১১৩তম অধ্যায়
অহিংসধৰ্ম্মের শ্রেষ্ঠতা
যুধিষ্ঠির কহিলেন, “ভগবন্! অহিংসা, বেদোক্তকার্য্য, ধ্যান, ইন্দ্রিয়সংযম, তপস্যা ও গুরুশুশ্রূষা এই কয়েকটির মধ্যে কোন্টি শ্রেয়ঃসাধন হইয়া থাকে?”
বৃহস্পতি কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ! এই সমস্ত ধৰ্ম্মকার্য্য শেয়ঃসাধনোপায় বলিয়া নির্দ্দিষ্ট হইয়াছে। ইহাদের মধ্যে অহিংসাই পুরুষের সর্ব্বোৎকৃষ্ট পরমার্থসাধন বলিয়া পরিগণিত হয়। যে ব্যক্তি কাম, ক্রোধ ও লোভকে দোষের আকর জ্ঞান করিয়া পরিত্যাগপূৰ্ব্বক অহিংসধৰ্ম্ম প্রতিপালন করে, তাহার নিশ্চয়ই সিদ্ধিলাভ হইয়া থাকে। যে ব্যক্তি অহিংসক প্রাণীগণকে আপনার সুখোদ্দেশে নিহত করে, সে দেহান্তে কখনই সুখলাভে সমর্থ হয় না। যিনি সকলকেই আপনার ন্যায় জ্ঞান করিয়া কাহাকেও প্রহার বা কাহারও প্রতি ক্রোধ প্রকাশ করেন না, তিনি দেহান্তে পরম সুখলাভ করিয়া থাকেন। যিনি সকলকেই আপনার ন্যায় সুখভোগবিলাসী ও দুঃখভোগ অনিচ্ছুক বিবেচনা করিয়া সকলের প্রতি তুল্যদৃষ্টিসম্পন্ন হয়েন, দেবগণও সেই মহাপুরুষের গতিনির্দ্দেশে বিমুগ্ধ হইয়া থাকেন। ফলতঃ যাহা আপনার প্রতিকূল, তাহা কদাচ অন্যের নিমিত্ত অনুষ্ঠান করিবে না।
“এই আমি তোমার নিকট ধৰ্ম্মের লক্ষণ সংক্ষেপে কীৰ্ত্তন করিলাম। যিনি এই মতের বিরুদ্ধ ব্যবহার করেন, তাহার অধৰ্ম্মানুষ্ঠান করা হয়। প্রত্যাখ্যান, দান, সুখদুঃখ, প্রিয়কার্য্য ও অপ্রিয়কার্য্য এই কয়েকটি হইতে যে সন্তোষ ও অসন্তোষ উৎপন্ন হয়, মনুষ্য তাহা আত্মপৰ্য্যালোচনাদ্বারা সাধারণ ধৰ্ম্ম বলিয়া অবগত হইবে। মনুষ্য হিংসা করিলেই হিংসিত ও প্রতিপালন করিলেই প্রতিপালিত হইয়া থাকে; অতএব হিংসা না করিয়া সকলের প্রতিপালন করাই কৰ্ত্তব্য। যিনি কেবল লোকের প্রতিপালনেই নিরত থাকেন, তিনি সাধুগণের উপদিষ্ট ধর্ম্মের ন্যায় জীবলোকের প্রমাণস্থল হইয়া থাকেন।”
সুরগুরু বৃহস্পতি ধৰ্ম্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে এইরূপ উপদেশ প্রদান করিয়া সৰ্ব্বসমক্ষে আকাশমার্গে প্রস্থান করিলেন।
