৩৯
শেষরক্ষা হল না। একদল মানুষ চিনে ফেলল চুনিলাল ও মুন্নিলালকে। তাদের তাড়া করল উন্মত্ত জনতা। শয়তানেরা প্রাণভয়ে ছুটতে লাগল। গত কয়েকমাস ধরে এদের জুলুমাতে পরেশান হয়েছে অজস্র মানুষ। এরা লুঠপাট করেছে, কারও ঘর পুড়িয়েছে আগুনে, কারও বহেন বা আওরতকে ঘর থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়েছে, ধর্ষণ করেছে, যারা সামান্য প্রতিবাদ করেছে তাদের খুন করে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে ভাগীরথীর জলে। এদের প্রশ্রয়ে শহরের সর্বত্র ফিলহাল দাপিয়ে বেড়ায় দুষ্কৃতীরা। চকবাজারের অলিগলিতে প্রকাশ্যে বিকোয় নিষিদ্ধ মাদক।
এক কথায় মিরনের মদতে মুর্শিদাবাদ নগরীকে দোজখ করে তুলেছিল চুনিলাল ও মুন্নিলাল। আজ ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে মানুষের। নিরীহ বালক মির্জা মেহেদির রক্ত যেন আগুন জ্বেলে দিয়েছে আম-আদমির শিরায় শিরায়। প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার আদিম নেশায় চুনিলাল ও মুন্নিলালের পিছনে ধেয়ে আসছে তারা। এই দলে চকবাজারের কাপড়ের কারবারি মধ্যবয়সী আফতাব যেমন আছে, তেমনি আছে ফৌজ থেকে বহিষ্কৃত সিরাজদ্দৌলার অনুগত রাজপুত আহেদি কেশবলাল।
আফতাবের দোকান লুঠ করে, আগুনে পুড়িয়ে তার রমরমা কারবারকে ছারখার করেছে চুনিলালের পোষা গুণ্ডারা। আর কেশবলালকে খুঁটিতে বেধে রেখে তার চোখের সামনেই তার বিবির ইজ্জত লুটেছিল মুন্নিলাল। আত্মঘাতী হয়েছে কেশবলালের বিবি। আফতাবের হাতে বাঁশের লাঠি। কেশবলালের হাতে বল্লম। রাজশক্তি যখন দিনের পর দিন অরাজকতাকে মদত দিয়ে চলে, তখন এভাবেই হঠাৎ জেগে ওঠে জবরজুলুম, জুলমাতের শিকার জনতা। এর পরিণতি ভয়ানক।
ছুটছে চুনিলাল। ছুটছে মুন্নিলালও। সেই সঙ্গে ছুটছে তাদের তিন শাগরেদ। নিজামত কেল্লা থেকে ভাগীরথীর তীর বরাবর বাঁধের উপরে সড়ক দিয়ে জাফরাগঞ্জ প্যালেসের দিকে পাগলের মতো ছুটছে শয়তানেরা। পিছনে উন্মত্ত কয়েকশো মানুষ। শয়তানদের উদ্দেশে কামানের গোলার মতো উড়ে আসছে একের পর এক পাথরের টুকরো।
একটা পাথর এসে লাগল চুনিলালের মাথায়। পথের উপরে হুমড়ি খেয়ে পড়ল সে। রক্ত বেরোচ্ছে গলগল করে। পাথরের ঘায়ে মুন্নিলাল ও বাকিরাও কমবেশি আহত।
চুনিলাল পড়ে রইল পথে। ছুটতে লাগল মুন্নিলাল ও বাকিরা। খুব কাছে এসে পড়েছে পিছনে ধেয়ে আসা জনতা। এদের হাতে পড়লে নিমেষে থেঁতলে মারবে। মুন্নিলাল ও তার তিন সঙ্গী ভাগীরথীতে ঝাঁপ দিয়ে ডুবসাঁতারে পালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সড়ক ছেড়ে বাঁধের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে যেতে লাগল নীচের দিকে।
পিছন থেকে ছুটে আসা কয়েকশো মানুষের পায়ের চাপে থেঁতলে গেল চুনিলাল।
ঢাল বেয়ে নীচে নেমে নদীর চরের উপর দিয়ে ছুটছে মুন্নিলাল ও তার সঙ্গীরা। গায়ের সর্বশক্তি দিয়ে বল্লমটা ছুড়ে মারল কেশবলাল। রাজপুত আহেদির নিখুঁত নিশানা। ভারী বল্লমটা গিয়ে বিঁধল মুন্নিলালের পিঠে। বালির চরের উপরে মুখ থুবড়ে পড়ল মুন্নিলাল। বল্লমটা তাকে এফোড়-ওফোড় করে দিয়েছে। ভাগীরথীর শুকনো বালুচর ভিজে উঠল চাপচাপ রক্তে। বাকিরা ঝাঁপ দিয়ে পড়ল ভাগীরথীর জলে। ডুবসাঁতারে অদৃশ্য হয়ে গেল।
মাটির উপরে পড়ে আছে চুনিলালের রক্তাক্ত দেহটা। প্রাণ আছে এখনও। কাতরাচ্ছে যন্ত্রণায়। প্রায় অর্ধচেতন অবস্থা। তবুও উন্মত্ত ক্রোধে বড় একটা পাথরের চাঁই দিয়ে তাকে আঘাত করতে উদ্যত হল একজন। তাকে থামাল আফতাব। চুনিলালের অন্তিমক্ষণ ঘনিয়ে এসেছে। অনেক কষ্টে উপুড় হয়ে থাকা অবস্থা থেকে চিৎ হল সে। চোখদুটো বিস্ফারিত। গোটা মুখমণ্ডল মাথার চুল, রক্তে ভাসাভাসি। থরথর করে কাঁপছে দেহ। মাফ চাওয়ার ভঙ্গিতে হাতদুটো জড়ো করে অনেক কষ্টে চুনিলাল বলে উঠল, ‘আ-স্তা-গ-ফে-রু-ল্লা-হ।’
তারপর তার মাথাটা হেলে গেল একদিকে। নিথর, নিঃসাড় হয়ে গেল দেহটা। অদূরে ভাগীরথীর চরে পড়ে রয়েছে মুন্নিলাল। মৃত, নিস্পন্দ।
স্তিমিত হয়েছে খুনজোশি। শান্ত হয়েছে জনতা। কেমন যেন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছে তারা। একদিকে উল্লাস, অন্যদিকে ফৌজদারি কিসসায় জড়িয়ে পড়ার ভয়। সহসা দূর থেকে ভেসে এল ঘোড়ার খুরের শব্দ। লোকজন চমকে তাকিয়ে দেখল তির বেগে ধেয়ে আসছে একদল ঘোড়সওয়ার। আকাশে উড়ছে কোম্পানির নিশান। গুঞ্জন উঠল, ‘গোরা পল্টন। গোরা পল্টন।’
নিমেষে ছত্রভঙ্গ হয়ে ছুটে পালাল জনতা।
.
ক্লাইভ পৌঁছে গিয়েছেন কাশিমবাজারে। আসবেন মুর্শিদাবাদে। তিনি পৌঁছনোর আগে রাজধানীর হালহকিকত পর্যবেক্ষণ করতে আগাম কোনও খবর না দিয়েই মুর্শিদাবাদে এসে হাজির হলেন স্ক্র্যাফটন। সঙ্গে তার ডেপুটি ওয়ারেন হেস্টিংস ও একশো ঘোড়সওয়ার গোরা পল্টন।
গতরাতে যে কী ভয়ানক কাণ্ড ঘটে গিয়েছে, সে বিষয়ে কিছুই জানতেন না স্ক্র্যাফটন ও হেস্টিংস। চেহেল সেতুন লাগোয়া চকবাজারে পা দিয়ে উত্তাপের আঁচ পেলেন তাঁরা। ফাঁকা পথঘাট। বন্ধ দোকানপাট। শুধু জায়গায় জায়গায় জটলা লোকজনের। সকলের চোখমুখ থমথমে।
খটকা লাগল স্ক্র্যাফটনের মনে। মুর্শিদাবাদ নগরীর সঙ্গে তার পরিচয় অনেকদিনের। চকবাজারের মেজাজ বোঝেন। এই সময় প্রতিদিনই জমজমাট থাকে চকবাজার। পালকি, উটের গাড়ি, হাতি, ঘোড়ার চলাচলে, মানুষের কোলাহলে ব্যস্ত থাকে গোটা এলাকাটা। রকমারি পসরায় ঝলমল করে স্থায়ী দোকানপাটগুলো। চবুতরার নীচে পসরা সাজিয়ে বসে পড়ে অস্থায়ী দোকানদারেরা। রাস্তার পাশে মজুত থাকে সারি সারি ভাড়ার পালকি। খদ্দের ধরতে হাঁকডাক করে ছাতাবরদারেরা। নানা ধান্দায় ছুটতে থাকে ব্যস্তসমস্ত মানুষ। আজ সেই চেনা ছবিটা উধাও কেন?
গত রাতে মিরনের হাতে কোতল হয়েছে মির্জা মেহেদি। খুন হয়েছেন শরফ উন্নেসা, আমিনা বেগম, ঘসেটি বেগম– চকবাজারের পথে জটলারত মানুষের মুখ থেকে কথাটা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন স্ক্র্যাফটন ও হেস্টিংস।
মাস দুয়েক আগে মুর্শিদাবাদ ছেড়ে যাওয়ার আগে কর্নেল ক্লাইভ সতর্ক করে গিয়েছিলেন নবাবকে—আলিবর্দির রিশতেদারেরা সকলে যেন সুরক্ষিত থাকে। তাদের উপরে কোনও জুলমাত যেন না হয়। সাধারণ কয়েদির মতো অন্ধকার কারাকক্ষে না রেখে আলিবর্দির খানদানের সকলকে চেহেল সেতুনের অন্দরে কোনও একটা হাভেলিতে সম্মানের সঙ্গে গৃহবন্দি করে রাখলে মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হবে। এতে নবাব ও ইংরেজ দু’পক্ষেরই লাভ। ক্লাইভ বুঝেছিলেন, আলিবর্দির প্রতি এদেশের প্রজাদের বড় একটা অংশের অসীম শ্রদ্ধা ও আনুগত্য রয়েছে। আলিবর্দির দৌহিত্রকে মসনদ থেকে সরানোর সাজিসে অংশ নিয়ে বহু মানুষের বিরাগভাজন হয়েছে ইংরেজরা। তবে সিরাজকে হত্যার কোনও পরিকল্পনা তাদের ছিল না। সিরাজকে সম্মানের সঙ্গে গৃহবন্দি করে রাখার কথা বলেছিলেন ক্লাইভ। কিন্তু মিরনের আহাম্মকিতে মওত হল সিরাজদ্দৌলার। এতে কালি লাগল ইংরেজদের গায়েও। অনেকের ধারণা হয়েছিল সিরাজকে হত্যার পিছনে ইংরেজদের মদত রয়েছে। এই কালি অনেক কোশিশ করেও মুছতে পারছে না ইংরেজরা।
এই সময়ে এই উটকো ঝামেলা। মিরনের এই আহাম্মকিতে কর্নেল ক্লাইভ যে ভয়ানক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবেন, তা আন্দাজ করতে পারছেন স্ক্র্যাফটন। রেসিডেন্ট হিসেবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারার জন্য তিরস্কৃত হবেন তিনিও।
রাগে ফুঁসতে লাগলেন স্ক্র্যাফটন। হেস্টিংসও ভয়ানক বিরক্ত। বেওকুফ নবাবজাদার জন্য বার বার বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে ইংরেজদের। গোটা বাহিনীকে চেহেল সেতুন অভিমুখে মার্চ করার হুকুম দিলেন স্ক্র্যাফটন। কী ঘটেছে তা তিনি নিজের চোখে দেখতে চান।
গণরোষে চুনিলাল ও মুন্নিলালের মৃত্যুর খবরটা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হালকা হতে শুরু করেছিল চেহেল সেতুনের সামনে জড়ো হওয়া মানুষেরা। তবু এখনও জমায়েত আকারে বেশ বড়। এরা মির্জা মেহেদি, আলিবর্দির বেগম, আমিনা বেগম, ঘসেটি বেগমকে শেষ দেখা দেখতে চায়।
গোরা ঘোড়সওয়ারদের চেহেল সেতুনের দিকে আসতে দেখে জনতা পথ ছেড়ে সরে দাঁড়াল। যে উত্তেজিত লোকজন আস্ফালন করছিল, তারা শান্ত হয়ে গেল। অদ্ভুতরকম নিশ্চুপ হয়ে গেল কোলাহলমুখর মানুষ। চেহেল সেতুন থেকে বেশ কিছুটা তফাতে গিয়ে দাঁড়াল তারা। এর কারণ ভয়—দহসত। পলাশির যুদ্ধের পর থেকে ইংরেজদের সম্বন্ধে এদেশের নবাব-মনসবদার-জমিদারদের মতো সাধারণ প্রজাদের মনে প্রবল ভীতির সঞ্চার হয়েছে। মিরজাফর খাঁ গদ্দারি করে যতই ফৌজ নিয়ে নিষ্ক্রিয় থাকুন না কেন, মিরমদন, মোহনলাল ও সিরাজের বাহিনীর সম্মিলিত শক্তি তো কম ছিল না। তা সত্ত্বেও মাত্র আড়াই হাজার ফৌজ নিয়ে পলাশিতে জয় হাসিল করে নিল ইংরেজরা? এটা যেন তামাম মুর্শিদাবাদের মানুষ এখনও ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না।
.
কাশিমবাজার থেকে ইংরেজবাহিনী এসে পৌঁছেছে। এসেছেন স্ক্র্যাফটন সাহেব। এই পরিস্থিতিতে নিজেকে পুরোপুরি নিরাপদ মনে করে হাভেলি থেকে বেরিয়ে এলেন দেওয়ান রায়দুর্লভ। তিনিই স্ক্র্যাফটন ও হেস্টিংসকে নিয়ে গেলেন চেহেল সেতুনের অন্দরে।
সেই অভিশপ্ত চাতালের সামনে এসে থমকে দাঁড়ালেন স্ক্র্যাফটন হেস্টিংস ও রায়দুর্লভ।
‘ও মাই গড!’ শিউরে উঠলেন স্ক্র্যাফটন। বীভৎস দৃশ্যটা সহ্য করতে না পেরে চোখ বুজলেন হেস্টিংস। চাতালের এক কোণায় পড়ে আছে মির্জা মেহেদির শবদেহ। হাতির পায়ের চাপে দুরমুশ হয়ে গিয়েছে ছোট্ট দেহটা। একদলা মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়েছে। শুধু মুখমণ্ডল অক্ষত আছে। চোখ দুটো খোলা। যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। নাক ও মুখে শুকিয়ে আছে রক্ত। রায়দুর্লভের হুকুমে এক দাখিলা এসে শবদেহের উপরে একটা শাদা চাদর বিছিয়ে দিল।
স্ক্র্যাফটন ও হেস্টিংস গোটা চেহেল সেতুন ঘুরেও আলিবর্দির বেগম ও দুই বেটির হদিশ পেলেন না। যে হাভেলিতে তাঁরা বন্দি হয়েছিলেন সেই হাভেলি তছনছ হয়ে আছে। রায়দুর্লভও স্তম্ভিত। এ সব ঘটনার বিষয়ে কোনও জানকারি তাঁর নেই। গোলাম-বাঁদি-হাজিরা-দাখিলাদের প্রশ্ন করে কোনও সদুত্তর পাওয়া গেল না। কেউ বললে জানা নেই, কেউ বললে আলিবর্দির রিশতেদারদের হত্যা করে ভাগীরথীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিভ্রান্ত হয়ে গেলেন স্ক্র্যাফটন ও হেস্টিংস।
‘নবাবজাদা কোথায়?’
স্ক্র্যাফটনের প্রশ্নের জবাবে রায়দুর্লভ বললেন, ‘জাফরাগঞ্জে।’
‘স্কাউন্ড্রেল। স্টুপিড। উই মাস্ট টিচ হিম অ্যা লেসন।’
চেহেল সেতুনের এক বুরুজের উপরে এসে দাঁড়ালেন হেস্টিংস, স্ক্র্যাফটন ও রায়দুর্লভ। অনেকদূর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে মানুষের সারি সারি মাথা। এখনও জমায়েত হয়ে আছে বহু লোক।
হেস্টিংস শুধোলেন, ‘আর দ্য মব অ্যাংরি উইথ আস?’
রায়দুর্লভ বললেন, ‘না জনাব। এই ঘটনার জন্য কোম্পানি বা নবাব কাউকেই দুষছে না এরা। দুষছে কেবল নবাবজাদাকে। শুনলাম, আর একটা আরজু আছে এদের। এরা চায় মির্জা মেহেদিকে খোশবাগে দাফন করা হোক।’
হেস্টিংস বললেন, ‘বেশ তো। আপনি জানেজার আনজাম করুন।
স্ক্র্যাফটন বললেন, ‘ওয়ারেন—লেটস গো টু জাফরাগঞ্জ।’
.
মির্জা মেহেদিকে হত্যার পরিকল্পনার কথা জানতেন না রাজবল্লভ। ভোরে ঘুম থেকে উঠে সব শুনে হাড় হিম হয়ে যায় তাঁর। ততক্ষণে উত্তেজিত মানুষের ভিড় জমতে শুরু করেছে রাজপথে। নিজের হাভেলিতে বসেই বিক্ষোভের আঁচ পেলেন রাজবল্লভ। বিপদ আন্দাজ করে তড়িঘড়ি তিনি ছুটে এলেন জাফরাগঞ্জে। প্যালেসের সব দরওয়াজা বন্ধ করে দেওয়ার হুকুম দিলেন রাজবল্লভ। গণরোষের ভয়ে তিনি ভীত।
রাজধানী যে এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, এসবের কিছুই এখনও জানেন না নবাবজাদা মিরন। ভোর রাতে চেহেল সেতুন থেকে ফিরে তিনি ঘুমিয়ে আছেন নিশ্চিন্তে। অবিলম্বে তাকে সব জানানো দরকার। কিন্তু তার ঘুম ভাঙানোর হুকুমত নেই। মিরনের কক্ষের বাইরে অস্থির চিত্তে পায়চারি করতে লাগলেন রাজবল্লভ।
এক কাসিদ এসে জানাল, চেহেল সেতুন থেকে পালাতে গিয়ে উন্মত্ত জনতার হাতে খুন হয়েছে চুনিলাল ও মুন্নিলাল। তাদের তিন শাগরেদের কোনও খবর নেই। জনরোষ থেকে বাঁচতে তারা ঝাঁপ দিয়েছিল ভাগীরথীতে। ভাঁজ পড়ল রাজবল্লভের কপালে। পরিস্থিতি যে ভয়ানক তা স্পষ্টই তিনি বুঝতে পারছেন। কিন্তু তিনি কী করবেন এখন?
‘হুজুর!’
কাদিরের গলা শুনে থমকে দাঁড়িয়ে ঘুরে তাকালেন রাজবল্লভ।
‘নবাবজাদার নিন্দ টুটেছে। আপনাকে ইয়াদ করেছেন। অন্দরে চলুন।’
.
