১৩১তম অধ্যায়
প্রেত-পিশাচাদির অধিকার স্থান
“হে ধৰ্ম্মরাজ! অনন্তর দেবতা, পিতৃলোক ও মহর্ষিগণ প্রমথদিগকে সম্বোধন করিয়া কহিলেন, ‘হে নিশাচর প্রমথগণ! তোমরা কিরূপ উচ্ছিষ্টশরীর, অপবিত্র ও নীচ ব্যক্তিদিগের হিংসা কর? লোকে কি কি কার্য্যের অনুষ্ঠান করিলে তোমাদিগের অত্যাচার হইতে পরিত্রাণ পাইতে পারে এবং কোন্ কোন্ কার্য্যের অনুষ্ঠান করিলে তোমরা মনুষ্যের গৃহে উপদ্রব করিতে পার না? এই সকল বৃত্তান্ত শ্রবণ করিতে আমাদিগের নিতান্ত বাসনা হইতেছে; অতএব তোমরা ঐ সমুদয় সবিস্তর কীৰ্ত্তন কর।’
“তখন প্রমথগণ কহিল, ‘যাহারা স্ত্রীসম্ভোগের পর পবিত্র না হয় এবং যাহারা প্রধান লোকের অপমান, মোহবশতঃ অবৈধমাংস ভোজন, বৃক্ষমূলে শয়ন, মস্তকে আমিষসংস্থাপন, জলে শ্লেষ্মা প্রভৃতি অপবিত্র বস্তু পরিত্যাগ অথবা মস্তকসংস্থাপন-স্থানে পদ ও পদসংস্থাপন-স্থানে মস্তক সংস্থাপিত করিয়া শয়ন করে, সেই সমুদয় বহুচ্ছিদ্রসম্পন্ন, অপবিত্র লোকেরাই আমাদিগের বধ্য ও ভক্ষ্য। আমরা তাহাদিগকেই সৰ্ব্বদা নিপীড়িত করিয়া থাকি। কিন্তু যেসমুদয় মহাত্মার গাত্রে গোরোচনা ও হস্তে বচ বিদ্যমান থাকে এবং যাঁহারা মস্তকে ঘৃতমিশ্রিত আতপতণ্ডুল প্রদান ও মাংসভোজন পরিত্যাগ করেন, আমরা কখনই তাঁহাদিগের হিংসা করিতে সমর্থ হই না। যেসকল গৃহে দিবারাত্রি অগ্নি প্রজ্বলিত হয় আর যেসমুদয় গৃহে ব্যাঘ্রের চর্ম্ম ও দন্ত, গিরিগুহাশায়ী বৃহৎ কচ্ছপ, যজ্ঞীয় ধূম, বিড়াল অথবা পিঙ্গল বা কৃষ্ণবর্ণ ছাগ বিদ্যমান থাকে, অস্মাসদৃশ [আমাদের মত-প্রেতপিশাচাদি] পিশিতাশন দারুণ নিশাচরগণ কখনই সে সমস্ত গৃহ আক্রমণ করিতে সমর্থ হয় না। এই আমরা আপনাদিগের জিজ্ঞাসিত বিষয় সবিস্তর কীৰ্ত্তন করিলাম।”
