৭১তম অধ্যায়
গোদানপ্রশংসায় উদ্দালকি-নচিকেতসংবাদ
যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! গোদানফল শ্রবণ করিয়া আমার কিছুতেই তৃপ্তিলাভ হইতেছে না, অতএব গোদান করিলে কিরূপ ফললাভ হয়, আপনি তাহা সবিস্তর কীৰ্ত্তন করুন।”
ভীষ্ম কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ! এই স্থানে আমি উদ্দালকি নাচিকেতসংবাদনামক এক প্রাচীন ইতিহাস কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। পূর্ব্বে মহর্ষি উদ্দালকি নদীতীরে এক নিয়ম অনুষ্ঠান করিয়াছিলেন। সেই নিয়ম সমাপ্ত হইলে আপনার পুত্র নাচিকেতের নিকট আগমনপূর্ব্বক কহিলেন, ‘বৎস! আমি স্নান ও নিবিষ্টচিত্তে বেদপাঠে আসক্ত হইয়া নদীতীরে কাষ্ঠ, কুশ, পুষ্প, কলস ও ভোজনদ্রব্যসমুদয় বিস্মৃত হইয়া আসিয়াছি; অতএব তুমি সত্বর তথায় গমন করিয়া তৎসমুদয় আনয়ন কর।’ নাচিকেত পিতার আদেশ প্রাপ্ত হইবামাত্র অবিলম্বে নদীতীরে গমন করিয়া দেখিলেন, তাঁহার পিতা যেসমস্ত দ্রব্য তথায় বিস্মৃত হইয়া গিয়াছেন, নদীস্রোত তৎসমুদয় প্রবাহিত করিয়াছে। তখন নাচিকেত পিতার নিকট সমুপস্থিত হইয়া কহিলেন, ‘পিতঃ! আপনি আমাকে যেসমস্ত দ্রব্য আনয়নার্থ আদেশ করিয়াছিলেন, আমি তৎসমুদয় তথায় প্রাপ্ত হইলাম না।’ মহর্ষি উদ্দালকি একান্ত পরিশ্রান্ত ও ক্ষুৎপিপাসায় নিতান্ত ক্লান্ত হইয়াছিলেন, তিনি পুত্রের সেই বাক্যশ্রবণে নিতান্ত ক্রূদ্ধ হইয়া তাহাকে ‘তোমার অচিরাৎ যমদর্শন হউক’ বলিয়া অভিসম্পাত করিলেন। উদ্দালকি এইরূপ বা নিক্ষেপ করিবামাত্র তাঁহার পুত্র কৃতাঞ্জলিপুটে ‘আমার প্রতি প্রসন্ন হউন’ এই কথা বলিতে বলিতেই গতাসু হইয়া ভূতলে নিপতিত হইলেন। তখন মহর্ষি উদ্দালকি পুত্রকে মৃত ও ভূতলে পতিত দেখিয়া, ‘হায়! আমি কি কুকৰ্ম্ম করিলাম’ বলিয়া দুঃখাবেশপ্রভাবে ভূতলে বিলুণ্ঠিত হইয়া নিতান্ত ব্যাকুলিতচিত্তে নানাপ্রকার বিলাপ ও পরিতাপ করিতে লাগিলেন। ক্রমে দিবস ও রজনী অতিক্রান্ত হইল।
পিতৃশাপমৃত পুত্রের জীবনলাভ—যমপুরীবর্ণন
“নাচিকেত এতাবৎকাল গতাসু হইয়া কুশাসনে শয়ন করিয়া ছিলেন। তিনি প্রভাতসময়ে জলসেকভাবে শস্য যেমন সতেজ হয়, সেইরূপ পিতার অবিরল নিপতিত বাষ্পবারিদ্বারা অভিষিক্ত হইয়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করিতে লাগিলেন এবং অচিরাৎ পুনর্জ্জীবিত হইয়া স্বপ্নপগমনান্তর [নিদ্রাভঙ্গে] উত্থিত ব্যক্তির ন্যায় গাত্রোত্থান করিলেন। ঐ সময়ে তিনি দুর্ব্বল হইয়াছিলেন ও তাঁহার গাত্র হইতে দিব্যগন্ধ নির্গত হইতেছিল। তখন মহর্ষি উদ্দালকি পুত্রকে পুনঃপ্রত্যাগত দেখিয়া সন্তুষ্টচিত্তে কহিলেন, ‘বৎস! তুমি আপনার কার্য্যপ্রভাবে ত’ শুভলোকসমুদয় দর্শন করিয়াছ? তোমার এই দেহ মনুষ্যদেহ নহে। যাহা হউক, এক্ষণে আমার ভাগ্যবলেই তুমি পুনর্জ্জীবিত হইলে।
“মহর্ষি উদ্দালকি এই কথা কহিলে, নাচিকেত অন্যান্য মহর্ষিগণের সমক্ষে তাঁহাকে সম্বোধনপূৰ্ব্বক কহিলেন, ‘পিতঃ! আমি আপনার আদেশ প্রতিপালন করিবার নিমিত্ত যমসদনে সমুপস্থিত হইয়া যমের সহযোজন বিস্তীর্ণ সুবর্ণের ন্যায় উজ্জ্বল এক সভা নিরীক্ষণ করিলাম। আমি সেই সভা দর্শন ও তথায় প্রবেশ করিবামাত্র যম আমাকে নিরীক্ষণ করিয়া আমার উপবেশনার্থ এক আসন আনয়ন করিতে অনুমতি করিলেন এবং আপনার প্রতি গাঢ়তর ভক্তিনিবন্ধন আমাকে অর্ঘ্যাদিদ্বারা পূজা করিতে লাগিলেন।
‘অনন্তর আমি আসনে উপবিষ্ট এবং কৃতান্তের সদস্যগণকর্ত্তৃক সৎকৃত ও পরিবৃত হইয়া মৃদুবাক্যে যমকে সম্বোধনপূর্ব্বক কহিলাম, “ধৰ্ম্মরাজ! আমি আপনার রাজ্যে সমুপস্থিত হইয়াছি, এক্ষণে আমি যে লোকের উপযুক্ত, আমাকে তথায় প্রেরণ করুন।” তখন যমরাজ আমার বাক্য শ্রবণ করিয়া আমাকে সম্বোধনপূর্ব্বক কহিলেন, “ভগবন! আপনার মৃত্যু হয় নাই, আপনার পিতা হুতাশনের ন্যায় তেজস্বী। তিনি ক্রোধাবিষ্ট হইয়া আপনাকে কহিয়াছিলেন, তোমার অবিলম্বে যমদর্শন হউক। তাঁহার সেই বাক্য নিরর্থক করা আমার সাধ্যায়ত্ত নহে, এই নিমিত্তই এই স্থানে আপনাকে আনয়ন করিয়াছি। এক্ষণে আপনি আমাকে অবলোকন করিলেন, অতঃপর প্রতি গমন করুন। আপনার পিতা আপনার বিরহে অতিশয় শোকাকুল হইয়া বিলাপ ও পরিতাপ করিতেছেন। আপনি আমার প্রিয়তর অতিথি; অতএব আপনার যাহা ইচ্ছা হয়, প্রার্থনা করুন, আমি অবশ্যই তাহা সফল করিব।”
‘কৃতান্ত আমাকে এই কথা কহিলে আমি তাঁহাকে সম্বোধনপূৰ্ব্বক কহিলাম, “ধৰ্ম্মরাজ! আমি এক্ষণে আপনার অধিকারে সমুপস্থিত হইয়াছি। এ স্থানে আগমন করিলে আর কাহারও প্রতিগমন করিবার ক্ষমতা থাকে না। যাহা হউক, যদি আমার অভিলাষ পূর্ণ করিতে আপনার ইচ্ছা থাকে, তাহা হইলে আপনি আমাকে পুণ্যোপার্জ্জিত উৎকৃষ্ট লোকসমুদয় প্রদর্শন করুন।”
নাচিকেতের যমপুরীর ঐশ্বর্য্যদর্শন
‘আমি এইরূপ প্রার্থনা করিলে যমরাজ আমার বাক্য শ্রবণ করিবামাত্র এক অশ্বসংযুক্ত প্রভাসম্পন্ন রথে আমাকে আরোপিত করিয়া পুণ্যোপার্জ্জিত লোকসমুদয়ে গমন করিলেন। আমি তথায় সমুপস্থিত হইয়া দেখিলাম, পুণ্যাত্মাদিগের নিমিত্ত চন্দ্রমণ্ডলের ন্যায় শুভ্রবর্ণ, কিঙ্কিণীজড়িত সৰ্ব্বরত্নসংযুক্ত, বৈদূর্য্যমণি ও সূর্য্যের ন্যায় প্রভাসম্পন্ন, অনেক তলযুক্ত নানাপ্রকার সুবর্ণ ও রজতময় গৃহ প্রস্তুত রহিয়াছে। ঐ সমুদয় গৃহের মধ্যে কতকগুলি একস্থানেই অবস্থান এবং কতকগুলি কি জল, কি স্থল উভয়ই তুল্যরূপে সঞ্চরণ করিতেছে। ঐ সমস্ত গৃহে বিবিধ বসন, নানাপ্রকার শয্যা, ভক্ষ্যভোজ্যময় পৰ্ব্বত ও সৰ্ব্বকামফলপ্রদ বৃক্ষসমুদয় রহিয়াছে। আমি তথায় ঐ সমুদয় দ্রব্য এবং নদী, সভা, বাপী, দীর্ঘিকা, বাহনযুক্ত যান, ক্ষীরনদী ও ঘৃতহ্রদ প্রভৃতি অত্যাশ্চর্য্য ও রমণীয় বস্তুসমুদয় প্রত্যক্ষ করিয়া যমকে সম্বোধনপূৰ্ব্বক কহিলাম, “ধৰ্ম্ম। আমি এক্ষণে যেসমস্ত বস্তু নিরীক্ষণ করিতেছি, এই সকল কাহার ভোগের নিমিত্ত প্রস্তুত রহিয়াছে?”
যমকর্ত্তৃক গোদান পরিপাটীবর্ণন
“যম কহিলেন, ‘তপোধন! যাঁহারা দুগ্ধাদি প্রদান করেন, এই দুগ্ধাদির হ্রদ তাঁহাদিগের নিমিত্ত প্রস্তুত রহিয়াছে। যাঁহারা গোদান করেন, তাঁহাদের নিমিত্ত সেই সমস্ত শোকশূন্য নিত্যলোক প্রতিষ্ঠিত আছে। হে তপোধন! সামান্যতম গোদান করিলেই যে এই সমস্ত শুভলোকলাভ হয়, এরূপ নহে। গোদানের বিশেষ বিধি আছে। পাত্র, কাল, গোবিশেষ ও গোদানবিধি সবিশেষ অবগত হইয়া গোদান করা কর্ত্তব্য। যাঁহার আবাসে থাকিলে গোসমূহকে সূর্য্য ও অনলের উত্তাপজনিত ক্লেশ ভোগ করিতে হয় না, যিনি স্বাধ্যায়নিত, তপস্বী ও যজ্ঞানুষ্ঠানপরায়ণ, সেই ব্রাহ্মণই গোদানের বিশিষ্ট পাত্র। যেসমস্ত ধেনু অক্লিষ্ট ও হৃষ্টপুষ্ট, তাহাদিগকে ব্রাহ্মণসাৎ করা উচিত। তিন রাত্রি ভূমিশয্যায় শয়ন ও সলিলমাত্র পান করিয়া ব্রাহ্মণগণের তৃপ্তিসাধনপূর্ব্বক তাঁহাদিগকে সবৎসা ধেনু প্রদান করিবে এবং গোদান করিয়া তিন রাত্রি দুগ্ধ পান করিয়া থাকিবে। এইরূপ বিধি অনুসারে কাংস্যদোহনপাত্রের সহিত সবৎসা অপলায়িনী [অঞ্চল-শান্ত] ধেনু দান করিলে ঐ ধেনুর গাত্রে যতগুলি রোম থাকে, তত বৎসর স্বর্গভোগ হয়, সন্দেহ নাই। ব্রাহ্মণগণকে দমিত, ভারবহ, বলবান, সুদীর্ঘকায়, পরের অনিসাধনে পরাঙ্মুখ বৃষ দান করিলে ধেনুদানের তুল্য ফললাভ হয়। গোসমূহ কোন অপকার করিলে যাঁহারা তদ্বিষয়ে ক্ষমাপ্রদর্শন করেন, যাঁহারা উহাদিগের রক্ষণাবেক্ষণে সতত সত্ন থাকেন এবং যাঁহারা কৃতজ্ঞ, বৃত্তিহীন, বৃদ্ধ ও রোগী, তাঁহাদিগকেই গোদান করা কর্ত্তব্য। ব্রাহ্মণের যজ্ঞ, কৃষ্যাদি কার্য্য, হোম ও বালকপোষণার্থ গোদান করিবে। দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হইলে গোপন করা অবশ্য কর্ত্তব্য। গুরুকার্য্যসাধন এবং পুত্ৰ উৎপন্ন হইলে তাহার কল্যাণার্থ ও শুভ সম্পাদনের নিমিত্ত গোদান করা উচিত। দুগ্ধবতী, ধনক্রীত [টাকা দিয়া কেনা], বিদ্যালব্ধ, মেধাদি প্রাণীর বিনিময়ে ক্রীত, পণলব্ধ ও যৌতুকপ্রাপ্ত গোসমুদয়ই দানবিষয়ে প্রশস্ত বলিয়া নির্দ্দিষ্ট হইয়া থাকে।”
যমরাজ এইরূপে ধেনুদানের মাহাত্ম্য কীৰ্ত্তন করিলে আমি পুনরায় তাঁহাকে কহিলাম, “ধৰ্ম্মরাজ! মনুষ্য গোদানের অভাবে কি বস্তু দান করিয়া গোদানের ফললাভ করিবে, আপনি তাহা সবিস্তর কীৰ্ত্তন করুন।” তখন যম কহিলেন, ‘ভগবন্! ধেনুর অভাবে ধেনুর প্রতিরূপ দান করিলে গোদানের ফললাভ হইয়া থাকে। মনুষ্য গোপ্রদান না করিয়াও গোপ্রদ বলিয়া অভিহিত হইতে পারে। যিনি ধেনুর অভাবে মৃতধেনু প্রদান করেন, পরলোকে ঐ ঘৃতধেনু সবৎসা ধেনু যেমন দুগ্ধ ক্ষরণ করে, সেইরূপ দাতার নিমিত্ত অমৃত ক্ষরণ করে। ধৃতের অভাবে যিনি তিলধেনু প্রদান করেন, তিনি সেই পুণ্যপ্রভাবে ইহকালে বিষম, সঙ্কট হইতে উত্তীর্ণ হয়েন এবং পরকালে ক্ষীরনদী উপভোগ করিতে থাকেন। তিলের অভাবে যিনি জলধেনু প্রদান করেন, তিনি পরলোকে অভীষ্টফলপ্রসবিনী সুশীতল স্রোতস্বতী উপভোগ করিতে সমর্থ হয়েন।”
‘হে পিতঃ। ধর্ম্মরাজ আমার প্রতি প্রসন্ন হইয়া এইরূপে পবিত্রলোক প্রদর্শন করাতে আমি যারপরনাই আনন্দিত হইয়াছি। আমি যমরাজের অনুগ্রহে ধেনুদানরূপ মহাযজ্ঞের ফল অবগত হইয়াছি, অতঃপর ঐ যজ্ঞের অনুষ্ঠানপূর্ব্বক উহার ফল ভোগ করিব। আপনি আমাকে শাপপ্রদান করাতে আমার প্রতি আপনার অনুগ্রহ প্রদর্শন করা হইয়াছে। আপনি অভিসম্পাত না করিলে আমি কখনই যমকে নিরীক্ষণ করিতে পারিতাম না। এক্ষণে আমি স্বচক্ষে দানফল প্রত্যক্ষ করিয়া আসিয়াছি, অতঃপর অসন্দিগ্ধরূপে দানধৰ্ম্ম অনুষ্ঠান করিব।
‘ধৰ্ম্মরাজ প্রফুল্লমনে আমাকে পুনঃ পুনঃ এই কথা কহিয়াছেন, মনুষ্যের সতত অভীষ্ট বস্তু দান, বিশেষতঃ গোদান করা অবশ্য কৰ্ত্তব্য। এই দানধৰ্ম্ম অতিশয় পবিত্র। আপনি ইহাতে কদাচ অনাদর প্রদর্শন করিবেন না। গোদানের ফললাভে কিছুমাত্র সংশয়াপন্ন না হইয়া প্রতিনিয়ত সৎপাত্রে গোদান করিতে যত্নবান হউন। দানধর্ম্মনিরত, প্রশান্তস্বভাব মহাত্মারা পূর্ব্বে ফললাভবিষয়ে কিছুমাত্র সন্দিহান না হইয়া সাধ্যানুসারে গোদান করিয়াছিলেন। পবিত্ৰাত্মা, শ্রদ্ধাশীল মনুষ্যেরা মৎসরশূন্য হইয়া যথাকালে শক্তি-অনুসারে গোদানপূর্ব্বক এই সমস্ত লোক লাভ করিয়া সুরলোকে বিরাজিত রহিয়াছেন। পাত্রকে সবিশেষ পরীক্ষা করিয়া গোষ্ঠাষ্টমীতে ন্যায়োপার্জ্জিত গোধন প্রদান করিবে। গোদান করিয়া দশ দিবস দুগ্ধ ও গোমূত্র পান এবং গোময় ভক্ষণ করিয়া থাকিবে। বৃষপ্রদান করিলে দেবব্রতের ফললাভ, দুইটি গোদান করিলে বেদলাভ [বেদজ্ঞানলাভ], গোযুক্ত শকটাদি দান করিলে তীর্থফলপ্রাপ্তি ও কপিলা প্রদান করিলে সমুদয় পাপনাশ হয়।
‘দুগ্ধ অপেক্ষা উৎকৃষ্ট পানীয় আর কিছুই নাই, এই কারণে দুগ্ধবতী গাভীদান সুপ্রশস্ত বলিয়া নির্দ্দিষ্ট হইয়াছে। গোসমুদয় দুগ্ধদান করিয়া লোকলকে প্রতিপালন এবং জীবলোকের অন্ন উৎপাদন করিয়া থাকে। যে ব্যক্তি গোসমূহের এই সমস্ত গুণ সবিশেষ অবগত হইয়া উহাদিগের প্রতি প্রীতি প্রদর্শন না করে, সেই পাপাত্মাকে নিশ্চয়ই নরকে গমন করিতে হয়। ব্রাহ্মণকে সহস্র, শত, দশ বা পাঁচ গোদান করিবার কথা দূরে থাকুক, একটিমাত্র ধেনুদান করিলেও সেই দাতাকে ধেনু পরলোকে পুণ্যতীর্থ নদীর ন্যায় ফলপ্রদান করিয়া থাকে, সন্দেহ নাই। ধেনু লোকপুষ্টি ও লোকসংরক্ষণনিবন্ধন সূর্য্যকিরণের অনুরূপ হইয়াছে; আর সূর্য্যকিরণের নাম গো এবং ধেনুর নামও গো। বিশেষতঃ গোদাতার বংশ সূর্য্যের ন্যায় অতিশয় বিস্তীর্ণ ও অবিনশ্বর হইয়া থাকে; অতএব গোদাতা সূর্য্যের সহিত উপমিত হইতে পারেন। গোদান করিবার সময় শিষ্য গুরুকে বরণ করিলে নিশ্চয়ই স্বর্গলাভ করিতে সমর্থ হয়েন। গুরুবরণ একটি প্রধান কর্ম্ম। ইহাই আদি বিধি, অন্যান্য বিধিসমুদয় ইহার অন্তর্গত। হে নাচিকেত! দেবতা ও মনুষ্যগণ সকলেই আপনার দানফললাভ হউক, এইরূপ প্রার্থনা করিয়া থাকেন। অতএব আপনি অবিচারিতচিত্তে গোদানে প্রবৃত্ত হউন।” হে তাত! ধর্ম্মরাজ আমাকে এইরূপ উপদেশ প্রদান করিলে আমি তাঁহাকে অভিবাদনপূর্ব্বক তাঁহার অনুমতিক্রমে আপনার নিকট সমুপস্থিত হইয়াছি।”
