1 of 2

পলাশির পরে – ৪১

৪১

গিরিয়ার ময়দানে তাঁবু ফেলেছেন নবাব মিরজাফর খাঁ। কর্নেলের শুভাগমনের অপেক্ষা করছেন। কিন্তু ক্লাইভের দেখা নেই। আদৌ চন্দননগর থেকে রওনা হয়েছেন কি না, কবে এসে পৌঁছবেন– এ নিয়ে কোনও খবরপত্তরও নেই। ওদিকে খাদিম হোসেন পূর্ণিয়ার দিকে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। ধন্দে পড়েছেন নবাব। এখনই এগোবেন? না ক্লাইভের অপেক্ষায় থাকবেন?

চোখের আড়ালে গিয়ে খাদেম হোসেন গদ্দারি না করে বসে, রাজমহল অবধি এগিয়ে গেলে তার গতিবিধির উপরে নজর রাখা যায়—একদিকে এ ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনই নবাব আবার ভাবছেন রাজমহল অভিমুখে রওনা হলে ক্লাইভ রুষ্ট হবেন না তো?

মিরজাফরের মূল লক্ষ্য পাটনা। নায়েব রামনারায়ণের ক্ষমতা খর্ব করে তাঁর ধনদৌলত দখল করার মনসুবা নিয়ে তিনি বেরিয়েছেন। কাজটা যে বড় একটা সহজ নয়, মিরজাফর তা জানেন। রামনারায়ণ তাগদবাজ আদমি। এদিকে নবাবের সঙ্গে রয়েছে আনাড়ি, আনপঢ় সব ফৌজি। এদের অনেকেই হাতিয়ার ধরতে দড় নয়। লড়াইয়ের পূর্ব অভিজ্ঞতাও নেই। সেপাইদের মধ্যে অনেকে অভাবের তাড়নায় এই প্রথম নাম লিখিয়েছে ফৌজে। যুদ্ধের কলাকৌশল জানে না। এই ফৌজ জঙ্গবাজির ময়দানে কতটা কার্যকরি হবে, তা নিয়ে নবাবের নিজেরই সংশয় রয়েছে।

প্রায় হপ্তাখানেক হতে চলল, গিরিয়ার আলিশান ময়দানে ছাউনি গেড়ে অলস সময় অতিবাহিত করছে নবাবের বাহিনী। এদের আশরত, ফূর্তি আর হুল্লোড়ের বহর দেখে বোঝা দায় এরা যুদ্ধে চলেছে না স্রেফ মজা লুঠতে বেরিয়েছে। উচ্ছৃঙ্খল সেপাইদের দৌরাত্ম্যে ও জুলুমবাজিতে জেরবার আশেপাশের গ্রামের মানুষ। এদের সামলে রাখার মতো দক্ষ সেনাপতি কেউ নেই। নবাব উদাসীন। দিনরাত শরাব ও ভাঙের নেশায় বুঁদ হয়ে রয়েছেন। সঙ্গে রয়েছে একগাদা কসবি, বাইজি। মেহফিল বসছে রোজ। চলছে গুলতানি, গুলজার, ফূর্তি আর ঢালাও খানাপিনা। সকলে দিব্যি আছে। লড়াই নিয়ে কারোরই কোনও শিরদর্দ নেই। এ এক আজিব কাফেলা।

রাত গভীর হচ্ছে। কড়া আতর ও শরাবের গন্ধে ম’ম করছে চারিদিক। বাজনায় ঝড় তুলছে তবলচি ও বীণকার। নবাবের তাঁবুতে হররোজের মতো আসর বসেছে আজও। বাইজির নাচের ঘূর্ণিতে উড়ছে ঘাঘরা। কামগন্ধে মাতোয়ারা মোসাহেবের দল। জোড়া জোড়া লোভী চোখের দৃষ্টি ঘোরাফেরা করছে বাইজির উরুযুগল, সুঠাম পায়ের গোছ, উন্মুক্ত নাভি দেশ ও নিতম্বের উপরে।

নেশায় ঢুলছেন নবাব মিরজাফর খাঁ। থেকে থেকে ‘কেয়াবাৎ! কেয়াবাৎ!’ বলে আওয়াজ তুলছেন। চুমুক দিচ্ছেন শরাবের পাত্রে। ফের ঝিমিয়ে পড়ে ডুব দিচ্ছেন গভীর চিন্তায়। রামনারায়ণের তাগদ, খাদেম হোসেনের গতিবিধি, ক্লাইভের আগমন, বর্গির হাঙ্গামা,—অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার হানাদারি—চিন্তা হরেক কিসিমের।

নবাবের পাশে বিমর্ষ মুখে বসে আছেন তাঁর ভাই মিরকাজিম। বাইজির নাচগানে তাঁর কোনও আগ্রহ নেই। ভাবছেন কতকাল আর এ ভাবে সময় নষ্ট হবে। একবার ক্লাইভের আপত্তিতে তাঁর নামে জারি হওয়া পাটনার নায়েব-সুবাদারগিরির পরোয়ানা নবাব বাতিল করেছিলেন। পাটনার কুরসি তাঁর নাগালের মধ্যে এসেও ফসকে গিয়েছিল। সাময়িক ভাবে চূড়ান্ত হতাশ হলেও হাল ছাড়েননি মিরকাজিম। ক্রমাগত তদবির-তকরার করে ফের তাঁর নামে পাটনার নায়েব সুবাদারির পরোয়ানা জারি করানোর জন্য রাজি করিয়েছেন নবাবকে। মিরকাজিমের ধারণা, নবাব পাটনায় গিয়ে হাজির হলেই তাঁর সম্মানে গদি ছেড়ে দেবেন রামনারায়ণ। লড়াই ঝামেলা কিছুই হবে না। বিনা মেহনতে মিরকাজিম বসে পড়তে পারবেন পাটনার কুরসিতে। নবাব অহেতুক কেন যে ক্লাইভের জন্য অপেক্ষা করছেন, তা বুঝতে পারছেন না মিরকাজিম। উলটে তাঁকে অস্থির করে তুলেছে অন্য চিন্তা। ক্লাইভ এসে পড়লে ফের না সব ভেস্তে যায়।

কসিদেরা খাদেম হোসেনের বিষয়ে তেমন উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠার মতো কোনও খবর আনতে পারেনি। তাই আপাতত ক্লাইভের ইন্তেজারে বসে থাকাকেই শ্রেয় মনে করছেন মিরজাফর খাঁ। এই নড়বড়ে ফৌজ নিয়ে রামনারায়ণের মুখোমুখি হওয়ার সাহস তাঁর নেই।

মেহফিল যখন ভাঙল, রাত তখন গভীর। নবাবের তাঁবু থেকে বেরিয়ে বিমর্ষ মুখে মিরকাজিম হেঁটে চললেন তার নিজের তাঁবুর দিকে। সঙ্গে দরবারের ভাঁড় মির্জা শামসুদ্দিন।

মিরকাজিম বললেন, ‘এ তো আচ্ছা ঝামেলায় পড়া গেল দেখছি।’

শামসুদ্দিন বললেন, ‘কেন? ঝামেলা কোথায়? দিব্যি তো আমোদ-আশরত চলছে।’

শামসুদ্দিনের কথার ভাঁজে শ্লেষের সুরটা ধরতে পারলেন না স্থূলমস্তিষ্কের মিরকাজিম। চিন্তিত মুখে বললেন, ‘এ মজাক-রগড়ের বিষয় নয় শামসুদ্দিনজি। আমার নসিবের সওয়াল।’

‘পাটনার নায়েব-সুবাদারগিরির পরোয়ানা তো আপনার মুঠঠিতে। সেই খুশিতে একটু মজা লুটে নিন। দিব্যি তো চলছে। হররোজ ফূর্তি। নবাব রঙ্গিলা মতলব দুনিয়া রঙ্গিলা। আর কী চাই?’

‘ক্লাইভ সাহেবের ইন্তেজারে এখানে বসে থাকার মানে হয় কি?’

‘শামসুদ্দিন মুচকি হেসে বললেন, ‘পাটনার কুরসি তো আর ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে না।’

‘তা অবশ্য ঠিক।’

‘তাহলে খামোখা বেচ্যায়েন হচ্ছেন কেন হুজুর?’

আড়চোখে মিরকাজিমকে একবার দেখে নিয়ে মনে মনে শামসুদ্দিন বললেন, বেওকুফ কাঁহিকা। নবাবও বেওকুফ, তাই রামনারায়ণকে হটিয়ে তোমার মতো এক নালায়েক-বুজদিল আদমিকে পাটনার গদিতে বসাতে রাজি হয়েছেন। হাতিয়ার ওঠানোর মুরোদ নেই, ওদিকে পাটনার নায়েব-সুবাদার হওয়ার খোয়াব দেখছ। বর্গি এলে বুঝবে বুঝবে কত ধানে কত চাল। জিন্দেগি স্রেফ এক সুনহারি খোয়াব নয়।

মিরকাজিম একটু ভেবে নিয়ে বললেন, ‘নবাব যদি ফির নারাজ হন?’

মনে মনে শামসুদ্দিন বললেন, ‘তা হলে তো তাকে আকলমন্দ বলতে হয়।’

‘ক্লাইভ সাহেব যদি চান রামনারায়ণই পাটনার কুরসিতে বহাল থাকুন?’

মিরকাজিমের আন্দেশাকে উসকে দিয়ে শামসুদ্দিন বলেন, ‘তেমন ইরাদা তার হতেই পারে।’

মির কাজিম মরিয়া হয়ে বলে ওঠেন, ‘দ্রুত পাটনার দিকে এগোনোর জন্য নবাবকে বোঝাতে তো পারেন আপনি। ক্লাইভ সাহেব পৌঁছনোর আগেই যাতে কাজটা হাসিল হয়ে যায়।’

‘আমি মজাক, রগড় করে নবাবকে খুশি রাখি। এই লড়াই-হাঙ্গামার বিষয়ে আমার নাক গলানো বে-এক্তিয়ারের কাজ হয়ে যাবে না হুজুর? আপনি নিজেই তো বলতে পারেন নবাবকে।’

‘সে কোশিশ কি আর করিনি? নবাব যে কোনও কথাই কানে নিচ্ছেন না। কেবল একই বাত—ক্লাইভ আগে আসুন তার পরে সামনে এগোব।’

গম্ভীর ভাবে মাথা নেড়ে শামসুদ্দিন বললেন, ‘ইয়ে বাত নবাব শোচ-সমঝ করেই বলেছেন।’

হাঁটতে হাঁটতে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে মিরকাজিম বললেন, ‘আপনি বলছেন ইয়ে সহি তরিকা?’

শামসুদ্দিন হেসে বললেন, ‘আপনি কামিল-ই-ইনসান। পাটনার সুবাদারির পদে রামনারায়ণের চেয়েও বেহেতর বাজি। এ নিয়ে কোনও এতেরাজ চলে না।’

এই স্তাবকতায় খুশি হয়ে মূর্খ মিরকাজিম জোশের সঙ্গে বললেন, ‘তবে? আরে ভাইয়া, আমার সঙ্গেই তো বিশ হাজার ফৌজি রয়েছে। নবাবের হুকুমত মিললে আমি একাই রামনারায়ণকে ঢিট করে দিতে পারি। রামনারায়ণ নিজেই তার ধনদৌলত নিয়ে ছুটে এসে নবাবের পায়ে পড়বেন।’

শামসুদ্দিন মাথা নেড়ে বললেন, ‘তা আপনি পারেন। বেশক পারেন। জরুর পারেন।’

‘তাহলে আপনিই বলুন ক্লাইভ সাহেবের ইন্তেজারে এখানে পড়ে থেকে দিন গুজারের কোনও মানে হয় কি? আপনি এই কথাটা নবাবের কানে একটু তুলুন না?’

হেসে উঠলেন শামসুদ্দিন।

‘হাসছেন যে—’

‘নয়া শাদি হওয়া মিঞা-বিবির রিশতেদারি বোঝেন?’

মিরকাজিম হাঁ হয়ে গিয়ে মির্জা শামসুদ্দিনের মুখপানে চেয়ে থাকেন।

শামসুদ্দিন বলেন, ‘নবাব আর কর্নেল ক্লাইভের রিশতেদারি এখন সেইরকম। এর মধ্যে আমার আপনার না ঢোকাই ভালো।’

এবারে হাসলেন মিরকাজিম।

হঠাৎই একটা গোলমালের আওয়াজ দুজনের কানে এল। দ্রুত হেঁটে গিয়ে সামনে বাঁক নিয়ে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন মিরকাজিম ও শামসুদ্দিন।

শামসুদ্দিন বললেন, ‘ওই দেখুন আপনার ফৌজের দুই আহেদি।’

ইসমাইল ও ফয়জল। মদ্যপ দুই আহেদির কাজিয়া বেঁধেছে এক গণিকার দখল নিয়ে। তরোয়াল হাতে নিয়ে তারা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। দুই মরদের কাণ্ড দেখে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যুবতী ভয়ে ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। দেহাতের আওরতদের ঢঙে যুবতীর গায়ে নিম্নাঙ্গে জড়ানো রয়েছে একখানা কাপড়। আঁচল লুটোচ্ছে মাটিতে। স্তনযুগল বেআবরু।

মিরকাজিম ধমকে উঠলেন, ‘খামোশ। কেয়া হো রহা হ্যায়?’

‘ইনসাফ চাই হুজুর। ফয়জল আমার পিয়ারিকে দখল করতে চাইছে।’ এই বলে মিরকাজিমের পায়ে লুটিয়ে পড়ে ইসমাইল।

জড়ানো গলায় ফয়জল বলে, ‘ঝুটবাত হুজুর। এই রেন্ডির কিম্মত আমি চুকিয়েছি।’

মিরকাজিম ফের চেঁচিয়ে ওঠেন, ‘খামোশ। নোটঙ্কি মাত করো।’

শামসুদ্দিন বলে ওঠেন, ‘তরোয়াল খাপে ঢুকিয়ে রাখো ভাই। হুজুর এসে পড়েছেন। এই লেড়কিকে কে ভোগ করবে তা উনিই ঠিক করে দেবেন।’

বাতিস্তম্ভের আলোয় শামসুদ্দিন দেখেন, সুঠাম দেহের গড়নওয়ালা শ্যামলা বর্ণের মেয়েটির উপরে আঁঠার মতো আটকে গিয়েছে মিরকাজিমের দৃষ্টি।

স্বগতোক্তির ঢঙে মিরকাজিম বলে ওঠেন, ‘লেড়কি খুবসুরত।’

মির কাজিমের একটু কাছে ঘেষে এসে শামসুদ্দিন ফিসফিস করে বলেন, ‘এ বসরাই গুলাব আপনিই নিয়ে যান। সৌগন্ধ, মজা নিজেই লুটে নিন। বেয়াদপ দুটো আচ্ছা ঢিট হবে।’

‘সহি বাত বলেছেন শামসুদ্দিনজি। লেড়কি বিলকুল তাজা গুলাব।’

এগিয়ে গিয়ে যুবতীর কোমর জড়িয়ে ধরে মিরকাজিম বলেন, ‘এসো বিবিজান আমার সঙ্গে।’

শামসুদ্দিন বলে ওঠেন, ‘তোমার বরাত ভালো গো মেয়ে, হুজুরের মনে রং ধরাতে পেরেছ। নসিব যদি সাথ দেয় তো রাত পোহালে পাটনার খাস-বেগমও বনে যেতে পার।’

মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে নিজের তাঁবুর পথে পা বাড়ালেন মিরকাজিম।

ইসমাইল ও ফয়জল অসহায় ভাবে চেয়ে রইল। যুবতীকে নিয়ে মিরকাজিম চোখের আড়াল হতেই দু’জনে গলা জড়াজড়ি করে কান্না জুড়ে দিল।

শামসুদ্দিন বললেন, ‘কেঁদে আর কী করবে ভায়া? রাত অনেক হয়েছে, তাঁবুতে গিয়ে বসরাই গুলাবের খোয়াব দেখো। তবে ভায়া তোমাদের একটু সাবধান করে রাখি।’

ফয়জল ও ইসমাইল চোখ গোল্লা করে শামসুদ্দিনের দিকে তাকায়।

শামসুদ্দিন গলা অনেকটা খাটো করে বললেন, ‘বর্গি আসছে।’

‘অ্যাঁ? এই ব্বাপ!’ নিমেষে নেশা ছুটে গেল দু’জনের। তাঁবুর উদ্দেশে ছুটতে লাগল তারা।

হেসে উঠলেন শামসুদ্দিন।

পিছন থেকে সেই হাসিতে যোগ দিয়ে একজন বলে ওঠেন, ‘কেমন বুঝছেন শামসুদ্দিনজি?’

‘কে?’ শামসুদ্দিন ঘুরে তাকালেন।

লোকটি এগিয়ে এসে বাতিস্তম্ভের পাশে দাঁড়ায়।

‘ও জাসুসজি! তা আপনি কেমন বুঝছেন হালচাল?’

গোবিন্দমল্ল বললেন, ‘আপনি পারেনও বটে। বর্গি আমদানি করলেন কোত্থেকে?’

‘তারা সচমুচ এলে কী হবে ভাবছি। দুই হুজুরে কেমন ছুটল দেখলেন? নিজামতের আর যে কত বেইজ্জতি দেখব?’ শামসুদ্দিন দীর্ঘশ্বাস ফেলেন।

গোবিন্দমল্ল বললেন, ‘সহি বাত বলেছেন। এমন নালায়েক ফৌজ আগে কখনও দেখিনি।’

শামসুদ্দিন বললেন, ‘এখানে বসে এই নোটঙ্কি দেখতে আর ভালো লাগছে না।’

গোবিন্দমল্ল বললেন, ‘রাগে ফুঁসছে আম-আদমি। ফৌজিরা বরাবরই পথে প্রজাদের উপরে একটু আধটু জবরজুলুম করে রাহাখরচ তোলে। এবারের জবরজুলুম ভয়ানক। অতীতের সব নবজিরকে ছাপিয়ে গিয়েছে। খামোখা বদনামের ভাগীদার হচ্ছে নিজামত।’

শামসুদ্দিন বললেন, ‘আপনার মাথায় তো হরেক ফন্দি খেলে। এখান থেকে তাঁবু ওঠানোর কোনও উপায় করতে পারেন?’

একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে গোবিন্দমল্ল বললেন, ‘দেখি কী করা যায়।’

পরেরদিনই সকালেই গিরিয়ার মাঠ থেকে তাঁবু গোটানোর তোড়জোড় শুরু হয়ে গেল।

কাসিদেরা না কি খবর এনেছে খাদেম হোসেন পূর্ণিয়া জয় করে নিয়েছেন। তাঁর মতিগতি সুবিধের নয়। রামনারায়ণের সঙ্গে দোস্তি গড়ে তোলার কোশিশ করছেন। গোবিন্দমল্লের মুখ থেকে এসব শুনে দুশ্চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়লেন মিরজাফর খাঁ। তাঁবু গুটিয়ে সামনে এগোনোর হুকুম জারি করলেন। শামসুদ্দিন বুঝলেন সবটাই গোবিন্দমল্লের কেরামতি।

.

ক্লাইভের বজরা এসে ভিড়ল মোরাদবাগ প্যালেসের ঘাটে।

রাগে ফুঁসছেন ক্লাইভ। কাশিমবাজারে এসে শুনেছেন মিরনের হঠকারিতার কাহিনি। মির্জা মেহেদির হত্যাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর উত্তাল হয়ে ওঠার ঘটনা।

ক্লাইভকে স্বাগত জানানোর জন্য ঘাটে অপেক্ষা করছিল মিরন। তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে গম্ভীর মুখে মোরাদবাগ প্যালেসের সদর দেউড়ির অভিমুখে হাঁটতে লাগলেন ক্লাইভ। তাঁর সঙ্গে এসেছেন সিরাজদ্দৌলার আমলের চরাধিপতি রাজারাম। পুত্র মথুর সিং ও ভাই নারান সিংকে নৌকোঘাটে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ছুটে গিয়ে তাদের বুকে জড়িয়ে ধরলেন রাজারাম।

ক্লাইভকে খুশি করার উদ্দেশে মিরন বলল, ‘মথুর সিং ও নারান সিংকে নবাব কয়েদ করেছিলেন। আমি আজাদ করে দিয়েছি।’

নবাবজাদাকে উপেক্ষা করে হেঁটে চললেন ক্লাইভ।

মিরনের মুখের উপরে সপাং করে যেন একটা চাবুক এসে পড়ল। নৌকোঘাটে একগাদা লোকের মাঝে এ ভাবে বেইজ্জত হয়ে একেবারে চুপসে গেল মিরন। ক্লাইভের সঙ্গ ছেড়ে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল পথে।

মোরাদবাগ প্যালেসে প্রবেশ করলেন ক্লাইভ। সেখানে আগে থেকেই মজুত ছিল কাশিমবাজার থেকে আসা গোরা পল্টনেরা। ক্লাইভকে ওয়েলকাম জানাতে বেজে উঠল ফৌজি ব্যান্ড।

.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *