দ্বৈপায়ন তীরে অশ্বত্থামা, কৃপাচার্য ও কৃতবর্মা
কিছুক্ষণ পরেই অশ্বত্থামা, কৃপ এবং কৃতবর্মা তিন অশ্বরোহী দ্বৈপায়ন হ্রদে এসে উপস্থিত হলেন। তাঁরা কাউকে সেখানে দেখতে পেলেন না।
তখন অশ্বত্থামা চিৎকার করে বললেন, মহারাজ, আমি অশ্বত্থামা। আপনার গুরুপুত্র। শৈশব থেকে সুখ-দুঃখের সাথি। আমার সঙ্গে আছেন মাতুল কৃপাচার্য আর সেনাধ্যক্ষ কৃতবর্মা। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে এই জীবিত ত্রয়ী আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য উদ্গ্রীব হয়ে আছি। আপনি হ্রদের অভ্যন্তর থেকে উঠে আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করুন। আপনাকে আমাদের বিশেষ প্রয়োজন।
সেই নির্জন হ্রদে অশ্বত্থামার বসন্তের বজ্রনির্ঘোষের মতো কণ্ঠ প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে এল। সেই সময় কয়েকজন ব্যাধ পশু শিকারের উদ্দেশে সন্নিহিত অরণ্যে এসেছিল। তারা ভীমসেনের জন্য প্রতিদিন একটি করে হরিণ অথবা বরাহ শিকার করে শিবিরে সরবরাহ করে। বৃকোদরের রোজ নৈশভোজে একটি করে আস্ত পশু লাগে। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সময় উভয়পক্ষের বিপুল সৈন্যবাহিনীর রসদ সরবরাহের জন্য এক বিরাট সরবরাহকারী গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়েছিল।
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে একটু দূরে দুটি বিশাল প্রান্তরে গড়ে উঠেছিল বিশাল অস্থায়ী শিবির নগরী। এর একদিকে সারি সারি শিবিরে থাকতেন কৌরবপক্ষের রমণীরা। অন্যদিকের শিবিরে থাকতেন পাণ্ডবদের অন্তঃপুর রমণীরা। তাঁদের পুত্রগণ ও পাণ্ডব বধূগণ স্বয়ং দ্রৌপদী, পুত্রবধূ উত্তরা, অভিমন্যু জননী সুভদ্রা। উত্তরা অভিমন্যুর বধূ। তখন গর্ভবতী। সেই অবস্থাতেই যুদ্ধশিবিরে বাস করছিলেন। কারণ, এটাই ছিল নিয়ম। সারাদিন যুদ্ধ করে ক্লান্ত হয়ে রাতে তারা পত্নীদের সঙ্গেই সহবাস করতেন। আবার পরদিন ভোরবেলা স্নান করে, প্রাতরাশ সেরে যুদ্ধ করতে বেরিয়ে যেতেন। সন্ধ্যায় তাঁরা সবাই শিবিরে ফিরবেন কি না তার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। এই শিবিরগুলির মধ্যে ছিল অনেকগুলি ভোজশালা। রাজপরিবারের জন্য স্বতন্ত্র ভোজশালা ছিল। ভীমের জন্য বিশেষ রান্নার ব্যবস্থা ছিল। কারণ ভীম একটু বেশি আহার করতেন। ঘটোৎকচ ও তাঁর রাক্ষস সেনাদের জন্যও স্বতন্ত্র রন্ধনশালা ছিল। কারণ তাদের খাদ্যের পরিমাণ বেশি, উপাদনও ভিন্ন।
যে কতিপয় ব্যাধের কথা বলছিলাম তাঁদের ওপর ভার ছিল শুধু ভীম ও ঘটোৎকচের জন্য নিত্য পশু শিকারের। তারা এদিন দুটি বরাহ শিকার করে জলপানের উদ্দেশ্যে দ্বৈপায়নে আসছিল। হঠাৎ দেখল তিনজন দীর্ঘকায় শ্মশ্রুগুম্ফমণ্ডিত ব্যক্তি, পরনে তখন ও যুদ্ধের পোশাক, কোষবদ্ধ তরবারি, পিঠে ধনুর্বাণ, হ্রদের পাড়ে দাঁড়িয়ে। একজন কার উদ্দেশে চিৎকার করছে।
তারা কৌতূহলী হয়ে গাছের পিছনে লুকিয়ে সমস্ত ঘটনা দেখতে লাগল। কিন্তু তারা কাউকে চিনতে পারল না। তারা দেখল দীর্ঘদেহী এক ব্যক্তির চিৎকার শুনে হ্রদের জল থেকে এক ব্যক্তি ওপরে উঠে এলেন।
অশ্বত্থামা তাঁকে দেখে বলে উঠলেন, মহারাজ দুর্যোধনের জয় হোক
ব্যাধেরা দুর্যোধনকে আগে দেখেনি। কিন্তু মহারাজ দুর্যোধনের অঙ্কিত ছবি প্রতি জনপদেই অনেক গৃহে শোভা পায়। তিনি দেশের রাজাধিরাজ। তাঁকে দেখে চিনতে পারল। তারা সবিস্ময়ে তাকিয়ে রইল। একটি মানুষ এতক্ষণ জলে ডুবে ছিল। এও কি সম্ভব? তবে ব্যাধেরা শুনেছিল রাজা রাজড়ারা অনেক মায়া জানেন। মায়ায় কী না সম্ভব। তারা উৎকর্ণ হয়ে তাদের কথোপকথন শুনতে লাগল।
.
দুর্যোধন হ্রদ থেকে সিক্ত বসনে ওপরে উঠে বললেন, তোমরা কী করে জানলে আমি এখানে? তাহলে দেখছি এই স্থানও আমার পক্ষে নিরাপদ নয়।
অশ্বত্থামা বললেন, আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন মহারাজ। আমাদের মুখ থেকে কেউ এই স্থানের খবর পাবে না। সঞ্জয় আপনার অবস্থানের খবর আমাদের দিলেন। তিনি কিছুক্ষণ আগে আপনার সঙ্গে দেখা করে গেছেন। আপনাকে দেখে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে মহারাজ। আপনি ভারতেশ্বর। আজ শীতার্ত সর্পের মতো গহ্বরে লুকিয়ে আছেন।
দুর্যোধন বললেন, তা আপনারা এতক্ষণ কোথায় ছিলেন? রণক্ষেত্রে যুদ্ধক্ষেত্রের শেষ দিনেও আপনাদের পাশে পাইনি। আপনাদের তিনজনকে পাশে পেলে আমি হয়তো যুদ্ধ করে যুদ্ধক্ষেত্রেই প্রাণ বিসর্জন দিতাম। এভাবে পালিয়ে আসতাম না।
অশ্বত্থামা বললেন, আমি গুরুতর আহত হয়ে শুশ্রূষা শিবিরে ছিলাম। সকালে উঠেই আবার আমি যুদ্ধক্ষেত্রে রওয়ানা হয়েছি। দেখি প্রান্তর শূন্য। পাণ্ডবদের বিজয় উল্লাস। বাসুদেব ঘন ঘন তাঁর পাঞ্জজন্য বাজাচ্ছেন। একজন আমায় বলল, রণক্ষেত্রে কেউ নেই। শুনলাম আপনি নাকি রণক্ষেত্র ছেড়ে পলায়ন করেছেন। পাণ্ডবদের জয় হয়েছে। পাঞ্চজন্যের আওয়াজ শুনে বুঝতে পারছেন না?
দুর্যোধন বললেন, যুদ্ধে পশ্চাদপসরণও রণকৌশলের একটি অঙ্গ। আমি যখন দেখলাম আমি একা, আমার পাশে আর কেউ নেই, তখন আমি পলায়ন না করলে পাণ্ডবরা আমায় বন্দি করত। আমি ভারত সম্রাট দুর্যোধন। কর্ণ আমাকে ভারত ঈশ্বর বলত। আমি যুধিষ্ঠিরের দাস হয়ে জীবন যাপন করতে পারব না। আমি বেঁচে আছি, বেঁচে থাকব। এই পরাজয়ের প্রতিশোধ নেবার জন্য আমায় বেঁচে থাকতেই হবে।
অশ্বত্থামা বললেন, পিতার আশীর্বাদে ও মহাদেবের বরে আমি ও মাতুল কৃপ, আমরা দুজনেই চিরঞ্জীবী মহারাজ। আমাদের মৃত্যু নেই। আমি তাই দীর্ঘ সময় পাব পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেবার জন্য। আপনি আমাদের সঙ্গে থাকুন মহারাজ। পিতার পৈশাচিক হত্যার পর থেকে আমি ভাবছি কীভাবে এর প্রতিশোধ নেওয়া যায়। আপনার অসীম কৌশলে একবার তাঁরা রাজ্যচ্যুত হয়েছেন। এবার শুধু তাদের রাজ্যচ্যুত করলে চলবে না। তাঁদের সকলকে বিনাশ করতে হবে। ইতিহাস থেকে মুছে দিতে হবে তাঁদের নাম। দরকার হলে আবার জোট বাঁধতে হবে বিভিন্ন রাজাদের সঙ্গে। পাণ্ডব মুক্ত ভারতই আমাদের লক্ষ্য হবে। আমার মাতুল আমার সঙ্গে আছেন। আর আছে কৃতবর্মা। আমরা তিনজনই আপনাকে আবার রাজপদে প্রতিষ্ঠিত করার পক্ষে যথেষ্ট। আমরা ত্রিমূর্তিই স্বর্গ, মর্ত ও পাতাল—এই তিন ভুবনের প্রতিভূ। আপনার ত্রিনয়ন। বৃকোদর দুঃশাসনের রক্তপান করেছে, আমি আমার পিতৃহন্তা ধৃষ্টদ্যুম্নের রক্তপান করব। যে ধর্মের ধ্বজাধারী ধর্মপুত্র মিথ্যা ভাষণ দিয়ে ‘অশ্বত্থামা হত’ বলে পিতৃদেবকে অস্ত্র ত্যাগ করিয়েছিল সেই ভণ্ড সত্যবাদীকে আমি এমন শাস্তি দেব যাতে সে জীবনে ভুলতে পারবে না। শুধু আপনি আমাদের সঙ্গে থেকে আমাদের পরিচালিত করুন মহারাজ। চলুন আমরা নিরাপদ স্থানের সন্ধান করি। সারা ভারতের বেশিরভাগ রাজাই আমাদের হয়ে যুদ্ধ করে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। চলুন, আমরা কোনও মিত্র রাজ্যে চলে যাই। আবার সৈন্য সংগ্রহ করে পাণ্ডবদের আক্রমণ করি। তার আগে দ্রুপদতনয়কে সংহার করি। আমার কাছে সেটি অতি পবিত্র কাজ।
দুর্যোধন বললেন, কোথায় যাবে তোমরা? রাজ্য তো এখন পাণ্ডবদের অধিকারে। যুদ্ধের পর সমগ্র ভারত জুড়ে হাহাকার আর শূন্যতা নেমে এসেছে।
কৃপাচার্য এরপর দুর্যোধনকে বললেন, আমার ভাগিনেয় অশ্বত্থামা যা বলেছে সে সম্পর্কে আমার কিছুই বলার নেই মহারাজ। বড় আদরের ভাগিনেয় আমার। ওই পুত্রলাভের জন্য আমার ভগ্নিপতি দ্রোণ দুশ্চর তপস্যা করে মহাদেবের বরে ওকে পান ও বরাবরই একটু ব্যতিক্রমী। ও ভূমিষ্ঠ হবার সময় অশ্বের হ্রেষাধ্বনির মতো উচ্চৈস্বরে ক্রন্দন করেছিল বলে দ্রোণ ওর নাম রাখেন অশ্বত্থামা। ওর মা কৃপী ও আমি দুজনে যমজ ভাইবোন। আমরা দু’ ভাইবোন বড় ঘনিষ্ঠ। দ্রোণের মৃত্যুসংবাদ শুনে কৃপী যেভাবে ভেঙে পড়েছিল তা বলে বোঝাতে পারব না। সে স্বামীর সঙ্গে সহমরণে যেতে চাইছিল। আমি তাকে বলি তুমি চলে গেলে তোমার এই অকৃতদার পুত্র একেবারে অনাথ হয়ে পড়বে। আমি অশ্বত্থামার বুকের আগুনের উত্তাপ অনুধাবন করতে পারি। কিন্তু মহারাজ আপনি এইভাবে চিরদিন জলের তলায় নিজেকে আবদ্ধ রাখতে পারেন না। এও তো আর এক বন্দিদশা। আমি আপনাকে পাণ্ডবদের সঙ্গে মিটমাট করে নিতে বলেছিলাম। আপনি আমায় ভুল বুঝেছেন। আমাদের নিজস্ব এক অক্ষৌহিণী সৈন্য সবাই আমার ও দ্রোণের হাতে তৈরি। দ্রোণের চেয়ে রণকুশলী ভারতে আর কে আছে। অর্জুনের যে অস্ত্র দক্ষতা সেও তো দ্রোণের শিষ্য বলে। আপনিও স্বয়ং দ্রোণের ছাত্র। আপনিও সমান অস্ত্রবিদ্যা পারঙ্গম। কিন্তু ভাল ছাত্রদের মধ্যেও কেউ কেউ সর্বোৎকৃষ্ট হতে পারে। মহারাজ কুশলতা সর্বদা শিক্ষার ওপর নির্ভর করে না। দক্ষতা দীক্ষার ওপর অপেক্ষা করে না। এগুলি প্রতিভা সঞ্জাত। প্রতিভা সহজাত। তা ঈশ্বরের দান। তাছাড়া সব কিছুর ওপর দৈব বলে একটি অদৃশ্য শক্তি বিরাজ করে। মহাকাল এবং দৈবকে কোনো মানুষই অস্বীকার করতে পারে না। তারাই শেষ কথা বলে।
কৃপাচার্য আরও বলে চললেন, প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের উচিত ভালো-মন্দ যাই আসুক তাকে সত্য বলে গ্রহণ করা। মানুষ তার কর্মফলের জন্য দায়ী। সে কর্মফল অমোঘ, দুর্নিবার। তাকে মেনে নিতে হয়। আপনার দুর্ভাগ্যকে মেনে নিন মহারাজ। আপনি বাস্তববাদী হোন। আমরা আপনার দেহরক্ষী হিসাবে আপনার সঙ্গে থাকব। আমরা না হয় ভাগ্যান্বেষণেই বেরিয়ে পড়ি। আপনি তো সবই হারিয়েছেন। এখন প্রাণটুকু ছাড়া কিছুই হারাবার নেই। ক্ষত্রিয়ের কাছে প্রাণ কিন্তু তুচ্ছ। কিন্তু আমি মনে করি না, প্রাণ দানই শ্রেষ্ঠ দান। মানুষের শ্রেষ্ঠ দান হচ্ছে পরার্থে দান, তা সে প্রাণও হতে পারে আবার প্রেম, ক্ষমা ও যে কোনো প্রিয় বস্তু স্বেচ্ছায় দানও হতে পারে। এই যে অষ্টাদশ অক্ষৌহিনী সৈন্য নিঃশেষে প্রাণ দান করল এরা কিন্তু কেউ রাজ্যলাভের জন্য লড়াই করেনি। রাজ্যলাভের লড়াই করেছে কুরু-পাণ্ডবেরা। আর এই যে লক্ষ লক্ষ উলুখাগড়ারা প্রাণ দিয়েছে পরার্থে, কেউ পঞ্চপাণ্ডবদের জন্য কেউ রাজা দুর্যোধনের জন্য। আমরা যে জীবনযুদ্ধ করেছি তা কি আমার জন্য? মোটেই নয়—রাজা দুর্যোধনের জন্য। আমি, দ্রোণ, অশ্বত্থামা তো ব্রাহ্মণ। আমাদের ধর্ম তো যুদ্ধ করা নয়। অধ্যয়ন করা, যাগযজ্ঞ করা। মহারাজ আপনি ভাবতে পারেন আমরা উচ্চ বেতনের লোভে যুদ্ধ করছি। যদি তাই মনে করেন তা আপনার ভুল ধারণা। দ্রোণ যখন অস্ত্রগুরু ছিলেন তখন তিনি রাজকোষ থেকে কত বেতন পেতেন? এত বেতন যে তিনি তাঁর একমাত্র সন্তানকে দুধ কিনে খাওয়াতে পারেননি। অশ্বত্থামা দুধ খেতে চেয়েছিল। কৃপী তাকে পিটুলি গুলে দুধ বলে খাইয়েছিলেন। সেই পিটুলিগোলা খেয়ে অশ্বত্থামা দুধ খেয়েছি দুধ খেয়েছি বলে বন্ধুদের কাছে আত্মপ্রসাদে চেঁচাতে থাকেন। তা শুনে দ্রোণ অশ্রু রোধ করতে পারেননি। এই খবর পিতামহ ভীষ্মের কানে গেলে তিনি দ্রোণের দারিদ্র্য মোচনের জন্য উচ্চ ভাতার ব্যবস্থা করেন।
এত কথা আপনাকে বলছি এই কারণে যে কিছু মানুষ এখনও আছেন যারা ভালোবেসে কর্ম করেন। তাঁরা যা করতে চান তা তাদের আত্মার শান্তির জন্য। মনের আনন্দের জন্য। আমি, দ্রোণ, অশ্বত্থামা—এই তিন ব্রাহ্মণ স্বধর্ম পরিত্যাগ করে আপনার সেবা করে এসেছি কাজকে ভালোবেসে, আপনাকে ভালোবেসে। তাই আমরা নিঃস্ব অবস্থাতেও আপনাকে নিয়ে যেতে চাইছি। চলুন। আমরা চেদি, মগধ কিংবা মদ্র রাজ্যে চলে যাই। সেখান থেকে আমরা ধীরে ধীরে শক্তি সংগ্রহ করব।
দুর্যোধন শুধু বললেন, আপনাদের অজস্র ধন্যবাদ আচার্যদেব। কিন্তু আমি আর কোথাও যেতে রাজি নই। আমি এই হ্রদে বেশ নিরাপদে আছি। আপনি পাণ্ডবপক্ষে যোগ দিতে পারেন। অশ্বত্থামা কি করবেন তিনিই ঠিক করবেন। তবে তার মতো বীরের পক্ষে উপযুক্ত হবে পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেওয়া। গুরু দ্রোণের হত্যাকারীদের সমুচিত শাস্তি হলে আমিও শান্তিতে মারা যেতে পারব। আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য ধন্যবাদ। আর বেশিক্ষণ এভাবে কথা বলা আমার পক্ষে যথাযথ হবে না। বিদায়। এই বলে দুর্যোধন আবার দ্বৈপায়নের জলে ডুব দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।
এতক্ষণ ধরে গাছের আড়াল থেকে ব্যাধেরা তাঁদের কথা শুনছিল। এবার তারা দুর্যোধনকে শনাক্ত করতে পারল। মনে মনে উৎফুল্ল হয়ে উঠল তারা। এই খবরটা এখনই বৃকোদরকে দিলে বহু স্বর্ণমুদ্রা পুরস্কার পাওয়া যাবে।
