3 of 4

১২৫. দেবপিতৃপ্রীতিকর শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠানবর্ণন

১২৫তম অধ্যায়

দেবপিতৃপ্রীতিকর শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠানবর্ণন

যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! শ্রেয়োলাভার্থী দরিদ্র এই দুর্ল্লভ মনুষ্যজন্ম লাভ করিয়া কিরূপ অনুষ্ঠান করিবে, উৎকৃষ্ট দান কি, কোন্ স্থলে কিরূপ দান করা কর্ত্তব্য, আর কাহাদিগকেই বা সম্মান করিতে হয়, আপনি এই সমুদয় বৃত্তান্ত সবিস্তর কীৰ্ত্তন করুন।”

ভীষ্ম কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ। পূৰ্ব্বে মহর্ষি ব্যাস আমাকে এই সমস্ত বিষয় যেরূপ কহিয়াছেন, আমি তোমার সমক্ষে তাহা কীৰ্ত্তন করিতেছি, অবহিতমনে শ্রবণ কর।

‘মহাত্মা যম নিয়মপরতন্ত্র ও যোগযুক্ত হইয়া তপস্যার মহাফল প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। যে-কার্য্যদ্বারা দেবগণ, পিতৃলোক, ঋষি, প্রমথ ও দিগ্‌গজগণ এবং লক্ষ্মী ও চিত্রগুপ্ত প্রীতিলাভ করেন এবং যে-শাস্ত্রে সরহস্য মহাফলজনক ঋষিধৰ্ম্ম, মহাদানফল ও সৰ্ব্বজ্ঞফল কীৰ্ত্তিত হইয়াছে, যাঁহারা সেই কার্য্য ও সেই শাস্ত্র অবগত হইয়া তদনুরূপ অনুষ্ঠান করেন, তাঁহারা নিশ্চয়ই দোষশূন্য ও গুণসম্পন্ন হইয়া থাকেন। একটি তৈলিক দশ পশুঘাতকের তুল্য, একটি শৌণ্ডিক দশটি তৈলিকের তুল্য, একটি বেশ্যা দশটি শৌণ্ডিকের সদৃশ ও একটি ক্ষুদ্র রাজা দশটি বেশ্যার অনুরূপ বলিয়া অভিহিত হইয়া থাকে। ক্ষুদ্র রাজা দশসহস্র পশুঘাতীর তুল্য হয়েন। সুতরাং যে রাজা প্রধান, তিনি পঞ্চসহস্র পশুঘাতকের সদৃশ বলিয়া নির্দ্দিষ্ট হয়েন। অতএব ইঁহাদিগের নিকট প্রতিগ্রহ করা নিতান্ত নিষিদ্ধ। সাধু ব্রাহ্মণেরা এই সমস্ত অপবিত্র লোকের নিকট প্রতিগ্রহ না করিয়া ত্ৰিবৰ্গশাস্ত্র, ধর্ম্মশাস্ত্র এবং যে শাস্ত্রে পিতৃগণ ও দেবরহস্য কীৰ্ত্তিত আছে, সেই দেবরচিত শাস্ত্র শ্রবণ করিবেন। যে শাস্ত্রে মহাফলজনক সরহস্য, ঋষিধৰ্ম্ম, মহাযজ্ঞ ও সৰ্ব্বদানফল কীর্ত্তিত হইয়াছে, সেই শাস্ত্র যিনি অধ্যয়ন, উত্তমরূপে ধারণ ও অন্যের নিকট ব্যাখ্যা করেন, তিনি নারায়ণস্বরূপ বলিয়া অভিহিত হয়েন। যে মহাত্মা ভক্তিসহকারে অতিথিসেবা করেন, তাঁহার গোদান, তীর্থযাত্রা ও যজ্ঞানুষ্ঠানের ফললাভ হয়। যাঁহারা পরমশ্রদ্ধাসহকারে ধর্ম্মশাস্ত্র শ্রবণ করেন ও যাঁহাদিগের মন পরমপবিত্র, সেই সমস্ত সাধুব্যক্তিরা নিশ্চয়ই পাপ হইতে মুক্ত হইয়া দেহান্তে উৎকৃষ্ট লোকসমুদয় অধিকার ও ধৰ্ম্মজনিত বিবিধ সুখভোগ করিয়া থাকেন।

শ্রদ্ধে পিণ্ডদানাদির পারিপাট্য

“একদা এক দেবদূত মহর্ষি, দেবতা ও পিতৃগণপরিবেষ্টিত সুররাজ ইন্দ্রের সভায় অলক্ষিতভাবে গমনপূর্ব্বক কহিয়াছিলেন, ‘সুররাজ! আমি অভীষ্টগুণসম্পন্ন অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের নির্দ্দেশানুসারে মহর্ষি, দেবতা ও পিতৃগণের সন্নিধানে সমুপস্থিত হইয়াছি। এক্ষণে আমার মনোমধ্যে তিনটি সন্দেহ জন্মিয়াছে, উঁহারা অনুকম্পাপ্রদর্শনপূর্ব্বক তাহা ভঞ্জন করুন। শ্রাদ্ধকৰ্ত্তা ও শ্রাদ্ধভোক্তা কি নিমিত্ত শ্রদ্ধদিবসে স্ত্রীসম্ভোগে প্রতিষিদ্ধ হইয়াছেন? কি নিমিত্ত স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র তিনটি পিণ্ড প্রদান করিতে হয়, আর ঐ তিন পিণ্ড কাহার কাহার উদ্দেশে প্রদত্ত হইয়া থাকে? ইহা জ্ঞাত হইতে আমার অতিশয় ঔৎসুক্য হইয়াছে।

“পিতৃগণ কহিলেন, ‘দেবদূত! তুমি যে আমাদিগের নিকট তিনটি প্রশ্ন করিলে, আমরা তাহার প্রত্যুত্তর প্রদান করিতেছি, অবহিতমনে শ্রবণ কর। যে পুরুষ শ্রাদ্ধ-অনুষ্ঠান বা শ্রাদ্ধে ভোজন করিয়া স্ত্রীসম্ভোগ করে, তাহার পিতৃগণ সেই শ্রাদ্ধাহ অবধি এক মাসকাল তাহার শুক্রে শয়ন করিয়া থাকেন। আর শ্রাদ্ধকালে অনুক্রমে যে তিনটি পিণ্ড প্রদত্ত হয়, তন্মধ্যে প্রথমটি জলে নিক্ষেপ, দ্বিতীয়টি প্রধান ভাৰ্য্যাকে আহারার্থ প্রদান ও তৃতীয়টি হুতাশনে নিক্ষেপ করা কর্ত্তব্য; শ্রাদ্ধবিধি এইরূপই কীর্ত্তিত হইয়াছে। যিনি ইহা প্রতিপালন করেন, পিতৃগণ তাঁহার প্রতি পরম পরিতুষ্ট হইয়া থাকেন এবং তাঁহার বংশ ও ধনসমৃদ্ধির সমধিক বৃদ্ধি হয়।

“দেবদূত কহিলেন, ‘পিতৃগণ! আপনারা জল, পত্নী ও বহ্নিতে পিণ্ডসংস্থাপনের কল্পনা করিলেন; এক্ষণে জিজ্ঞাসা করি, যে পিণ্ড সলিলে নিক্ষিপ্ত হয়, তাহা কোন্ দেবতাকে পরিতৃপ্ত করে ও কিরূপেই বা পিতৃগণের উদ্ধারসাধনে সমর্থ হয়? প্রধানা ভাৰ্য্যা যে পিণ্ডটি শ্রাদ্ধকৰ্ত্তার নিয়মানুসারে ভক্ষণ করে, পিতৃগণ তদ্বারা পরিতৃপ্ত হইয়া শ্রাদ্ধকৰ্ত্তার কি শুভকার্য্য সাধন করিয়া থাকেন এবং যে পিণ্ডটি অগ্নিতে নিক্ষেপ করা যায়, তাহা কাহাকে প্রাপ্ত হইয়া থাকে, আপনারা এই কয়েকটি বিষয় কীৰ্ত্তন করুন।

“তখন পিতৃগণ কহিলেন, ‘দেবদূত! তুমি যেরূপ প্রশ্ন করিলে, উহা অতি বিস্ময়কর। আমরা তোমার এইরূপ প্রশ্ন শ্রবণ করিয়া যারপরনাই সন্তুষ্ট হইলাম। দেবতা ও মহর্ষিগণ পিতৃকার্য্যের সতত প্রশংসা করিয়া থাকেন; কিন্তু উহাদের মধ্যে চিরজীবী পিতৃভক্তিপরায়ণ স্বয়ম্ভূপ্রতিম লব্ধবর মহর্ষি মার্কণ্ডেয় ব্যতীত পিতৃকার্য্যের বিধি আর কেহই অবগত নহেন। যে পিণ্ডটি সলিলে নিক্ষেপ করিতে হয়, তদ্দ্বারা ভগবান্ চন্দ্রের প্রীতি জন্মে। চন্দ্র ঐ পিণ্ডদ্বারা স্বয়ং প্রীত হইয়া দেবতা ও পিতৃগণকে প্রীত করিয়া থাকেন। যে পিণ্ডটি শ্রাদ্ধকৰ্ত্তার পত্নী তাঁহার নির্দ্দেশানুসারে ভক্ষণ করে, তারা পিতৃগণ প্রীত হইয়া শ্রাদ্ধকৰ্ত্তার সেই পত্নীর গর্ভে পুত্র প্রদান করেন; আর যে পিণ্ডটি অগ্নিতে প্রদান করিতে হয়, তদ্দ্বারা পিতৃগণ প্রীত হইয়া শ্রাদ্ধকৰ্ত্তার অভিলাষ পূর্ণ করিয়া থাকেন। হে দেবদূত। তিন পিণ্ডদ্বারা যেরূপ ফললাভ হয়, আমরা তাহা কীৰ্ত্তন করিলাম, এক্ষণে শ্রাদ্ধদিবসে শ্রাদ্ধভোক্তার কি নিমিত্ত মৈথুন প্রতিষিদ্ধ হইয়াছে, তাহা কহিতেছি, শ্রবণ কর। শ্রাদ্ধদিবসে যে ব্রাহ্মণ শ্রাদ্ধকর্ত্তার পিতৃস্বরূপ হইয়া শ্রাদ্ধ ভোজন করেন, ঐ দিবস তাঁহার স্ত্রীসহবাস পরিত্যাগ করা এবং স্নাত, ক্ষমাশীল ও শুচি হওয়া নিতান্ত আবশ্যক। যিনি এইরূপ ব্রাহ্মণকে শ্রাদ্ধে ভোজন করান তাহার নিশ্চয়ই বংশবৃদ্ধি হয়।

“পিতৃগণ এই কথা কহিয়া তূষ্ণীম্ভাব অবলম্বন করিলে বিদ্যুৎপ্রভনামে আদিত্যের ন্যায় তেজস্বী এক মহর্ষি ইন্দ্রকে সম্বোধনপূর্ব্বক কহিলেন, ‘দেবরাজ! মনুয্যেরা বিমোহিত হইয়া কীট, পিপীলিকা, সর্প, মেষ, মৃগ ও পক্ষী প্রভৃতি তির্য্যগযোনিগত প্রাণীগণের বিনাশসাধনপূর্ব্বক যে বিপুল পাপসঞ্চয় করে, তাহাদিগের সেই পাপ হইতে মুক্তিলাভের উপায় কি?’ মহর্ষি বিদ্যুৎপ্রভ এইরূপ প্রশ্ন করিলে দেবতা, ঋষি ও পিতৃগণ তাঁহার বাক্য শ্রবণে পরম পরিতুষ্ট হইয়া তাঁহাকে যথোচিত প্রশংসা করিতে লাগিলেন।

“তখন দেবরাজ ইন্দ্র তাঁহাকে সম্বোধনপূৰ্ব্বক কহিলেন, তপোধন! যিনি তিন দিন কুরুক্ষেত্র, গয়া, গঙ্গা, প্রভাস ও পুষ্করতীর্থ স্মরণপূর্ব্বক স্নান করিয়া গোপৃষ্ঠ স্পর্শ, গোপুচ্ছে নমস্কার ও আহার পরিত্যাগ করেন, তিনি রাহুবদনবিমুক্ত শশধরের ন্যায় তির্য্যগযোনিবধজনিত পাপ হইতে মুক্ত হয়েন, সন্দেহ নাই।’

“দেবরাজ এই কথা কহিয়া নিরস্ত হইলে বিদ্যুৎপ্রভ তাঁহাকে সম্বোধনপূৰ্ব্বক কহিলেন, ‘সুররাজ! আমি এক্ষণে সূক্ষ্মতর ধর্ম্ম কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ করুন। বটকষায় [বটের আঠা] ও প্রিয়ঙ্গু[তন্নামক গন্ধদ্রব্য]দ্বারা অনুলিপ্ত ও সুবাসিত হইয়া ক্ষীরের সহিত যষ্টিক ধান্যের [যেটেন ধানের] অন্ন ভোজন করিলে সকল পাপ হইতে মুক্ত হওয়া যায়। একদা বৃহস্পতি, ভগবান্ স্থাণুর নিকট যাহা কহিয়াছিলেন, আমি তাহা কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ করুন। মনুষ্য পর্ব্বতে আরোহণপুৰ্ব্বক নিরাহার, ঊর্দ্ধবাহু ও কৃতাঞ্জলি হইয়া অগ্নি দর্শন করিলে সকল পাপ হইতে মুক্ত হয়। যে ব্যক্তি গ্রীষ্ম ও শীতকালে সূর্য্যের রশ্মিজালে সন্তপ্ত হয়, তাঁহার সমুদয় পাপ বিনষ্ট হইয়া যায় এবং সে চন্দ্ৰসূর্য্যের ন্যায় কান্তিসম্পন্ন হয়, সন্দেহ নাই।

“মহাত্মা বিদ্যুৎপ্রভ এই কথা কহিয়া তূষ্ণীম্ভাব অবলম্বন করিলে দেবরাজ ইন্দ্র সুরগণের মধ্যে অবস্থিত সুরগুরু বৃহস্পতিকে সম্বোধনপূৰ্ব্বক কহিলেন, “ভগবন্! যে ধৰ্ম্ম মনুষ্যের প্রকৃত দোষ বলিয়া উল্লিখিত হইয়া থাকে, আপনি তাহা কীৰ্ত্তন করুন।’

অবশ্য-বর্জ্জনীয় কতিপয় কদাচারকীৰ্ত্তন

“তখন বৃহস্পতি কহিলেন, সুররাজ! যাহারা সূৰ্য্যাভিমুখ হইয়া মূত্র পরিত্যাগ করে, যাহারা বায়ুর প্রতি দ্বেষ প্রকাশ করিয়া থাকে, যাহারা দুগ্ধপানের অভিলাষে বালবৎসা ধেনুর দুগ্ধ দোহনে প্রবৃত্ত হয় এবং যাহারা হুতাশনে আহুতি প্রদান না করে, তাহাদিগের যে দোষ জন্মে, আমি তাহা কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ করুন। সূর্য্য, অনিল, অগ্নি ও লোকমাতা ধেনুসমুদয় স্বয়ং ব্রহ্মাকর্ত্তৃক সৃষ্ট হইয়াছেন। ইঁহারা মনুষ্যগণের দেবতা। ইঁহারাই মনুষ্যগণকে পাপ হইতে উদ্ধার করিয়া থাকেন। যে সমস্ত স্ত্রী বা পুরুষ সূৰ্য্যাভিমুখে মূত্র পরিত্যাগ করে, তাহাদিগকে ষড়শীতিবৎসর দুর্ব্বৃত্ত ও কুলের কলঙ্কস্বরূপ হইয়া কালযাপন করিতে হয়। যাহারা বায়ুর দ্বেষ করে, তাহাদিগের সন্তান গর্ভাবস্থাতেই বিনষ্ট হয়। যাহারা হুতাশনে আহুতি প্রদান না করে, তাহাদিগের অগ্নিকার্য্য সময়ে হুতাশন হব্য ভোজন করেন না এবং যাহারা বালবৎসা ধেনুর দুগ্ধপান করে, তাহাদিগের বংশে পুত্ৰ উৎপন্ন হয় না। কুলবৃদ্ধ দ্বিজাতিগণ এই সমস্ত পাপের এইরূপ ফল নির্দ্দেশ করিয়া গিয়াছেন। অতএব যাহা নিষিদ্ধ, তাহার অনুষ্ঠান করা কদাচ কৰ্ত্তব্য নহে; আর যাহা কর্ত্তব্য, প্রাণপণে তাহার অনুষ্ঠানে যত্নবান হওয়া উচিত। এক্ষণে আমি যাহা কহিলাম, ইহাতে যেন আপনাদিগের কদাচ কোন সংশয় না জন্মে।

পিতৃতৃপ্তিকর সদাচারবর্ণন

“শাস্ত্রবিদগণের অগ্রগণ্য মহাত্মা সুরাচার্য্য এই কথা কহিয়া নিরস্ত হইলে দেবতা ও ঋষিগণ পিতৃগণকে সম্বোধনপূর্ব্বক কহিলেন, ‘হে মহানুভবগণ! অল্পবুদ্ধি মনুষ্যগণের কোন্ কার্য্যদ্বারা আপনারা তুষ্টিলাভ করিয়া থাকেন?

“তখন পিতৃগণ কহিলেন, ‘হে মহাভাগগণ! সৎকর্ম্মশীল মনুষ্যগণের প্রতি আমরা যে-কার্য্যদ্বারা সন্তুষ্ট হইয়া থাকি, তাহা কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ করুন। নীলবর্ণ বৃষের বন্ধনমোচন, বর্ষাকালে দীপদান ও অমাবস্যাতে তিলোদকপ্রদানদ্বারা আমাদের নিকট আনৃণ্যলাভ হইয়া থাকে। ঐরূপ দান অক্ষয় ও মহৎফলজনক, সন্দেহ নাই। আমরা ঐরূপ দানদ্বারাই তৃপ্তিলাভ করিয়া থাকি। যে সমস্ত মনুষ্য শ্রদ্ধাসম্পন্ন হইয়া সন্তানোৎপাদন করে, তাহারা নিশ্চয়ই আপনাদিগের পিতৃপিতামহাদি ঊর্ধ্বতন পুরুষদিগকে দুর্গম নরক হইতে উদ্ধার করিতে সমর্থ হয়।

‘“পিতৃগণ এই কথা কহিলে বৃদ্ধ মহর্ষি গার্গ্য তাঁহাদিগকে সম্বোধনপূৰ্ব্বক কহিলেন, “হে মহানুভবগণ! নীলবর্ণ বৃষের বন্ধনমোচন করিলে কিরূপ ফলোদয় হয় এবং অমাবস্যাতে তিলোদক ও বর্ষাকালে দীপদান করিলেই বা কি ফললাভ হইয়া থাকে?’

“পিতৃগণ কহিলেন, ‘তপোধন! যদি নীলবর্ণ বৃষ কোন ব্যক্তি কর্ত্তৃক মুক্তবন্ধন হইয়া লাঙ্গুলদ্বারা সরোবর হইতে সলিল সমুদ্ধৃত করে, তাহা হইলে সেই সলিলদ্বারা বন্ধনমোচয়িতার পিতৃলোক ষষ্টিসহস্র বৎসর তৃষ্টিলাভে সমর্থ হয়েন। আর যদি ঐ বৃষ শৃঙ্গদ্বারা নদ্যাদির কূল হইতে পঙ্ক সমুদ্ধৃত করে, তাহা হইলে উহার বন্ধনমোচয়িতার পিতৃগণ সোমলোক লাভ করিয়া থাকেন। মনুষ্য বর্ষাকালে দীপদান করিলে চন্দ্রের ন্যায় সুশোভিত হয় এবং কদাচ তমোগুণে অভিভূত হয় না। যে-সমস্ত মনুষ্য অমাবস্যাতে পিতৃলোকের উদ্দেশে তাম্রপাত্রে করিয়া মধুমিশ্রিত তিলোদক দান করে, তাহাদের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করা হয়। তাহাদের সন্তানগণ সতত হৃষ্টমনে কালযাপন করে এবং তাহাদের বংশ সন্তানসন্ততিতে পরিপূর্ণ হইয়া থাকে। যিনি শ্রদ্ধাসম্পন্ন হইয়া এইরূপ কার্য্যের অনুষ্ঠান করেন, তিনি নিশ্চয়ই পিতৃলোকের নিকট আনৃণ্যলাভে সমর্থ হয়েন।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *