১৩৬তম অধ্যায়
প্রতিগ্ৰহজনিত পাপের প্রায়শ্চিত্ত
যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! আপনি ভোজ্যাভোজ্যের বিষয় নির্দ্দেশ করিলেন। এক্ষণে আমার আর একটি সন্দেহ উপস্থিত হইয়াছে, আপনি তাহা ছেদন করুন। ব্রাহ্মণগণ নানাবিধ ভোজ্য ও হব্যকব্য প্রতিগ্ৰহ করিলে তাঁহাদের যে পাপ জন্মে, তাহার প্রায়শ্চিত্ত কি?”
ভীষ্ম কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ! এক্ষণে তুমি আমার নিকট যে প্রশ্ন করিলে, আমি তাহার প্রত্যুত্তর প্রদান করিতেছি, অবহিতমনে শ্রবণ কর। ব্রাহ্মণ ঘৃত ও তিল প্ৰতিগ্ৰহ করিলে সাবিত্রী উচ্চারণপূৰ্ব্বক হুতাশনে সমিধ্ আহুতি প্রদান করিবেন। তিনি মাংস, মধু ও লবণ প্রতিগ্ৰহ করিয়া প্রতিগ্রহের সময় অবধি সূর্য্যোদয়কাল পর্য্যন্ত দণ্ডায়মান থাকিলে পাপ হইতে মুক্ত হইতে পারেন। সুবর্ণ গ্রহণ করিয়া গায়ত্রী জপ ও প্রকাশ্যে লৌহধারণ করিলে নিস্পাপ হইয়া থাকেন। ধন, বস্ত্র, স্ত্রী, অন্ন, পায়স ও ইক্ষুরস প্রতিগ্রহেরও ঐরূপ প্রায়শ্চিত্তই বিহিত হইয়া থাকে। ইক্ষুদণ্ড ও তৈল প্রতিগ্ৰহ করিলে ত্রিসন্ধ্যা স্নান করিতে হয়। ধান্য, পুষ্প, ফল, পিষ্টক, জল, যাবক [যবনির্ম্মিত খাদ্য], দধি ও দুগ্ধ প্রতিগ্ৰহ করিলে শতবার সাবিত্রী জপ করা কর্ত্তব্য। প্রেতোদ্দেশে দত্ত পাদুকা ও বস্ত্র প্রতিগ্ৰহ করিলে সমাহিতচিত্তে শতবার সাবিত্রী জপ করা বিধেয়। গ্রহোদ্দেশে দত্ত ও জন্মশৌচগ্রস্ত ব্যক্তিকর্ত্তৃক প্রদত্ত ক্ষেত্র প্রতিগ্রহ করিয়া তিন রাত্রি উপবাস করিলে পাপবিনাশ হয়।
“যে ব্রাহ্মণ কৃষ্ণপক্ষে শ্রাদ্ধীয় অন্ন ভোজন করেন, তিনি সেই দিন সন্ধ্যাপোসনা, জপানুষ্ঠান ও পুনরায় ভোজন না করিলেই পবিত্র হইয়া থাকেন। ব্রাহ্মণ অপরাহ্ণে ভোজন করিলে তাঁহার রজনীযোগে আহারে প্রবৃত্তি জন্মিবে না বলিয়াই অপরাহ্ণে পিতৃলোকের শ্রাদ্ধ বিহিত হইয়াছে। যিনি মৃতাশৌচের তৃতীয় দিবসে মৃতাশৌচসম্পন্ন ব্যক্তির অন্ন ভোজন করেন, তিনি দ্বাদশাহ প্রতিদিন ত্রিকালীন স্নান করিয়া পরিশেষে ব্রাহ্মণগণকে হবিঃ প্রদানপূৰ্ব্বক শুদ্ধি লাভ করিয়া থাকেন। যিনি মৃতাশৌচের দশ দিবস অশুচির অন্ন ভোজন করেন, তিনি অশৌচান্তে সাবিত্রী ও অঘমর্ষণমন্ত্র জপ এবং রেবতীযাগ ও কুষ্মাণ্ড-হোম করিলে শুদ্ধি লাভ করিতে পারেন। যিনি মৃতাশৌচের চতুর্থ দিবসে অশুচির অন্ন ভোজন করেন, তিনি সাত দিবস ত্রিকালীন স্নান করিয়া পবিত্র হন এবং তাহার আপদ বিনষ্ট হয়।
“যে ব্রাহ্মণ শূদ্রের সহিত একপাত্রে ভোজন করেন, তাঁহার শুদ্ধিলাভের আর উপায় নাই। যিনি বৈশ্যের সহিত একপাত্রে ভোজন করেন, তিনি তিন রাত্রি ভিক্ষা করিলে এবং যিনি ক্ষত্রিয়ের সহিত একপাত্রে ভোজন করেন, তিনি পরিহিত বস্ত্রের সহিত স্নান করিলে শুদ্ধিলাভ করিতে পারেন। শূদ্র শূদ্রের সহিত একপাত্রে ভোজন করিলে তাহার কুলক্ষয়, বৈশ্য বৈশ্যের সহিত একপাত্রে ভোজন করিলে তাহার পশু ও বান্ধবনাশ, ক্ষত্রিয় ক্ষত্রিয়ের সহিত একপাত্রে ভোজন করিলে তাহার শ্রীনাশ এবং ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণের সহিত একপাত্রে ভোজন করিলে তাহার তেজোহ্রাস হইয়া থাকে। অতএব পরস্পর একপাত্রে ভোজন করা নিতান্ত অকর্ত্তব্য। এইরূপ পরস্পর একপাত্রে ভোজন করিলে সাবিত্রী ও অঘমর্ষণ মন্ত্রজপ, রেবতী-যাগ ও কুষ্মাণ্ডহোম এবং দূর্ব্বা ও হরিদ্রা প্রভৃতি মাল্যদ্রব্য স্পর্শ করা উচিত; তাহা হইলেই ঐ পাপের শান্তি হয়।”
