১৩৩তম অধ্যায়
মহাদেবকর্ত্তৃ গোমাহাত্ম্য-কীৰ্ত্তন
“অনন্তর মহেশ্বর কহিলেন, ‘হে মহানুভবগণ! তোমরা ধর্ম্মের সারাংশ কীৰ্ত্তন করিলে। এক্ষণে আমিও কিঞ্চিৎ ধর্ম্মতত্ত্ব কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর।
“যাহারা ধৰ্ম্মবুদ্ধিপরায়ণ ও শ্রদ্ধাবান, তাঁহাদিগের নিকটই সরহস্য মহাফল ধৰ্ম্ম কীৰ্ত্তন করা কর্ত্তব্য। যে ব্যক্তি এক মাস প্রশস্তমনে গোসমুদয়কে প্রচুর পরিমাণে ভক্ষ্য প্রদান ও দিবসের মধ্যে একবারমাত্র ভোজন করে, তাহার অতি উৎকৃষ্ট ফললাভ হয়। গোসমুদয়ের তুল্য পরমপবিত্র আর কিছুই নাই। উহারা দেবতা, অসুর ও মনুষ্যগণসমাকীর্ণ ত্রিলোক রক্ষা করিতেছে। যে ব্যক্তি প্রতিদিন উহাদিগের শুশ্রূষা ও উহাদিগকে ভক্ষ্য প্রদান করেন, তাঁহার প্রতিদিনই প্রচুর ধর্ম্মলাভ হয়। সত্যযুগে আমি গোসমুদয়কে আমার নিকটবর্ত্তিনী হইতে অনুজ্ঞা করিয়াছিলাম এবং সৰ্ব্বলোকপিতামহ ভগবান্ ব্রহ্মাও আমার যথোচিত সৎকার করিয়া আমাকে একটি বৃষ প্রদান করিয়াছিলেন। অদ্যাপি সেই বৃষ আমার ধ্বজস্থানে অবস্থান করিতেছে। আমি নিরন্তর গোসমুদয়ের সহিত ক্রীড়া করিয়া থাকি। অতএব সৰ্ব্বদা গোসমূহের পূজা করা মনুষ্যের অবশ্য কর্ত্তব্য। উপাসনাদ্বারা উহাদিগকে তুষ্ট করিতে পারিলে উহাদিগের নিকট উৎকৃষ্ট বরলাভে সমর্থ হওয়া যায়। যে ব্যক্তি গোসমুদয়কে একদিনের আহারোপযোগী ভক্ষ্যবস্তু প্রদান করে, সে সমুদয় কৰ্ম্মফলের চতুর্থাংশ লাভ করিতে সমর্থ হয়।’ ”
