১০৪তম অধ্যায়
সদাচারে দীর্ঘায়ু—কদাচারে অল্পায়ু
যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! শাস্ত্রে কথিত আছে যে, পুরুষ, শতায়ু ও মহাবলপরাক্রান্ত হইয়া জন্মপরিগ্রহ করিয়া থাকে, তবে কি নিমিত্ত তাহারা অকালে কালকবলে নিপতিত হয়? মানবগণ যে দীর্ঘায়ু, অল্পায়ু, ধনবান্ ও যশস্বী হইয়া থাকে, তপস্যা, ব্রহ্মচর্য্য, জপ, হোম, ঔষধ, কৰ্ম্ম, মন ও বাক্য ইহার মধ্যে কোটি তাহার মূল কারণ, তাহা বিস্তারিতরূপে কীৰ্ত্তন করুন।”
ভীষ্ম কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ! মানবগণ যাহাতে দীর্ঘায়ু ও অল্পায়ু এবং যাহাতে ধনবান্ ও যশস্বী হয়, তাহা কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। মানবগণ কেবল সদাচারবলেই দীর্ঘায়ু, ধনবান্ ও উভয় লোকে যশস্বী হয়। দুরাচার ব্যক্তিরা কখনই দীর্ঘায়ু হইতে পারে না। স্বীয় মঙ্গলকামনা করিতে হইলে সদাচারী হওয়া সৰ্ব্বতোভাবে বিধেয়। সদাচারবলে পাপাত্মা ব্যক্তির পাপও নিরাকৃত হয়। সদাচার ধর্ম্মের এবং সচ্চরিত্র সাধুর প্রধান লক্ষণ। সাধুদিগের আচারই সদাচার বলিয়া পরিগণিত হইয়া থাকে। যে ব্যক্তি ধর্ম্ম ও বিবিধ মঙ্গলকার্য্যের অনুষ্ঠান করে, মানবগণ তাহাকে দর্শন না করিয়াও তাহার নামমাত্র শ্রবণেই তাহার হিতানুষ্ঠান করিয়া থাকে। যাহারা নাস্তিক, ক্রিয়াবর্জ্জিত, বেদপরাঙ্মুখ, শাস্ত্রপরিত্যাগী, অধার্ম্মিক, দুরাচার ও নিয়মপরিশূন্য এবং যাহারা অসবর্ণা পরস্ত্রীতে নিরত হয়, তাহারা ইহলোকে অল্পায়ু এবং পরলোকে নরকগামী হইয়া থাকে।
“মনুষ্য সুলক্ষণবিহীন হইয়াও কেবল সদাচারসম্পন্ন, শ্রদ্ধাশীল, ঈর্ষাপরিশূন্য, সত্যবাদী, ক্রোধবিহীন ও সরলস্বভাব হইলেই শত বৎসর জীবিত থাকিতে পারে। যে ব্যক্তি অনর্থক লোষ্ট্রমর্দ্দন, তৃণচ্ছেদন ও দন্তদ্বারা নখচ্ছেদন করে এবং যে সতত অশুচি ও চঞ্চল হয়, সে কখনই দীর্ঘজীবী হইতে পারে না। ব্রাহ্মমুহূর্তে জাগরিত হইয়া, ধর্ম্মার্থচিন্তা করিয়া গাত্রোত্থান ও আচমনপূৰ্ব্বক কৃতাঞ্জলিপুটে প্রাতঃসন্ধ্যা এবং সায়ংকালে বাগ্যত হইয়া সায়ংসন্ধ্যা উপাসনা করা কর্ত্তব্য। উদয় ও অস্তগমন, গ্রহণ ও মধ্যাহ্নসময়ে এবং জলমধ্যে সূর্য্যকে নিরীক্ষণ করা কর্ত্তব্য নহে। ঋষিগণ সতত সান্ধ্যোপাসনা করিয়া দীর্ঘায়ুলাভ করিয়াছিলেন; অতএব বাগয্ত হইয়া প্রাতঃকাল ও সায়ংকালে সান্ধ্যোপাসনা করা উচিত। যাহারা সান্ধ্যোপাসনায় পরাঙ্মুখ হয়, তাহাদিগকে শূদ্রানুষ্ঠিত কাৰ্য্যে নিয়োগ করা ধর্ম্মপরায়ণ নরপতির অবশ্য কৰ্ত্তব্য।
“পরস্ত্রীগমন করা কাহারও কর্ত্তব্য নহে। পরস্ত্রীগমন অপেক্ষা আয়ুঃক্ষয়কর কার্য্য আর কিছুই নাই। যে ব্যক্তি পরস্ত্রীগমন করে তাহাকে সেই কামিনীর কলেবরে যাবৎসংখ্যক রোমকূপ থাকে তাবৎসংখ্যক বৎসর নরকভোগ করিতে হয়। কেশবিন্যাস, নেত্রে কজ্জলদান, দন্তধাবন এবং দেবগণের অর্চ্চনা করা পূৰ্ব্বাহ্ণেই কর্ত্তব্য। বিষ্ঠামূত্র দর্শন ও পাদদ্বারা উহা স্পর্শ করা কদাচ কর্ত্তব্য নহে; অতি প্রত্যুষে, সায়ংকালে ও মধ্যাহ্নসময়ে স্থানান্তরে গমন করা নিতান্ত নিষিদ্ধ। ব্রাহ্মণ, গাভী, নরপতি, বৃদ্ধ, গর্ভবতী স্ত্রী এবং গুরুভারাক্রান্ত ও দুর্ব্বল ব্যক্তিকে পথ প্রদান করা অবশ্য কৰ্ত্তব্য। পথিমধ্যে গমন করিতে পরিজ্ঞাত বনস্পতি ও চতুষ্পথসমুদয় প্রদক্ষিণ করা উচিত। প্রাতঃকাল, সায়ংকাল, মধ্যাহ্নকাল, নিশাকাল ও অর্দ্ধরাত্ৰসময়ে চতুষ্পথে গমন করা কদাপি বিধেয় নহে। অন্যের ব্যবহৃত বস্ত্র ও পাদুকা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। পাদোপরি পাদনিধান করা কর্ত্তব্য নহে। অমাবস্যা, পূর্ণিমা, চতুর্দ্দশী এবং উভয়পক্ষীয় অষ্টমীতে ব্রহ্মচারী [স্ত্রীসহবাসাদি পরিত্যাগ করা কর্ত্তব্য] হওয়া উচিত। বৃথামাংস ও পৃষ্ঠমাংস ভোজন করা কদাচ কৰ্ত্তব্য নহে।
“তিরস্কার, নিন্দা ও শঠতা পরিত্যাগ করা সৰ্ব্বতোভাবে, বিধেয়। নীচ ব্যক্তি হইতে দান গ্রহণ করা কর্ত্তব্য নহে। যে বাক্যরূপ শর বদন হইতে নির্গত হইয়া অন্যের মর্ম্মভেদ করে, যদ্বারা আহত হইলে দিবারাত্রি শোকাকুল হইতে হয়, বিজ্ঞ ব্যক্তি তাহা কখনই অন্যের প্রতি প্রয়োগ করিবেন না। পরশুদ্বারা অরণ্য ছিন্ন হইলে পুনরায় অঙ্কুরিত হয়, কিন্তু দুর্ব্বাক্যদ্বারা অন্যকে বিদ্ধ করিলে তাহা যারপরনাই অপ্রতিবিধেয় হইয়া উঠে। কর্ণি, নালীক ও নারাচ প্রভৃতি অস্ত্র শরীরে বিদ্ধ হইলে অনায়াসেই উৎপাটিত করা যায়, কিন্তু বাক্যরূপ শল্য বিদ্ধ হইলে উহা প্রত্যাহরণ করা নিতান্ত দুঃসাধ্য হইয়া থাকে। উহা যাহাতে লক্ষ্য করিয়া নিক্ষেপ করা যায়, তাহার হৃদয়ভেদ হয়, সন্দেহ নাই। হীনাঙ্গ, অতিরিক্তাঙ্গ, মুক্ত, নিন্দিত, শ্রীহীন, নিঃস্ব ও দুর্ব্বল ব্যক্তিগণকে পরিহাস করা নিতান্ত অকৰ্ত্তব্য; নাস্তিকতা, বেদনিন্দা, বিদ্বেষপ্রকাশ, অভিমান ও উগ্রতা পরিহার করা সৰ্ব্বতোভাবে বিধেয়। ক্রূদ্ধ হইয়া অন্যের প্রতি দণ্ডবিধানে উদ্যত হওয়া বা তাহাকে প্রহার করা কর্ত্তব্য নহে। পুত্র ও শিষ্যকে শাসন করিবার নিমিত্ত তাড়না করা বিধেয়। ব্রাহ্মণের নিন্দা এবং গণনাপূর্ব্বক নক্ষত্র ও তিথিনিরূপণ করা অনুচিত।
“মলমূত্র পরিত্যাগ ও পথপর্য্যটনের পর এবং স্বাধ্যায়, ও ভোজনকালে পাদপ্রক্ষালন করা অবশ্য কর্ত্তব্য। যে দ্রব্যের অশুচিভাব অপরিজ্ঞাত, যাহা সলিলপ্রক্ষালিত [জলে ধৌত] এবং যাহা ব্রাহ্মণের প্রশংসনীয়, দেবগণ এই তিন প্রকার বস্তুকে ব্যবহার্য্য বলিয়া নির্দ্দেশ করিয়াছেন। সংযাব [যবচূর্ণ], কৃশর [খিচুড়ী], মাংস, শঙ্কুল [পিষ্টক] ও পায়স আপনার নিমিত্ত প্রস্তুত করিবে না; ঐ সমস্ত দ্রব্য দেবগণের নিমিত্তই প্রস্তুত করা কর্ত্তব্য। প্রতিদিন অগ্নিতে আহুতিপ্রদান, ভিক্ষুককে ভিক্ষাদান ও মৌনাবলম্বনপূৰ্ব্বক দন্তকাষ্ঠ ব্যবহার করিবে। সূর্য্যোদয় হইলে শয্যায় শয়ান থাকিবে না। যদি দৈবাৎ সূর্য্যোদয়ের পরও কেহ শয়ান থাকে, তাহা হইলে প্রায়শ্চিত্ত করিবে। প্রাতঃকালে শয্যা হইতে গাত্রোত্থান করিয়া মাতা, পিতা ও আচার্য্যকে নমস্কার করা কর্ত্তব্য। যে সমস্ত দন্তকাষ্ঠ অব্যবহার্য্য, তাহা কদাচ ব্যবহার করিবে না। যে সমস্ত দন্তকাষ্ঠ ব্যবহার্য্য বলিয়া নির্দ্দিষ্ট আছে, তাহাই ব্যবহার করিবে। পূৰ্ব্বকালে দন্তকাষ্ঠ ব্যবহার করা উচিত নহে। উত্তরাভিমুখী হইয়া শৌচক্রিয়া অনুষ্ঠান করা বিধেয়। দন্তধাবন না করিয়া দেবপূজা এবং দেবপূজা না করিয়া গুরু, বৃদ্ধ, ধার্ম্মিক ও বিজ্ঞ ব্যক্তি ব্যতীত অন্য লোকের নিকট গমন করিবে না।
“মলিন দর্পণে আপনার প্রতিবিম্ব দর্শন করা উচিত নহে। গর্ভিণী ও ঋতুমতী স্ত্রীকে সম্ভোগ করা নিতান্ত অকৰ্ত্তব্য। উত্তর ও পশ্চিমদিকে মস্তক বিন্যস্ত করিয়া শয়ন করিবে না; পূৰ্ব্ব ও দক্ষিণে মস্তক সন্নিবেশিত করিয়া শয়ন করাই শ্রেয়স্কর। ভগ্ন বা জীর্ণ খাট্বায় শয়ন করা নিতান্ত নিষিদ্ধ। আলোকে শয্যা পরীক্ষা ও একাকী অবক্রভাবে শয়ন করাই কৰ্ত্তব্য। নাস্তিকের সহিত নিয়ম স্থাপন করিয়া কোন কার্য্যানুরোধে স্থানান্তরে গমন করিবে না। চরণদ্বারা আসন আকর্ষণ করিয়া উপবেশন, বিবস্ত্র হইয়া অবগাহন, রাত্রিকালে স্নান, স্নানান্তর গাত্রমর্দ্দন, স্নান না করিয়া অনুলেপনদ্রব্য সেবন, স্নান করিয়া আর্দ্রবস্ত্র কম্পন ও প্রতিদিন আদ্র্রবস্ত্র পরিধান করাও কর্ত্তব্য নহে।
“ক্ষেত্র ও গ্রামের সন্নিধানে পুরীষ পরিত্যাগ এবং সলিলমধ্যে মলমূত্র ত্যাগ করা অতিশয় অকৰ্ত্তব্য। অন্ন ভোজন করিবার পূর্ব্বে তিনবার আচমন এবং অন্ন ভোজন করিয়া তিনবার জলপান ও দুইবার অঙ্গুষ্ঠদ্বারা ওষ্ঠ মার্জ্জন করিবে। পূর্ব্বাস্য ও মৌনী হইয়া অন্নের নিন্দা করিয়া ভোজনপাত্রস্থ সমুদয় অন্ন ভোজন না করিয়া কিঞ্চিৎ অবশেষ রক্ষা ও ভোজন করিয়া অগ্নিস্পর্শ করা কর্ত্তব্য। যিনি পূর্ব্বাস্য হইয়া ভোজন করেন, তিনি দীর্ঘায়ু; যিনি দক্ষিণাস্য হইয়া ভোজন করেন, তিনি যশস্বী; যিনি পশ্চিমাস্য হইয়া ভোজন করেন, তিনি ধনবান ও যিনি উত্তরাস্য হইয়া ভোজন করেন তিনি সত্যবাদী হয়েন। ভোজনের পর অগ্নি স্পর্শ করিয়া সমস্ত গাত্র, নাভি, পাণিতল ও সমস্ত ইন্দ্রিয় সলিলপ্ৰেক্ষিত করিবে।
“তুষ, ভস্ম, কেশ ও নরাস্থির [মনুষ্যের হাড়ের] উপর কদাচ উপবেশন করিবে না। অন্য ব্যক্তির অবস্নাত [স্নানাবশিষ্ট] জল স্পর্শ করা অবিধেয়। শান্তিহোম ও সাবিত্রী জপ করা অবশ্য কর্ত্তব্য। উপবিষ্ট হইয়া ভোজন করা বিধেয়। গমন করিতে করিতে কদাচ কোন বস্তু ভোজন করিবে না। দণ্ডায়মান হইয়া মূত্র পরিত্যাগ করিবে না। ভস্ম ও গোময়ে মূত্রত্যাগ করা নিতান্ত অকৰ্ত্তব্য। যিনি আপাদ হইয়া ভোজন করেন, তিনি শতবর্ষজীবী হয়েন, সন্দেহ নাই। অশুচি হইয়া অগ্নি, গো ও ব্রাহ্মণ এই তিন তেজঃপদার্থ স্পর্শ এবং সূর্য্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র এই তিন তেজঃপদার্থ নিরীক্ষণ করিবে না। আবাস-মধ্যে বৃদ্ধ উপস্থিত হইলে যুবক যতক্ষণ তাঁহার প্রত্যুত্থান ও অভিবাদন করেন, ততক্ষণ তাহার প্রাণ কণ্ঠাগত হইয়া থাকে এবং ঐ উপস্থিত বৃদ্ধের যথোচিত সংবর্দ্ধনা করিলেই তাঁহার প্রাণ যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট হয়। অতএব স্বহস্তে আসন প্রদান করা অবশ্য কর্ত্তব্য। তিনি উপবিষ্ট হইলে কৃতাঞ্জলিপুটে তাঁহার নিকট অবস্থান ও গমন করিলে তাঁহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ গমন করা উচিত। ভগ্ন আসনে উপবেশন ও ভগ্ন কাংস্যপাত্র ব্যবহার করা বিধেয় নহে। উত্তরীয় ধারণ না করিয়া ভোজন, নগ্ন হইয়া স্নান বা শয়ন ও অশুচি হইয়া উপবেশন করা নিতান্ত অকৰ্ত্তব্য।
“শাস্ত্রে কথিত আছে যে, মস্তকে প্রাণসমুদয় প্রতিষ্ঠিত রহিয়াছে। অতএব অশুচি হইয়া কাহারও মস্তক স্পর্শ করিবে না। অন্যের মস্তকে প্রহার ও কেশ গ্রহণ করা কর্ত্তব্য নহে। করদ্বয় পরস্পর সংহত করিয়া আপনার মস্তক কণ্ডুয়ন করা নিতান্ত অকৰ্ত্তব্য। স্নানকালে নিরন্তর সলিলমধ্যে মস্তক নিমগ্ন করা কদাপি, কর্ত্তব্য নহে। কৃতস্নান হইয়া দেহে তৈল প্রদান করিবে না। তিল মিশ্রিত ভক্ষ্যদ্রব্য ভক্ষণ করা বিধেয় নহে। অশুচি হইয়া অধ্যয়ন ও অধ্যাপন করা নিতান্ত নিষিদ্ধ। বাত্যা উপস্থিত ও পূতিগন্ধ বিস্তীর্ণ হইলে বেদ চিন্তা করা কর্ত্তব্য নহে। মহাত্মা যম কহিয়াছেন, যে ব্রাহ্মণ উচ্ছিষ্টহস্তে বেদপাঠ ও শাস্ত্রীয় আলাপ করেন, তাঁহার আয়ু ও বংশক্ষয় হইয়া যায়। যে ব্রাহ্মণ অনধ্যায়কালেও মোহভবশতঃ বেদ অভ্যাস করেন, তাঁহার বেদাধ্যয়ন বিফল ও আয়ু ক্ষীণ হইয়া থাকে। অতএব অনধ্যায়ে বেদ অধ্যয়ন করা কদাপি বিধেয় নহে।
“যাহারা সূর্য্য, অগ্নি, গো, ব্রাহ্মণের অভিমুখে এবং পথিমধ্যে মল পরিত্যাগ করে, তাহাদিগকে নিশ্চয়ই অল্পায়ু হইতে হয়। দিবাভাগে উত্তরাস্য ও রাত্রিযোগে দক্ষিণাস্য হইয়া মূত্রপুরীষ পরিত্যাগ করিলে আয়ুক্ষয় হয় না। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও সর্প এই তিন জাতিরই সুতীক্ষ্ণ বিষ আছে; অতএব যিনি দীর্ঘায়ু হইতে বাসনা করিবেন, তিনি ঐ তিন জাতি নিতান্ত কৃশ হইলেও উহাদিগকে অবজ্ঞা করিবেন না। দৃষ্টিবিষ সর্প ক্রূদ্ধ হইয়া দৃষ্টিদ্বারা ও ক্ষত্রিয় ক্রূদ্ধ হইয়া তেজোদ্বারা মনুষ্যকে দগ্ধ করিতে পারে এবং ব্রাহ্মণ ক্রূদ্ধ হইয়া ধ্যান ও দৃষ্টিদ্বারা বংশনাশ করিতে সমর্থ হয়েন; অতএব জ্ঞানবান্ ব্যক্তিরা যত্নপূৰ্ব্বক এই তিন জাতির উপাসনা করিবেন। গুরুর সহিত কোন বিষয় লইয়া বিতণ্ডা করা কর্ত্তব্য নহে। গুরু ক্রূদ্ধ হইলে যথোচিত সম্মানপূৰ্ব্বক তাঁহাকে প্রসন্ন করা উচিত। যদি গুরু সম্পূর্ণ মিথ্যাবাদী হয়েন, তথাপি তাঁহাকে অভক্তি করা বিধেয় নহে। যাঁহারা গুরুনিন্দায় প্রবৃত্ত হয়েন, তাঁহাদিগকে অবশ্যই ক্ষীণায়ু হইতে হয়।
“বাসগৃহের নিকট অতিথিশালা নির্ম্মাণ, পাদপ্রক্ষালন ও উচ্ছিষ্ট বস্তু নিক্ষেপ করা হিতকামী পুরুষদিগের নিতান্ত অকৰ্ত্তব্য। সৰ্ব্বদা শুক্লমাল্য ধারণ করাই উচিত। রক্তমাল্য এবং শ্বেতপদ্ম ও কুবলয়ের [নীলপদ্মের] মাল্য ধারণ করা কখনই বিধেয় নহে। মস্তকে কুঙ্কুম ও বানেয়নামক গন্ধদ্রব্য ধারণ করা কখনই দোষাবহ নহে। প্রত্যহ স্নাত ব্যক্তিকে আর্দ্র বর্ণক [চন্দনাদি লেপনদ্রব্য] দান করা আবশ্যক। বিপরীতভাবে বস্ত্র পরিধান করা বুদ্ধিমানদিগের নিতান্ত অকৰ্ত্তব্য। অন্যের পরিহিত ও দশাবিহীন বস্ত্র [বস্ত্রের দুই ধারে যে সুতা বাহির হইয়া থাকে, তাহার নাম দশা; সেই দশাযুক্ত বস্ত্র। থানকাটা কাপড়ে তাহা থাকে না বলিয়া তাদৃশ বস্ত্র নিন্দিত।] পরিধান করা কদাপি বিধেয় নহে। শয়ন, চতুষ্পথাদিতে গমন ও দেবপূজার সময় পৃথক পৃথক বস্ত্র পরিধান করা আবশ্যক। চন্দন, প্রিয়ঙ্গু, বিল্ব, তগর ও কেশরদ্বারা গাত্র অনুলিপ্ত করা উচিত। স্নাত, পবিত্র ও অলঙ্কৃত হইয়া অনশনব্রত আশ্রয় এবং সমুদয় পৰ্ব্বকালে ব্রহ্মচর্য্যের অনুষ্ঠান করা কর্ত্তব্য। সমকক্ষ ব্যক্তির সহিতও একপাত্রে ভোজন করা অতিশয় গর্হিত কৰ্ম্ম। রজঃস্বলাকর্ত্তৃক সম্পাদিত অন্ন ভোজন ও উদ্ধৃতসার দুগ্ধাদি পান করা কদাপি বিধেয় নহে। যাচক ব্যক্তিদিগকে অন্নাদি দান না করিয়া কদাপি ভোজন করিবে না। অশুচি ব্যক্তির নিকট উপবিষ্ট হইয়া ও সাধু ব্যক্তিদিগকে অবজ্ঞা করিয়া ভোজন করা শাস্ত্রবিহিত নহে।
“যেসমুদয় দ্রব্য ধর্ম্মশাস্ত্রে অভক্ষ্য বলিয়া নির্দ্দিষ্ট হইয়াছে, গোপনেও তৎসমুদয় ভক্ষণ করা নিতান্ত অকৰ্ত্তব্য। অশ্বত্থ ও বটের ফল, শণশাক এবং উডুম্বর ভোজন করা কখনই কর্ত্তব্য নহে। ছাগ, গো ও ময়ূরের মাংস, শুষ্ক মাংস এবং পর্য্যুষিতান্ন ভোজন করা গর্হিত। দৃষ্ট লবণ [কাঁচালবণ] এবং রাত্রিযোগে দধি ও শক্তু ভোজন করা নিতান্ত নিষিদ্ধ। বৃথামাংস ভোজন করা কাহারও কৰ্ত্তব্য নহে। সমাহিত হইয়া কেবল দিবসে একবার ও রজনীযোগে একবার ভোজন করা উচিত। বালকের সহিত ভোজন এবং আদ্যশ্রাদ্ধে ভোজন করা কদাপি বিধেয় নহে। একবস্ত্রধারী, শয়ান ও দণ্ডায়মান হইয়া এবং ভূমিতে খাদ্যদ্রব্য রাখিয়া কখনই ভোজন করিবে না। শব্দসহকারে ভোজন করা শাস্ত্রসম্মত নহে। মহাত্মারা প্রথমে অতিথিদিগকে অন্নপান প্রদান করিয়া পরিশেষে ভোজন করিবেন। সমকক্ষ ব্যক্তির সহিত একপংক্তিতে ভোজন করাই শাস্ত্রসম্মত। সুহৃদ্বকে ভোজ্যবস্তু প্রদান না করিয়া স্বয়ং ভোজন করিলে হলাহল বিষ ভক্ষণ করা হয়। শক্তু ভক্ষণ এবং পানীয়, পায়স, দধি, ঘৃত ও মধু পান করিয়া ঐ সমুদয় দ্রব্যের শেষভাগ অন্যকে প্রদান করা কদাচ বিধেয় নহে। শঙ্কিতমনে ভোজন করা কর্ত্তব্য নহে। ভোজনান্তে দধিপান নিতান্ত নিষিদ্ধ।
“ভোজনের পর এক হস্তদ্বারা মুখপ্রক্ষালন করিয়া সেই জল দক্ষিণচরণের অষ্ঠে অর্পণ করিবে। ভোজনান্তে আচমনের পর মস্তকে হস্ত প্রদান ও সমাহিতচিত্তে অগ্নিস্পর্শ করিলে জাতিগণমধ্যে প্রাধান্য লাভ করা যায়। জলদ্বারা নাভি, করতল ও নাসিকাদি প্রক্ষালন করা বিধেয়; কিন্তু আর্দ্রহস্তে অবস্থান করা কৰ্ত্তব্য নহে। বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের মূলদেশ ব্রাহ্মতীর্থ, কনিষ্ঠের অগ্রভাগ দেবতীর্থ এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জ্জনীর মধ্যস্থল পিতৃতীর্থ বলিয়া অভিহিত হইয়াছে। অন্যের নিন্দাসূচক ও অপ্রিয়বাক্য প্রয়োগ এবং ক্রোধ উদ্দীপন করা কদাপি বিধেয় নহে। পতিত ব্যক্তির সহিত কথোপকথন ও সংসর্গ করা দূরে থাকুক, তাহার মুখাবলোকন করাও অকৰ্ত্তব্য। দিবাবিহার এবং ঋতুমতী স্ত্রী, কুমারী ও দাসীর সহিত সংসর্গ করা নিতান্ত দূষণীয়।
“ব্রাহ্মণাদি বর্ণসমুদয়ের স্ব স্ব নির্দ্দিষ্ট স্থানদ্বারা তিনবার আচমন ও দুইবার ওষ্ঠ মার্জ্জনপূৰ্ব্বক নাসিকাদি ইন্দ্রিয়স্থান স্পর্শ ও তিনবার অভক্ষণ করিয়া বেদবিহিত নিয়ম অনুসারে বেদকার্য্যের ও পিতৃকার্য্যের অনুষ্ঠান করা কর্ত্তব্য। এক্ষণে ব্রাহ্মণের পবিত্র ও হিতকর শৌচবিষয় কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর।
“ভোজনের পূৰ্ব্বে ও ভোজনান্তে এবং অন্যান্য সমুদয় শৌচকার্য্যে ব্রাহ্মতীর্থদ্বারা আচমন করা ব্রাহ্মণের কর্ত্তব্য। নিষ্ঠীবন [থুথু ফেলা] ও ক্ষুত [হাঁচি] কার্য্যের পরক্ষণে আচমন করিলেই পবিত্রতালাভ হয়। বৃদ্ধ, জ্ঞাতি, দরিদ্র ও মিত্রকে স্বীয় আবাসে বাস প্রদান করা অবশ্য কর্ত্তব্য। পারাবত, শুক, সারিকা ও তৈলপায়িক [আরশুলা] ইহারা গৃহে থাকিলে গৃহস্থের মঙ্গল হয়। খদ্যোত [জোনাকীপোকা], গৃধ্র, বনকপোত, উৎক্রোশ ও ভ্রমর গৃহে প্রবেশ করিলে তৎক্ষণাৎ শান্তিকার্য্যের অনুষ্ঠান করা কর্ত্তব্য। মহাত্মা ব্যক্তিদিগের গোপনীয় বিষয়সমুদয় ব্যক্ত করা বিধেয় নহে। রাজা, বৈদ্য, বালক, বৃদ্ধ, ভৃত্য, বন্ধু, ব্রাহ্মণ, শরণাগত ও স্বসম্পর্কীয় ব্যক্তির পত্নীর সহিত সংসর্গ করা নিতান্ত নিষিদ্ধ। ব্রাহ্মণের উপদেশানুসারে স্থপতি[বাজ]কর্ত্তৃক নিৰ্ম্মিত গৃহে বাস করাই বিজ্ঞব্যক্তির অবশ্য কর্ত্তব্য। সন্ধ্যাকালে শয়ন, ভোজন ও বিদ্যার আলোচনা করা নিতান্ত অকৰ্ত্তব্য। রাত্রিকালে পিতৃকার্য্য, স্নান ও শঙ্কুভোজন এবং ভোক্তান্তে কেশবিন্যাসাদি কার্য্যের অনুষ্ঠান করা একান্ত নিষিদ্ধ। পানভোজনাবশিষ্ট দ্রব্য অতি উপাদেয় হইলেও তাহা পরিত্যাগ করাই বিধেয়। রাত্রিকালীন আহারসময়ে নিমন্ত্রিত ব্যক্তিকে পরিতৃপ্ত করিয়া ভোজন করান কর্ত্তব্য; কিন্তু স্বয়ং সম্পূর্ণরূপে আহার করা বিধেয় নহে। নিশাকালে ও ভোজনান্তে কেশচ্ছেদন নিতান্ত নিষিদ্ধ।
“সকুলসদ্ভুত সুলক্ষণাক্রান্তা বয়স্থা কন্যার পাণিগ্রহণ করাই বিজ্ঞ ব্যক্তির বিধেয়। বংশরক্ষাৰ্থ পুত্রোৎপাদন করিয়া জ্ঞান ও কুলধৰ্ম্মশিক্ষার্থ তাহাকে বিদ্বান ব্যক্তির নিকট সমর্পণ এবং কন্যা উৎপাদন করিয়া সঙ্কুলসম্ভূত ধীশক্তিসম্পন্ন পাত্রে প্রদান করিবে। সদ্বংশসম্ভূতা কন্যার সহিত পুত্রের বিবাহকার্য্য সম্পাদন ও জীবিকাবিধান করা অবশ্য কর্ত্তব্য। মস্তক নিমজ্জনপূর্ব্বক স্নান করিয়া দেবতা ও পিতৃকার্য্যের অনুষ্ঠান করিবে। জন্মনক্ষত্রে শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান করা কর্ত্তব্য নহে। পূৰ্ব্বভাদ্রপদ, কৃত্তিকা, অশ্লেষা, আদ্রা, জ্যেষ্ঠা ও মূলানক্ষত্রে শ্রাদ্ধ করা নিষিদ্ধ। এতদ্ভিন্ন জ্যোতিষশাস্ত্রে যে যে সময়ে শ্রাদ্ধ করা নিষিদ্ধ বলিয়া অভিহিত হইয়াছে, সেই সেই সময়ে শ্রাদ্ধ করা অবিধেয়। পূর্ব্বাস্য বা উত্তরাস্য হইয়া সমাহিতচিত্তে ক্ষৌরকার্য্য সমাধান করা উচিত। গ্লানি করিলে অধর্ম্মে লিপ্ত হইতে হয়; অতএব আপনার বা পরের গ্লানি করা কদাপি বিধেয় নহে। বিকলাঙ্গ, কুমারী, স্বগোত্রা বা মাতামহ-গোত্রসমুৎপন্না, বৃদ্ধা, প্রব্রজিতা [সন্ন্যাসিনী], পতিব্রতা, আপনা অপেক্ষা নিকৃষ্ট বা উৎকৃষ্ট বর্ণজা ও অজ্ঞাতকুলা কামিনীর সহিত সংসর্গ করা নিতান্ত নিষিদ্ধ। পিঙ্গলবর্ণা, কুষ্ঠরোগাক্রান্তা, অঙ্গহীনা, পতিতা এবং অপস্মারী [অপস্মার বায়ুরোগগ্রস্তা] ও শ্বিত্রীর কুলে সম্ভূতা কন্যাকে বিবাহ করা কর্ত্তব্য নহে। সুলক্ষণাক্রান্তা, প্রিয়দর্শনা মনোহারিণী কন্যাকে বিবাহ করাই বিধেয়। আপনা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট বা সদৃশ কুলে বিবাহ করাই শাস্ত্রসম্মত। যত্নপূৰ্ব্বক বহ্নি সংস্থাপন করিয়া বেদ ও ব্রাহ্মণবিহিত ক্রিয়াকলাপের অনুষ্ঠান করা বিধেয়। স্ত্রীলোকের প্রতি ঈর্ষা প্রদর্শন করা কর্ত্তব্য নহে। পরমযত্নসহকারে ভাৰ্য্যাকে রক্ষা করা উচিত। ঈর্ষাপ্রদর্শন আয়ুক্ষয়কর বলিয়া নির্দ্দিষ্ট হইয়া থাকে; অতএব মনুষ্য সতত ঈর্ষা-পরিত্যাগে যত্নবান হইবে।
“দিবসে নিদ্রা ও সূর্য্যোদয় হইলে শয়ন আয়ুক্ষয়কর হয়, সন্দেহ নাই। প্রত্যুষে শয়ন ও রাত্রিকালে অশুচি হইয়া শয়ন উভয়ই নিষিদ্ধ। পরদারে অনুরাগ প্রদর্শন করা শ্রেয়স্কর নহে। ক্ষৌরকর্ম্মসমাধানান্তে স্নান করা বিধেয়। সন্ধ্যাকালে বেদপাঠ, বেদাভ্যাস, ভোজন ও স্নান করা নিতান্ত অকৰ্ত্তব্য। তৎকালে কোন বিষয় অনুষ্ঠান না করিয়া প্রযতভাবে অবস্থান করিবে। স্নান করিয়া ব্রাহ্মণগণের পূজা, দেবগণকে নমস্কার ও গুরুলোকদিগকে অভিবাদন করা কর্ত্তব্য। অনিমন্ত্রিত হইয়া কোন স্থলেই গমন করিবে না। যজ্ঞীয় বিধি দর্শন করিবার নিমিত্ত অনাহূত হইয়া যজ্ঞস্থলে গমন করিতে পারা যায়; কিন্তু অন্য কোনরূপ অভিসন্ধি থাকিলে অনিমন্ত্রিত হইয়া তথায় গমন করা নিতান্ত নিষিদ্ধ। একাকী দেশান্তরে গমন ও রজনীযোগে ভ্রমণ করা বিধেয় নহে। কোন কার্য্যানুরোধে গৃহ হইতে অন্যত্র গমন করিলে সন্ধ্যা উপস্থিত না হইতেই গৃহে আগমন করিয়া বাস করা কর্ত্তব্য। পিতা, মাতা প্রভৃতি গুরুজনদিগের আজ্ঞা অবিচারিতচিত্তে প্রতিপালন করা উচিত।
‘ধনুর্ব্বেদ ও বেদশিক্ষা, হস্তী ও অশ্বপৃষ্ঠে আরোহণ এবং রথচৰ্য্যায় নৈপুণ্য লাভ করিতে যত্নবান হওয়া ক্ষত্রিয়ের অবশ্য কৰ্ত্তব্য। যে রাজা শত্রু, ভৃত্য ও স্বজনবর্গের নিতান্ত দুর্দ্ধর্ষ এবং যিনি প্রজারঞ্জনপরায়ণ, তাঁহাকে কদাচ হীন হইতে হয় না। যুক্তিশাস্ত্র, শব্দশাস্ত্র, গন্ধৰ্ব্বশাস্ত্র ও চতুঃষষ্টি কলা শিক্ষা করিতে যত্নবান্ হওয়া এবং পুরাণ, ইতিহাস, আখ্যায়িকা ও মহাত্মাদিগের জীবনচরিত শ্রবণ করা রাজার অবশ্য কর্ত্তব্য। ঋতুমতী ভাৰ্য্যাসম্ভোগ ও তাহাকে আহ্বান করা নিতান্ত গর্হিত। ঋতুস্নানদিবসে রাত্রিকালে স্ত্রীসংসর্গ করিবে। ঋতুস্নানের পরদিবসে ভাৰ্য্যাসম্ভোগ করিলে কন্যা ও তৎপরদিবস স্ত্রীসম্ভোগ করিলে পুত্র উৎপন্ন হয়। এইরূপ পঞ্চমাদি অযুগ্ম দিবসে স্ত্রীসংসর্গ করিলে কন্যা ও ষষ্ঠাদি যুগ্মদিবসে স্ত্রীসম্ভোগ করিলে পুত্র উৎপন্ন হইয়া থাকে। জ্ঞাতি, সম্বন্ধী ও মিত্রগণকে সতত সমাদর করিবে। প্রভূত দক্ষিণাদানসহকারে যথাশক্তি যজ্ঞানুষ্ঠান, করা কর্ত্তব্য। গৃহস্থ এই সমস্ত গার্হস্থ্য ধর্ম্ম প্রতিপালনপূর্ব্বক বৃদ্ধাবস্থায় বানপ্রস্থাশ্রম অবলম্বন করিবে।
“হে যুধিষ্ঠির! যে সমস্ত নিয়ম প্রতিপালন করিলে আয়ুবৃদ্ধি হয়, আমি তোমার নিকট তৎসমুদয় কীৰ্ত্তন করিলাম। যাহা অবশিষ্ট রহিল, তুমি বেদবিৎ ব্রাহ্মণগণের মুখে শ্রবণ করিবে। ফলতঃ আচার-প্রভাবেই মনুষ্যের কীৰ্ত্তি ও আয়ুঃ পরিবর্দ্ধিত হয়। আচার অলক্ষণসমুদয় দূর করিয়া থাকে। শাস্ত্রোক্ত কার্য্যসমুদয়ের মধ্যে আচারই সর্ব্বশ্রেষ্ঠ। আচার হইতে ধৰ্ম্ম উদ্ভূত হয় এবং ধৰ্ম্মপ্রভাবেই আয়ুঃ পরিবর্দ্ধিত হইয়া থাকে। এক্ষণে আমি তোমাকে যে উপদেশ প্রদান করিলাম, ইহা আয়ুস্কর, যশস্কর ও মঙ্গলজনক। ইহারই প্রভাবে মনুষ্য স্বর্গলাভ করিতে সমর্থ হয়। পূৰ্ব্বে ভগবান্ ব্রহ্মা অনুকম্পাপূৰ্ব্বক বর্ণসমুদয়কে এই সমস্ত উপদেশ প্রদান করিয়াছিলেন।”
