3 of 4

১৩৭. দানধৰ্ম্মের মহিমা

১৩৭তম অধ্যায়

দানধৰ্ম্মের মহিমা

যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! দান ও তপস্যা উভয়দ্বারাই স্বর্গলাভ হইয়া থাকে; কিন্তু এই উভয়ের মধ্যে ইহলোকে কোনটি শ্রেষ্ঠ, তাহা কীর্ত্তন করুন।”

ভীষ্ম কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ! দান ও তপস্যা উভয়ই তুল্যফলপ্রদ। এক্ষণে ধৰ্ম্মানুষ্ঠাননিরত তপঃপরায়ণ নরপতিগণ দানদ্বারা যে সমুদয় লোক লাভ করিয়াছেন, তাহা কীর্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। মহর্ষি আত্রেয় স্বীয় শিষ্যগণকে নির্গুণ ব্রহ্মের বিষয় উপদেশ প্রদান করিয়া অতি উৎকৃষ্ট লোকে গমন করিয়াছেন। উশীনরপুত্র নরপতি শিবি ব্ৰহ্মণার্থ স্বীয় পুত্র প্রদান করিয়া স্বর্গলোক প্রাপ্ত হইয়াছেন। কাশীপতি প্রতর্দ্দন ব্ৰহ্মণার্থ স্বীয় তনয় প্রদান করিয়াছিলেন বলিয়া ইহলোকে ও পরলোকে তাঁহার যশোরাশি দেদীপ্যমান রহিয়াছে। সংকৃতিনন্দন রন্তিদেব মহাত্মা বশিষ্ঠকে অর্ঘ্য প্রদান করিয়া উৎকৃষ্ট লোকে গমন করিয়াছেন। মহাত্মা দেবাবৃধ ব্রাহ্মণকে একশত কাঞ্চনময় শলাকাসংযুক্ত ছত্রপ্রদান করিয়া স্বর্গে বাস করিয়াছেন। নরপতি অম্বরীষ তেজস্বী ব্রাহ্মণকে রাজ্য প্রদান করিয়া স্বর্গলোক লাভ করিয়াছেন। জনমেজয় ব্রাহ্মণকে দিব্যযান এবং মহারথ কর্ণ ব্রাহ্মণকে স্বীয় কুণ্ডল প্রদান করাতে তাঁহাদিগের অতি উৎকৃষ্ট লোকলাভ হইয়াছে।

“রাজর্ষি বৃষাদর্ভি ব্রাহ্মণকে বিবিধ রত্ন ও রমণীয় বাসস্থান প্রদান করিয়া স্বর্গে সুখসম্ভোগ করিয়াছেন। বিদর্ভাধিপতি নিমি মহাত্মা অগস্ত্যকে স্বীয় কন্যা ও রাজ্য প্রদান করিয়া বন্ধুবান্ধববর্গের সহিত স্বর্গে গমন করিয়াছেন। জমদগ্নিপুত্র পৃথিবী দান করাতে তাঁহার প্রার্থনাধিক উৎকৃষ্ট লোকসমুদয় লাভ হইয়াছে। অনাবৃষ্টিসময়ে মহর্ষি বশিষ্ঠ জীবগণের পরিত্রাণ করিয়াছেন বলিয়া অক্ষয় সুখসম্ভোগ করিতেছেন। দশরথতনয় রাম যজ্ঞে প্রভূত অর্থ দান করিয়াছিলেন বলিয়া অক্ষয়লোক লাভ করিয়াছেন এবং অদ্যাপি তাঁহার কীৰ্ত্তিপতাকা উড্ডীন হইতেছে। নরপতি কক্ষসেন বশিষ্ঠকে ধনদান করিয়াছিলেন বলিয়া তাঁহার স্বর্গলোকলাভ হইয়াছে। করন্ধমের পৌত্র বীক্ষিতের পুত্র মহাত্মা মরুত্ত মহর্ষি আঙ্গিরাকে কন্যা প্রদান করিয়া স্বর্গে গমন করিয়াছেন। পাঞ্চালপুত্র পরমধাৰ্ম্মিক নরপতি ব্রহ্মদত্ত মহানিধি শঙ্খ প্রদান করিয়া অতি উৎকৃষ্ট লোকে বাস করিতেছেন। রাজা মিত্রসহ মহাত্মা বশিষ্ঠকে স্বীয় প্রিয়ভাৰ্য্যা মদয়ন্তীকে সমর্পণ করিয়া স্বর্গলাভ করিয়াছেন।

“মনুপুত্র মহাত্মা প্রদ্যুম্ন ধৰ্ম্মানুসারে লিখিতকে চৌরদণ্ড প্রদান করিয়াছিলেন বলিয়া তাঁহার অতি উৎকৃষ্ট লোকলাভ হইয়াছে। মহাযশাঃ রাজর্ষি সহস্রচিত্য ব্রাহ্মণার্থ স্বীয় প্রাণপরিত্যাগ করিয়াছিলেন বলিয়া অতি উৎকৃষ্ট লোকসমুদয় সম্ভোগ করিতেছেন। মহীপতি শতদ্যুম্ন মহাত্মা মৌদগল্যকে নানাবিধ দ্রব্য পরিপূর্ণ হিরন্ময় গৃহ, মহাত্মা ভূমন্যু শাণ্ডিল্যকে পর্ব্বতাকার রাশি রাশি ভোজ্যদ্রব্য, শল্যরাজ দ্যুতিমান ঋচীককে রাজ্য, রাজর্ষি মদিরাশ্ব হিরণ্যহস্তকে স্বীয় সুমধ্যমা কন্যা, নরপতি লোমপাদ ঋষ্যশৃঙ্গকে অভিলষিত অর্থ ও শান্তানাম্নী তনয়া এবং রাজর্ষি ভগীরথ কৌৎসকে হংসীনাম্নী যশস্বিনী কন্যা ও কোহলকে একলক্ষ সবৎসা গাভী প্রদান করিয়া স্বর্গে গমন করিয়াছেন।

“হে ধৰ্ম্মরাজ! এতদ্ভিন্ন অন্যান্য অনেক মহাত্মা দান ও তপস্যাপ্রভাবে বারংবার স্বর্গে গমন ও তথা হইতে প্রত্যাগমন করিতেছেন। যেসকল গৃহস্থ দান ও তপস্যাবলে উৎকৃষ্ট লোকসমুদয় পরাজয় করিয়াছেন, যত দিন এই পৃথিবী বিদ্যমান, থাকিবে, তত দিন তাঁহাদিগের কীৰ্ত্তি অক্ষয় হইবে। এই আমি তোমার নিকট শিষ্টাচরিত ধৰ্ম্ম কীর্ত্তন করিলাম। পূর্ব্বোক্ত নরপতিগণ কেবল দান, যজ্ঞ ও সন্তান উৎপাদনদ্বারা স্বর্গলোক লাভ করিয়াছেন। অতএব তুমিও সতত দানযজ্ঞাদি কার্য্যে প্রবৃত্ত হও। এক্ষণে সন্ধ্যাকাল সমুপস্থিত হইয়াছে; অতএব যদি তোমার অন্য কোন সন্দেহ থাকে, কল্য তাহা ভঞ্জন করিব।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *