3 of 4

১৩৮. দানলক্ষণ ও দানপাত্র-নির্ণয়

১৩৮তম অধ্যায়

দানলক্ষণ ও দানপাত্র-নির্ণয়

ধৰ্ম্মরাজ যুধিষ্ঠির ভীষ্মকর্ত্তৃক এইরূপে অভিহিত হইয়া রজনীযোগে বিশ্রামার্থ গমন করিলেন এবং পরদিন প্রভাত হইবামাত্র তাঁহার নিকট সমুপস্থিত হইয়া তাঁহাকে সম্বোধনপূৰ্ব্বক কহিলেন, “পিতামহ! দানপ্রভাবে যেসমুদয় নরপতি স্বর্গলোক লাভ করিয়াছেন, তাহা আপনার নিকট শ্রবণ করিয়াছি, এক্ষণে জিজ্ঞাস্য এই যে, দান কয় প্রকার, তাহার ফল কি, কাহাদিগকে দান করা কর্ত্তব্য এবং দান করিবার কারণই বা কি?”

ভীষ্ম কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ! সমুদয় বর্ণকে অর্থদান করিবার, প্রথা যথার্থরূপে কীর্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। ধৰ্ম্ম, অর্থ, ভয়, কাম ও কারুণ্য এই পঞ্চবিধ কারণনিবন্ধন দান পাঁচ প্রকার বলিয়া অভিহিত হইয়া থাকে। ঈর্ষাপরিশূন্য হইয়া ব্রাহ্মণদিগকে দান করিলে ইহলোকে কীৰ্ত্তি ও পরলোকে অতি উৎকৃষ্ট সুখলাভ হয়। ইহাকেই ধর্ম্মনিমিত্তক দান কহে। ‘আমাকে দান করিতেছেন, আমাকে দান করিবেন ও আমাকে দিয়াছেন’, অর্থীদিগের নিকট এইরূপ বাক্য শ্রবণ করিয়া যে দান করা যায়, তাহাকে অর্থনিমিত্তক দান কহে। ‘উহার সহিত আমার কোন সম্বন্ধ নাই, অতএব ও ব্যক্তি অপমানিত হইলে ক্রোধপ্রযুক্ত আমার অনিষ্টসাধন করিবে’, এইরূপ আশঙ্কা করিয়া মূঢ় ব্যক্তিকে যে দান করা হয়, তাহাকে ভয়নিমিত্তক দান কহে। ‘উহার সহিত আমার সদ্ভাব আছে, উহাকে কিঞ্চিৎ প্রদান করা কর্ত্তব্য’, এইরূপ বিবেচনা করিয়া ইচ্ছাপূৰ্ব্বক বয়স্যকে যে দান করা যায়, তাহাকে কামনিমিত্তক দান কহে। ‘আর ঐ ব্যক্তি দরিদ্র, উহাকে অল্পমাত্র দান করিলেই ও ব্যক্তি সন্তুষ্ট হইবে’, এইরূপ বিবেচনা করিয়া দয়াবশতঃ যে দান করা যায়, তাহাকে কারুণ্যনিমিত্তক দান কহে।

“হে ধৰ্ম্মরাজ! শাস্ত্রে এই পঞ্চবিধ দান নির্দ্দিষ্ট হইয়াছে। এইরূপ দান করিলে পুণ্য ও কীৰ্ত্তি পরিবর্দ্ধিত হয়। ভগবান প্রজাপতি কহিয়াছেন, যথাসাধ্য দান করা সকলেরই অবশ্য কর্ত্তব্য।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *