১২৮তম অধ্যায়
বায়ুবর্ণিত কতিপয় ধর্ম্মাধর্ম্ম
“বায়ু কহিলেন, “আমি এক্ষণে মানবগণের সুখাবহ ধৰ্ম্ম এবং দোষের বিষয় কিঞ্চিৎ উল্লেখ করিতেছি, সকলে সমাহিতচিত্তে শ্রবণ করুন। যে ব্যক্তি শ্রদ্ধান্বিত হইয়া ভক্তিপূৰ্ব্বক বর্ষাকালে চারি মাস পিতৃগণের উদ্দেশ্যে দীপ ও তিলোদক দান, সাধ্যানুসারে খেদপরায়ণ ব্রাহ্মণকে আহারার্থ পরমান্ন প্রদান ও হোমানুষ্ঠান করে, তাহার একশত পশুবন্ধযাগের ফললাভ হয়। এক্ষণে আর এক রহস্য কীর্ত্তন করিতেছি, অবহিতচিত্তে শ্রবণ কর। যে ব্যক্তি শূদ্র যজ্ঞাগ্নি আহরণ করিলে এবং স্ত্রীলোক ভ্রমবশতঃ যজ্ঞীয় ও যজ্ঞাবশিষ্ট দ্রব্যজাত মিশ্রিত করিলে তদ্বিষয়ে দোষের আশঙ্কা না করিয়া সেই অগ্নি ও দ্রব্যজাতদ্বারা হোমকার্য্য নির্ব্বাহ করেন, তাঁহাকে নিশ্চয়ই অধর্ম্মে লিপ্ত হইতে হয়। অগ্নিত্রয় তাঁহার প্রতি নিতান্ত ক্রূদ্ধ হয়েন, দেবতা ও পিতৃগণ কখনই তাহার প্রতি প্রসন্ন হয়েন না এবং চরমে তাঁহাকে শূদ্রযোনিলাভ করিতে হয়। এক্ষণে মানবগণ যে কাৰ্য্যের অনুষ্ঠান করিয়া ঐ পাপ হইতে মুক্ত ও সুখী হয়, তাহা কহিতেছি, শ্রবণ করুন। উপবাস করিয়া ভক্তিপূর্ব্বক তিনদিন গোময়, গোমূত্র, দুগ্ধ ও ঘৃতদ্বারা হুতাশনে আহুতি প্রদান করিলে ঐ পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা হয়। যে ব্যক্তি ঐরূপ প্রায়শ্চিত্ত করিয়া পাপ হইতে বিমুক্ত হয়, এক বৎসর পরে দেবগণ তাহার প্রতি প্রসন্ন হইয়া তাহার দ্রব্য গ্রহণ করেন এবং শ্রাদ্ধকালেও পিতৃগণ তাহার প্রতি পরম পরিতুষ্ট হয়েন। এই আমি স্বর্গাভিলাষী মানবদিগের ধর্ম্ম ও অধর্ম্মের বিষয় কীৰ্ত্তন করিলাম।’ ”
