2 of 4

৬৭. অন্নদানপ্রসঙ্গে জলদানপ্রশংসা

৬৭তম অধ্যায়

অন্নদানপ্রসঙ্গে জলদানপ্রশংসা

যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! আমি আপনার নিকট ভূম্যাদি দানের ফল এবং সৰ্ব্বোৎকৃষ্ট অন্নদানের ফল শ্রবণ করিলাম। এক্ষণে জলদান ইহলোকে কিরূপ মহাফল প্রদান করিয়া থাকে, তাহা সবিস্তর শ্রবণ করিতে আমার অতিশয় অভিলাষ হইতেছে, অতএব আপনি ইহাও কীৰ্ত্তন করুন।”

ভীষ্ম কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ! লোকে অন্নদান ও জলদান করিয়া যেরূপ ফল লাভ করে, আমি তাহা শাস্ত্রানুসারে কীৰ্ত্তন করিতেছি, অবহিতমনে শ্রবণ কর। আমার মতে অন্নদান অপেক্ষা উৎকৃষ্ট দান আর কিছুই নাই। অন্ন প্ৰভাৱেই লোকে প্রাণধারণ করিয়া রহিয়াছে। অন্ন হইতে সকলের বল ও তেজঃ পরিবর্দ্ধিত হইতেছে। এই নিমিত্ত প্রজাপতি ব্রহ্মা অন্নদানকেই সর্ব্বশ্রেষ্ঠ বলিয়া নির্দ্দেশ করিয়াছেন। দেবী সাবিত্রী বেদমন্ত্রে অন্নদানবিষয়ে যাহা কীৰ্ত্তন করিয়াছেন, তুমি তাহা সম্পূর্ণরূপে পরিজ্ঞাত আছ। অন্নদান করিলে প্রাণদান করা হয়। প্রাণদান অপেক্ষা উৎকৃষ্ট দান আর কিছুই নাই। মহর্ষি লোমশ কহিয়াছেন, পূৰ্ব্বকালে মহারাজ শিবি কপোতকে প্রাণদান করিয়া যেরূপ গতি লাভ করিয়াছিলেন, ব্রাহ্মণকে অন্নদান করিয়া মনুষ্য সেই গতি লাভ করিতে সমর্থ হয়।

“সলিল হইতে অন্ন উৎপন্ন হয়। সলিল ব্যতিরেকে কোন বস্তুই সঞ্জাত হয় না। তারাপতি চন্দ্র, অমৃত, সুধা, স্বধা, ওষধি ও তরুগুল্মদি সমুদয়ই জল হইতে উৎপন্ন হইয়াছে। অমৃতাদি পদার্থই প্রাণীগণের অন্নস্বরূপ। দেবগণের অমৃত, নাগগণের সুধা, পিতৃগণের স্বধা, পশুগণের তরুগুলাদি ও মনুষ্যের ধান্যাদি অন্নরূপে নির্দ্দিষ্ট হইয়াছে। যখন এই সমুদয় পদার্থই জল হইতে সমুৎপন্ন হইয়াছে, তখন জলদান অপেক্ষা উৎকৃষ্ট দান আর কিছুই নাই। যাহার মঙ্গললাভের বাসনা থাকে, জলদান করা তাহার অবশ্য কর্ত্তব্য। জলদান করিলে যশস্বী, দীর্ঘজীবী ও কৃতার্থ হইতে পারা যায়। জলদাতা অনায়াসে শত্ৰুদিগকে অতিক্রম ও পাপ হইতে মুক্তিলাভ করে; তাহার সমুদয় কামনা সিদ্ধ ও শাশ্বত কীর্ত্তি লাভ হয় এবং পরলোকে তাহার সুখের পরিসীমাও থাকে না। ভগবান্ মনু কহিয়াছেন যে, জলদাতা অক্ষয় স্বর্গলাভ করিয়া থাকে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *