক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে জ্ঞাতিগণমধ্যে প্রাধান্য, পূর্ব্বফাল্গুনীনক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে সৌভাগ্য, উত্তরফাল্গুনীনক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে অপত্য, হস্তানক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে ইষ্টফল, চিত্রানক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে রূপবান পুত্র, স্বাতীনক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে বাণিজ্যের উন্নতি, বিশাখানক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে বহুপুত্র, অনুরাধানক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে রাজ্য, জ্যেষ্ঠানক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে আধিপত্য, মূলানক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে আরোগ্য, পূর্ব্বাষাঢ়ানক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে উৎকৃষ্ট বিদ্যা, শ্রবণানক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে পরলোকে সদ্গতি, ধনিষ্ঠানক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে রাজ্যভোগ, পূৰ্ব্বভাদ্রপদ নক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে ছাগমেষাদি, উত্তরভাদ্রপদে শ্রাদ্ধ করিলে অসংখ্য গোধন, রেবতীনক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে কাংস্যপিত্তলাদিময় দ্রব্যজাত, অশ্বিনীনক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে অশ্বসমূহ এবং ভরণীনক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করিলে সুদীর্ঘ আয়ুঃ লাভ হইয়া থাকে।
“হে ধৰ্ম্মরাজ! নরপতি শশবিন্দু যমের নিকট এইরূপ শ্রাদ্ধনিয়ম শ্রবণপূর্ব্বক ইহার অনুষ্ঠান করিয়া অনায়াসে পৃথিবী পরাজয় ও শাসন করিয়া গিয়াছেন।”
