১৩৪তম অধ্যায়
কার্ত্তিকেয়াদির ধর্ম্মাচার-কথন
“কাৰ্ত্তিকেয় কহিলেন, ‘এক্ষণে আমি স্বীয় অভিপ্রেত ধর্ম্ম কীৰ্ত্তন করিতেছি, সকলে অবহিতচিত্তে শ্রবণ করুন।
‘যে ব্যক্তি নীল বৃষের শৃঙ্গ হইতে মৃত্তিকা গ্রহণপূৰ্ব্বক স্বীয় কলেবরে মর্দ্দন করিয়া তিন দিবস স্নান করে, তাহার কিছুমাত্র অমঙ্গল হয় না; সে সর্ব্বত্র আধিপত্যলাভ করিয়া থাকে এবং যতবার সে ভূমণ্ডলে জন্মপরিগ্রহ করে, ততবারই পুরুষ বলিয়া বিখ্যাত হয়। এক্ষণে আর এক ধৰ্ম্মরহস্য কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। যে ব্যক্তি পূর্ণিমাতে তাম্রপাত্রে মধুমিশ্রিত পক্কান্ন গ্রহণপূৰ্ব্বক চন্দ্রকে বলিপ্রদান করে, তাহার সেই বলিপ্রভাবে অশ্বিনীকুমারদ্বয়, সাধ্য, রুদ্র, আদিত্য, বিশ্বদেব, বায়ু ও বসুগণ পরম পরিতুষ্ট এবং চন্দ্র ও সমুদ্র পরিবর্দ্ধিত হয়েন। এই আমি পরমসুখবহ ধৰ্ম্মরহস্য কীৰ্ত্তন করিলাম।’
“বিষ্ণু কহিলেন, “যে ব্যক্তি ঈর্ষাপরিশূন্য হইয়া প্রতিদিন ভক্তিপূৰ্ব্বক একমনে দেবতা ও ঋষিদিগের ধৰ্ম্মরহস্য পাঠ বা শ্রবণ করে, তাহার বিঘ্ন, ভয় বা পাপের লেশমাত্র থাকে না; সে সমুদয় উৎকৃষ্ট ধর্ম্মের ফললাভ করে এবং দেবতা ও পিতৃগণ চিরকাল তদ্দত্ত হব্যকব্য ভোজন করেন। যে ব্যক্তি ব্রাহ্মণদিগের নিকট এই ধৰ্ম্মরহস্য কীৰ্ত্তন করেন, ঋষি, দেবতা ও পিতৃগণ তাঁহার প্রতি পরমপরিতুষ্ট হয়েন এবং ধর্ম্মে তাঁহার দৃঢ়ভক্তি হয়। লোকে মহাপাতক ভিন্ন অন্য যে-কোন পাপকাৰ্য্যের অনুষ্ঠান করে, তৎসমুদয়ই ধৰ্ম্মরহস্য শ্রবণমাত্র বিনষ্ট হয়, সন্দেহ নাই।’
ভীষ্ম কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ! এই আমি তোমার নিকট সৰ্ব্বদেবপূজিত ব্যাসনির্দ্দিষ্ট দেবগণের ধৰ্ম্মরহস্য কীৰ্ত্তন করিলাম, ইহা রত্নপূর্ণ বসুন্ধরা অপেক্ষা নিকৃষ্ট নহে [বসুন্ধরা ও জ্ঞানসদৃশ]। ভক্তিবিহীন, নাস্তিক, ধর্ম্মভ্রষ্ট, নির্দ্দয়, হেতুবাদনিরত [কেবল যুক্তিবাদী], গুরুদ্বেষ্টা ও আত্মম্ভরি ব্যক্তির নিকট ইহা কীৰ্ত্তন করা কদাপি কর্ত্তব্য নহে।”
