প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব : সত্যমেব জয়তে

কুরুক্ষেত্রে ধৃতরাষ্ট্র ও গান্ধারী

কুরুক্ষেত্রে ধৃতরাষ্ট্র ও গান্ধারী

রাজা ধৃতরাষ্ট্র ও গান্ধারী তাঁর পুত্রবধূগণ ও অসংখ্য বিধবা পুরকামিনীদের সঙ্গে নিয়ে হস্তিনাপুর থেকে ভাগীরথীর তীরে যাত্রা করলেন। উদ্দেশ্য কুরুক্ষেত্রে গিয়ে মৃত পুত্ৰ ও আত্মীয়স্বজনদের শেষকৃত্য করা।

ধৃতরাষ্ট্র সারাটা পথ বিলাপ করতে করতে আসছেন। বলছেন, হায় ধর্মরাজ, কোথায় গেল তোমার ধর্ম, কোথায় গেল তোমার অনৃশংসতা? তুমি কীভাবে তোমার ভ্রাতা ও গুরুপুত্রদের বিনাশ করতে পারলে? মহাবীর ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ, জয়দ্রথকে সংহার করে কী তোমার মন একটুও ব্যথায় ভরে উঠছে না? এখন তো মহাবীর অভিমন্যু ও দ্রৌপদীর পঞ্চপুত্র, এবং গুরু ও ভ্রাতৃবিরহে তোমার রাজ্যলাভ নিতান্ত অকিঞ্চিৎকর বলে মনে হবে।

এদিকে ধৃতরাষ্ট্র আসছেন শুনে কৃষ্ণ ও পঞ্চপাণ্ডব তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। শ্রীকৃষ্ণ আগে থেকে সতর্ক ছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল ভীমের প্রতি ধৃতরাষ্ট্রের প্রচণ্ড রাগ। কাজেই তিনি ভীমকে যুধিষ্ঠিরের কাছে যেতে বারণ করলেন। একটি লৌহ নির্মিত নকল ভীম তৈরি করে রাখলেন।

ধৃতরাষ্ট্র শুনলেন পঞ্চপাণ্ডব তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। যুধিষ্ঠির তাঁকে প্রণাম করতেই তিনি যুধিষ্ঠিরকে সৌজন্যবশত আলিঙ্গন করলেন। তাঁকে আশীর্বাদ করে বললেন, ভীম কোথায়? আমি বীর বৃকোদরকে আলিঙ্গন করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।

ভীম জানতেন না কৃষ্ণ একটি লৌহভীম তৈরি করে রেখে দিয়েছেন। ভীম সরল মনে ‘এই যে আমি’ বলে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কৃষ্ণ তাঁকে বাধা দিয়ে লৌহভীমটিকে এগিয়ে দিলেন। ধৃতরাষ্ট্রের পেশীর জোর ওই বৃদ্ধ বয়সেও বলশালী, শত হস্তীর সমান ছিল। তিনি লৌহ ভীমটিকে দু’হাতে চেপে মুহূর্তের মধ্যে চূর্ণ করে ফেললেন। তাঁর হাত লৌহ চূর্ণের আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে গেল। রক্তমাখা দেহে তিনি ভূতলে লুটিয়ে পড়লেন। সঞ্জয় ও কয়েকজন মিলে তাঁকে মাটি থেকে তুলে একটি আসনে বসালেন।

ধৃতরাষ্ট্র ততক্ষণে সম্বিৎ ফিরে পেয়েছেন। আসলে ধৃতরাষ্ট্র মানুষটি ছিলেন আবেগতাড়িত, স্নেহান্ধ, একদেশদর্শী কিন্তু অন্তরের দিক থেকে নীতিজ্ঞান বর্জিত নন। আসলে তিনি ছিলেন দ্বিধাগ্রস্ত ও দ্বিচারী ব্যক্তিত্ব। এমন ব্যক্তিত্বের কপালে সুখ দুর্লভ হয়।

পুত্রহন্তা ভীমকে হত্যা করেছেন বলে তাঁর মন উৎফুল্ল হল, কিন্তু পরক্ষণেই তাঁর অনুতাপ এল। তিনি নিজ হাতে পুত্রসম ভ্রাতুষ্পুত্রকে হত্যা করলেন। তিনি ‘হা ভীম’ বলে রোদন করতে লাগলেন।

বাসুদেব তখন বললেন, মহারাজ, শোক করবেন না। আপনি একটি নকল লৌহভীম চূর্ণ করেছেন। আসল ভীম জীবিত। আমি আশঙ্কা করেছিলাম আপনি ক্রোধের বশে এমন কিছু করে বসতে পারেন, তাই একটি নকল ভীম তৈরি করে রেখেছিলাম। আপনি সেটিই চূর্ণ করেছেন। আপনার মন পুত্রশোকে ধর্মভাবশূন্য হয়েছে। এইজন্যই আপনি ভীমকে বিনাশ করতে চেয়েছিলেন। দেখুন আপনার পুত্রেরা কদাচ শান্তি চাননি। আমরা শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করে কী জন্য সফল হতে পারলাম না বলুন। শান্তি স্থাপিত হলে আপনার পুত্রদের তো মৃত্যু হত না। মহারাজ, আপনি তো বেদ, পুরাণ, রাজধর্ম — ত্রিবিধ শাস্ত্ৰ পড়েছেন। তাহলে কী জন্য এখন ক্রোধ প্রকাশ করছেন? আমি, ভীষ্ম, দ্রোণাচার্য, বিদুর সবাই মিলে আপনাকে বলেছিলাম যে পাণ্ডবগণ সমধিক বলবীর্যশালী, তাদের সঙ্গে সন্ধি স্থাপনই অবশ্য কর্তব্য।

ধৃতরাষ্ট্র তাঁর ভুল বুঝতে পেরে বললেন, বেশ, আমি স্বীকার করছি অত্যধিক অপত্য স্নেহে সে সময় আমার হিতাহিত জ্ঞান ছিল না। আপনি লৌহ ভীম প্রস্তুত করে আমাকে পুত্রহত্যার পাপ থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছেন।

এরপর বাসুদেব পাণ্ডবদের নিয়ে গান্ধারীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। গান্ধারীও চাইছিলেন যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে দেখা হলে তিনি তাঁকে অভিশাপ দেবেন। বাসুদেব সেটি বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি ভাগীরথীর নির্মল জলে স্নান করে গান্ধারীর কাছে গিয়ে বললেন, বৎসে, তুমি আমার কথা শোনো। পাণ্ডবদের প্রতি কোপ পরিত্যাগ করো। তুমিই তো দুর্যোধনকে বলেছিলে, যেখানে ধর্ম সেখানেই জয়। হে কল্যাণি, তুমি সমুদয় প্রাণীর হিত চেষ্টায় নিরত। পাণ্ডবরা জয়লাভ করে তোমার বাক্যের সত্যতাই প্রমাণ করেছে। পূর্বে তোমার অসাধারণ ক্ষমাগুণ ছিল। এখন তুমি কি জন্য সেই গুণ পরিত্যাগ করেছ? অধর্মকে পরাজিত করাই তোমার কর্তব্য। তুমি তোমার ধর্মের কথা মনে করে ক্রোধ সম্বরণ করো।

গান্ধারী বললেন, ভগবন, পাণ্ডবদের প্রতি আমার ঈর্ষা নেই। ওদের বিনষ্ট করাও আমার অভিপ্রায় নয়। কিন্তু পুত্রশোকে আমার অন্তঃকরণ অত্যন্ত বিহ্বল হয়ে উঠেছে। কুত্তী যেমন পাণ্ডবদের রক্ষা করেন তেমনি আমার ও রাজা ধৃতরাষ্ট্রেরও সন্তানদের রক্ষা করা কর্তব্য। দুর্মতি দুর্যোধন, শকুনি, কর্ণ ও দুঃশাসনের অপরাধেই কুরুকুল ধ্বংস হয়েছে। যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল, সহদেবের কারও অপরাধ নেই। আমি কৌরবদের জন্য আক্ষেপ করি না। তাদের দর্পেই তারা হত হয়েছে। কিন্তু একটা জিনিস আমি মানতে পারছি না। ভীম দুর্যোধনকে নাভির নীচে আঘাত করে নিহত করেছে। এটি বাসুদেবের সাক্ষাতেই ঘটেছে। বাসুদেবের অধর্মই আমাকে কোপানলে দগ্ধ করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের প্রাণরক্ষার জন্য যুদ্ধের ধর্ম পরিত্যাগ করা কী কোনো বীরপুরুষের উচিত?

ভীমসেন গান্ধারীর কাছে ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে বললেন, মা, আমি ভীমসেন। আমি আত্মরক্ষার জন্য যে কাজ করেছি তা ধর্ম হোক, অধর্ম হোক, আপনি আমায় ক্ষমা করুন। আমি অধর্ম করেই আপনার ছেলেকে হত্যা করেছি। ধর্মযুদ্ধে তাকে সংহার করা খুব কঠিন ছিল। সে আমাকে বিনাশ করতে পারলেই রাজ্যলাভ করবে এই আশঙ্কা করে আমি অধর্মের পথে তাকে বিনাশ করেছি। কিন্তু আপনার পুত্রের অধর্ম আচরণের কথাও একবার ভাবুন। সে আমাদের সঙ্গে বারবার শঠতা করেছে। রজস্বলা দ্রৌপদীকে সভামধ্যে টেনে এনে বিবিধ দুর্বাক্য প্রয়োগ করেছে। তাকে বধ না করলে এই সসাগরা বসুন্ধরা আমরা কিছুতেই আয়ত্ত করতে পারতাম না। দুরাচারী দুর্যোধন সভামধ্যে দ্রৌপদীকে তার উরু দেখিয়েছিল। আমি সেজন্যই এই অধর্ম কাজ করেছি। ধর্মরাজ তাঁর রাজ্য আবার ফিরে পেয়েছেন। আমার ক্রোধও দূর হয়েছে।

গান্ধারী বললেন, ভীম, তুমি শুধু নির্যাতনের জন্য অধর্ম করে ঠিক কাজ করোনি। তুমি দুঃশাসনের রক্তপান করেছিলে। এটিও ভীষণ রকমের নিষ্ঠুর ও গর্হিত কাজ।

ভীম বললেন, রুধির পান গর্হিত কাজ। কিন্তু আমি দুঃশাসনের রুধির পান করিনি। আমি শুধু মুখে ঠেকিয়েছিলাম মাত্র। তা আমার মুখে প্রবেশ করেনি। আমি শুধু ভয় দেখানোর জন্য অমনটি করেছিলাম। দুঃশাসন দ্রৌপদীর চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে তাকে সভামধ্যে নিয়ে এসেছিল। আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম দুঃশাসনের রুধিরে তার কেশ ধৌত করব। আমি সে প্রতিজ্ঞা পালন না করলে আমাকে যাবজ্জীবন ক্ষত্রিয়ধর্ম থেকে ভ্রষ্ট থাকতে হত।

গান্ধারী বললেন, আমার একশত পুত্রের মধ্যে যে একটু কম অপরাধ করেছিল তাকেও তো তুমি জীবিত রাখতে পারতে। আমার শত পুত্রকে তুমি নিধন করলে কেন?

গান্ধারী এই কথা বলে জিজ্ঞাসা করলেন, ধর্মরাজ কোথায়?

যুধিষ্ঠির নতমস্তকে গান্ধারীর সমানে উপস্থিত হয়ে বললেন, দেবী, আমি আপনার পুত্রহন্তা, আপনি আমায় অভিশাপ দিন। আমি আপনার অভিশাপ পাবার উপযুক্ত পাত্র। আর্যে, আমি যখন সুহৃদদের বিনষ্ট করেছি, আমার জীবনে ও ধনে আর প্রয়োজন নেই। এই কথা বলে ধর্মরাজ অবনত হয়ে গান্ধারীর চরণ স্পর্শ করলেন।

গান্ধারী কোনো কথা বললেন না। তিনি আর অভিশাপ দিতে পারলেন না। যুধিষ্ঠিরের হাতের একটি আঙুল তাঁর চোখের ঠুলির ফাঁক দিয়ে দৃষ্টিগোচর হল। তাঁর ক্রোধ ধীরে ধীরে প্রশমিত হল।

.

গান্ধারী বহুকষ্টে পুত্রহন্তাদের প্রতি তাঁর ক্রোধ দমন করেছিলেন। সস্নেহে আবার বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন একে একে পঞ্চপাণ্ডবদের। কিন্তু কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধভূমির বীভৎস দৃশ্য দেখে কৌরব নরীদের সঙ্গে সমস্বরে বিলাপ করতে লাগলেন গান্ধারী।

.

কুরুক্ষেত্রের শ্মশানভূমিতে

যুদ্ধ সমাপ্ত হবার তিনদিন পরে কুরুক্ষেত্রের মহাশ্মশানের যে বর্ণনা বৈশম্পায়ন দিয়েছেন তা আধুনিক কালের যে কোনো যুদ্ধক্ষেত্রের বীভৎসতাকে ম্লান করে দেবে। সেকালে যুদ্ধে মৃতদের দেহের সৎকারের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। নরখাদক, শ্বাপদকুল ও চিল-শকুন নরমাংস খেয়ে মৃতদেহ সাফ করে দিত।

ধৃতরাষ্ট্র ও গান্ধারী কুরুক্ষেত্রের ধ্বংসলীলা দেখবার জন্য দিব্যচক্ষু পেয়েছিলেন। সেই দিব্যচক্ষু দিয়ে গান্ধারী দেখলেন, কারও ভাই, কারও পুত্র, কারও পিতার মৃতদেহ মাটিতে পড়ে আছে। আর শৃগাল, বক, কাক, ভূত, পিশাচ ও রাক্ষসেরা সেই মৃতদেহের মাংস ভক্ষণ করছে। নারীরা সারা কুরুক্ষেত্র জুড়ে তাদের আপনজনদের দেহ শনাক্ত করছে আর হাহাকার করছে। কেউ মাটিতে মৃতদেহের পাশে শুয়ে পড়েছে।

গান্ধারীর সঙ্গে পাণ্ডবগণ ও বাসুদেব ছিলেন। গান্ধারী যেদিকে তাকাচ্ছেন সেদিকে বোরুদ্যমানা নারীদের ক্রন্দনধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত। গান্ধারী বাসুদেবকে দেখালেন, ওই দেখো, পুত্রহীনা বীর জননী ও পতিহীনা পত্নীদের ভিড়ে কুরুক্ষেত্র এখন পরিপূর্ণ। তেজস্বী পুরুষ-ব্যাঘ্র ভীষ্ম, কর্ণ, অভিমন্যু, দ্রোণ, দ্রুপদ, শল্য প্রাণত্যাগ করে তখনও প্রজ্বলিত অগ্নিশিখার মতো দীপ্যমান হয়ে রয়েছেন। ওই দেখো, সমরভূমি জুড়ে পড়ে রয়েছে মহাবীরদের কাঞ্চনময় কবচ, দিব্য অঙ্গদ, কেয়ূর, মালা, শক্তি পরিখ, সুতীক্ষ্ণ খঙ্গ, শর ও শরাসন।

গান্ধারী বলছেন, হে মধুসূদন, এই সমরভূমির অবস্থা দেখে আমার হৃদয় শোকানলে দগ্ধ হচ্ছে। সুপর্ণ ও গৃধ্রগণ (কাক ও শকুনেরা) শোণিত সিক্ত সহস্র সহস্র বীরদের কীভাবে ভক্ষণ করছে দেখো। মহাবীর জয়দ্রথ, কর্ণ, দ্রোণ, ভীষ্ম ও অভিমন্যুর মৃত্যুর কথা ভাবলে কার না হৃদয় বিদীর্ণ হয়? রাক্ষসেরা অনেক অস্ত্রধারী অসংখ্য মৃত যোদ্ধাকে জীবিত মনে করে তাদের ভক্ষণ করতে সাহস করছে না। কিন্তু তাদের ঘিরে রয়েছে। ওই দেখো, কৌরববধূরা উন্মাদিনীর মতো ইতস্তত ছুটে বেড়াচ্ছে তাদের আপনজনের দেহ সন্ধানে। তাদের মনোহর মুখাবয়ব শুষ্ক বিদীর্ণ, তাদের চোখ দিয়ে নামছে অবিরল অশ্রুধারা। কেউ উচ্চৈস্বরে বিলাপ করছে। তাদের মুখগুলি ক্রোধে রক্তবর্ণ, দেখে মনে হয় যেন অসংখ্য রক্তকমল ফুটে আছে।

গান্ধারী দেখলেন স্থানে স্থানে স্তূপাকার হয়ে আছে নিহত বীরদের ছিন্নহাত, ছিন্নমস্তক। কোথাও বীরগণের মস্তকশূন্য দেহ। দেহ শনাক্ত করার জন্য কামিনীরা কেউ কেউ ছিন্নমস্তক নিয়ে এক একটি মস্তকহীন দেহের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে তিনি তার আপনজন কি না। কেউ ছিন্নবাহু, ছিন্নউরু ও ছিন্নচরণ যুগল, ছিন্নভিন্ন দেহে সংযোজিত করে তা দেখে বারবার মূর্ছিত হয়ে পড়ছে। ছিন্নমস্তকগুলি গড়াগড়ি খাচ্ছে। শোণিত ও কদমে রণভূমি দুর্গম হয়ে উঠেছে।

গান্ধারী বিলাপ করতে করতে বললেন, পুত্র, পৌত্র ও ভ্রাতাদের এই মৃতদেহও আমাকে দেখতে হল। আমি আগে নিশ্চয়ই ঘোরতর পাপ করেছিলাম। এ তারই শাস্তি।

এই বিলাপের মধ্যেই গান্ধারী দ্বৈপায়ন তীরে দুর্যোধনের মৃতদেহ দেখলেন। আর তা দেখেই তিনি ছিন্ন কদলিবৃক্ষের মতো ধরাতলে পড়ে গেলেন।

.

জ্ঞানলাভের পর গান্ধারী রুধিরসিক্ত কলেবর পুত্র দুর্যোধনের দেহকে আলিঙ্গন করে ‘হা পুত্র’ ‘হা পুত্র’ বলে বিলাপ করতে লাগলেন। তখন বাসুদেবকে সম্বোধন করে গান্ধারী বললেন, কেশব, দুর্যোধন যখন আমার আশীর্বাদ নিতে এসেছিল, আমি তাকে বলেছিলাম যেখানে ধর্ম সেখানেই জয়। তুমি যখন যুদ্ধে পরাজুখ হওনি তখন নিশ্চয়ই দেবতার মতো স্বর্গলোক প্রাপ্ত হবে। হে মাধব, দুর্যোধন যুদ্ধে নিহত হয়েছে বলে আমি বিন্দুমাত্র শোক প্রকাশ করিনি। শুধু বন্ধু-বান্ধবহীন রাজা ধৃতরাষ্ট্রের জন্যই আমি শোক করছি। এই দেখো অস্ত্রশস্ত্র বিশারদ দুর্যোধন কেমন বীরশয্যায় শুয়ে আছে। যে দুর্যোধন ক্ষত্রিয়দের অগ্রগণ্য ছিল, আজ সে ধূলিশয্যায়। তবু এটি তার বীরজনোচিত শয্যা। আহা, তাকে রমণীগণ যেমন বেষ্টন করে থাকত, এখন শৃগালেরা তাকে বেষ্টন করে আছে। পণ্ডিতগণ একদা তাকে ঘিরে রাখতেন, এখন তাকে ঘিরে শকুনেরা। যার একাদশ অক্ষৌহিণী সেনা ছিল, যে তেরো বছর নিষ্কণ্টকে রাজ্যভোগ করেছিল আজ সেই ধনুর্বর নিজের দুর্নীতির জন্য রুধির অঙ্কিত কলেবরে ভূতলে শয়ন করে আছে। আর আমার জীবনে প্রয়োজন কী? হায়, দুর্যোধনসহ সমবেত পুত্রদের নিহত দেখে আমার হৃদয় কেন শতধা বিদীর্ণ হচ্ছে না? মাধব, এই যে আমার শত পুত্রকে নিহত দেখছ, ভীমসেনই প্রায় সকলকে গদাঘাতে নিহত করেছে। আমার পুত্রবধূরা আলুলায়িত বেশে রণস্থলে ছোটাছুটি করছে। এই রুধিরসিক্ত রণভূমিতে কাক ও শকুনের মধ্যে পরিভ্রমণ করছে। সর্বাঙ্গ সুন্দরী, ক্ষীণকটী দুর্যোধনমহিষী এই অসংখ্য মৃতদেহ দেখে দুঃখার্ত হয়ে মাটিতে পড়ে রয়েছেন। প্রৌঢ় ও বৃদ্ধা নারীদের ক্রন্দন শোনো। দেখো রমণীদের কেউ স্বামীর ছিন্নমস্তক কোলে করে বসে আছে। কেউ স্বামীর দেহ না পেয়ে তাদের ভগ্ন রথের অংশ। কেউ রথের অশ্বের মৃতদেহ দুহাতে চেপে বসে আছে। আজ আমার কুলবধূ অন্তঃপুরিকা পুত্রবধূগণ প্রকাশ্যে সাধারণ লোকের মাঝে এসে দাঁড়িয়েছে। মহাবীর দুঃশাসন সমরস্থলে শয়ান আছেন। সে সূতপুত্র কর্ণের প্ররোচনায় সভামধ্যে দ্রৌপদীকে অপমান করেছিল। বলেছিল, ‘পাঞ্চালী, এখন তুমি আমাদের দাসী। অতএব নকুল-সহদেবের সঙ্গে এখনই আমাদের গৃহে প্রবেশ করো।’ আমি ওই সময় সব ঘটনা জানতে পেরে দুর্যোধনকে বলেছিলাম, তুমি তোমার মাতুল শকুনিকে পরিত্যাগ করো। পাণ্ডবদের সঙ্গে সন্ধি করো। ভীমসেন তোমার বাক্য শুনে ক্রুদ্ধ হস্তীর মতো রেগে রয়েছেন, তা কি তুমি বুঝতে পারছ না? দুরাত্মা দুর্যোধন পাণ্ডবরা ক্রুদ্ধ জেনেও সর্প যেমন বৃষভের প্রতি, বলদের প্রতি বিষ পরিত্যাগ করে, তেমনি তাদের অতি কুবাক্য প্রয়োগ করেছিল। সেই অপরাধেই কুরুকুল ধ্বংস হল।

গান্ধারী কৃষ্ণকে একে একে কৌরববীরদের মৃতদেহ দেখাতে লাগলেন। শুধু কৌরবদের নয়, তিনি অভিমন্যুর মৃতদেহ দেখালেন। দেখালেন বিরাটনন্দিনী উত্তরা অভিমন্যুর মৃতদেহের পাশে বসে তার কোমল করপল্লব দিয়ে গাত্র মার্জনা করে দিচ্ছেন। তাঁর দেহ থেকে বর্ম খুলে তাঁর পদ্মফুলের মতো মুখ বার করে অপলক নয়নে তাকে দেখছেন আর কৃষ্ণকে উদ্দেশ করে বলছেন, হে পদ্মপলাশ লোচন! আমার স্বামীর চোখও তোমার চোখের ম্যায় সুদীর্ঘ, ওঁর রূপও তোমার মতো মনোহর, এই বীর বলবীর্যে তোমারই সমান, তবে কেন তার এভাবে মৃত্যু হল? এখন তিনি নিহত হয়ে সমরশয্যায় শয়ান রয়েছেন।*

[* অভিমন্যু শ্রীকৃষ্ণের ভাগিনেয়। তিনি মাতুলের মতোই রূপ ও গুণের অধিকারী হয়েছিলেন।]

গান্ধারী একে একে কর্ণ ও জয়দ্রথের মৃতদেহ দেখলেন। দেখলেন ভীমের হাতে নিহত কৌরবপক্ষীয় অবস্তিরাজকে শকুনিরা ভক্ষণ করছে। প্রতীপপুত্র মহাধনুর্ধর বাহ্লীক ভল্ল দ্বারা নিহত হয়ে পড়ে রয়েছেন। শৃগাল ও কুকুরেরা তাঁর মৃতদেহ ভক্ষণ করছে। মহাবীর জয়দ্রথের দেহ শিয়াল ও শকুনেরা চিৎকার করতে করতে ঠোকরাচ্ছে। ধৃতরাষ্ট্র গান্ধারীর একমাত্র কন্যা দুঃশলাও কুরুক্ষেত্রে এসে উন্মাদিনীর মতো স্বামী সিন্ধুরাজের মৃতদেহ খুঁজছেন। কিন্তু তিনি পতির দেহ পেয়েছেন, মস্তকটি পাননি। বিধবা কন্যার দুঃখে গান্ধারী শোক বিমূঢ়

শল্য, দ্রোণাচার্য, শকুনি, সকলের মৃতদেহ গান্ধারী কৃষ্ণকে দেখালেন। ভীষ্ম তখনও শরশয্যায় জীবিত। গান্ধারী দেখালেন কম্বোজ দেশীয় রাজার মৃতদেহ ঘিরে তাঁর রাজমহিষী ‘আমার কী গতি হবে’ বলে রোদন করছেন। মগধদেশীয় রমণীরা মৃত মগধরাজকে ঘিরে রোদন করছেন। চেদিরাজ ধৃষ্টকেতু যুদ্ধক্ষেত্রে শয়ান। শকুন ও কাকেরা তাঁর দেহ ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছে। পাঞ্চালরাজের পুত্রবধূ এসে পাঞ্চালরাজের দেহ শনাক্ত করে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

গান্ধারী এই মৃত্যু উপত্যকায় দাঁড়িয়ে লক্ষ লক্ষ বীরের মৃতদেহ দেখিয়ে, সহস্ৰ সহস্ৰ বিধবা পুত্রহারা নারীর ক্রন্দনধ্বনি কৃষ্ণকে শুনিয়ে বললেন, কেশব, আমি তপ প্রভাবে তোমাকে অভিশাপ দিচ্ছি তুমি যেমন পাণ্ডব ও কৌরবদের জ্ঞাতিনাশে উপেক্ষা প্ৰদৰ্শন করেছ তেমনি তুমি তোমার আপন জ্ঞাতিদের বিনষ্ট করবে। আজ থেকে ছত্রিশ বছর পরে তুমি জ্ঞাতি-পুত্রহীন হয়ে বনবাসী হবে। আর সেখানে কুৎসিতভাবে তোমার মৃত্যু হবে। তোমার কুলরমণীরাও পতিহীন-পুত্রহীন হয়ে ঠিক এইরকম বিলাপ করবে।

শ্রীকৃষ্ণ গান্ধারীর এই অভিশাপ শুনে বিচলিত হলেন না। অকম্পিত দীপশিখার মতো তিনি নতমস্তকে সব শুনে একটু হাসলেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, দেবী, আমি ছাড়া যাদবদের বিনাশ করতে পারে এমন কেউ নেই। আমি যে যদুকুল ধ্বংস করব, তা আমি জানি। যাদবরা মনুষ্য বা দানবের বধ্য নয়। সুতরাং তারা আত্মঘাতী যুদ্ধে ধ্বংস হবে।

গান্ধারী কৃষ্ণের প্রতি অভিশাপ বাক্য উচ্চারণ করে মাটিতে পড়ে গেলেন। কৃষ্ণ তাঁকে বললেন, রাজ্ঞি, আপনি অবিলম্বে ভূমিশয্যা ছেড়ে উঠুন। আপনার পুত্র দুর্যোধনের অপরাধেই এই অসংখ্য বীরেরা নিহত হয়েছেন। দুর্যোধন অতি দুরাত্মা, পরশ্রীকাতর, আত্মাভিমানী (অহংকারী), নিষ্ঠুর ও গুরুজনের অবাধ্য ছিল। আপনি তার দুষ্কৃত কার্যে সাধুবাদ প্রদান করতেন। (তার পাপ কার্যগুলির প্রশংসা করতেন) এখন নিজের দোষ ঢাকার জন্য কেন আমার ওপর দোষারোপ করছেন? দুঃখ পরিত্যাগ করুন। গতস্য শোচনা নাস্তি। অতীত বিষয়ের জন্য শোক করলে দুঃখ দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। ক্ষত্রিয় নারীরা সমরে স্বামীদের মৃত্যু হবে মনে করেই পুত্র ধারণ করে থাকেন।

এরপর মহারাজ ধৃতরাষ্ট্রের অনুরোধে তখনও শকুনি ও কুকুরদের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া কয়েক লক্ষ মৃতদেহের দাহ ও প্রেত কার্য সমাধা হল। অগুরু চন্দন, কুমকুম, ঘৃত, তৈল, গন্ধ, ক্ষৌমবস্ত্র, মহামূল্য কাঠ দিয়ে ও ভগ্ন রথের কাঠ, বিভিন্ন পরিত্যক্ত অস্ত্রের কাঠ দিয়ে হাজার হাজার চিতা প্রস্তুত করা হল। বিদেশ থেকে আগত সৈন্যদের একসঙ্গে একটি চিতায় নিক্ষেপ করে তাদের দেহ ভস্মীভূত করা হল।

শেষ হয়ে গেল এতাবৎকালের ভারতবর্ষের এক মহাযুদ্ধের স্মৃতি। বিলীন হয়ে গেল একটি প্রজন্ম।

.

যুধিষ্ঠিরের অনুশোচনা

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি তবু একজন ভুলতে পারছিলেন না। তিনি যুধিষ্ঠির। মহর্ষি বেদব্যাসকে তিনি বললেন, হে মহাত্মন, বালক অভিমন্যু, দ্রৌপদীর পঞ্চপুত্র, ধৃষ্টদ্যুম্ন, মহারাজ দ্রুপদ বিরাট, ধর্মজ্ঞ বসুসেন, রাজা ধৃষ্টকেতু এরা আমার পরম বন্ধু ও আত্মীয়। সবাইকে আমি হারালাম। পিতামহ ভীষ্মকে আমরা হত্যা করেছি। আমার মতো নরাধম আর কে আছে। আমি ক্ষণস্থায়ী রাজ্যলোভে শুধু মোহবশে পিতামহকে নিধন করেছি। আমি দ্রোণাচার্যকে মিথ্যা কথা বলে প্রতারণা করেছি। দ্রোণ আমাকে বারবার বলেছিলেন, ‘হে ধর্মরাজ, আমার পুত্র জীবিত কি না তা সত্যি করে বলো।’ এই কথা পর আমি রাজ্যলোভবশে স্পষ্ট বাক্যে তাকে বলেছিলাম ‘অশ্বত্থামা হত’। তারপর অস্পষ্টভাবে বলেছিলাম ‘ইতি গজ’। সে কথা স্মরণ করে আমার শরীর যেন পুড়ে যাচ্ছে। না জানি এই গুরুতর পাপের ফলে আমাকে মৃত্যুর পর কোন লোকে যেতে হবে। আমি আমার জ্যেষ্ঠভ্রাতা কর্ণকে হত্যা করেছি। আমার তুল্য পাপী আর কেউ নেই। অতএব আমি অনাহারে (প্রায়োপবেশনে) প্রাণ ত্যাগ করব।

কিন্তু মহর্ষি ব্যাস এবং শ্রীকৃষ্ণ দুজনে যুধিষ্ঠিরকে সান্ত্বনা দিয়ে স্থিতধী করেন। কৃষ্ণদ্বৈপায়ন তাঁকে বলেন, ধর্মরাজ, প্রজাপালনই রাজাদের সনাতন ধর্ম। ধর্মের অনুবর্তী হওয়া মানুষের পক্ষে অত্যন্ত দরকার তুমি ধর্মানুসারে পিতৃরাজ্য গ্রহণ করো। তপস্যা ব্রাহ্মণের ধর্ম, ক্ষত্রিয়ের ধর্ম প্রজাপালন। যে ব্যক্তি ধর্ম বিনষ্ট হতে না দেখে রক্ষা না করে সে ধর্মহন্তা। যারা বধের যোগ্য তাদের বধ করা, ধর্মানুসারে প্রজাপালন, সৎপাত্রে ধনদানই রাজার লক্ষ্য।

যুধিষ্ঠির বলেছিলেন, আমি অনেক লোকের প্রাণ সংহার করেছি। আমার হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আমার দেহ দগ্ধ হচ্ছে। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। আমি তাই দেহত্যাগ করার সংকল্প করেছি। কীভাবে আমি দেহত্যাগ করব আপনি আমাকে তার নির্দেশ দিন।

মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন সব শুনে যুধিষ্ঠিরকে বললেন, দেখো যুধিষ্ঠির, তুমি ক্ষত্রিয়। ক্ষত্রিয় হয়ে এভাবে শোক সাগরে নিমগ্ন হওয়া তোমার উচিত হচ্ছে না। যারা নিহত হয়েছে তারা তাদের নিজেদের অপরাধেই নিহত হয়েছে। ধর্মসাক্ষী কালই তাদের প্রাণ অপহরণ করেছে। যন্ত্র যেমন পরিচালকের অধীন, তেমনি সমস্ত কর্ম কালের অধীন। সুতরাং যুদ্ধে নিহতদের জন্য তোমার শোক বা হর্ষ প্রকাশ করা নিষ্ফল। তুমি বরং এর জন্য একটি প্রায়শ্চিত্ত অনুষ্ঠান করো। তুমি তো অনিচ্ছাসত্ত্বেও দুর্যোধনের দোষে তার পক্ষ অবলম্বনকারী নৃপতিদের হত্যা করেছ। দেবতারা যখন দৈত্যদের সঙ্গে যুদ্ধে তাদের পরাজিত করেন তখন দৈত্যদের পক্ষ সমর্থক আশি হাজার বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণদেরও দেবতারা বিনাশ করেছিলেন। তুমি তোমার ভাইদের বলো যে রাজ্যলাভের জন্য অন্যের প্রাণ সংহার করলে পাপ হয় না। তবে যে দুরাত্মা সতত পাপ কাজ করে বেড়ায়, পাপ কাজ বুঝেও তাতে প্রবৃত্ত হয়, কিছুমাত্র লজ্জিত হয় না, তাকে প্রতিনিয়ত সেই পাপের ফল ভোগ করতে হয়। কিন্তু তুমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও দুর্যোধনের অপরাধে অন্য রাজাদের বধ করেছ। তাতে তোমার দোষ হবে কেন? তুমি শত্রুপক্ষকে পরাস্ত করেছ। এখন তুমি অশ্বমেধ যজ্ঞ করলে তোমার যদি সামান্য পাপও হয় তা থেকে নিষ্কৃতি পাবে।

যুধিষ্ঠির জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কী কী কাজ করলে প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়? আর কী কী কাজ করলে মানুষ পাপ থেকে মুক্ত হতে পারে?

বেদব্যাস যুধষ্ঠিরকে তার তালিকা দিয়েছিলেন। ব্যাসদেব বুঝিয়ে-শুনিয়ে যুধিষ্ঠিরকে আত্মহত্যা থেকে বিরত করে তাঁকে রাজ্যভার নিতে প্রণোদিত করলেন। এমনকী, ধৃতরাষ্ট্রও যুধিষ্ঠিরকে বললেন, ধর্মরাজ, তুমি ধরাশয্যা থেকে উঠে কর্তব্যকর্ম করো। তুমি ক্ষত্রিয়ধর্ম অনুসারে এই পৃথিবী অধিকার করেছ। এখন তো তোমার শোক করার কোনো কারণ নেই। শোক আমি ও গান্ধারীই করব। কারণ আমাদের শতপুত্র নিহত হয়েছে। তুমি শোক করবে কেন? আমিই দুর্বুদ্ধিবশত বিদুরের বাক্য শুনিনি। বিদুর বলেছিল, দুর্যোধনের অপরাধে আপনি সমূলে বিনষ্ট হবেন। যদি আপনার কুলরক্ষা করার অভিলাষ থাকে তাহলে কর্ণ ও শকুনির সঙ্গে যাতে দুর্যোধনের আর দেখা না হয় তার ব্যবস্থা করুন।

তখন শ্রীকৃষ্ণও যুধিষ্ঠিরকে বললেন, পরলোকগত ব্যক্তিদের উদ্দেশে অধিক শোক করলে তাঁরা নিতান্ত কাতর হয়ে পড়েন। আপনি শোক না করে বিধান অনুসারে যজ্ঞ করুন। সোমরস দ্বারা দেবতাদের, স্বধা (পিণ্ডদান) দ্বারা পিতৃগণের, অন্নপান দ্বারা অতিথিদের, ও অর্থদান দ্বারা দরিদ্রদের তৃপ্তিসাধন করুন।

যুধিষ্ঠির অশ্বমেধ যজ্ঞ করতে সম্মত হলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *