3 of 4

১১৯. যুদ্ধমৃত্যুতে ক্ষত্রিয়ের ব্রাহ্মণত্বলাভ

১১৯তম অধ্যায়

যুদ্ধমৃত্যুতে ক্ষত্রিয়ের ব্রাহ্মণত্বলাভ

“হে ধৰ্ম্মরাজ! অনন্তর সেই রাজা আপনার জন্মান্তরীণ ভাবসমুদয় স্মরণপূৰ্ব্বক কঠোর তপানুষ্ঠান করিতে লাগিলেন। তখন ভগবান্ বেদব্যাস সেই ধর্ম্মাৰ্থবেত্তা ভূপতির নিকট সমুপস্থিত হইয়া তাঁহার কঠোর তপস্যা দর্শনপূৰ্ব্বক কহিলেন, ‘মহারাজ! প্রজাপালনই ক্ষত্রিয়ের সর্ব্বোৎকৃষ্ট ধৰ্ম্ম। অতএব তুমি জিতেন্দ্রিয়, শুভাশুভবিচারক ও স্বধৰ্ম্মনিরত হইয়া ন্যায়ানুসারে। প্রজাপালন কর, তাহা হইলেই পরজন্মে ব্রাহ্মণত্বলাভ করিতে পারিবে, সন্দেহ নাই।

“মহর্ষি বেদব্যাস এইরূপ উপদেশ প্রদান করিলে, ভূপতি তাঁহার বাক্য শিরোধার্য্য করিয়া ধৰ্ম্মানুসারে প্রজাপালন করিতে লাগিলেন এবং পরিশেষে সংগ্রামে কলেবর পরিত্যাগ করিয়া অতিপবিত্র ব্রাহ্মণকুলে সমুৎপন্ন হইলেন। তখন মহাত্মা বেদব্যাস ঐ ব্রাহ্মণের নিকট সমুপস্থিত হইয়া তাঁহাকে সম্বোধনপূর্ব্বক কহিলেন, ‘হে ব্রাহ্মণকুমার! তুমি পূৰ্ব্বজন্ম স্মরণ করিয়া দুঃখিত হইও না। ইহলোকে যে ব্যক্তি শুভকাৰ্য্যের অনুষ্ঠান করে তাহাকে উৎকৃষ্টযোনিতে এবং যে ব্যক্তি অশুভকার্য্যের অনুষ্ঠান করে, তাহাকে নীচযোনিতে জন্মগ্রহণ করিতে হয়। অতএব তুমি মৃত্যু হইতে ভীত না হইয়া যাহাতে ধর্ম্মলোপ না হয়, তদ্বিষয়ে যত্নবান্ হও।’ তখন ব্রাহ্মণ কহিলেন, ‘ভগবন্! আপনার প্রসাদেই আমার দূর্ল্লভ জন্মলাভ হইয়াছে। আজ আমি উৎকৃষ্ট জাতি লাভ করিয়া সমুদয় পাপ হইতে বিমুক্ত হইলাম। এই বলিয়া ব্রাহ্মণ কৃতজ্ঞতাসহকারে মহর্ষি বেদব্যাসের স্তব করিতে লাগিলেন এবং পরিশেষে তাঁহার আদেশানুসারে বহুসংখ্যক যজ্ঞের অনুষ্ঠান করিয়া প্রাণপরিত্যাগপূৰ্ব্বক ব্রহ্মলোক লাভ করিলেন।

“হে ধৰ্ম্মরাজ! এইরূপে সেই কীট ভগবান্ বেদব্যাসের প্রসাদে দুর্ল্লভ ব্রাহ্মণ্যলাভ করিয়া পরিশেষে ব্রহ্মলোক পর্য্যন্ত লাভ করিয়াছিল। সে পূর্ব্বে ক্ষত্রিয়কুলে জন্মগ্রহণপূর্ব্বক সংগ্রামে প্রাণত্যাগ করিয়াছিল বলিয়াই তাহার ব্রাহ্মণত্বলাভ হয়। অতএব যাহারা সংগ্রামে প্রাণত্যাগ করে, তাহাদের নিশ্চয়ই উৎকৃষ্ট গতি লাভ হইয়া থাকে। যে সমস্ত ক্ষত্ৰকুলোদ্ভব মহাত্মা এই কুরুক্ষেত্রের সংগ্রামে কলেবর পরিত্যাগ করিয়াছেন, তাঁহাদের অবশ্যই উৎকৃষ্ট গতি লাভ হইয়াছে; সুতরাং তাঁহাদিগের নিমিত্ত শোক করা তোমার কখনই কর্ত্তব্য নহে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *