১৪৯তম অধ্যায়
বিষ্ণুর সহস্রনাম
বৈশম্পায়ন কহিলেন, মহারাজ! রাজা যুধিষ্ঠির এইরূপে ভীষ্মের নিকট নানাবিধ ধর্ম্ম ও পবিত্র বিষয় সমুদয় শ্রবণ করিয়া পুনরায় তাঁহাকে সম্বোধনপূর্ব্বক কহিলেন, “পিতামহ! এই ভূমণ্ডলে প্রধান দেবতা কে, কাহার স্তব ও কাহার অর্চ্চনা করিলে শুভফল হয়, কোন ধর্ম্ম সমুদয় ধৰ্ম্ম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ এবং কোন্ মন্ত্র জপ করিলে মানবগণ সংসারবন্ধন হইতে মুক্ত হইতে পারে, আপনি তাহা কীর্ত্তন করুন।”
ভীষ্ম কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ! এই ভূমণ্ডলে দেবাদিদেব পরমপুরুষ বাসুদেবই অদ্বিতীয়। উহার সহস্র নাম উল্লেখ করিয়া ভক্তিপূৰ্ব্বক উহার স্তব ও অর্চ্চনা করিলেই শুভফললাভ হয়। সেই অনাদিনিধন ত্রিলোকাধিপতি নারায়ণকে ধ্যান, নমস্কার ও তাঁহার উদ্দেশে যজ্ঞানুষ্ঠান করিলেই সংসারবন্ধন হইতে মুক্তিলাভ করা যায়। তিনি ব্রাহ্মণপ্রিয়, ধর্ম্মজ্ঞ, লোকের কীৰ্ত্তিবর্দ্ধন, লোকনাথ ও সমুদয় ভূতের উৎপত্তির আদিকারণ। ভক্তিপূর্ব্বক পুণ্ডরীকাক্ষের স্তব করাই সমুদয় ধৰ্ম্ম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ধর্ম্ম। যিনি সমুদয় তেজ অপেক্ষা অতি উৎকৃষ্ট তেজ, সমুদয় তপস্যা অপেক্ষা প্রধান তপস্যা, যিনি সমুদয় ব্রত অপেক্ষা অতি উৎকৃষ্ট ব্রত, যিনি সমুদয় মঙ্গলের মঙ্গল, যিনি দেবতাদিগের দেবতা, যিনি সমুদয় জীবের পিতা ও পরব্রহ্মস্বরূপ এবং কল্পান্তে যাঁহাতে সমুদয় জীব বিলীন হয়, আমি এক্ষণে সেই লোকপ্রধান বিষ্ণুর সহস্রনাম কীর্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। উহা শ্রবণ করিলে পাপ ও ভয় এককালে বিনষ্ট হইয়া যায়। মহর্ষিগণ ঐ বিখ্যাত নামসমুদয় কীর্ত্তন করিয়া, গিয়াছেন।
“বিশ্ব, বিষ্ণু, বষট্কার, ভূতভব্যভৎপ্রভু, ভূতকর্ত্তা, ভূতভর্ত্তা, ভাব, ভূতাত্মা, ভূতভাবন, পূতাত্মা, পরমাত্মা, মুক্ত ব্যক্তিদিগের পরমগতি, অব্যয়, পুরুষ, সাক্ষী, ক্ষেত্রজ্ঞ, অক্ষর, যোগ, যোগবেত্তাদিগের নায়ক, প্রকৃতি-পুরুষের ঈশ্বর, নরসিংহ, শ্রীমান, কেশব, পুরুষোত্তম, শৰ্ব্ব, সৰ্ব্ব, শিব, স্থাণু, ভূতাদি, নিধি, অব্যয়, সদ্ভাব, ভাবন, ভর্ত্তা, প্রভব, প্রভু, ঈশ্বর, স্বয়ম্ভু, শম্ভু, আদিত্য, পুষ্করাক্ষ, মহাস্বন, অনাদিনিধন, ধাতা, বিধাতা, ব্রহ্মা হইতে শ্রেষ্ঠ, অপ্রমেয়, হৃষীকেশ, পদ্মনাভ, অমরপ্রভু, বিশ্বকৰ্ম্ম, মনু, ত্বষ্টা, স্থবিষ্ট, স্থবির, ধ্রুব, অগ্রাহ্য, শাশ্বত, কৃষ্ণ, লোহিতাক্ষ, প্রতর্দ্দন, প্রভূত, ত্রিককুৎ, ধাম, পবিত্র, মঙ্গল,পর, ঈশান, প্রাণদ, প্রাণ, জ্যেষ্ঠ, শ্রেষ্ঠ, প্রজাপতি, হিরণ্যগর্ভ, ভূগর্ভ, মাধব, মধুসূদন, ঈশ্বর, বিক্রমী, ধন্বী, মেধাবী, বিক্রম, ক্রম, অনুত্তম, দুরাধর্ষ, কৃতজ্ঞ, কৃত, আত্মবান, সুরেশ, শরণ, শৰ্ম্ম, বিশ্বরেতা, প্রজাভব, অয়ঃ, সংবৎসর, ব্যাল, প্রত্যয়, সৰ্ব্বদর্শন, অজ, সর্ব্বেশ্বর, সিন্ধু, সিদ্ধি, সর্ব্বাদি, অচ্যুত, বৃষাকপি, অমেয়া, সমুদয় যোগ হইতে নির্গত, বসু, বসুমনা, সত্য, সমাত্মা, সম্মিত, সম, অমোঘ, পুণ্ডরীকাক্ষ, বৃষকৰ্ম্মা, বৃষাকৃতি, রুদ্র, বহুশিরা, বভ্রূ, বিশ্বযোনি, শুচিশ্রবা, অমৃত, শাশ্বত, স্থাণু, বরারোহ, মহাতপা, সৰ্ব্বগ, সৰ্ব্বজ্ঞ, ভানু, বিশ্বসেন, জনার্দ্দন, বেদ, বেদজ্ঞ, অব্যঙ্গ, বেদাঙ্গ, বেদবিৎ, কবি, লোকাধ্যক্ষ, সুরাধ্যক্ষ, ধর্ম্মাধ্যক্ষ, কৃতকৃত্য, চতুরাত্মা, চতুর্ব্বূহ, চতুর্দ্দন্ত, চতুর্ভুজ, ভ্রাজিষ্ণু, ভোজন, ভোক্তা, সহিষ্ণু, জগতের আদি, অনঘ, বিজয়, জেতা, বিশ্বযোনি, পুনৰ্ব্বসু, উপেন্দ্র, বামন, প্রাংশু, অমোঘ, শুচি, উর্জ্জিত, অতীন্দ্র, সংগ্রহ, সর্গ, ধৃতাত্মা, নিয়ম, যম, বেদ্য, বৈদ্য, যোগী, বীরঘাতী, মাধব, মধু, অতীন্দ্রিয়, মহামায়া, মহোৎসাহ, মহাবল, মহাবুদ্ধি, মহাশক্তি, মহাবীৰ্য্য, মহাদ্যুতি, অনির্দ্দেশ্যবপু, শ্রীমান, অমেয়াত্মা, মহাপতধারী, মহাধনুর্দ্ধর, মহীভর্ত্তা, শ্রীনিবাস, সাধুদিগের গতি, অনিরুদ্ধ, সুরানন্দ, গোবিন্দ, ইন্দ্রিয়তত্ত্ববেত্তাদিগের পতি, মরীচি, দমন, হংস, সুপর্ণ, ভুজগোত্তম, হিরণ্যনাভ, সুতপাঃ, পদ্মনাভ, প্রজাপতি, অমৃত্যু, সৰ্ব্বদৃক, সিংহ, সন্ধাত, সন্ধিমান, স্থির, অজ, দুর্দ্ধর্ষণ, শাস্তা, বিশ্রুতাত্মা, দৈত্যঘাতী, গুরু, গুরুতম, ধাম, সত্য, সত্যপরাক্রম, নিমিষ, অনিমিষ, স্রগ্বী, বাচস্পতি, উদারধী, অগ্রণী, প্রামণী, শ্রীমান্, ন্যায়, নেতা, সমীরণ, সহস্ৰমূৰ্দ্ধা, বিশ্বাত্মা, সহস্রাক্ষ, সহস্রপাৎ, আবর্ত্তন, নিবৃত্তাত্মা, সংবৃত, সংপ্রতর্দ্দন, অহঃ, সংবর্ত্তক, বহ্নি, অনিল, ধরণীধর, সুপ্রসাদ, প্রসন্নাত্মা, বিশ্বধারী, বিশ্বভোক্তা, বিভু, সৎকর্ত্তা, সৎকৃত, সাধু, জহ্নু, নারায়ণ, নর, অসঙ্খেয় , অপ্রমেয়াত্মা, বিশিষ্ট শাসনকর্ত্তা, শুচি, সিদ্ধার্থ, সিদ্ধসংকল্প, সিদ্ধিদাতা, সিদ্ধিসাধন, বৃষাহী, বৃগভ, বিষ্ণু, বিষপর্ব্বা , বৃষোদর, বর্দ্ধন, বর্দ্ধমান, বিবিক্ত, শ্রুতিসাগর, সুভুজ, দুৰ্দ্ধার, বাগ্মী, মহেন্দ্র, বসুদ, বসু, বহুরূপী, বৃহদ্রূপ, শিপিবিষ্ট, প্রকাশন, ওজ, তেজ, দ্যুতিধর, প্রকাশাত্মা, প্রতাপন, ঋদ্ধ, স্পষ্টাক্ষর, মন্ত্র, চন্দ্রাংশু, ভাস্বরদ্যুতি, অমৃতাংশূদ্ভব, ভানু, শশবিন্দু, সুরেশ্বর, ঔষধ, জগৎসেতু, সত্যধর্ম্মপরাক্রম, ভূতভব্যভবন্নাথ, পবন, পাবন, অনল, কামঘাতী, কামকারী, কান্ত, কাম, কামদাতা, প্রভু, যুগাদিকৰ্ত্তা, যুগাবর্ত্ত, অনেকমায়, মহাশন, অদৃশ্য, অব্যক্তরূপ, সহস্রজিৎ, অনন্তজিৎ, ইষ্ট, বিশিষ্ট, শিষ্টেষ্ট, শিখণ্ডী, নহুষ, বৃষ, ক্রোধার্হ, ক্রোধকারী, কৰ্ত্তা, বিশ্ববাহু, মহীধর, অচ্যুত, প্রোথিত, প্রাণ, প্রাণদ, বাসবানুজ, জলনিধি, অধিষ্ঠান, অপ্রমত্ত, প্রতিষ্ঠিত, স্কন্দ, স্কন্দধর, ধুর্য্য, বরদ, বায়ুবাহন, বাসুদেব, বৃহদ্ভানু, আদিদেব, পুরন্দর, অশোক, তারণ, তার, শূর, শৌরি, জলেশ্বর, অনুকূল, শতাবর্ত্ত, পদ্মী, পদ্মনিভেক্ষণ, পদ্মনাভ, অরবিন্দাক্ষ, পদ্মগর্ভ, শরীরপোষক, মহদ্ধি, ঋদ্ধ, বৃদ্ধাত্মা, মহাক্ষ, গরুড়ধ্বজ, অতুল, শরভ, ভীম, সমযজ্ঞ, হরি, হবি, সৰ্ব্বলক্ষণলক্ষণ্য, লক্ষ্মীবান, সমিতিঞ্জয়, বিক্ষর, রোহিত, মার্গ, হেতু, দামোদর, সহ, মহীধর, মহাভাগ, বেগবান, অমিতাশন, উদ্ভভ, ক্ষোভণ, দেব, শ্রীগর্ভ, পরমেশ্বর, কারণ, কর্ত্তা, করণ, বিকৰ্ত্তা, গহন, গুহ, ব্যবসায়, ব্যবস্থান, সংস্থান, স্থানদাতা, ধ্রুব, পরার্দ্ধ, পরমস্পষ্ট, তুষ্ট, পুষ্ট, শুভেক্ষণ, রাম, বিরাম, বিরজ, মার্গ, নেয়, নয়, অনয়, বীর, বলবান্ ব্যক্তিদিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, ধৰ্ম্ম, ধৰ্ম্মজ্ঞদিগের শ্রেষ্ঠ, বৈকুণ্ঠ, পুরুষ, প্রাণ, প্রাণদ, প্রণব, পৃথু, হিরণ্যগর্ভ, শত্রুঘ্ন, ব্যাপ্ত, বায়ু, অর্ধেক্ষজ, ঋতু, সুদর্শন, কাল, পরমেষ্ঠী, পরিগ্রহ, উগ্র, সংবৎসর, দক্ষ, বিশ্রাম, বিশ্বদক্ষিণ, বিস্তার, স্থাবর, স্থাণু, প্রমাণ, অব্যয়, বীজ, অর্থ, অনর্থ, মহাকোষ, মহাভোগ, মহাধন, অনিৰ্ব্বিণ্ন, স্থবিষ্ঠ, ধৰ্ম্মযূপ, মহামখ, নক্ষত্রনেমি, নক্ষত্রী, ক্ষম, ক্ষাম, সমীহন, যজ্ঞ, ইজ্য, মহেজ্য, ক্রতু, সাধুদিগের গতি, সৰ্ব্বদর্শী, বিমুক্তাত্মা, সদজ্ঞ, উত্তমজ্ঞান, সুব্রত, সুমুখ, সূক্ষ্ম, সুঘোয, সুখদীপা, সুহৃৎ, মনোহর, জিতক্রোধ, বীরবাহু, বিদারণ, স্বাপন, স্ববশ, ব্যাপী, অনেকাত্মা, অনেকধৰ্ম্মবৃৎ, বৎসর, বৎসল, বৎসী, রত্নগর্ভ, ধনেশ্বর, ধৰ্ম্মগোপ্তা, ধর্ম্মকৰ্ত্তা, ধর্মী, স্থূল, সূক্ষ্ম, ক্ষর, অক্ষর, অবিজ্ঞতা, সহশ্রাংশু, বিধাতা, কৃতলক্ষণ, গভস্তিনেমি, সত্ত্বস্থ, সিংহ, ভূতমহেশ্বর, আদিদেব মহাদেব, দেবেশ, দেবপালক, গুরু, উত্তর,
গোপতি, গোপ্তা, জ্ঞানগম্য, পুরাতন, শরীরস্থিত পঞ্চভূতের পালক, ভোত্তা, কপীন্দ্র, ভূরিদক্ষিণ, সোমপ, অমৃতপ, সোম, পুরজিৎ, পুরত্তম, বিজয়, জয়, সত্যসন্ধ, দশার্হ, সাদ্ভূতদিগের অধিপতি, জীব, বিনয়িতা, সাক্ষী, মুকুন্দ, অমিতবিক্রম, অম্ভোনিধি, অনন্তাত্মা, মহাসমুদ্রশায়ী, অস্তক, অজ, মহার্হ, স্বভাবস্থিত, শত্ৰুবিজয়ী, প্রমোদন, আনন্দ, নন্দন, নন্দ, সত্যধৰ্ম্মা, ত্রিবিক্রম, মহর্ষি, কপিলাচার্য্য, কৃতজ্ঞ, মেদিনীপতি, ত্রিপদ, ত্রিদশাধ্যক্ষ, মহাশৃঙ্গ, কৃতান্তঘাতী, মহাবাহ, গোবিন্দ, সুষেণ, কনকাঙ্গদী, গুহ্য, গভীর, গহন, গুপ্ত, গদাচক্রধারী, বেধা, স্বাঙ্গ, অজিত, কৃষ্ণ, দৃঢ়, সঙ্কর্ষণ, অচ্যুত, বরুণ, বারুণ, বৃক্ষ, পুষ্পরাক্ষ, মহামনা, ভগবান্, ভগঘ্ন, নন্দী, বনমালী, হলায়ুধ, আদিত্য, জ্যোতিঃপ্রধান, সহিষ্ণু, গতিসত্তম, সুধা, খণ্ডপরশু, দারুণ, দ্রবিণপ্রদ, দিবস্পর্শী, সৰ্ব্বদৃক, ব্যাস, বাচস্পতি, অযোনিজ, ত্ৰিসামা, সামগ, সাম, নির্ব্বাণ, ভেষজ, ভিষক, সন্ন্যাসকারী, শম, শান্ত, নিষ্ঠা, শান্তি, পরায়ণ, শুভাঙ্গ, শান্তি, স্রষ্টা, কুমুদ, কুবলেশয়, গোহিত, গোপতি, গোপ্তা, বৃষভাক্ষ, বৃষপ্রিয়, অনিবৰ্ত্তী, নিবৃতাত্মা, সংক্ষেপ্তা, ক্ষেমকৃৎ, শিব, শ্রীবৎসক্ষা, শ্রীবাস, শ্রীপতি, শ্রীমান ব্যক্তিদিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, শ্রীদাতা, শ্রীশ, শ্রীনিবাস, শ্রীনিধি, শ্রীবিভাবন, শ্ৰীকর, শ্রীধর, শ্রেয়, শ্রীমান, ত্রিলোকের আশ্রয়, স্বক্ষ, স্বঙ্গ, শতানন্দ, নন্দী, জ্যোতি, গণেশ্বর, বিজিতাত্মা, বিধেয়াত্মা, সকীৰ্ত্তি, ছিন্নসংশয়, উদীর্ণ, সৰ্ব্বতশ্চক্ষু, অনীশ, শাশ্বত, স্থির, ভূশায়ী, ভূষণ, ভূতি, বিশোক, শোকনাশন, অচ্চিষ্মান, অচ্চিতকুম্ভ, বিশুদ্বাত্মা, বিশোধন, অনিরুদ্ধ, অপ্রতিরথ, প্রদ্যুম্ন, অমিতবিক্রম, কালনেমি, নিহন্তা, বীর, শৌরি, শুরজনেশ্বর, ত্রিলোকাত্ম্য, ত্রিলোকেশ, কেশব, কেশিহা, হরি, কামদেব, কামপাল, কামী, কান্ত, কৃতাগম, অনির্দ্দেশবপু, বিষ্ণু, বীর, অনন্ত, ধনঞ্জয়, ব্রহ্মণ্য, ব্ৰহ্মকৃৎ, ব্রহ্মা, ব্রহ্ম, ব্রহ্মবিবর্দ্ধন, ব্রহ্মবিৎ, ব্রাহ্মণ, ব্রহ্মী, ব্রহ্মজ্ঞ, ব্রাহ্মণপ্রিয়, মহাক্রম, মহাকৰ্ম্মা, মহাতেজা, মহোরগ, মহাক্রতু, মহাযজ্ব, মহাযজ্ঞ, মহাহবি, স্তব্যকি, স্তবপ্রিয়, স্তোত্র, স্তুতি, স্তোত, রণপ্রিয়া, পুণ্য, পুরয়িতা, পুণ্য, পুণ্যকীর্ত্তি, অনাময়, মনোজব, তীর্থবর, বসুরেতা, বসুপ্রিয়, বসুপ্রদ, বাসুদেব, বসু, বসুমনা, হরি, সঙ্গতি, সংস্কৃতি, সত্তা, সদ্ভুতি, সৎপরায়ণ, শূরসে, যদুশ্রেষ্ঠ, সন্নিবাস, সুযামুন, ভূতবাস, বাসুদেব, সর্ব্বাসুমিলয়, অনল, দর্পহা, দৃপ্ত, দুদ্ধর, অপরাজিত, বিশ্বমূৰ্ত্তি, মধামূৰ্ত্তি, দীপ্তমূৰ্ত্তি, অমূর্ত্তিমান, অনেকমূৰ্ত্তি, অব্যক্ত, শত্তমূৰ্ত্তি, শত্তানন, এক, অনেক, সব, ক, কি, যত্তদ্বাচ্য, লোকবন্ধু, লোকনাথ, মাধব, ভক্তবৎসল, সুবর্ণবর্ণ, হেমাঙ্গ, বরঙ্গি, চণ্ডনাঙ্গদী, বীরহা, বিষম, শূন্য, ঘৃতাশী, অচল, চল, অমানী, মানদ, মন্য, লোকস্বামী, ত্রিলোককৃত, সুমেধা, মেধজ, ধন্য, সস্যমেধা, ধরাধর, তেজ, বৃষ, দ্যুতিধর, সর্ব্বশস্ত্রধরাগ্রগণ্য, প্রগ্রহ, নিগ্রহ, অব্যগ্র, অনেকশৃঙ্গ, পদাগ্রজ, চতুমূর্ত্তি, চতুৰ্ব্বাহু, চতুর্ব্যূহ, চতুর্গতি, চতুরাত্মা, চতুর্ভাব, চতুর্ব্বেদবিৎ, একপাৎ, সমাবর্ত্ত, নিবৃত্তাত্মা, দুর্জ্জয়, দূরতিক্রম, দুর্ল্লভ, দুর্গম, দুর্গাদুরাবাস, দুরারিহা, শুভাঙ্গ, লোকসারঙ্গসুতন্তু, তন্তুবর্দ্ধন, ইপ্ৰকৰ্ম্মা, মহাকর্ম্মা, কৃতকর্ম্মা, কৃতাগম, উদ্ভব, সুন্দর, সুন্দ, সুণ্ডুর, রত্ননাভ, সুলোচন, অর্ক, বাজসন, শৃঙ্গী, জয়ন্ত, সৰ্ব্ববিৎ, জয়ী, সুবর্ণবিন্দু, অক্ষোভ্য, সৰ্ব্বাক্, ঈশ্বরেশ্বর, মহাগর্ত্ত, মহাভূত, মহানিধি, কুমুদ, কুন্দর, কুন্দ, পর্জ্জন্য, পবন, অনিল, অমৃতাশ, অমৃতবপু, সৰ্ব্বজ্ঞ, সৰ্ব্বতোমুখ, সুলভ, সুব্রত, সিদ্ধ, শত্রুজিৎ, শত্রুতাপন, ন্যাগ্রোধ, উদুম্বর, অশ্বত্থ, চাণুরান্ধ্রনিসূদন, সহস্রাচ্চি, সপ্তজিহ্ব, সপ্তধা, সপ্তবাহন, অমূৰ্ত্তি, অনঘ, অচিন্ত্য, ভয়কৃৎ, ভয়নাশন, অণু, বৃহৎ, কৃশ, স্থূল, গুণভৃৎ, নির্গুণ, মহান, অধৃত, স্বশত, স্বার্থ, প্রাগ্বংশ, বংশবর্দ্ধন, ভারভৃৎ, যোগী, যোগীশ, সৰ্ব্বকামদ, আশ্রম, শ্রবণ, ক্ষাম, সুপর্ণ, বায়ুবাহন, ধনুর্দ্ধর, ধনুরর্ব্বেদ, দণ্ড, দময়িতা, দম, অপরাজিত, সৰ্ব্বসহ, নিয়ন্তা, নিয়ম, যম, সত্তাবান, সাত্ত্বিক, সত্য, সত্যধর্ম্মপরায়ণ, অভিপ্রায়, প্রিয়ার্থ, অৰ্হ, প্রিয়কৃৎ, প্রীতিবর্দ্ধন, বিহারসগতি, জ্যোতি, সুরুচি, হুতভুগ্বিভু, রবি, বিরোচন, সূৰ্য্য, সবিতা, রবিলোচন, অনন্ত, হতভুক্, ভোক্তা, সুখদ, অনেকজ, অগ্রজ, অনিৰ্ব্বিণ্ন, সদামী, লোকাধিষ্ঠান, অদ্ভুত, সনৎকুমার, সনাতন, কপিল, কপি, অব্যয়, স্বস্তি, স্বস্তিকৃৎস্বস্তি, স্বস্তিকৃৎ, স্বস্তিদক্ষিণ, অরৌদ্র, কুণ্ডলী, চক্ৰী, বিক্রমী, উর্জ্জিতশাসন, শব্দাতিগ, শব্দসহ, শিশির, শৰ্ব্বরীকর, অক্রূর, পেশল, দক্ষ, দক্ষিণ, ক্ষমাবানদিগের অগ্রগণ্য, বিদ্বত্তম, বীতভয়, পুণ্য-শ্রবণ কীর্ত্তন, ঊত্তারণ, দুষ্কৃতি, পুণ্য, দুঃস্বপ্ননাশন, বীরহা, রক্ষণ, শান্ত, জীবন, পৰ্য্যবস্থিত অনন্তরূপ, অনন্তশ্রী, জিতমন্যু, ভয়াবহ, চতুরস্র, গভীরাত্মা, বিদিশো, ব্যাদিশো, দিশ, অনাদি, ভূলোকের ও ভুবলোকের ঐশ্চৰ্য্য, সুবীর, রুচিরাঙ্গদ, জনন, জনজন্মাদি, ভীম, ভীমপরাক্রম, আধারনিলয়, ধাতা, পুষ্পহাস, প্রজাগর, ঊৰ্দ্ধগ, সৎপথাচার, প্রাণদ, প্রণব, পণ, প্রমাণ, প্রাণনিলয়, প্রাণভৃৎ, প্রাণজীবনতত্ত্ব, তত্ত্ববিৎ, একাত্মা, জন্মমৃত্যুজরাতিগ, ভূলোক, ভুবর্লোক, স্বর্লোক, তরু, প্রণব, পিতা, পিতামহ, যজ্ঞ, যজ্ঞপতি, যজ্বী, যজ্ঞাঙ্গ, যজ্ঞবাহন, যজ্ঞভৃৎ, যজ্ঞকৃৎ, যজ্ঞী, যজ্ঞভুক্ত, যজ্ঞসাধন, যজ্ঞানুবৃৎ, যজ্ঞগুহ্য, অন্ন, অন্নাদি, আত্মযোনি স্বয়ঞ্জাত, বৈখানস, সামগায়ন, দেবকীনন্দন, স্রষ্টা, ক্ষিতীশ, পাপনাশন, শঙ্খভৃৎ, নন্দকী, চক্ৰী, শার্ঙ্গধন্বা, গদাধর, রথাঙ্গপাণি, অক্ষোভ্য ও সৰ্ব্বপ্রহরণায়ুধ।
“এই আমি তোমার নিকট ভূতভাবন ভগবান বাসুদেবের সহস্রনাম কীর্ত্তন করিলাম। যে ব্যক্তি প্রতিদিন এই সহস্রনাম কীর্ত্তন বা শ্রবণ করেন, তাঁহার কি ইহলোক, কি পরলোক কুত্রাপি কিছুমাত্র অমঙ্গল হয় না। উহা কীর্ত্তন বা শ্রবণ করিলে ব্রাহ্মণের দেহান্তে পাণ্ডিত্য, ক্ষত্রিয়ের বিজয়, বৈশ্যের অতুল সম্পদ, শূদ্রের সুখ, ধর্ম্মার্থীদিগের ধর্ম্ম, ধনার্থীদিগের ধন, কামীদিগের কামনা ও পুত্ৰার্থীদিগের পুত্রলাভ হয়। যে ব্যক্তি প্রতিদিন পবিত্র ও ভক্তিপরায়ণ হইয়া সমাহিতচিত্তে বাসুদেবের এই সহস্রনাম কীর্ত্তন করেন, তাঁহার বিপুল যশ, জ্ঞানীদিগের মধ্যে প্রাধান্য, অচলা লক্ষ্মী, বলবীৰ্য্য ও শ্ৰেয়োলাভ হয় এবং তিনি রোগবিহীন, দ্যুতিমান ও রূপে-গুণে বিভূষিত হইয়া অকুতোভয়ে কালহরণ করিতে পারেন। প্রতিদিন ভক্তিপূৰ্ব্বক এই সহস্রনাম কীর্ত্তন করিলে রোগার্ত্তদিগের রোগ হইতে, বদ্ধদিগের বন্ধন হইতে, ভীতদিগের ভয় হইতে ও বিপন্নদিগের বিপদ হইতে মুক্তিলাভ হইয়া থাকে। যে ব্যক্তি ভগবান্ বাসুদেবের প্রতি একান্ত ভক্তিপরায়ণ ও তাহার আশ্রিত হয়, সে সমুদয় পাপ হইতে বিমুক্ত হইয়া সনাতন ব্রহ্মলোক লাভ করে। বাসুদেবের ভক্তদিগকে কদাচ জন্ম, মৃত্যু, জরা ও ব্যাধি হইতে ভীত হইতে হয় না। যাঁহারা ভক্তিমান্ হইয়া শ্ৰদ্ধাসহকারে ভগবান্ বাসুদেবের এই স্তব পাঠ করেন, তাঁহারা নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, শ্রীমান, ধৈর্য্যশালী, স্মরণশক্তিসম্পন্ন, কীৰ্ত্তিমান্ ও সুখী হইতে পারেন। যাঁহারা নারায়ণের প্রতি দৃঢ়তর ভক্তি প্রদর্শন করেন, ক্রোধ, মাৎসর্য্য, লোভ ও দুর্ব্বুদ্ধি সেই পুণ্যবান্দিগকে স্পর্শ করিতেও সমর্থ হয় না।
“ভগবান্ বাসুদেবই স্বীয় বীৰ্য্যবলে চন্দ্র-সূৰ্য্য ও নক্ষত্রগণে সমলঙ্কৃত নভোমণ্ডল, দিক্সমুদয়, পৃথিবী ও সমুদ্র ধারণ করিয়া রহিয়াছেন। সুর, অসুর, গন্ধৰ্ব্ব, যক্ষ, উরগ ও রাক্ষসগণসম্বলিত সমুদয় জগৎ তাঁহারই বশে অবস্থান করিতেছে। তিনি ইন্দ্রিয়, মন, বুদ্ধি, সত্ত্ব, তেজ, বল, ধৈৰ্য্য, দেহ-ও-জীবাত্মার সৃষ্টি করিয়াছেন। সমুদয় শাস্ত্র অপেক্ষা আচার শ্রেষ্ঠ। আচার হইতে ধর্ম্মের উৎপত্তি হয়। ভগবান্ বাসুদেব ঐ ধৰ্ম্মের রক্ষাকর্ত্তা। তিনি মহর্ষি, পিতৃলোক, দেবতা ও মহাভূতসমুদয়ের সৃষ্টি করিয়াছেন। যোগ, জ্ঞান, সাংখ্য, বিদ্যা, শিল্পাদিকার্য্য, বেদ, শাস্ত্র ও বিজ্ঞান তাঁহা হইতেই উৎপন্ন হইয়াছে। তিনি একাকী ত্রিলোকমধ্যে সমুদয় ভূতে অবস্থান করিতেছেন। যে ব্যক্তি শ্রেয়ঃ ও সুখলাভের বাসনা করেন, ভগবান্ বাসুদেবের এই ব্যাসোক্ত স্তব পাঠ করা তাহার অবশ্য কর্ত্তব্য। যাঁহারা সৰ্ব্বদা ভূতভাবন কেশবের অর্চ্চনা করেন, তাঁহাদিগকে কখনই পরাভূত হইতে হয় না।”
