রমানাথ রায় : উল্লুক
স্বামী নয়, একটা আস্ত উল্লুক। সংসারের প্রতি উল্লুকের কোনও দায় নেই, দায়িত্ব নেই। উল্লুক শুধু অফিস করেই খালাস। আর আমি অফিসও করব, সংসারও সামলাব। উল্লুকটা রোজ সকাল ন’টায় বাড়ি থেকে বেরয়, রাত দশটায় বাড়ি ফেরে। অফিস ছুটির পর কোথায় যায় তা ঈশ্বরই জানেন। জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেয় না, ধমক দেয়।
একদিন উল্লুক বাড়ি ফিরে বলল, আমি মাদ্রাজ যাচ্ছি।
বললাম, মাদ্রাজ! কেন?
— অফিসের কাজে।
— কবে?
— কাল?
— ফিরবে কবে?
— ছ-সাত দিন পরে।
এ নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি করে লাভ নেই। হুটহাট করে অফিসের দোহাই দিয়ে উল্লুক মাঝে মাঝে বাইরে চলে যায়। এটা ওর দীর্ঘদিনের স্বভাব। আমি তাই চুপ করে রইলাম।
পরদিন উল্লুক চলে গেল। তারপর দেখতে দেখতে দশ-বারো দিন হয়ে গেল। উল্লুক ফিরল না। আমি তখন ওর অফিসে ফোন করলাম। অফিস থেকে জানলাম, ও আর এই অফিসে চাকরি করে না। অনেকদিন আগেই এখানকার চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। আমার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল। নিজেকে ভীষণ অপমানিত বোধ করলাম।
২
আরও একমাস পার হয়ে গেল। উল্লুক তবু ফিরল না। আর ফিরবে বলেও মনে হল না। মনে মনে ভাবলাম, যাক, আপদটা গেছে, বেঁচেছি। আমার আর উল্লুকের দরকার নেই।
কিন্তু আমার স্বামীর মতো চারপাশে যে আরও নানা উল্লুক আছে তা জানা ছিল না। দোতলার ফ্ল্যাটে বাড়িওয়ালা থাকে। তার এক ছেলে। নাম রমেন। বয়সে আমার চেয়ে দু-চার বছরের বড় হবে। একদিন সে আমার ঘরে ঢুকে বলল, দাদা কোথায় গেছেন?
প্রকৃত সত্য গোপন করে বললাম, আমেরিকা।
— কবে ফিরবেন?
আবার মিথ্যে করে বললাম, শিগগির।
— আপনার কোনও অসুবিধে হচ্ছে না তো?
— না, কোনও অসুবিধে হচ্ছে না।
— হলে বলবেন।
— আচ্ছা।
রমেন চলে গেল। কিন্তু পরের দিন থেকে নানা ছুতোয় আমার কাছে আসতে লাগল। আমি কিছুতেই তার আসা বন্ধ করতে পারলাম না।
৩
এই পাড়াতেই বিজয় থাকে। বিজয় ব্যাঙ্কে চাকরি করে। এক সময় আমায় খুব ভালবাসত। এখন বিয়ে-থা করে সংসারী হয়েছে। একদিন বিজয় আমাকে রাস্তায় জিজ্ঞেস করল, তোমার কর্তাকে আজকাল দেখি না। কোথাও গেছে নাকি?
— হ্যাঁ।
— কোথায়?
উত্তরে মিথ্যে করে বললাম, আমেরিকা।
— অফিসের কাজে?
আবার মিথ্যে কথা বলতে হল, হ্যাঁ।
— কবে ফিরবে?
শিগগির— বলে আর কথা না বাড়িয়ে ঘরে ফিরে এলাম। কিন্তু বিজয় আমার উল্লুকের অনুপস্থিতির সুযোগ ছাড়ল না। দুদিন পরে সন্ধেবেলা আমার ঘরে এসে হাজির হল। আমি তাকে দেখে চমকে গেলাম। জানতে চাইলাম, কী ব্যাপার?
বিজয় বলল, কতদিন তোমার হাতের চা খাইনি। আজ এক কাপ চা খাওয়াবে?
এই সময় বিজয়ের মুখের ওপর বলা উচিত ছিল, না, খাওয়াব না। তুমি এখন এখান থেকে যাও। কিন্তু কথাটা বলতে পারলাম না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিজয়কে এক কাপ চা করে দিলাম। বিজয় চায়ে চুমুক দিয়ে বলল, তোফা করেছ। তোমার চা তৈরির হাত ভারি সুন্দর।
আমি চুপ করে রইলাম।
চা খাওয়া শেষ হলে বিজয় বলল, তোমায় একটা কথা বলব?
— কী কথা?
— বিশ্বাস করবে?
— করব।
— আমি তোমাকে ভীষণ ভালবাসি।
সঙ্গে সঙ্গে আমার মনে পড়ল, গতকাল বাড়িওয়ালার ছেলে রমেন আমাকে হুবহু এই একই কথা বলেছে। মনে মনে ভাবলাম, এই উল্লুকগুলো এত ভালবাসা কোত্থেকে পায়!
৪
সংসারে মেয়েদের একা থাকা নিরাপদ নয়। এই সময় বাবা-মা বেঁচে থাকলে সুবিধে হত। আমার কোনও দুশ্চিন্তা থাকত না। তাঁদের অভাব এখন আমি হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। একবার দাদার কথা মনে পড়ল। এই সময় দাদা যদি কাছে থাকত তাহলে বেঁচে যেতাম। দাদা দিল্লিতে চলে যাওয়ার পর নিজেকে ভীষণ একা মনে হয়। আর ছোটভাই তো ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত বছর অস্ট্রেলিয়া চলে গেছে। কবে ফিরবে তার ঠিক নেই। এই তো আমার বাপের বাড়ির অবস্থা। আর শ্বশুরবাড়ির কথা কী বলব! শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তেমন সুবিধের নয়। যেমন আমার শ্বশুর, তেমনি আমার শাশুড়ি। তাদের কথা না বলাই ভাল। এঁরা ছাড়া এক ভাশুর আছে। তিনি বিবাহিত, তিন সন্তানের বাবা। নিজের স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছু বোঝেন না। ফলে আমার ভালমন্দে তাঁর তিলমাত্র আগ্রহ নেই। বাকি রইল দেওর। দেওর এখনও বিয়ে-থা করেনি। তাকে একবার এখানে দুদিন থাকার জন্যে অনুরোধ করা যায়।
আমার দেওরের নাম নিখিল। একদিন নিখিলকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম, তুই কি খুব ব্যস্ত?
নিখিল জানতে চাইল, কেন?
— তোর দাদা যতদিন না আসে, ততদিন আমার কাছে থাকতে পারবি?
— খুব পারব।
— তাহলে কালকে চলে আয়।
— আচ্ছা।
পরদিন নিখিল চলে এল। আমি নিশ্চিন্ত হলাম। কিন্তু কদিন পরে একটা বিচ্ছিরি ঘটনা ঘটল।
আমি রোজ রাত্রে আমার শোবার ঘরে দরজা লাগিয়ে শুই। একদিন দরজা দিতে ভুলে গেলাম। সেদিন মাঝরাত্রে হঠাৎ একটা হাতের চাপে আমার ঘুম ভেঙে গেল। চোখ খুলে ঘরের নীল আলোয় দেখি, নিখিল খাটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আমি ধড়মড়িয়ে উঠে বসলাম। তীব্র গলায় বললাম, তুই এ ঘরে? কী চাই তোর?
নিখিলের অল্প বয়স। ভয় পেয়ে ঘর থেকে ছিটকে চলে গেল। আমি দরজা লাগিয়ে আবার ঘুমোবার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ঘুম আর এল না।
৫
এই সময় হঠাৎ একদিন ফ্রান্স থেকে আমার স্বামী অথবা উল্লুকের চিঠি এসে হাজির হল। চিঠিতে উল্লুক লিখেছে— এতদিনে তুমি নিশ্চয় সব অবগত হইয়াছ। আমি ভাবিয়াছিলাম তোমাকে প্রকৃত সত্য বলিয়া এখানে আসিব। কিন্তু সত্য কথা বলিলে তুমি আমার কাজে বাধা দিবে ভাবিয়া মিথ্যার আশ্রয় লইয়াছিলাম। তুমি আমার অপরাধ ক্ষমা করিও।
আমি চিঠির উত্তরে লিখলাম: নারীজাতির সহিত পুরুষেরা আদিকাল হইতে মিথ্যা কথা বলিয়া আসিতেছে। অতএব তুমি নতুন কিছু কর নাই। আমি তোমার অপরাধ ক্ষমা করিলাম। এখন তুমি অনুগ্রহ করিয়া জানাও কবে দেশে ফিরিতেছ। কারণ, তোমার অনুপস্থিতির সুযোগ লইয়া পাঁচজনে আমার সতীত্ব হরণ করিবার জন্য ভারি ব্যস্ত হইয়া পড়িয়াছে। আমি আর কতকাল তোমার জন্য সতীত্ব অক্ষুণ্ণ রাখিয়া বসিয়া থাকিব?
স্বামী অথবা উল্লুক উত্তরে লিখল: দেশে ফিরিবার আমার আর আগ্রহ নেই। এখানে আমি একটি ভাল চাকরি করিতেছি এবং একজন চীনা তরুণীর নিত্য সান্নিধ্য পাইতেছি। সুতরাং আমার চরিত্র আর প্রাতঃস্মরণীয় নহে। অতএব আমার কথা ভাবিয়া তোমার সতীত্বকে অক্ষুণ্ণ রাখিবার প্রয়োজন নাই। তুমি বিবাহ করিয়া নতুন জীবন শুরু করিয়া দাও। বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য যাহা যাহা করিবার দরকার হয়, আমি সব করিব। তুমি দুশ্চিন্তা করিও না।
আমি এবার লিখলাম: তোমার পত্রের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি দ্রুত বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যবস্থা করিতেছি। আমি তোমার সুখী জীবন কামনা করি।
৬
আর আমার দুশ্চিন্তা নেই। আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। এখন আমি যাকে খুশি বিয়ে করতে পারি।
প্রথমেই আমার রমেনের কথা মনে পড়ল। আমি একদিন রমেনকে ডেকে পাঠালাম। রমেন লাজুক মুখে আমার ঘরে এসে ঢুকল। আমি বললাম, বস। তোমার সঙ্গে কথা আছে।
— কী কথা?
— তুমি আমাকে ভালবাস?
— ভীষণ।
— তাহলে আমাকে ছাড়া তুমি বাঁচতে পারবে না।
— ঠিক।
— আমাকে বিয়ে করতে রাজি আছ?
সঙ্গে সঙ্গে রমেন যেন বিদ্যুতের স্পর্শে লাফিয়ে উঠল, বিয়ে!
— হ্যাঁ।
রমেন ঢোঁক গিলে বলল, মাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। মা যদি রাজি থাকে…
আমি থাকতে না পেরে বললাম, আমাকে ভালবাসার সময় মা-র মত নিয়েছিলে? রমেন উত্তরে কিছু না বলতে পেরে মাথা নিচু করে ঘর থেকে চলে গেল। আমি পিছন থেকে ওকে শুনিয়ে বললাম, একেবারে উল্লুক।
কথাটা শুনেও রমেন পিছন ফিরে তাকাল না।
এবার বিজয়কে একদিন ডাকলাম। বিজয় আনন্দে প্রায় লাফাতে লাফাতে ঘরে ঢুকল। ঢুকে জিজ্ঞেস করল, কী ব্যাপার? আমার প্রতি এত অনুগ্রহ?
বললাম, তুমি কি সত্যি আমাকে ভালবাস?
— তোমার কি তাতে সন্দেহ আছে?
— আমার জন্যে ঘরসংসার ছেড়ে আসতে পারবে?
বিজয় থতমত খেয়ে জানতে চাইল, মানে?
— আমাকে বিয়ে করতে পারবে?
বিজয় যেন আকাশ থেকে পড়ল, বিয়ে!
— হ্যাঁ, বিয়ে।
— সে কি করে সম্ভব! বউ ছেলেমেয়ে ত্যাগ করে… না, তা সম্ভব নয়।
— তাহলে আমার কাছে আস কেন?
— মানে…মানে…মানে…
— এই তোমার ভালবাসা! এখনই এখান থেকে বেরিয়ে যাও। কী হল? এখনও বসে আছ কেন?
যাচ্ছি, যাচ্ছি। — বলে বিজয় ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল। আমি পিছন থেকে ওকে শুনিয়ে বললাম, আস্ত উল্লুক। বিজয় কথাটা
হজম করল। প্রতিবাদ করার জন্যে ঘুরে দাঁড়াল না।
এবার নিখিল। নিখিলকে ডাকতেই নিখিল ছুটে এল। উৎফুল্ল হয়ে বলল, তোমার ভৃত্য হাজির। আদেশ কর।
বললাম, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?
— স্বচ্ছন্দে।
— আমাকে তুমি ভালবাস?
নিখিল লজ্জিত হয়ে আস্তে করে বলল, খুব।
— ঠিক বলছ?
— ঠিক।
— আমি যা বলব, তা করতে পারবে?
— পারব।
— আমাকে বিয়ে করতে পারবে?
নিখিল সোফা ছেড়ে লাফিয়ে উঠল, বিয়ে! তোমাকে! কী বলছ তুমি?
— অবাক হচ্ছ কেন? আমাকে বিয়ে করতে আপত্তি কিসের?
— তোমাকে বিয়ে করলে আমি সমাজে মুখ দেখাব কি করে?
— সমাজটাই বড় হল! আমি তোমার কেউ না! একটু আগেই তুমি বললে—
নিখিল আমার কথা থামিয়ে দিয়ে বলল, আমাকে তুমি ক্ষমা কর।
— তা হয় না। আমার একটা উল্লুক চাই। তোমাকে আমার ভারি পছন্দ।
নিখিল এবার রেগে গিয়ে বলল, কি বলছ তুমি! আমি কি একটা উল্লুক!
— হ্যাঁ, তুমি একটা উল্লুক।
নিখিল এরপর আর দাঁড়াল না। ঘর ছেড়ে পালাল।
৭
আমি আর বিয়ে করতে চাই না। স্বামী নিয়ে ঘর করার শখ আমার মিটেছে। এখন আমার একটা প্রকৃত উল্লুক চাই। সেই আমার দেখাশুনো করবে। উল্লুককে ইংরেজিতে কি বলে? গিবন বলে। উল্লুকরা ভারি বুদ্ধিমান। তাদের লেজ নেই। তাদের শরীরের চেয়ে হাত দ্বিগুণ লম্বা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জঙ্গলে তারা বাস করে। তারা সারাদিন গাছে থাকে। অনায়াসে এক ডাল থেকে আর এক ডালে চলে যায়। তবে ভীষণ চেঁচামেচি করে। আমাদের চিড়িয়াখানায় একসময় অনেক উল্লুক ছিল। এখন আছে কিনা জানি না। যাই হোক, ঘরে কুকুর, বেড়াল, স্বামী না পুষে একটা উল্লুক পুষলে ক্ষতি কি!
ইংরেজি কাগজে বড় বড় করে বিজ্ঞাপন দিলাম: স্বামী নয়, প্রকৃত উল্লুক চাই। বিজ্ঞাপনে কাজ হল।
একদিন দেখি আমার বসার ঘরে সোফার ওপর একটা উল্লুক বসে আছে। আমি উল্লুকটার দিকে কৌতূহলী হয়ে তাকিয়ে রইলাম।
উল্লুক তা দেখে জিজ্ঞেস করল, ওভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন কেন? আপনি কোনওদিন উল্লুক দেখেননি।
হেসে বললাম, দেখব না কেন? অনেক দেখেছি।
— তাহলে!
— আমি একটা জিনিস দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি।
— কী দেখে?
— আমার স্বামীর মুখের সঙ্গে আপনার মুখের আশ্চর্য মিল!
উল্লুক কথাটা শুনে হো হো করে হেসে উঠল।
আমি এবার জানতে চাইলাম, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?
— কী কথা?
— আপনি কোত্থেকে আসছেন?
— দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জঙ্গল থেকে।
— ওখানে কাগজ যায়?
— যায়।
— আপনি ইংরেজি জানেন?
— প্রতিটি উল্লুক ইংরেজি জানে।
— সত্যি?
— সত্যি।
এরপর একটু থেমে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার দাবি?
উল্লুক হেসে বলল, আমার দাবি কিছু নেই। শুধু দু-বেলা ফলমূল খেতে দিলেই চলবে।
— মাইনে নেবেন না?
— না। তবে তার বিনিময়ে স্বামীর সম্মান চাই।
আমি একথায় বিস্মিত হয়ে বললাম, স্বামীর সম্মান মানে!
উল্লুক গম্ভীর গলায় বলল, আমাকে ভক্তি করতে হবে, শ্রদ্ধা করতে হবে। আমি যখন যা বলব, তাই শুনতে হবে। যা করব, তাই মেনে নিতে হবে। সংসারে আমার কথাই হবে শেষ কথা।
আমি এ কথার জবাবে কি বলব বুঝে পেলাম না। উল্লুক আর মানুষে কোনও তফাত নেই দেখছি। উল্লুকও মানুষের মতো স্বামী হতে চায়! স্ত্রীর ওপর কর্তৃত্ব করতে চায়!
উল্লুক আমার মনের ভাব অনুমান করতে পেরে বলল, এতে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। আমি আপনার কাছ থেকে যেমন ভক্তিশ্রদ্ধা নেব তেমনি বিনিময়ে আমি আপনার দেখাশুনো করব। আমি বেঁচে থাকতে কোনও মানুষ বা কোনও উল্লুক আপনার কিছু করতে পারবে না। আপনি নিশ্চিন্তে জীবন কাটাতে পারবেন।
আমি আর থাকতে পারলাম না। ক্রুদ্ধ গলায় বললাম, আমার আর মানুষ বা উল্লুকের প্রয়োজন নেই। আপনি এখনই ঘর থেকে বেরিয়ে যান।
উল্লুক আমার কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে মুখ দিয়ে উ-উ-উ-উ করে বিচিত্র শব্দ করতে লাগল। আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, চেঁচাচ্ছেন কেন? চুপ করুন।
কিন্তু উল্লুকের মধ্যে চুপ করার কোনও লক্ষণ দেখা গেল না। বিচ্ছিরি গলায় আগের মতোই চেঁচাতে লাগল।
আমি এবার ধমক দিয়ে বললাম, কী হচ্ছে এসব! আপনাকে আমার দরকার নেই। আপনি এখন যান।
উল্লুক তবু থামল না। শুধু তাই নয়, আমাকে চমকে দিয়ে এই সময় ঘরের মধ্যে একটা-দুটো করে আরও উল্লুক ঢুকে গেল। তারাও সমস্বরে চেঁচাতে লাগল। আমি তখন রীতিমতো ভয় পেয়ে শোবার ঘরে ঢুকলাম। দেখি, সেখানেও অনেক উল্লুক জড়ো হয়েছে। আমাকে দেখে তারাও চেঁচাতে লাগল। আমি তখন বাথরুমে ঢুকলাম। কিন্তু সেখানেও সাতটা উল্লুক বসে আছে।
