অনুস্মৃতি

এমন একলা এই পথ, কোনোখানে সাড়া নেই জনমানবের। বুঝি বাতাসের স্বরে গলে গিয়ে মিশে যাবে আমাদের সত্তার সুরভি, এমন নিঃসঙ্গ… Read more অনুস্মৃতি

আজীবন আমি

আমার হৃদয়ে ছিল লোকোত্তর সফল বাগান তর্কাতীত ঐশ্বর্যে ভাস্বর। কোনো দিন সময়ের সিংহবর্ণ মরুভূমি তাকে পারেনি ডোবাতে তরঙ্গিত বালির কবরে,… Read more আজীবন আমি

আমার মাকে

মাকে দেখি প্রতিদিন ধ্যানী প্রদক্ষিণে ছায়াবৃতা আপন সংসারে। তাকে চিনে নিতে পারি সহজেই যখন নিভৃত অনুভবে বারবার একটি ভাস্বর নদী,… Read more আমার মাকে

ইতিহাস, তোমাকে

করাতের অসংখ্য দাঁতের মতো মুহূর্তগুলো আমাকে কামড়ে ধরেছিল, আর সেই মরণ-কামড়ে আমি ঝাঁঝরা শরীরটাকে দু’ একবার নেড়েচেড়ে পৃথিবীর বন্ধ দরজা… Read more ইতিহাস, তোমাকে

একজন লোক

লোকটার নেই কোন নামডাক। তবু তার কথা অষ্টপ্রহর ভেবে লোকজন অবাক বেবাক। লোকটার নেই কোনোখানে ঠাঁই। জীবন লগ্ন পথের ধুলায়,… Read more একজন লোক

একটি জীবনচরিত

যিনি ওই পোড়াবাড়িটায় থাকতেন নিরিবিলি কোনো কোনো দিন রোদে পিঠ দিয়ে আর শ্রাবণের ধারাজ্বলে ঠায় সারাদিনমান সঙ্গীহীন কাটাতেন গোলকচাঁপার নিচে,… Read more একটি জীবনচরিত

কাদের জন্যে

লিখতে কহ যে দিনরাত্তির কাদের জন্যে লিখব? কাদের জন্যে দুঃখের পাঠ করুণ ভাষ্যে শিখব? ইঞ্জিনিয়ার ডাক্তার আর মোক্তার আর রাজনীতিবিদ… Read more কাদের জন্যে

ক্ষয়

পুবের আকাশে প্রতিদিন একই সূর্য সকালে আবির মাখে। কীর্তিনাশার প্রমত্তা রূপ আজও খেলে যায় চরের বাঁকে। আমি শুধু আমি বদলে… Read more ক্ষয়

খুপরির গান

ধুলো গিলে ভিড় ছেনে উকুনের উৎপাত উজিয়ে ক্লান্তি ঠেলে রাত্তিরে ঘুমোতে যাই মাথাব্যথা নিয়ে। না-জ্বেলে ক্ষয়িষ্ণু মোমবাতি স্বপ্নচারী বিছানায় গড়াই,… Read more খুপরির গান

তিনটি বালক

রুটির দোকান ঘেঁষে তিনটি বালক সন্তর্পণে দাঁড়ালো শীতের ভোরে, জড়োসড়ো। তিন জোড়া চোখ বাদামি রুটির দীপ্তি নিল মেখে গোপন ঈর্ষায়।… Read more তিনটি বালক

দুঃখ

আমাদের বারান্দায় ঘরের চৌকাঠে কড়িকাঠে চেয়ারে টেবিলে আর খাটে দুঃখ তার লেখে নাম। ছাদের কার্নিশ, খড়খড়ি ফ্রেমের বার্নিশ আর মেঝের… Read more দুঃখ

পুরাকালে

পুরাকালিএ কে এক বণিক তার সবচেয়ে দামি মুক্তোটিকে বাগানের মাটির গভীরে রেখেছিল লুকিয়ে যেখানে সূর্যের তিমির-দীর্ণ আলো পৌঁছেনি কখনো, হৈমন্তী… Read more পুরাকালে

মায়ের চোখে

আমার খোকন গাঢ় দুপুরে ঘুমাত, ঘুমাবার করত ভান আমার বালিশে, বুকে আর ‘গল্প বলো…কড়ির পাহাড়, শঙ্খমালা’, বলত গ্রীষ্মের দুপুরে কাঁচা… Read more মায়ের চোখে

মূল্যের উপমা

(তাকে, আমাকে যে কবি ব’লে উপহাস করত) লিখি না গোয়েন্দা গল্প, উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনী কিংবা চিত্রতারকার বিচিত্র জীবনপঞ্জি লিখে হয়নি প্রচুর… Read more মূল্যের উপমা

মেষতন্ত্র

মেষরে মেষ তুই আছিস বেশ, মনে চিন্তার নেইকো লেশ। ডানে বললে ঘুরিস ডানে, বামে বললে বামে। হাবে ভাবে পৌঁছে যাবি… Read more মেষতন্ত্র

যখন রবীন্দ্রনাথ

যখন রবীন্দ্রনাথ কালো ঘোড়াটাকে সিন্ধুপারে দেখলেন, সম্মুখ শান্তির পারাবার অবগাহনের তৃষ্ণা নিয়ে চোখে দৃশ্য-মোছা-ঝড়ে দিলেন প্রশান্ত দৃষ্টি মেলে চরাচরে, মৃত্যুর… Read more যখন রবীন্দ্রনাথ

যদি ইচ্ছে হয়

যদি ইচ্ছে হয় যেতে পারি আদিম অরণ্যে যেখানে অন্ধকারে মূল্যবান রত্নের মতো জ্বলে পাশব চোখ, ভালুকের কশ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে… Read more যদি ইচ্ছে হয়

রবীন্দ্রনাথের প্রতি

লোকে বলে বাংলাদেশে কবিতার আকাল এখন, বিশেষত তোমার মৃত্যুর পরে কাব্যের প্রতিমা ললিতল্যাবণ্যচ্ছটা হারিয়ে ফেলেছে-পরিবর্তে রুক্ষতার কাঠিন্য লেগেছে শুধু, আর… Read more রবীন্দ্রনাথের প্রতি

রূপান্তর

চঞ্চলা নর্তকী নও, অথচ যখন হাঁটো কিংবা ছুটে যাও, বর্ষার বৃষ্টির পরে রামধনু উঠলে আকাশে, বারান্দায়, চলায় সহজে লাগে ছন্দের… Read more রূপান্তর

লালনের গান

যখন তোমার বাহুর বাসরে মগ্ন ছিলাম চন্দ্রিত চন্দ্রায়, আলো-আঁধারির চকিত সীমায়, লালনের গান দূর হতে এলো ভেসে। সে গানের ধ্বনি… Read more লালনের গান

শনাক্ত পত্র

সূর্যোদয় কখনো দেখেনি বলে তিনটি যুবক প্রত্যহ একত্র হয়ে ধর্ণা দেয় সূর্যাস্তের কাছে। ‘সূর্যের চুল্লিতে আমি বহুদিন সেঁকেছি আত্মাকে উল্টিয়ে… Read more শনাক্ত পত্র

সূর্যাবর্ত

বাঁচার আনন্দে আমি চেতনার তটে প্রত্যহ ফোটাই ফুল, জ্বালি দীপাবলি ধ্যানী অন্ধকারে। আর মৃত্যুকে অমোঘ জেনেও স্বপ্নের পথে, জেনেও আমার… Read more সূর্যাবর্ত

স্বগত ভাষণ

আমার মাথার ক্ষত দ্যাখে লোকে ফুলের মতন উন্মীলিত প্রতিদিন, আমি বিশ শতকের যিশু। আমার চৌদিকে দেখি ক্রুশকাঠ নিয়ে যাচ্ছে বয়ে… Read more স্বগত ভাষণ

হাতির শুঁড়

আদ্যিকালের বেবাক কিছুই অলৌকিক। পক্ষীরাজের পক্ষছায়ায় দিগ্ধিদিক নীল আকাশে উড়ত কত রাজকুমার। আদ্যিকালের আজব কথার নেই শুমার! ফলত সদা সোনার… Read more হাতির শুঁড়