১২৯তম অধ্যায়
লোমশকথিত পিতৃগণের হিতাহিত অনুষ্ঠান
“লোমশ কহিলেন, “যাহারা দারপরিগ্রহ না করিয়া পরস্ত্রীসংসর্গে একান্ত আসক্ত হয়, শ্রাদ্ধকালে পিতৃলোক কখনই তাহাদের প্রদত্ত দ্রব্য গ্রহণ করেন না। পরস্ত্রীগমন, বন্ধ্যা-স্ত্রীতে অনুরাগ ও ব্রহ্মস্ব অপহরণ এই ত্রিবিধ কার্য্যই তুল্য দোষাবহ। যাহারা উহার অনাতর কাৰ্য্যের অনুষ্ঠান করে, পিতৃগণ নিশ্চয়ই তাহাদিগের প্রদত্ত পিণ্ডগ্রহণে পরাঙ্মুখ হইয়া থাকেন এবং দেবগণও তাহাদিগের প্রদত্ত হবনীয় দ্রব্যে সমাদর করেন না। অতএব পরস্ত্রীগমন, বন্ধ্যা-স্ত্রীতে অনুরাগ প্রদর্শন ও ব্রহ্মস্ব অপহরণে পরাঙ্মুখ হওয়া মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিদিগের সর্ব্বতোভাবে বিধেয়। শ্রদ্ধাসহকারে গুরুর আজ্ঞা প্রতিপালন করা অবশ্য কর্ত্তব্য। যে ব্যক্তি প্রতিমাসে দ্বাদশী ও পূর্ণিমাতে ব্রাহ্মণদিগকে ঘৃত ও আতপতণ্ডূল প্রদান করে, তাহার চন্দ্র ও মহোদধিকে [১] পরিবর্দ্ধিত করা হয়, সে তেজস্বী ও বলবান হইয়া থাকে এবং দেবরাজ ইন্দ্র তাহাকে অশ্বমেধযজ্ঞফলের চতুর্থাংশ ও ভগবান্ চন্দ্রমা প্রীত হইয়া তাহাকে অভিলষিত ফল প্রদান করেন।
‘এক্ষণে কলিযুগে মনুষ্যগণের যে যে ধৰ্ম্ম সুখাবহ, তাহা কহিতেহি, শ্রবণ কর। যাহারা প্রাতঃকালে গাত্রোত্থানপূর্ব্বক অবগাহন ও শুক্ল বস্ত্র পরিধান করিয়া ভক্তিসহকারে ব্রাহ্মণগণকে তিলপাত্র প্রদান এবং যাহারা পিতৃগণকে মধুমিশ্রিত তিলোদক, দীপ ও কৃষর দান করে, তাহাদিগের অতি উৎকৃষ্ট ফললাভ হয়। সুররাজ ইন্দ্র কহিয়াছেন যে, যে ব্যক্তি ব্রাহ্মণকে তিলপাত্র দান করে, তাহার গোদান, ভূমিদান ও ভূরিদক্ষিণ [প্রচুর দক্ষিণাযুক্ত] অগ্নিষ্টোম যজ্ঞানুষ্ঠানের তুল্য ফললাভ হয়। পিতৃগণ তিলোদকদানকে অক্ষয় দান বলিয়া পরিগণিত করেন। দীপ ও কৃষর প্রদান করিলে তাঁহাদিগের আহ্লাদের পরিসীমা থাকে না। এই আমি দেবতা ও পিতৃলোকপূজিত মহর্ষি প্রদর্শিত পুরাতন ধর্ম্ম কীৰ্ত্তন করিলাম।”
