পলাশির পরে – শান্তনু বসু
পলাশির পরে – শান্তনু বসু
প্রথম প্রকাশ – ডিসেম্বর ২০২৩
.
জয়ন্ত দে
অগ্রজ কথাসাহিত্যিককে
.
কৈফিয়ত
সাপ্তাহিক বর্তমান পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে বেরোনোর সময়ে খুবই জনপ্রিয় হয় ‘ফলতা থেকে পলাশি’র উত্তরাংশ বা সিক্যুয়েল ‘পলাশির পরে’। সামান্য সময়ের ব্যবধানে পরপর এই দুটি সুদীর্ঘ উপন্যাস প্রকাশ করার জন্য ওই পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হিমাংশু সিংহ, প্রাক্তন সম্পাদক জয়ন্ত দে, বর্তমান সম্পাদক তাপসী দাস ও সমগ্র সম্পাদকমণ্ডলীর আছে আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁরা খুবই যত্নের সঙ্গে উপন্যাস দুটিকে সুবিশাল এক পাঠকবর্গের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
‘ফলতা থাকে পলাশি’-কে খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে বই আকারে উপস্থাপিত করেছে ‘পত্রভারতী’। উপন্যাসটি অগণিত পাঠকের ভালোবাসা পেয়েছে এবং এখনও পেয়ে চলেছে। ‘পলাশির পরে’ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে শুরু হওয়ার পরপরই ‘পত্রভারতী’র কর্ণধার শ্রীত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় আমাকে বলেছিলেন এই উপন্যাসটিও তাঁরা প্রকাশ করতে বিশেষ আগ্রহী। ত্রিদিবদার প্রতি ও সমগ্র পত্রভারতী পরিবারের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
আমার বন্ধুপ্রতিম কবি সমরেন্দ্র দাস এই উপন্যাসের প্রতিটি পর্বের পাণ্ডুলিপি পড়ে সুচিন্তিত মতামত দিয়ে এবং প্রুফ সংশোধন করে লেখাটিকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
পলাশির যুদ্ধ শেষ। মুর্শিদাবাদ থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন সিরাজদ্দৌলা—এখানে শেষ হয়েছিল ‘ফলতা থেকে পলাশি’। তখন অনেক পাঠক আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘লেখাটা এভাবে শেষ করে দিলেন কেন? এর পরে কী হল?’ আমি তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলাম এই বলে যে, ‘একটু অপেক্ষা করুন। পরের কাহিনি পৃথক উপন্যাসে আসবে।’ তবে সাপ্তাহিক বর্তমান পত্রিকা, বিশেষ করে জয়ন্তদার তরফ থেকে তাগাদা না থাকলে ‘ফলতা থেকে পলাশি’-র সিক্যুয়েল এত দ্রুত লেখা হত কি না আমার সন্দেহ আছে।
‘পলাশির পরে’ উপন্যাসের শেষ পর্ব প্রকাশিত হওয়ার পর মুখোমুখি সাক্ষাতে, ফোনে, ফেসবুকে ফের প্রশ্নের মধ্যে পড়ি, ‘বই আকারে প্রকাশিত কবে হবে?’ পাঠকবন্ধুদের এই ভালোবাসায় আমি আপ্লুত। আজ বলতে দ্বিধা নেই, যাঁরা ‘ফলতা থেকে পলাশি’ বই আকারে পড়েছেন কিন্তু ‘পলাশির পরে’ ধারাবাহিকভাবে পড়েননি তাঁরা এবং যাঁরা ‘পলাশির পরে’ ধারাবাহিকভাবে বর্তমানে পড়েছেন তাঁরাও অনেকে এই উপন্যাসটিকে বই আকারে পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আশা করি, ‘ফলতা থেকে পলাশি’র মতো ‘পলাশির পরে’ও সকলের প্রত্যাশা পূরণ করবে।
১৭৫৭ সালে সিরাজদ্দৌলার মুর্শিদাবাদ থেকে পালিয়ে যাওয়া থেকে ১৭৬০ সালে রবার্ট ক্লাইভের ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত সময়কাল নিয়ে এই উপন্যাসের কাহিনির বিস্তার। উপন্যাসটি পড়ে অনেকের মনে হতে পারে, এবারেও যে শেষ হয়ে ঠিক শেষ হল না। মিরজাফর-মিরনের শেষ পরিণতি কী হল, জানা গেল না তো! মিরকাশিমের রাজত্বকালের কাহিনিই বা কোথায়? সকলকে আগাম জানিয়ে রাখি, এসবের উত্তর মিলবে এই সিরিজের তৃতীয় উপন্যাসে। আপাতত সেটি ভবিষ্যতের গর্ভে।
শান্তনু বসু
৪ নভেম্বর, ২০২৩


“ফলতা থেকে পলাশী” প্লিজ দিন
পর্ব ২১ থেকে লেখা আসছে না
কাজ চলছে। দ্রুতই দেয়া হবে।