প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব : সত্যমেব জয়তে

দুঃসময়ে দ্বারাবতী

দুঃসময়ে দ্বারাবতী

দ্বারকার আকাশ সারাক্ষণ মেঘে ঢাকা আর সর্বক্ষণ প্রবল ঝড় বইছে। এই প্রবল ঝড়ে দরিদ্রদের পর্ণকুটির ভেঙে পড়ছে। তারা নিরাশ্রয় হয়ে পড়েছে। রাজপথে দেখা যেতে লাগল হাজার হাজার মূষিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা পথচারীদের কামড়ে দিচ্ছে। ভয়ে কেউ রাস্তায় বেরতে পারছে না। যানবাহন চলাচল বিপর্যস্ত হচ্ছে। অশ্ব ও গজের পদাঘাতে প্রচুর মূষিক মারা পড়ছে। তাদের মৃতদেহ পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। রাত্রিবেলা মূষিকেরা গৃহমধ্যে ঢুকে নিদ্রিত ব্যক্তিদের হাত-পায়ের নখ ও আঙুল খেয়ে ফেলছে।

প্রত্যেক বাড়িতে গৃহস্বামীরা চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করেছে। রাজা উগ্রসেন কৃষ্ণের নির্দেশে ত্রাণশিবির খুলেছেন। সেখানে কঠোর প্রহরার মধ্যে আর্ত নাগরিকদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

নাগরিকরা আরও আতঙ্কিত হয়ে উঠল যখন দেখল সারসেরা পেঁচার মতো চিৎকার করছে। ছাগলেরা শেয়ালের মতো হুক্কা হুয়া করে ডাকছে। পাণ্ডুবর্ণ রক্তপাদ কপোতরা যাদবদের ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ছে। গাভীর গর্ভে গর্দভ, অশ্বেতর খচ্চরের গর্ভে করি শিশু নকুলি বা বেজির গর্ভে মূষিক, কুকুরির গর্ভে বিড়াল ভূমিষ্ঠ হচ্ছে।

এই সময় দেখা গেল যাদবরা আর গুরুজনদের সম্মান করছে না, ছেলে-মেয়ে বৃদ্ধ বাবা-মাকে দেখছে না। তাদের সঙ্গে কলহ করছে। উৎকোচ ছাড়া কোনো রাজকর্মচারী কাজ করছে না। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে ভালোবাসছে না। নারী-পুরুষের মধ্যে অবাধ যৌনতা ক্রমশ বেড়ে উঠছে। সব কাজ ফেলে নর-নারী প্রমোদ বিহারে মত্ত হয়ে উঠেছে। নিষেধ সত্ত্বেও গোপনে মদ্যপান অব্যাহত রয়েছে। কিশোর-কিশোরীরা পর্যন্ত প্রেমের নামে যৌনাচারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। পত্নীরা তার বৈধ পতিদের সঙ্গে মিলনে আগ্রহী নয়। তারা পরকীয়ার সন্ধানী। সূর্য প্রতিদিন উদয়ের সময় মহাদ্যুতি হারিয়ে যেন কবন্ধ পরিবৃত বন্দির মতো বেশে উদিত হতে লাগলেন। অস্তাচলে যাবার সময় পশ্চিমাকাশের সেই অপূর্ব শোভাও বিদূরিত হল। রাত্রির আকাশে আর নক্ষত্র দেখা যায় না। গৃহস্থরা সন্ধ্যায় শঙ্খধ্বনি করলে রাসভরা চিৎকার করে উঠত।

কৃষ্ণ আর দেরি করতে রাজি হলেন না। তিনি যদুবংশ ধ্বংস করার জন্য তৎপর হয়ে উঠলেন। উগ্রসেনকে তাঁর প্রাসাদে ডাকলেন।

কৃষ্ণ বললেন, মাতামহ আপনি কী বুঝছেন?

উগ্রসেন বললেন, বিচলিত হবার কোনো কারণ নেই কৃষ্ণ। এটি একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় মাত্র। এটি সাময়িক। তবে প্রজারা বিপন্ন। রাজভবন থেকে ত্রাণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করেছি। গৃহ পরিত্যাগকারী ও গৃহহীনদের জন্য ত্রাণশিবির খুলেছি। বহু পরিবার ইঁদুরের কামড়ে আহত। তাদের চিকিৎসা চলছে। তবে বহু পরিবার গৃহত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন। রাজআজ্ঞা লঙ্ঘন করে মদ্যপানের জন্য এ পর্যন্ত পঞ্চত্রিংশ ব্যক্তিকে শূলদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাও মদ্যপান নির্মূল করা যাচ্ছে না। এটাই বড় আশঙ্কার কথা।

সবচেয়ে আতঙ্কের কারণ হল, বহু রমণী রাত্রে নিদ্রিত অবস্থায় স্বপ্ন দেখছেন, এক কৃষ্ণবর্ণা রমণী হাসতে হাসতে তাঁদের গলা থেকে মঙ্গলসূত্র খুলে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। পুরুষরা স্বপ্ন দেখছেন, ভয়ংকর দর্শন শকুনের দল তাঁদের ঘরের ভেতর ঢুকে তাঁদের ভক্ষণ করতে আসছে। নগর কোটাল গতকাল জানিয়েছেন কয়েক জায়গায় ভীষণাকায় রাক্ষসেরা নাগরিকদের বাড়ি ঢুকে গৃহস্থদের অলঙ্কার অপহরণ করে পালিয়েছে। কয়েক জায়গায় এই রাক্ষসেরা রথের ছত্রধ্বজ ও জয়সূচক স্মারক কবচগুলিও নিয়ে আকাশপথ দিয়ে উড়ে পালিয়ে গেছে।

কৃষ্ণ বললেন, মাতামহ, আপনাকে বলা হয়নি, আজ সকালে উঠে দেখছি আমার গরুড়ধ্বজ রথটি নেই। দাদা বলদেবের আদিত্যবর্ণ রথটিও অদৃশ্য। অথচ আমাদের রথশালা বহু প্রহরীর দ্বারা সুরক্ষিত। শুনলাম তস্করেরা আকাশপথ দিয়ে রথ দুটিকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে।

উগ্রসেন বললেন, খুবই অমঙ্গল সংবাদ। তুমি তো ত্রিকালজ্ঞ। তুমিই বলো আমরা কী করব। আমি তো সমস্ত রাজকর্মচারীকে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। দরকার হলে আরও ত্রাণশিবির খুলব। কিন্তু আমাদের পর্যাপ্ত সৈন্যবাহিনী নেই। এই সময় কোনো বহিরাক্রমণ হলে বা দস্যুদের আগমন ঘটলে আমাদের খুবই অসুবিধা হবে।

কৃষ্ণ একটু চিন্তা করে বললেন, আমি হস্তিনানগরে বন্ধু অর্জুনকে খবর পাঠাব ভাবছি। তিনি যদি কিছু সৈন্য নিয়ে আসেন। যাদবদের সামনে মহাকাল এসে উপস্থিত হয়েছে। তাদের বিনাশ অনিবার্য। কিন্তু এই নগরীতে সহস্র সহস্র নারী আছেন তাঁদের সম্মান, তাঁদের প্রতিরক্ষা আমার কাছে সর্বাগ্রে প্রয়োজনীয়। সেজন্য বীর অর্জুনের সাহায্য চাইছি। আর অর্জুন যতদিন না এসে পৌঁছয়, ততদিন নগরবাসীদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে চাই। তুমি ঘোষণা করো আর তিনদিনের মধ্যে আমরা প্রভাস তীর্থে সমস্ত নাগরিককে নিয়ে যাব। সেখানে লক্ষাধিক শিবির তৈরি করতে আমি আদেশ পাঠিয়েছি। তুমি ঘোষণা করো—প্রভাস চলো। দ্বারকা নিরাপদ নয়—এ নগরী শীঘ্র প্লাবিত হয়ে যাবে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজপ্রহরীরা ঘোষণা করতে বেরিয়ে পড়ল—আগামীকালই দ্বারকাবাসীদের গৃহত্যাগ করে প্রভাত যাত্রা করতে হবে। প্রভাস এখন নিরাপদ। নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্যই প্রভাস গমন দরকার। প্রভাসে তাঁদের জন্য শিবিরও নির্দিষ্ট হয়ে গেছে।

দ্বারকানগরীর কেন্দ্রে তীর্থযাত্রীদের জন্য নির্মিত ধর্মশালায় বসে অশ্বত্থামা ধর্মশালার কর্মাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলছিলেন।

এখন সন্ধ্যা। যদিও দ্বারকাপুরী এখন সব সময় অন্ধকারে ঢেকে থাকে। দিনেও সূর্যালোক নেই। তবু এখন আরও অন্ধকারে নগর ঢেকে গেছে। রাজপথে টিমটিম করে আলো জ্বলছে। চারিদিকে শুধু পেচক ডাকছে।

দুপুরে আসার সময় তিনি দেখেছেন, রাজপথে থিকথিক করতে ইঁদুর। যানবাহন নেই বললেই চলে। তিনি প্রহরীদের নির্দেশমতো পান্থশালাটিতে আশ্রয় দিয়েছেন।

অশ্বত্থামা দেখেছেন, রাজপথের দুধারে বিপণিগুলির অধিকাংশ বন্ধ। রাজপথে লোক চলাচল ও শকট চলাচল কম। পান্থশালাতেও দু-একজন মাত্র যাত্রী রয়েছেন। পান্থশালার পরিচালককে জিজ্ঞাসা করতে তিনি বললেন, দ্বারকানগরী এখন রাহুর কোপে পড়েছে। গত কয়েক মাস ধরে এখানে নানা অমঙ্গলসূচক ঘটনা ঘটছে। রাত্রি হলেই লোকজন দেখছেন এক মুণ্ডিত মস্তক কৃষ্ণপিঙ্গলবর্ণ এক পুরুষ বৃষ্ণিবংশীয় নাগরিকদের পল্লিগুলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তখন প্রবল বাতাস বইছে। নগরবাসী ও নগররক্ষীরা একত্র হয়ে ওই বিকটদর্শন পুরুষকে তিরবিদ্ধ করার বহু চেষ্টা করেছেন কিন্তু পারেননি।

নগরবাসীরা ভয়ে বাড়ির বার হচ্ছেন না, কোথা থেকে বিদেশি দস্যুরা এসে দোকানপাঠ ও নাগরিকদের ধনসম্পত্তি লুঠপাট করে পালাচ্ছে। গত তিনদিন আগে একদল নারীকে দস্যুরা লুঠ করে শকটে করে নিয়ে চলে গেছে। নিয়মিত বাজার বসছে না। কারণ গ্রাম থেকে আনাজপাতি নিয়ে আসতে গ্রামবাসী ভয় পাচ্ছে। কর্মাধ্যক্ষ অশ্বত্থামাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি প্রভাস তীর্থে যাবেন?

অশ্বত্থামা ইতস্তত করে বললেন, আমার এই নগরীতে কিছু কাজ সেরে প্রভাস তীর্থে যাবার ইচ্ছা আছে।

কর্মাধ্যক্ষ বললেন, আগামিকাল কৃষ্ণ দ্বারকাবাসীদের প্রভাসে নিয়ে যাবেন। দ্বারকায় আর কোনো নিরাপত্তা নেই। আপনি নাগরিকদের সঙ্গে যেতে পারেন। দ্বারকায় দস্যুদের আক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে কৃষ্ণ আশঙ্কা করছেন। তাই তিনি অর্জুনের কাছে অতিরিক্ত সৈন্য চেয়েছেন।

অশ্বত্থামা একটু অবাক হয়ে কর্মাধ্যক্ষকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা শুনেছি কৃষ্ণ অর্জুনকে সাহায্য করে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পাণ্ডবদের জিতিয়েছেন। এখন অর্জুন কৃষ্ণকে সাহায্য করতে আসছেন। কেন কৃষ্ণের সৈন্যরা কি এতই অপারগ?

কর্মাধ্যক্ষ বললেন, আর বলবেন না, দ্বারকা এখন দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। সমাজের সর্বত্র দুর্নীতি ও কর্মবিমুখতা। জানেন, দস্যুরা এসে লুঠপাট করছে রাজসৈন্যরা দাঁড়িয়ে দেখছে। কৃষ্ণ আর তাদের ওপর ভরসা করতে পারছেন না।

ওঁদের কথা শুনে ধর্মশালায় যে আরও তিন-চারজন যাত্রী ছিল, তারা বলল, আমরা বিদেশি, রাস্তায় বেরলেই রক্ষীবাহিনীর কেউ আমাদের দেখে ফেললেই এসে নানা জেরা করে। তারপর বলে স্বর্ণমুদ্রা দাও, না হলে তোমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে কারাগারে পুরব। শহরে যে সব ঘটনা ঘটছে তার সঙ্গে বিদেশিদের যোগাযোগ আছে। দস্যুরা সবাই বহিরাগত। তুমি যে তাদের চর নও তা কে বলবে। আমরা কোশল থেকে আসছি প্রভাস তীর্থে যাব। পথে দ্বারকা দর্শনের ইচ্ছা ছিল। কী করে জানব শ্রীকৃষ্ণের রাজ্যে এসে এই ঝামেলায় পড়ব। এখন আমরা বেশ সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছি। ফিরে যাব কি না ভাবছি।

কর্মাধ্যক্ষ বললেন, শ্রীকৃষ্ণ আর একা কী করবেন। রাজা উগ্রসেনই বা কতখানি সামাল দেবেন? আসলে কৃষ্ণের অনুচর অক্রূর, উদ্ভব, কৃতবর্মা, সাত্যকি, গদ, বভ্রু, এই লোকগুলি নীচাশয়, দুর্নীতিপরায়ণ। এরা যেমন মদ্যপ তেমনি উৎকোচলোভী। এরা প্রত্যেকে কি কম টাকা করেছে? সমস্ত রাজকর্মচারী দুর্নীতি, ব্যাধিগ্রস্ত। কৃষ্ণ বা উগ্রসেন তাঁরা তো নিজে কিছু করেন না, এদের দিয়ে করান। এরা সবাই কৃষ্ণের জ্ঞাতি। আর কৃষ্ণের ছেলেগুলোও অপদার্থ। এক ছেলে শাম্বর জন্যই তো এমন দুরবস্থা।

—কেন শাম্ব কী করলেন?

কর্মাধ্যক্ষ বললেন, সে এক দুঃখের কাহিনি। আজ থেকে ছ’মাস আগে মুনি বিশ্বামিত্র, কণ্ব, ও নারদ দ্বারকা ভ্রমণে এসেছিলেন। তখন যাদববংশীয় সারণ ও কয়েকজন মিলে শাম্বকে গর্ভবতী স্ত্রীলোক সাজিয়ে তাকে বিশ্বামিত্রের কাছে নিয়ে গিয়ে বলে ‘ঋষিগণ, ইনি পুত্রাভিলাষী অমিততেজা বভ্রুর স্ত্রী। বলুন তো ইনি কি সন্তান প্রসব করবেন—পুত্র না কন্যা?” ঋষিদের এইভাবে ঠাট্টা করায় তাঁরা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে তখন বলেন, ইনি একটি লৌহময় মুঘল প্রসব করবেন। রাম ও কৃষ্ণ ছাড়া এই মুষল সমগ্র যদুবংশকে ধ্বংস করবে।’ তাঁরা ভবিষ্যদ্বাণী করে যান, বলরাম দেহত্যাগ করবেন। কৃষ্ণকেও একটি ব্যাধ হত্যা করবে।

অশ্বথামা বললেন, বলেন কী, কৃষ্ণও নিহত হবেন? কবে কিছু বলতে পারেন? আর কতদিন তিনি জীবিত আছেন বলতে পারেন?

—কেন? কৃষ্ণের নিধন সম্পর্কে আপনি এত আগ্রহী কেন? আমরা কিন্তু মনে করি কৃষ্ণ দক্ষ রাজ্যশাসক। তাঁর রাজ্যে আমরা ভালোই ছিলাম। তিনি বারবার বহিঃশত্রুদের হাত থেকে রাজ্যকে রক্ষা করেছেন। তিনি হস্তিনাপুরে ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। কৃষ্ণের আত্মীয় ও পুত্ররাই যত নষ্টের মূল। তারাই রাজ্যকে অরাজক করে তুলেছে। কৃষ্ণের বয়স এখন ১০৬ বছর। তাঁর পুত্ররা উপযুক্ত না হলে আর কতদিন তাঁর পক্ষে রাজ্য পরিচালনা সম্ভব? তাই তিনি অর্জুনের সাহায্য চেয়েছেন।

অশ্বত্থামা বললেন, অর্জুনের বয়সও তো ১০৬। দুজনে ছ’মাসের ছোট-বড়। আমি তো হস্তিনাপুরবাসী। আমি জানি কৃষ্ণকে ধৃতরাষ্ট্রপত্নী গান্ধারী শাপ দিয়েছিলেন উনি ‘হত পুত্র, হত জ্ঞাতি, হত বান্ধব’ হয়ে শোকে বিপর্যস্ত হবেন।

কর্মাধ্যক্ষ বললেন, এই শাপের কথা আমি জানি না। কৃষ্ণ চলে যাওয়া মানে দ্বারকাবাসীর ক্ষতি। কিন্তু শাপ তো অপ্রতিরোধ্য হয় বলে শুনেছি। ঋষিদের শাপও এর সঙ্গে বেশ মিলে যাচ্ছে।

অশ্বত্থামা বললেন, আমি কৃষ্ণের সঙ্গে কীভাবে দেখা করতে পারি একটু বলবেন?

—আপনি কৃষ্ণের সঙ্গে দেখা করবেন কেন? ধর্মাধ্যক্ষের প্রশ্ন।

—আমি সন্ন্যাসী। তাঁকে কিছু উপদেশ দিতাম। তাতে তাঁর ভালো হত। তিনি দীর্ঘ জীবন লাভ করতে পারতেন।

—তিনি দ্বারকাবাসীর প্রভাস যাত্রা নিয়ে ব্যস্ত বলে শুনেছি।

অশ্বত্থামা বললেন, দেখি আমি আগামিকাল নিজেই চেষ্টা করব। সন্ন্যাসী ও ব্রাহ্মণকে আমি শুনেছি তিনি সাক্ষাৎ দেন।

—আপনি যদি চান, সাবধানে রাস্তায় যাবেন। দস্যুদের আক্রমণ যেমন আছে, তেমনি রাস্তা এখন বিষাক্ত ইঁদুরে ভর্তি হয়ে আছে। আমাদের ধর্মশালার সমস্ত জানালা বন্ধ করে রেখেছি। তাছাড়া রাস্তার কোনো খাবার খাবেন না। কেউ দিলেও না। সমস্ত খাবারে কৃমি থিকথিক করছে। এমনকী, আমাদের রন্ধনশালায় প্রস্তুত খাদ্যেও বহু সতর্কতা সত্ত্বেও কৃমির প্রাদুর্ভাব দূর করতে পারছি না। এগুলি ঋষিদের অভিশাপের ফল।

অশ্বত্থামা বললেন, আচ্ছা কৃষ্ণপুত্র শাম্ব কি সত্যিই মুষল প্রসব করেছিলেন?

কর্মাধ্যক্ষ বললেন, হ্যাঁ, শাম্ব মুষল প্রসব করেন। রাজা উগ্রসেনকে এই সংবাদ জানানো হলে তিনি ভৃত্যদের দিয়ে মুষলটি চূর্ণ করে তার ভগ্নাবশেষ সমুদ্রে নিক্ষেপ করেন। কী ভয়ানক ঘটনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *