2 of 4

৮৭. শ্রাদ্ধবিধিবর্ণন

৮৭তম অধ্যায়

শ্রাদ্ধবিধিবর্ণন

যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! আমি আপনার নিকট চাতুর্ব্বর্ণের ধর্ম্মসমুদয় শ্রবণ করিয়াছি। এক্ষণে শ্রাদ্ধবিধি শ্রবণ করিতে আমার নিতান্ত বাসনা হইতেছে; অতএব আপনি উহা সবিস্তর আমার নিকট কীৰ্ত্তন করুন।”

তখন মহাত্মা ভীষ্ম যুধিষ্ঠিরকে সম্বোধনপূৰ্ব্বক কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ! আমি ধন্য যশস্য, বংশবৃদ্ধিকর ও পবিত্র শ্রাদ্ধবিধি কীৰ্ত্তন করিতেছি, অবহিত হইয়া শ্রবণ কর। কি দেবতা, কি অসুর, কি মনুষ্য, কি গন্ধৰ্ব্ব, কি উরগ, কি রাক্ষস, কি পিশাচ, কি কিন্নর সকলেরই সৰ্ব্বদা পিতৃগণের অর্চ্চনা করা কর্ত্তব্য। মহাত্মারা অগ্রে পিতৃগণের অর্চ্চনা করিয়া পরিশেষে, দেবগণের পূজা করিয়া থাকেন। অতএব মানবগণ সর্ব্বদা বিবিধ যত্নসহকারে পিতৃগণের পূজা করিবে। পণ্ডিতেরা প্রতি অমাবস্যায় পিতৃ-উদ্দেশে পিণ্ডদান করাকেই শ্রাদ্ধের সামান্য বিধি বলিয়া নির্দ্দেশ করেন। কিন্তু সমুদয় তিথিতেই শ্রাদ্ধ করিলে পিতৃগণ পরিতৃপ্ত হয়েন। এক্ষণে যে যে তিথিতে শ্রাদ্ধ করিলে যে যে ফললাভ হয়, তৎসমুদয় তোমার নিকট কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর।

‘মনুষ্য কৃষ্ণপক্ষে প্রতিপদে শ্রাদ্ধ করিলে বহুপুত্রপ্রসবিনী পরমাসুন্দরী স্ত্রীসমুদয়, দ্বিতীয়াতে শ্রাদ্ধ করিলে কন্যা, তৃতীয়াতে শ্রাদ্ধ করিলে বিবিধ অশ্ব, চতুর্থীতে শ্রাদ্ধ করিলে অসংখ্য পশু, পঞ্চমীতে শ্রাদ্ধ করিলে বহুপুত্র, ষষ্ঠীতে শ্রাদ্ধ করিলে সৌন্দর্য্য, সপ্তমীতে শ্রাদ্ধ করিলে কৃষিকার্য্যের উৎকর্ষ, অষ্টমীতে শ্রাদ্ধ করিলে বাণিজ্যের উন্নতি, নবমীতে শ্রাদ্ধ করিলে বিবিধ অখণ্ডিত খুরযুক্ত পশু, দশমীতে শ্রাদ্ধ করিলে অসংখ্য গোধন, একাদশীতে শ্রাদ্ধ করিলে পুত্র ও সুবর্ণরজত ভিন্ন ধাতুসমুদয়, দ্বাদশীতে শ্রাদ্ধ করিলে বিচিত্র সুবর্ণ ও রজত এবং ত্রয়োদশীতে শ্রাদ্ধ করিলে জ্ঞাতিদিগের মধ্যে প্রাধান্য লাভ করিয়া থাকে। যে ব্যক্তি চতুর্দ্দশীতে শ্রাদ্ধ করে, তাহাকে যুদ্ধকার্য্যে ব্যাপৃত হইতে হয় এবং তাহার গৃহস্থিত মানবগণ যৌবনাবস্থায় কালকবলে নিপতিত হয়। অমাবস্যায় শ্রাদ্ধ করিলে সমুদয় কামনা পূর্ণ হইয়া থাকে। শাস্ত্রে চতুর্দ্দশী ভিন্ন কৃষ্ণপক্ষীয় দশমী হইতে অমাবস্যা পর্য্যন্ত সমুদয় তিথিই শ্রাদ্ধের প্রশস্ত কাল বলিয়া নির্দ্দিষ্ট আছে। শুক্লপক্ষ অপেক্ষা কৃষ্ণপক্ষ যেমন শ্রাদ্ধের উৎকৃষ্ট কাল, তদ্রূপ পূৰ্ব্বাহ্ণ অপেক্ষা অপরাহ্ণই শ্রাদ্ধের প্রশস্ত কাল বলিয়া নির্দ্দিষ্ট হইয়া থাকে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *