ফলতা থেকে পলাশি – শান্তনু বসু
ফলতা থেকে পলাশি – শান্তনু বসু
প্রথম প্রকাশ মার্চ ২০২২
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ মৃণাল শীল
.
সুছন্দা ব্রজবাসী
ও
অমলকুমার ব্রজবাসীকে
.
কৈফিয়ত
ফলতা থেকে পলাশি ইতিহাসের আখ্যান নয়, একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। ‘সাপ্তাহিক বর্তমান’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল এই লেখাটি। সেসময়ে লেখাটি পড়ে অনেকেই তাদের ভালো লাগার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁদের প্রত্যেককে আমি করজোড়ে প্রণাম জানাই।
সাপ্তাহিক বর্তমান পত্রিকায় লেখাটি প্রকাশিত হতে শুরু হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ‘পত্রভারতী’ প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধার শ্রী ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় লেখাটি বই আকারে প্রকাশ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তাঁর এবং পত্রভারতী পরিবারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
১৭৫৬ সালের ২০ জুন। ‘কলিকাতা’ আক্রমণ করলেন নবাব সিরাজদ্দৌলা। ধ্বংস হয়ে গেল কলিকাতায় ইংরেজদের ঘাঁটি পুরোনো ফোর্ট উইলিয়াম। ইংরেজরা কলিকাতা ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে ফলতায় আশ্রয় নিল। সৈন্যসামন্ত ও নৌবহর নিয়ে মাদ্রাজ থেকে বাংলার ঘাঁটি পুনরুদ্ধারে এলেন যুদ্ধবাজ ও ধূর্ত দুই সেনাপতি—কর্নেল রবার্ট ক্লাইভ ও অ্যাডমিরাল চার্লস ওয়াটসন। তাদের নেতৃত্বে খুব অল্পদিনের মধ্যেই ‘কলিকাতা’ ফের দখল করে নিল ইংরেজরা।
ওদিকে মুর্শিদাবাদে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে চলেছেন দরবারের আমির, ওমরাহ, জমিদার ও দেশি বণিকের দল। তাঁরা সিরাজকে নবাব হিসেবে চান না। কারণ সিরাজ স্বাধীনচেতা। তাঁকে আড়াল থেকে কলের পুতুলের মতো চালনা করা সম্ভব নয়। কিন্তু কীভাবে সিরাজকে সরানো যায় মুর্শিদাবাদের কুর্সি থেকে?
ক্লাইভ ও ওয়াটসনের সঙ্গে হাত মেলালেন দরবারের ষড়যন্ত্রীরা। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির প্রান্তরে বিশ্বাসঘাতকতা ও বেইমানির শিকার সিরাজদ্দৌলা যুদ্ধে হেরে মুর্শিদাবাদ ছেড়ে পালিয়ে গেলেন।
১৭৫৬ সালের ২০ জুন থেকে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন—এই সময়ের প্রেক্ষাপটে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস—’ফলতা থেকে পলাশি’। ক্রমশ ক্ষয় হয়ে আসা নবাবি শাসন কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ওমরাহ, জমিদার ও দেশি বণিকদের নিজেদের স্বার্থ বুঝে নেওয়ার উদগ্র বাসনা, বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্র এবং এঁদের দোসর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে অপরিণত যুবক সিরাজদ্দৌলার লড়াই ও তার করুণ পরিণতি— এই ঘটনাক্রমের অনুপুঙ্খ বিবরণ এই উপন্যাসে বিধৃত।
ইতিহাসের তথ্য ও লেখকের কল্পনার মিশেলে তৈরি হয় ঐতিহাসিক উপন্যাস। কাহিনিকে চিত্তাকর্ষক করে তুলতে ঐতিহাসিক চরিত্রের পাশাপাশি ঘটনাপ্রবাহ ও সময়কালের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে কিছু কাল্পনিক চরিত্রের আবির্ভাব হয়। এই উপন্যাসেও সে নিয়মের ব্যতিক্রম হয়নি। এই কাল্পনিক চরিত্রগুলি কালোপযোগী ও সার্থক হল কিনা তা বলবেন পাঠক বন্ধুরা।
শান্তনু বসু
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২



Leave a Reply